24/03/2026
পিপলস মিল কলোনীর পাশে দাঁড়িয়ে আছে একটি পুরনো কিন্তু প্রাণময় প্রতিষ্ঠান—
'জামিয়া ইসলামীয়া আশরাফুল উলুম মাদরাসা'
যাকে আমরা সবাই ভালোবেসে চিনি— 'খালিশপুর বয়স্ক মাদ্রাসা' নামে।
খালিশপুরের হৃদয়ে এক টুকরো নীরব আলো…
একটি মাদ্রাসা, একটি মানুষ, আর এক অনন্ত ভালোবাসার গল্প।
১৯৯০ সালের নভেম্বরের এক নীরব শুরু…
কোনো বড় আয়োজন ছিল না, ছিল না অর্থের প্রাচুর্য,
ছিল শুধু একজন মানুষের অন্তরের আগুন—
দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা, আর মানুষের জন্য কিছু করার তীব্র তাড়না।
সেই মানুষটি—
'মুফতী মাওলানা আবুল কাশেম হুজুর (দা:বা:)'
খালিশপুরবাসীর প্রিয় “বড় হুজুর”।
জেনারেল লাইনে পড়াশোনা শেষ করে, যখন মানুষ দুনিয়ার পেছনে ছুটে, ঠিক তখনই তিনি অন্য এক পথ বেছে নেন… দ্বীনের পথ।
এটি এমন একটি পথ, যেখানে আছে ত্যাগ, ধৈর্য, আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
শুরুটা সহজ ছিল না…
এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তাকে নিতে হয়েছে জীবনের ঝুঁকি।
অনেক বাধা, অনেক প্রতিকূলতা—
তবুও থামেননি তিনি।
কারণ তার ভরসা ছিল একটাই—
“আল্লাহ আছেন।”
মাদ্রাসা টিকিয়ে রাখতে, মাদ্রাসা সুরক্ষাতেও তিনি কখনো পিছপা হননি।
জান, মাল, সময়, জীবন, যৌবন—সবকিছু কুরবান করে দিয়েছেন।
সাহাবায়ে কেরামের জীবনকে অনুসরণ করে মাশাআল্লাহ আজও দাঁড়িয়ে আছেন এক অবিচল প্রহরীর মতো।
এই যুগে যেখানে আপোষ করা সহজ,
সেখানে কাশেম হুজুর ছিলেন—
দূর্নীতি ও হারামের ব্যাপারে একেবারেই আপোষহীন।এমনকি পর্যাপ্ত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও হারাম বিশাল অংকের টাকা এড়িয়ে চলেছেন। এটা যে কেউ বুঝতে পারবে মাদ্রাসা অঙ্গন ঘুরে বেড়ালেও।
তিনি শুধু একজন আলেম নন…
তিনি একজন শিক্ষক,
একজন মুরুব্বী,
একজন পথপ্রদর্শক,
একজন সত্যিকারের “নায়েবে রাসূল” (সা.)।
কত মানুষ তার কাছে এসে শান্তি পেয়েছে,
কত মানুষ হতাশা থেকে ফিরে এসেছে—
তার কোনো হিসাব নেই।
একজন পীরের মতোই তিনি মানুষের পাশে দাঁড়ান,
জ্ঞান দেন, দিকনির্দেশনা দেন,
অনেক সময় বিনামূল্যেই বিভিন্ন তদবীর করে দেন।
এমনকি—
এক কাপ চা, এক টুকরো পাউরুটি,
অথবা একটি সাধারণ দাওয়াত—
তিনি আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেন।
এই সরলতা…
এই বিনয়…
এই ভালোবাসাই তাকে করেছে আলাদা।
খালিশপুরের অনেক পরিবার—
আমাদের বাবা-মা, দাদা-দাদীরাও—
ছিলেন তার একান্ত ভক্ত।
আজকের এই সময়ে,
যেখানে বদ আমল আর বিভ্রান্তির ঢেউ চারদিকে,
সেখানে এই হুজুরই অনেকের জন্য হয়ে উঠেছেন
একটি শক্তিশালী আশ্রয়, একটি নিরাপদ দিশা।
সময়ের প্রয়োজনে,
এই মহান কাজকে এগিয়ে নিচ্ছেন তারই সুযোগ্য সন্তান—
'মুফতী খালিদ সাইফুল্লাহ (দা:বা:)'
যিনি দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে ফারেগ।
বাবার মতোই তার মধ্যেও আছে বিনয়, আন্তরিকতা,
মানুষের প্রতি ভালোবাসা, আর দ্বীনের জন্য দরদ।
তারা দু’জন মিলে আজও সীমিত সামর্থ্যে
একটি এতিমখানা চালিয়ে যাচ্ছেন…
যেখানে কিছু অসহায় শিশু খুঁজে পায় আশ্রয়,
একটু ভালোবাসা, আর একটি ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
যদি আপনি দুনিয়া ও আখিরাত নিয়ে চিন্তিত হন…
যদি আপনি মানসিক অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা, ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি চান…
যদি আপনি সত্যিকারের দ্বীনের স্বাদ নিতে চান…
তাহলে চলে আসুন খালিশপুরের এই পুরনো মাদ্রাসায়।
ইনশাআল্লাহ—
আপনি খালি হাতে ফিরবেন না।
পাবেন দিকনির্দেশনা, প্রশান্তি,
আর নতুন করে বাঁচার শক্তি।
আসুন—
এই দ্বীনি প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করি।
এতিমদের পাশে দাঁড়াই।
আলেমদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করি।
নিজেদের এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করি।
আপনার সামান্য সময়, সামান্য দান, সামান্য সাপোর্ট…
ইয়াতীমদের কারো জীবনে হতে পারে বিশাল পরিবর্তন।
আসুন—
খালিশপুর বয়স্ক মাদ্রাসাকে ঘিরে আবার গড়ে উঠুক একটি আলোর সমাজ…