19/08/2024
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ৫ই আগষ্ট ঢাকা উত্তরায় গুলিতে শহীদ হয় কিশোরগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর ছাত্র সামিদ হোসেন।
শহীদ সামিদ হোসেন কিশোরগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড রিকন্ডিশনিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন, তাহার গ্রামের বাড়ি মুক্তাগাছা ময়মনসিংহের তেঘুরী গ্রামে।
স্বজনেরা বলেন, ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে উত্তর আজমপুর বিএনএস সেন্টারের সামনে পুলিশ ও ছাত্র-জনতার সংঘর্ষ চলছিল। সামিদ হোসেন ও তাঁর বাবা ফরহাদ হোসেন সকাল থেকেই ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
বিকেল পাঁচটার দিকে হঠাৎ পুলিশের ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন সামিদ। পরে তাঁকে উদ্ধার করে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত বা আইনি কোনো পদক্ষেপ ছাড়াই পরের দিন ৬ আগস্ট মুক্তাগাছার উপজেলার মানকোন তেঘুরীতে নিজ গ্রামে জানাজা শেষে সামিদকে দাফন করা হয়।
৫ আগস্ট বাসা থেকে বের হওয়ার পর সামিদ শেষবার দুপুরে কল করেছিলেন জানিয়ে তাঁর মা শিল্পী আক্তার বলেন, ‘ফোন করেই বলতে শুরু করে, “হ্যালো, মা বলেছিলাম না আজ সরকারের পতন হবে। কিছুক্ষণ পরেই সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন, শুনতেছি হাসিনা নাকি দেশ ছেড়ে পলাইছে।”’ এ কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিল্পী আক্তার। তিনি আরও বলেন, ‘সবাই বিজয়ের পতাকা নিয়ে ঘরে ফিরলেও আমার বুকের মানিক ফিরেছে লাশ হয়ে।’