04/03/2023
করোনা মহামারি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ।
বাংলাদেশের নির্বাচন জাতীয় খেলা নিয়ে বিএনপিসহ খুচরা বামপন্থী পার্টিগুলোর রাজপথের মহড়া!
এমনসব পরিস্থিতি নিয়ে অজপাড়াগাঁর
রাজনৈতিক সচেতন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আব্দুর রশীদের গবেষণা টাইপ পুস্তিকা লিখলেন
"অগ্নিযুগের অগ্নিসেনা;বিপ্লবীদের বীরগাথা"।
বর্তমান ডিজিটাল জামানায় ক্লিক করলেই উইকিপিডিয়া পাওয়া যায় ব্রিটিশ শাসকদের মহাকাব্য।
মহাকাব্যও লেখা যায় যারা এই ভূ-খণ্ডে স্বাধীনতার ভোর এনেছিল।
মুক্ত চেতনা সম্পন্ন আব্দুর রশিদ মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়েছিল যে মেহেরপুর জেলায়- সেই জেলার গাংনী উপজেলার অধিবাসী।
সিনিয়র সিটিজেন হলেও মন ও মননে অত্যন্ত প্রগতিশীল, সৃষ্টিশীল একজন মানুষ। দেশ ও জাতির অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত নিয়ে অনেক ভাবনা তাঁর।জাতি ইতিহাস সচেতন না হলে প্রজন্ম সমৃদ্ধ হয় না। এমন ভাবনা থেকেই তাঁর ইতিহাসের তীক্ষ্ণ চেতনা সমৃদ্ধ লেখা ' অগ্নিযুগের অগ্নিসেনা'।
রশিদ ভাইয়ের বইটি হাতে পাওয়ার পূর্বে ধারণা ছিলো মেহেরপুরের মানুষ হিসাবে নিশ্চয়ই মুক্তিযুদ্ধের অস্থায়ী সরকারের ইতিহাস নিয়ে কিছু লিখবেন।কিন্তু উনি লিখেছেন তারও আগের স্বাধীনতার অগ্নি ইতিহাস-ব্রিটিশ বিরোধী দেশপ্রেমিক অগ্নিসেনাদের কথা। যাদের পথ ও মত প্রদর্শন করে গেছে কিভাবে পরাধীনতা থেকে স্বাধীনতা আনতে হয়।
ব্রিটিশ বিরোধী সাহসী দেশপ্রেমিকদের অকুতোভয় জীবনীগুলো যে কতোটা চেতনা সমৃদ্ধ লোমহর্ষক তা পড়ার পর উপলব্ধি করলাম।
ব্রিটিশ বিরোধী দেশপ্রেমিক সোনার সন্তানদেরকে কমবেশি আমরা মুখেমুখে চিনি জানি কিংম্বা ক্লাসের কোন পুস্তকেও হয়তো তাদের সম্পর্কে অল্প পরিসরে জানা গেছে। লেখক আব্দুর রশিদ সেইসব অগ্নিসেনাদের মূল্যায়ন করতে বৃহৎ পরিসরে জীবনী আকারে বইটিতে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন।
ব্রিটিশ শাসনামলটিকে লেখক স্বাধীনতাকামীদের জন্য 'অগ্নিযুগ' বলে একটুও অত্যুক্তি করেননি।অগ্নিযুগের স্বাধীনতাকামী সব অগ্নিসেনার কথা ইতিহাস থেকে খুঁজে পাওয়া যেমন কঠিন তেমনি সবার কথা একটি পুস্তকে ধারণ করাও অসম্ভব।সঙ্গত কারণেই তিনি তাঁর বইয়ে বাছাই করা 'চৌদ্দ জন' অগ্নিসেনার কথা বলেছেন।
তাঁরা হলেন--
এক.বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু
দুই. বিপ্লবী প্রফুল্ল চাকী
তিন. মাস্টারদা সূর্য সেন
চার. বাঘা যতীন
পাঁচ. অগ্নিকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার
ছয়.বিপ্লবী কল্পনা দত্ত
সাত. সুভাস চন্দ্র বসু
আট. সর্দার ভগৎ সিং
নয়.কমরেড মুজাফফর আহমেদ
দশ. বিনয় কৃষ্ণ বসু
এগার. দীনেশ গুপ্ত
বারো.বাদল গুপ্ত
তের.স্বরস্বতী রাজমণি
চৌদ্দ.জমিদার প্যারী সুন্দরী।
ব্রিটিশ শাসিত পরাধীন ভারতবর্ষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতা আদায়ের লক্ষ্যে,একদল দেশপ্রেমিক স্বপ্নবাজ মানুষ দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সাথে লড়াই করে অকাতরে শহিদ হয়েছেন। ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবীদের অনেকেই ছিলেন আজকের বাংলাদেশের সন্তান।
বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুঃ
ব্রিটিশদের শোষণ, অত্যাচার থেকে বাঙালিদের বাঁচাতে উনবিংশ শতকের শুরুতেই ক্ষুদিরাম বসু বিভিন্ন গোপন সংগঠন এবং স্কুলের শিক্ষকদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেন।ব্রিটিশ সরকারের অত্যাচারী বদমেজাজি বিচারক কিংসফোর্ডকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার গাড়িতে বোমা নিক্ষেপ করেন সাহসী তরতাজা যুবক ' ক্ষুদিরাম বসু '।
ব্রিটিশ বেনিয়াদের বিরুদ্ধে এটাই ছিলো প্রথম বোমা হামলা।ঐ গাড়িতে কিংসফোর্ড না থাকায় তিনি বেঁচে যান। কিন্তু এই অপরাধে প্রহসন মূলক বিচারের মাধ্যমে ' ক্ষুদিরাম ' কে ফাঁসি দেওয়া হয়।মাত্র ১৮ বৎসর বয়সের একজন দেশপ্রেমিক যুবকের এমন অকুতোভয় প্রাণটি চলে যাওয়ায় লোক কবি পীতাম্বর দাস এক কালজয়ী গান লিখলেন। যা আজও দেশপ্রেমিক মানুষের মুখে মুখে ফেরে-- "একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি,হাসি-হাসি পরবো ফাঁসি দেখবে জগৎবাসী"।ক্ষুদিরামের আত্মবলিদান তৎকালীন ভারতবর্ষের জনমনে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জোগায়।
বিপ্লবী প্রফুল্ল চাকীঃ
ব্রিটিশ বেনিয়াদের শোষণ এবং শাসন বজায় রাখার জন্য এদেশের প্রতিবাদী দেশপ্রেমিকদের নানাভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিচারের নামে প্রহসন করে বিপ্লবীদের কঠিন শাস্তি এবং মৃত্যুদন্ড দেওয়া হতো। এমনি একজন জুলুমকারী বিচারক ' কিংসফোর্ড 'কে হত্যার উদ্দেশ্যে ' ক্ষুদিরাম বসু' র সঙ্গী হয়েছিল বর্তমান বাংলাদেশের বগুড়ার আরেক টগবগে যৌবনের যুবক ' প্রফুল্ল চাকী '। ক্ষুদিরাম পুলিশের হাতে ধরা পরলে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। অপরজন প্রফুল্ল চাকী পুলিশ এবং লোকজন দ্বারা আক্রান্ত হয়ে ধরা পরার আগে নিজের কাছে থাকা পিস্তল দিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন।
সূর্য সেন ওরফে মাস্টারদা:
সূর্য সেন কুখ্যাত ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় বরণীয় হয়ে আছেন।চট্টগ্রামের সন্তান মাস্টারদা সূর্য সেন মহাপরাক্রমশালী ব্রিটিশদের রাজত্বের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন।ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের গতি বাড়াতে এবং ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের শাসনের অবসান ঘটাতে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন করে মাস্টারদা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। চট্টগ্রাম এলাকার সমস্ত ব্রিটিশ আর্মি,পুলিশকে হটিয়ে চট্টগ্রামকে চারদিন মুক্ত করে রেখেছিলেন। সাহসী এই বীর বিপ্লবী চট্টগ্রামের পাহাড়তলিতে অবস্থিত ইংরেজদের ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ করে ৫৭ জন অফিসারকে হত্যা করেছিলেন।নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন দেশকে,দেশের মানুষকে।
