29/05/2026
কোরবানি ঈদের চামড়া কালেকশন নিয়ে কিছু কথা!!
জোর করে আর কত? মাদ্রাসার চামড়া কালেকশন ও 'জিল্লতি' বন্ধের সময় এসেছে
প্রতি বছর কোরবানি ঈদ এলেই দেশের কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক এবং অবুঝ ছোট ছোট ছাত্ররা এক চরম মানসিক ও শারীরিক কষ্টের মুখোমুখি হয়। আল্লাহর সন্তুষ্টির ইবাদত কোরবানি, কিন্তু এর পেছনে জড়িয়ে আছে এই মানুষগুলোর এক নির্মম ও দীর্ঘশ্বাসের গল্প।
১. ছাত্র ও শিক্ষকদের অমানুষিক কষ্ট
তীব্র গরম কিংবা টানা বৃষ্টির মাঝেও ঈদের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে ছাত্র-শিক্ষকেরা রাস্তায় নেমে পড়েন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে, গ্রামে-গঞ্জে মাইলের পর মাইল হেঁটে ভারী চামড়া কাঁধে নিয়ে টেনে-হিঁচড়ে মাদ্রাসায় জড়ো করতে হয়। এই হাড়ভাঙা খাটুনিতে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে, কিন্তু বিশ্রামের সুযোগ থাকে না।
২. মানুষের অবহেলা ও তিরস্কার
সবচেয়ে বড় কষ্টের জায়গা হলো মানুষের আচরণ। চামড়া নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের দুয়ারে গেলে অনেকেই তাদের সাথে এমন আচরণ করেন, যেন তারা কোনো অপরাধী বা ভিক্ষুক। মানুষের তিরস্কার, অবহেলার দৃষ্টি এবং কটু কথা এই কোমলমতি ছাত্রদের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। দীনি শিক্ষা গ্রহণকারী এই সন্তানদের সমাজে এভাবে কেন 'জিল্লতি' বা লাঞ্ছনার শিকার হতে হবে?
৩. ট্যানারি ও সিন্ডিকেটের অবাধ লুটপাট
এত কষ্ট করে, মানুষের কথা শুনে যে চামড়াগুলো সংগ্রহ করা হয়, তার শেষ পরিণতি কী? এখানে ওঁৎ পেতে থাকে চামড়া ব্যবসায়ী এবং ফ্রি ট্যানারি কারখানাগুলোর নিষ্ঠুর সিন্ডিকেট। তারা পানির দরে চামড়া কিনে নেয়, কখনো কখনো ফ্রিতেও দিয়ে আসতে বাধ্য করা হয়। সিন্ডিকেটের এই নোংরা খেলার কারণে মাদ্রাসার ফান্ডে তেমন কোনো ব্যবসাই আসে না। মাঝখান থেকে ছাত্র-শিক্ষকদের সব কষ্ট আর ত্যাগ ট্যানারি মালিকদের পকেটে গিয়ে জমা হয়।
৪. জোর করে চামড়া কালেকশনে বাধ্য করা
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রেই ছাত্র ও শিক্ষকদের এই চামড়া কালেকশনে 'জোর করে' বাধ্য করা হয়। তাদের মন সায় না দিলেও, সম্মানে লাগলেও প্রাতিষ্ঠানিক বা সামাজিক চাপের মুখে তারা এটি করতে বাধ্য হন।
এ ধরনের 'জিল্লতির' চামড়া কালেকশনকে পুরোপুরি নিরুৎসাহিত করা উচিত। আমাদের সন্তানদের এই লাঞ্ছনা থেকে মুক্তি দেওয়া হোক। ট্যানারির সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে এবং ছাত্রদের আত্মসম্মান রক্ষা করতে না পারলে, এই জোরপূর্বক চামড়া কালেকশন পুরোপুরি বন্ধ করাই শ্রেয়।
সচেতন আলেমসমাজের দাবি ও আহ্বান :
যেখানে এই চামড়া কালেকশন কোনো দ্বীনি ফরজ কাজ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে তীব্র কষ্ট, মানুষের অপমান আর সিন্ডিকেটের শোষণ—সেখানে এই প্রথাকে আর কতদিন টিকিয়ে রাখা হবে?
আসুন, মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের আত্মসম্মান রক্ষা করি। তাদের কষ্টের মূল্যায়ন করি।
#মাদ্রাসা_শিক্ষা
#কোরবানি২০২৬ #চামড়া_সিন্ডিকেট #ছাত্রদের_অধিকার #কওমি_মাদ্রাসা