08/06/2026
#0363
আমার জীবনে একটা সময় ছিল যখন ব্যর্থতা আমারে চাপকাইয়া হাগ কইরা ধইরা ছিল। একটার পর একটা ধাক্কা। রেজাল্ট আসে না, প্ল্যান কাজ করে না, আত্মবিশ্বাস ড্রেনে ভাসে। অবস্থা এমন ছিল, আয়নার সামনে দাঁড়াইলেও নিজেরে দেখে মনে হইত এই লোকটার ভবিষ্যৎ আছে বইলা কেউ বেট ধরবে না। সবচেয়ে খারাপ লাগত অন্য জায়গায়। মনে হইত আমি একটা খাদে পড়ে আছি, উপরে সবাই দাঁড়ায়া দেখতেছে, ইভেন আমার ডিয়ারেস্ট মানুষগুলাও। কেউ কেউ সমবেদনা দেখাইত, মাথায় হাত বুলাইত, ""সব ঠিক হয়ে যাবে"" টাইপের কথা কইত। কিন্তু তখন মাথা এমন চইলা গেছিল যে সান্ত্বনাকেও ব্যঙ্গ মনে হইত। মনে হইত, এরা মুখে দুঃখ দেখাইতেছে, ভিতরে ভিতরে খুক খুক কইরা হাসতেছে।
এক্ষেত্রে বলা বাহুল্য, কিছু শিশ্নহারা প্রেরণাবিদ ভাইব্রাদার সেসময় উদ্ভব হয়েছিলেন। এনারা নিজেরা শারীরিকভাবে তথা ইউনিভার্সিটি জীবন থেকে প্রাপ্তির হিসাবে যন্ত্রহারা। এরা জীবনে প্রথমবার সিগমাফ্লো মার্কার হাতে নেওয়ার পর মার্কারের পশ্চাত অংশে হাত বুলিয়ে প্রচন্ড হর্ণি ফিল করেন ও পরবর্তীতে এডটেক বা কোচিংয়ে কোচিংয়ে ওইটার মাধ্যমে তরুণ সমাজের পুটুম্রার সিদ্ধান্ত নেন। প্রাণবন্ত ছেলেমেয়েদের প্রাণ বিজে দিয়ে চুষে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের হাতে যেন সিগমাফ্লো মার্কার সর্বদা বজায় থাকে আর সমাজ সন্দেহও না করে, এজন্য জীবন মানে রেজাল্ট, , র্যাংক আর স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান নামের আসোদা গল্প শোনানো অব্যাহত রাখেন। ভালো মানুষ হওয়া, শান্তিতে থাকা, পরিবারের সাথে হাসাহাসি করা, এগুলা তাদের সিলেবাসে ছিল না। তো আমিও বিশ্বাস করতাম, নম্বর কম মানে শ্রেণিভেদের নিচুস্তরে চলে যাওয়া।
এডমিশনের পর বেশ লজ্জায় দিন যাইতেসে। সারাদিন খ্যানখ্যান করি, বাবা মার দিকে তাকাইতে পারি না, মাইন্ডসেট একদম বাজে হয়ে গেসে কারণ ফালতু ফালতু কারণে সব হারাইসি। একদিন সন্ধ্যাবেলা। আমি রান্নাঘরে তখনো যাই না, তবে সেদিন যত্ন করে দুকাপ চা বানালাম। আব্বু আম্মুকে চা দিলাম। ভেবেছিলাম ভালো হবে না। কি না কি আবার বলে। এটা ভেবে আমি আমার রুমে চুপচাপ বসে ছিলাম।
একটু পর আব্বু আমার রুমে এসে একটা হাসি দিয়ে বলেছিলেন - চা নাকি তুমি বানিয়েছো? অনেক ভালো হয়েছে তো। এখন থেকে প্রতিদিন তুমি চা বানিয়ে খাওয়াবা কিন্তু।
জান, ওই মুহুর্তে না আমার নিজেকে সবচেয়ে সুখী মানুষটা মনে হচ্ছিল।
মনে হচ্ছিল- আমার আরও অনেকদিন বাঁচা দরকার। আব্বু আম্মুর জন্যে কিংবা নিজের জন্যে হলেও। অন্তত আব্বুকে প্রতিদিন চা বানিয়ে খাওয়ানোর জন্যে হলেও।
আজকে আমি এফোর্ট দেয়ার পর রেজাল্ট নিয়ে আগের মতন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হই না। এইটার কারণ
দুইটা-
১. আমি কেন যেন খুব স্ট্রংলি বিলিভ করি আমার ডেস্টিনেশন সেট করাই আসে আল্লাহর তরফ থেকে। সেইখানে আমি কেমনে কেমনে হোক পৌছায় যাবই। সো আমি এখন আর ""এইটা না হইলে ওইটা হবে না""-য় নাই।
২. আমার এখন সাকসেস সবাইরে নিয়ে হ্যাপি থাকা। মা, বাবা, ফ্যামিলির সাথে রিসেন্টলি আমি এমন বণ্ডিং বানাইসি আর এমন ফ্যামিলি অবসেসড হয়ে গেসি, ওনারাও এটা টের পাইসেন আর এখন ২০ এর জায়গায় ১৫ হইলেও আমারে কেউ আঙুল তুলবে না। কারণ আমার existance টাই এখন enjoyable সবার কাছে।
সুত্রাং যেসব শুষ্ক বক্ষধারী মানবসন্তান এখনো সাকসেসে সংজ্ঞা চেঞ্জ করতে পারো নাই, গুপ্তলেখক তাদের কর্ণকুহরে জল ঢুকিয়ে কুতকুত খেলার পরামর্শ দিচ্ছে। কারণ যেহেতু তোমার কাছে জীবনের আর মানে নাই, কী আর করবা সারাদিন?
~গুপ্তলেখক চিত্রগুপ্ত