বিয়ের রাত, মাস্টারদা এসেছেন বিয়ে করতে। বিয়ের মন্ত্র পড়া হবে ,এমন সময় হঠাৎ পাশ থেকে একজন মাস্টারদার হাতে গুঁজে দিল একটু চিরকুট। চিরকুট পড়ে খুবই চিন্তিত ও গম্ভীর হয়ে গেলেন মাস্টারদা। গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ এসেছে কলকাতার দলের উচ্চমহল থেকে। ফুলশয্যার রাতে নির্জন কক্ষে সহধর্মিণী পুস্পকে বললেন " তোমার কাছে আমার অপরাধের সীমা নেই। তুমি আমার অগ্নি সাক্ষী করা স্ত্রী। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তুমিই আমার স্ত্রী থাকবে। দলের গুরুত্বপূর্ণ কাজে আমার ডাক এসেছে।আজ ই তোমার কাছ থেকে আমাকে বিদায় নিতে হবে।" অশ্রুসিক্ত নয়নে মাস্টারদাকে বিদায় দিয়েছিলেন নব বিবাহিতা স্ত্রী পুস্প। শুধু জিজ্ঞেস করেছিলেন মাস্টারদার চিঠি পাবে কিনা।
কথা রেখেছিলেন মাস্টারদা। চিঠি আসতো পুস্পর কাছে, খুব গোপনে।সে চিঠি শুরু হতো " স্নেহের পুস্প" দিয়ে আর শেষ হতো " তোমার ই সূর্য " দিয়ে। আর দেখা হয়নি স্বামী স্ত্রীর? হয়েছিল,পুস্প যখন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত, মৃত্যু পথযাত্রী, সূর্য তখন জেলে। প্যারোলে কয়েক ঘণ্টার জন্য ছাড়া পেয়ে স্নেহের পূস্পকে দেখতে এসেছিলেন মাস্টারদা। কিন্তু তার আগেই জীবনদীপ নিভে গেছে পূস্পর।
মাষ্টারদা মরার আগে জেনে গেছিলেন দেশদ্রোহীকে চরম দন্ড দিতে তাঁর মন্ত্রশিষ্যরা এতটুকু দয়া দেখায়নি ।
মুক্তির মন্দিরের সোপান তলে এরকম কত কিরণ নিঃশব্দে দিয়েছে বলিদান ......আমরা মনে রাখিনি।
যতোদিন এই পৃথিবীতে সূর্য উঠবে, ততোদিন তুমিও থাকবে মাস্টারদা সমগ্ৰ ভারত ও বাংলাদেশে বাসীর অন্তরের অন্তঃস্থলে।
বাঘা যতীন:
স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে উদ্ভুদ্ধ ছিলেন বাঘা যতীন। ভারত মাতার মুক্তির লক্ষ্যে ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামের একজন মহানায়ক ছিলেন যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ওরফে বাঘা যতীন। তৎকালীন নদীয়া জেলার বর্তমান কুষ্টিয়ায় যতীনের মামা বাড়ি। মামা বাড়িতে থাকার সময় একবার লোকালয়ে বাঘ চলে আসে। পুরো গ্রামবাসী বাঘের ভয়ে অস্থির। যতীনের মামা বন্দুক নিয়ে আসেন বাঘ মারতে। বাঘটি হঠাৎ যতীনের সামনে পরে যায়। সামান্য চাকু হাতে ছিলো যতীনের। তাই দিয়ে বাঘে মানুষে তুমুল লড়াইয়ের পর যতীন বাঘটিকে পরাজিত করে। সেই থেকে তার নাম হয় বাঘা যতীন। যতীন ছোটবেলা থেকেই ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলো। গায়ে ভীষণ শক্তি ছিলো।একবার কয়েকজন ব্রিটিশ সৈনিকের বাজে ব্যবহারে অতিষ্ট হয়ে যতীন থাপ্পড় দিয়ে তাদের চোয়াল ভেঙে দিয়েছিলেন। এই বীর জোয়ানের সেজন্য বিচারও হয়েছিল। সরকারি চাকুরির পাশাপাশি গোপনে বিপ্লবী সংগঠন করতেন এবং ব্রিটিশদের তাড়ানোর ফন্দি আটতেন।দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ অকুতোভয় এই মহা বিপ্লবী অল্প কিছু সংগী সাথী নিয়ে ব্রিটিশদের মোকাবিলা করেছেন। তাঁর যুদ্ধ কৌশলে ব্রিটিশরাও মুগ্ধ হয়েছিল। মুখোমুখি যুদ্ধে আহত বাঘা যতীন পরে হাসপাতালে মারা যান।
অগ্নিকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার:
উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে ইংরেজদের মনে ভীতি সঞ্চারক প্রথম আত্মদানকারী নারী বিপ্লবী ' অগ্নিকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার'।
