02/05/2020
আমরা শুরু করেছিলাম মানব সেবার ব্রত নিয়ে। আমাদের সহযোগিতার প্রাথমিক পর্যায়টা ছিলো আমাদের যারা সেচ্ছাসেবক আছে তারা নিজেদের মধ্য থেকেই টাকা সংগ্রহ করে সমাজের খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষদেরকে মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণ করার পরিকল্পনা নিয়ে। দিনে দিনে কোভিড-১৯ এর ভয়াবহতা চারদিকে ছড়িয়ে পরলে আমাদের আলোচনা ও মুখ্য উদ্দেশ্য ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার দিকে মোড় নেয়। এখন পর্যন্ত ‘সুরক্ষিত হোক প্রতিটি জীবন’ শ্লোগান নিয়ে আমরা ক্ষুধামুক্তির এ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি। প্রাথমিক ভাবে ৩৫০টি পরিবারকে খাদ্য প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে শুরু করে ইতোমধ্যেই আমরা ৮৪০টি পরিবারকে সহযোগীতা করতে পেরেছি এবং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
VAC এর দাতা ও সদস্য কারা?
VAC কোন রকমের রাজনৈতিক কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক কোন সংগঠন নয়। প্রয়োজনীয়তাই উদ্ভাবনের জনক। আমাদের প্রতিষ্ঠাও সেইরকম ভাবে। মূলত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিন ও সংগঠনের প্রাক্তন কিছু শিক্ষার্থীরা একত্র হয়ে নিজেদের সহযোগীতার কার্যক্রমকে এগিয়ে নেয়ার জন্য VAC নামে তাদের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে দাতাদের সবচেয়ে বড় অংশটা তাদেরই পরিচিত খুবি’র প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। তাছাড়া দেশ-বিদেশ থেকেও অনেকেই আমাদেরকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন এবং এ উদ্যোগকে সামনে এগিয়ে নিতে সহায়তা করছেন। আমরা মনে করি আমাদের সহযোগী হয়ে ক্ষুধামুক্তির এ যুদ্ধে সামিল হওয়া প্রত্যেকেই VAC এর সদস্য।
VAC এখন পর্যন্ত ফান্ড সংগ্রহ ও কার্যক্রম এর বিস্তারঃ
VAC এর তহবিলে এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৭৬২টাকা জমা হয়েছে।
যার মাধ্যমে সর্বমোট ৮৪০টি পরিবারকে খাদ্যের যোগান দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে খুলনার
রেলিগেট - ১০১ টি পরিবার,
গল্লামারী শ্বশান ঘাটের পাশের বস্তি - ৩০ টি পরিবার,
বকসিপাড়া - ২০ টি পরিবার,
মুজগুন্নি - ২৫ টি পরিবার ,
খালিশপুর - ৩৫ টি পরিবার ,
খুলনা মেডিকেলের বিপরীত এলাকায় - ৪৫ টি পরিবার ,
নিরালা ও নিরালা খালের ওপার – ৫১ টি পরিবার,
ইলাইপুর - ২৫ টি পরিবার ,
টুটপাড়া - ১৬ টি পরিবার ,
রায়পাড়া - ৫ টি পরিবার,
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস - ২ টি পরিবার,
চানমারী - ১ টি পরিবার,
শেখপাড়া - ১ টি পরিবার,
গগণ বাবু রোড- ২৮ টি পরিবার,
সি এন্ড বি কলোনী- ২ টি পরিবার,
রুপসা মোড়- ৭ টি পরিবার,
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায়- ৩২৩ টি পরিবার,
সোনাডাঙ্গা- ৩০ টি পরিবার,
ময়লাপোতা- ২ টি পরিবার,
খুলনা মহানগর প্রতিবন্ধী উন্নয়ন পরিষদ- ৬০ টি পরিবার
৩১ টি পরিবার কে মোট ২১ হাজার টাকা,
রুপসা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র কে মোট ৭ হাজার ৫০৯ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
এ ৮৪০টি পরিবারের খাদ্য যোগানে মোট খরচ- ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪২ টাকা। ফলে আমাদের বর্তমান তহবিল সংগ্রহ- ২৯ হাজার ২২০টাকা।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় VAC এর কার্যক্রমঃ
আমাদেরকে যারা অর্থ, শ্রম ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগীতা করছেন তাদের বড় অংশটা খুবি’র প্রাক্তন গ্র্যাজুয়েট হওয়ায় অনেকেই জানতে চাচ্ছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকাগুলোতে কার্যক্রমের ব্যাপকতা কেমন?
