31/08/2025
আমি ২০০৯ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা করেছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগেও অনেক ক্রিটিক্যাল সময় গেছে, তবে আজকের মতো পরিস্থিতি কখনো হয়নি। আজ যেসব শিক্ষার্থী সংঘ র্ষে জড়িয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, তাঁদের অনেকেই ওই এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কেও কোনো ধারণা রাখেন না। আর সেই অজ্ঞতার খেসারত হিসেবে তাঁদের আহত হয়ে র ক্ত ঝরা তে হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি থেকে শুরু করে প্রক্টর—সবার আচরণ আজ ছিল উদাসীন। আগের রাতের ঘটনার প্রেক্ষাপট কিংবা দেশের সামগ্রিক পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের কোনো হোমওয়ার্ক ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে কোনো সমন্বয় ছিল না। ফলে সকাল থেকে যেভাবে যৌথ টহল ও নিরাপত্তা জোরদার করার কথা ছিল, গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোতায়েন থাকার কথা পুলিশের—তার কিছুই হয়নি। প্রশাসনে যারা আছেন, তাঁদের অনেকেরই কোনো ধারণা নেই, সংকটকালে কী করতে হবে।
প্রোভিসি কামাল সাহেব কোনো এসেসমেন্ট ছাড়াই কেন পুলিশ ছাড়া ঘটনাস্থলে গেলেন? কেন বারবার ফোন করেও পুলিশ পাওয়া গেল না? কেন আগের রাতের ঘটনার পর সেনাবাহিনীকে ক্যাম্পাসে রেখে সকালের পরিস্থিতি সামলানো হলো না? কেন বারবার সাবধান করার পরও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিল না, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করল না? কেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হলো না? ভিসি স্যার ভালো মানুষ বটে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁর পুরো প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে, এবং এই দায় তাঁর কাঁধেই বর্তায়।
অন্যদিকে, জুলাই অভ্যুত্থানকে বিক্রি করে যারা ক্যাম্পাসে নায়ক বনে গেছেন—যেসব শিক্ষক অন্যদের ‘দোসর’ আখ্যা দিয়ে বেড়াচ্ছেন—তাঁদের কাউকেই সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দেখা যায়নি। কারণ, তাঁরা জানেন না কীভাবে এই ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়, কাকে ফোন করতে হয়, কীভাবে চাপ দিয়ে প্রশাসনকে কাজে লাগাতে হয়।
এই ক্রিটিক্যাল সময়ে কোনো শিক্ষক কিংবা প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির সক্রিয় উপস্থিতি ছিল না। ছাত্ররা একা মাঠে ছিল—আহত হয়েছে, কো পানো হয়েছে, আবার আবেগের বশে নিজেরাও লাঠিসোটা ও ধারালো অ স্ত্র নিয়ে সংঘ র্ষে নেমেছে। আর এর মাসুল আগামী দিনে ক্যাম্পাসের কটেজে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থীদেরই দিতে হবে।
সামান্য একটি ঘটনার রেশ থেকে যদি এ রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তাহলে বর্তমান প্রশাসনের কপালে দুঃখ আছে, আর দুঃখ আছে চবির শিক্ষার্থীদেরও।
© এফ এম মিজানুর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেইলি স্টার