সেই সময়ে ব্রিটিশদের শোষণ জুলুমের বিরুদ্ধে নিজ শিক্ষক সহ মাস্টারদা সূর্য সেন কর্তৃক উদ্বুদ্ধ হয়ে বিপ্লবী উম্মাদনায় উদ্দীপ্ত হয়।তাঁর বিপ্লবী জীবনের সবচেয়ে স্বরণীয় ঘটনা হলো চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবস্থিত ইংরেজদের ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ। যে ক্লাবে শুধুমাত্র শ্বেতাঙ্গ ইংরেজরা মদ খেয়ে নাচ গান করতো। এই ক্লাবের গেটে লেখা ছিলো-
" Dog and Indians not Allowed." বাঙালিদের প্রতি ইংরেজদের এই ঘৃণার প্রতিশোধ নিতেই প্রীতিলতার নেতৃত্বে আক্রমণ হয়েছিল ক্লাবে।
গুলিতে প্রীতিলতা আহত হলে ধরা পরার আগেই নিজের কাছে রাখা ' সায়ানাইড ' বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন।
দেশপ্রেমের অনন্য উদাহরণ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। তাঁর মতো নারী সংগ্রামীর আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস পরবর্তিতে আরো মানুষকে প্রেরণা যুগিয়েছিল।
চট্টগ্রামের আরেক মেয়ে বিপ্লবী কল্পনা দত্ত নানাভাবে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পরেন এবং এদেশ থেকে ব্রিটিশ তাড়ানোর লক্ষ্যে নানা প্রচেষ্টার সাথে জড়িয়ে পরেন। এজন্য তাকে প্রচুর জেল জীবন বহন করতে হয়।
সুভাস চন্দ্র বসু:
যিনি বাঙালির ভালোবাসায় সিক্ত। নেতাজি সুভাসচন্দ্র বসু নামেই খ্যাত।বাঙালির অহংকার নেতাজি সুভাসচন্দ্র বসু ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে একটি নক্ষত্রের নাম।স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। মেধাবী আইসিএস কর্মকর্তা হওয়া সত্বেও সবকিছু ছেড়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সারাজীবন লড়াই সংগ্রাম করে গেছেন। ২৪ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ১১ বার কারাবন্দী হয়েছেন তবুও কখনও ব্রিটিশদের সাথে আপোষ করেননি।ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আনতে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনে নেতাজির নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে।
সুভাস বসুর নেতৃত্বে প্রায় ৮৫ হাজার সৈন্য নিয়ে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠিত হয়।এই বাহিনীকে সুসংগঠিত নেতৃত্বের মাধ্যমে নেতাজি বার্মার মডউক বন্দরে বোমাবর্ষণ করে ব্রিটিশ বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করে।ভারত বর্ষের অনেকখানি অংশও দখলে নেন। এই রণাঙ্গন থেকেই নেতাজি বলেছিলেন- "তুম মুঝে খুন দো,ম্যায়,তুমহে আজাদি দুঙ্গা"।
সততা,দেশপ্রেম, শৌর্য - বীর্যের আপসহীন এই নেতা বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হনসাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ সরকারের কবল থেকে ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতার জন্য সুভাস বসু।
দেশপ্রেমিক অগ্নি সেনাদের কথা বইটির এ পর্যন্ত পড়েই সংক্ষিপ্ত পাঠ প্রতিক্রিয়া শেষ করতে চেয়েছিলাম কিন্তু লেখক আব্দুর রশিদ ভাই পরের আরও ৭জন বীর দেশপ্রেমিক সম্পর্কে অত্যন্ত সাবলীল ভাবে তাঁর লেখায় উপস্থাপন করেছেন।যাদের প্রত্যেকের জীবনবৃত্তান্ত দেশপ্রেমের আদর্শে ভীষণ ভাবে উজ্জীবিত করে।