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমাদের সবার আবেগ জড়িত।
এরকম একটা দুরবস্থার মধ্যে, ক্যাম্পাসের আশেপাশের মানুষগুলোর জন্য মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই... আমরা সবাই যে যার জায়গা থেকে এগিয়ে আসছি। মানুষ হিসেবে এটা আমাদের কর্তব্য।
কিন্তু আমাদের অবশ্যই মনে রাখা উচিত শুধু বন্টনের মাধ্যমেই দায়িত্ব শেষ নয়। সুষম বণ্টন প্রয়োজন! ক্যাম্পাস এর সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৪০০ পরিবারের বসবাস। এদের মধ্যে অধিকাংশ (নিম্নবিত্ত, খুব নিম্নবিত্ত এবং অত্যন্ত নিম্নবিত্ত) পরিবার।
আমরা যদি গল্লামারী, মোহাম্মদনগর, জিরোপয়েন্ট এলাকার পরিবারের সংখ্যা হিসাব করি তাহলে আরও ২০০০ (নিম্নবিত্ত, খুব নিম্নবিত্ত এবং অত্যন্ত নিম্নবিত্ত) পরিবার আছে। আমরা ক্যাম্পাস এর সংলগ্ন এলাকায় ৩২৫ টি পরিবারের জন্য ব্যবস্থা করতে পেরেছি | (এদের মধ্যে আমাদের সবার পরিচিতি মানুষগুলো ও আছে)
এই ৩২৫ টি পরিবারের মধ্যে ২৬৫ টি পরিবারের খাবার আমরা ক্যাম্পাস প্রাঙ্গনে দিয়েছি।
আর বাকি ৪০ টি পরিবারের খাবার নাসির ভাই, সালাম ভাই ও লিটন ভাইএর মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এখানে বলে রাখা ভালো, যে নাসির-সালাম-লিটন ভাইয়েরা নিজ উদ্যোগে ক্যাম্পাস সংলগ্ন দোকান গুলোর মালিক-কর্মচারী দের (৫০-৬০ টি পরিবারের) জন্য ফান্ড জোগাড় করছেন। তাছাড়া তপন’দা, নাসির ভাই, লিটন ভাই, সাইদুল ভাই, আলেক চাচা, ভাবিসহ আমাদের খুবি’র আবেগের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকজনকেই আমাদের মধ্য থেকে খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা নিজেরাও উদ্যোগী হয়ে আশেপাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
আমাদের সামনের দিনগুলোর ভাবনাঃ
আমাদের উদ্দেশ্যটা একই রকম। আমরা ক্ষুধামুক্তির যুদ্ধে নেমেছি। আমরা এখনো জানিনা বিদ্যমান পরিস্থিতি আর কতদিন স্থায়ী হবে। চলছে রমজান মাস। আমরা চাই, সকলের সহযোগিতা পেলে এ কার্যক্রমকে আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবো।প্রতিটি জীবন সুরক্ষার যুদ্ধে একদিন জয়ী হবো।
সহযোদ্ধা হিসেবে সামিল হওয়ার ঠিকানাঃ
আমাদেরকে যারা অর্থ দিয়ে, শ্রম দিয়ে কিংবা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতে চান তারা নিম্নোক্ত নাম্বারগুলো ব্যবহার করতে পারেন। আমাদের কাছে সহায়তা পৌছে দেয়া যাবে নিচের ঠিকানায়।
Bkash:
01627621937 (সাইদুর রহমান)
01711433117 (আরাফাত হাবিব আকাশ)
01670695630 (আহমাদ আল রাজী)
Rocket:
017238735146 (অপূর্ব কুমার সেন)
016706956301 (আহমাদ আল রাজী)
013031547524 (নিলয় সরকার)
নগদঃ
01670695630 (আহমাদ আল রাজী)
ডাচ-বাংলা ব্যাংক:
Shounok Rahman;
AC Info: 120.101.309440 (Khulna Branch)
For online transaction: 1201010309440 (DBBL, Khulna)
(রেফারেন্সে 'Corona' লিখতে ভুলবেননা)
এই মহৎ উদ্যোগে একজন যোদ্ধা হওয়ার জন্যে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার আমার অল্প সহযোগীতা হবে কারো একবেলা, এক দিনের আহার!