সর্দার ভগৎ সিং;
সর্দার ভগৎ সিং অত্যন্ত দুঃসাহসিক এবং স্বাধীনচেতা একজন দেশপ্রেমিক বিপ্লবী ছিলেন।ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তাঁর ঘৃণা ছিলো অত্যধিক। মিথ্যা বিচারের মাধ্যমে তাকে ফাঁসিতে ঝুলানোর আগে হাসতে হাসতে ব্রিটিশদের উদ্দেশ্যে বলে যান "আপনারা ভাগ্যবান, আমার মতো দেশপ্রেমিককে গলায় ফাঁসির দঁড়ি পরাতে পারছেন"। দেশকে ভালোবেসে তার জন্য জীবন দেওয়াও যে অহংকারের সেটি ' সর্দার ভগৎ সিং ' সেটা দেখিয়ে গেছেন।একই রকম তেজোদ্দীপ্ততা নিয়ে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে আরে অনেক দেশপ্রেমিক বিপ্লবী ভারতমাতার স্বাধীনতা আদায়ে অত্যন্ত কষ্টকর আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের সম্মানজনক স্থান দখল করে আছেন। যাদেরকে জানতে পারলে আগামী প্রজন্ম অনেক বেশি দেশপ্রেমের শক্তি হৃদয়ে ধারণ করতে পারবে।
লেখক আব্দুর রশিদের 'অগ্নিযুগের অগ্নিসেনা' গ্রন্থে আরো যে সব বীরদের বীরত্বগাথার কথা সবিস্তারে তুলে ধরা হয়েছে তাঁরা হলেন-
কমরেড মুজাফফর আহমেদ, বিনয় বসু,দীনেশ গুপ্ত, বাদল গুপ্ত, সরস্বতী রাজ মণি--যিনি একজন নারী হয়েও ব্রিটিশদের চোখে ' ত্রাস' ছিলেন। বন্দুক চালনায় অসাধারণ পারদর্শিতা ছিলো এই নারীর।
এরপর আছেন- বিপ্লবী প্যারী সুন্দরী।
প্রজা দরদী - মানব হিতৈষী জমিদার প্যারী সুন্দরী ছিলেন ব্রিটিশ নীলকরদের বিরুদ্ধে প্রচন্ড প্রতিবাদী। দেশের জন্য তাদের প্রত্যেকের আত্মত্যাগের কাহিনীগুলো যেমন লোমহর্ষক, কষ্টকর তেমনি প্রচণ্ড দেশপ্রেম সমৃদ্ধ।
অগ্নিযুগের অগ্নিসেনা - বইটির প্রচ্ছদ এবং বাইন্ডিং খুব সুন্দর। ছোটখাটো কিছু বানান ভুল ছাড়া ছাপা অত্যন্ত ঝকঝকে।
বইটির সূচিপত্রে একেকজন বিপ্লবীর জীবনের বর্ণনায় লেখক ' পর্ব' শব্দটি ব্যবহার করেছেন। আমার কাছে বিষয়টি জটিল মনে হয়েছে। ' পর্ব' বলতে সাধারণত কোন নির্দিষ্ট গল্পের " অংশ বিশেষ" কে বোঝানো হয়। যদিও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস একই তারপরও বলবো বিপ্লবীরা প্রত্যেককেই যার যার অবস্থানে একেকটি উজ্জ্বল নক্ষত্র।
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তাদের কাজের পরম্পরা থাকলেও প্রত্যেকের জীবন মরণ তো আলাদা- সেজন্য ' পর্ব' করে না লিখে আলাদা নামে বর্ণনাই বোধহয় ভালো হতো।
দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার মতো বলিষ্ঠ লেখা সমৃদ্ধ একটি পুস্তক ' অগ্নিযুগের অগ্নিসেনা'; বিপ্লবীদের বীরগাথা।
অত্যন্ত যত্ন সহকারে পরিশ্রমলব্ধ একটি ঐতিহাসিক বই রচনা করার জন্য লেখকের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা। আমরা পাঠকরা এমন বই আরো প্রত্যাশা করছি।
বইটি স্কুল কলেজের লাইব্রেরি এবং সেমিনারে রাখার মতো। শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার মতো বই। সন্তানদের হাতে এমন একটি বই উঠিয়ে দিতে পারলে ভালো কিছু জানবে বলে আশা করা যায়।
'আলোকায়ন' প্রকাশনী
এবং
অনলাইন রকমারি. কমে বইটি পাওয়া যাচ্ছে।
বি:দ্র:
দুইশো বছরের ব্রিটিশ সম্রাজ্য পতনে
দেওবন্দ আলেমদের যে ভুমিকা ছিলো লেখক
তা সচেতন ভাবেই এড়িয়ে গেছেন!!
Copied By:
Virtual Journal. BD -2023