Public University Students' Association of Kulaura - PUSAK

Call Directions Contact the university

Public University Students' Association of Kulaura - PUSAK কুলাউড়া উপজেলা থেকে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অরাজনৈতিক একটি প্ল্যাটফর্ম।

পঞ্চব্রীহি ধানের উদ্ভাবক জিনবিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরীকুলাউড়ার মাটি থেকে বিশ্ববিজ্ঞানের অঙ্গনেমৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ...
05/09/2026

পঞ্চব্রীহি ধানের উদ্ভাবক জিনবিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী

কুলাউড়ার মাটি থেকে বিশ্ববিজ্ঞানের অঙ্গনে

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কানিহাটি গ্রামের সন্তান ড. আবেদ চৌধুরী বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান জিনবিজ্ঞানী, ধান গবেষক, বিজ্ঞানলেখক ও কবি। আন্তর্জাতিক গবেষণাঙ্গনে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় কাজ করার পাশাপাশি নিজের জন্মভূমির কৃষি, কৃষক ও দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে চলেছেন তিনি। তাঁর সবচেয়ে আলোচিত উদ্ভাবনগুলোর একটি ‘পঞ্চব্রীহি ধান’, যা একই গাছ থেকে একাধিকবার ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

কুলাউড়ার এই কৃতি সন্তান একই সঙ্গে পাবলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব কুলাউড়া (পুসাক)-এর অ্যালামনাই যা কুলাউড়ার তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য নিঃসন্দেহে গর্বের একটি পরিচয়।

শৈশব ও শিক্ষাজীবন :

ড. আবেদ চৌধুরী ১৯৫৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কানিহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সময়ই প্রকৃতি, জীবজগৎ ও কৃষির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। তিনি মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক এবং পরবর্তীতে ঢাকার নটর ডেম কলেজে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।

এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে ভর্তি হন। রসায়নের শিক্ষার্থী হলেও তাঁর আগ্রহ ধীরে ধীরে জীববিজ্ঞান ও জিনতত্ত্বের দিকে বিস্তৃত হয়। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং ইউনিভার্সিটি অব ওরেগনে মলিকুলার বায়োলজিতে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ (NIH) ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (MIT)-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গবেষণা করেন।

জিনবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান :

ড. আবেদ চৌধুরীর গবেষণা জীবনের শুরুতেই তিনি জেনেটিক্সের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করেন। ১৯৮৩ সালে পিএইচডি গবেষণার সময় তিনি ‘RecD’ নামের জেনেটিক রিকম্বিনেশনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জিন আবিষ্কার করেন। তাঁর এই কাজ পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক গবেষণাঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।

পরবর্তীতে তিনি apomixis বা নিষেক ছাড়াই বীজ উৎপাদনের প্রক্রিয়া নিয়েও দীর্ঘদিন গবেষণা করেন। এই গবেষণার লক্ষ্য ছিল এমন ফসলের সম্ভাবনা তৈরি করা, যেখানে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য পরবর্তী প্রজন্মেও স্থায়ীভাবে ধরে রাখা সম্ভব হতে পারে। তাঁর এই গবেষণা উদ্ভিদ প্রজনন ও কৃষি বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত।

আন্তর্জাতিক গবেষণা জীবন :

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি তিনি অস্ট্রেলিয়ার CSIRO (Commonwealth Scientific and Industrial Research Organisation)-এ প্রায় দুই দশক গবেষণা বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করেন। তাঁর গবেষণার অন্যতম ক্ষেত্র ছিল উদ্ভিদের জিনতত্ত্ব ও ধানের প্রজননবিজ্ঞান। চার দশকেরও বেশি সময়ের গবেষণা অভিজ্ঞতায় তিনি জেনেটিক্স, কৃষি এবং জলবায়ু-সম্মত কৃষি নিয়ে কাজ করেছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়লেও নিজের শিকড় ও জন্মভূমির প্রতি তাঁর টান কখনো কমেনি। বরং বিদেশে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে তিনি দেশের কৃষি উন্নয়নে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন।

জন্মভূমি কানিহাটিতে কৃষি গবেষণা :

২০১০ সালে ড. আবেদ চৌধুরী কৃষাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। কুলাউড়ার হাজীপুর ইউনিয়নের কানিহাটি গ্রামের নিজ এলাকায় কৃষক ও গবেষকদের সমন্বয়ে তিনি কৃষি গবেষণার কার্যক্রম শুরু করেন। ধান ছাড়াও রঙিন ভুট্টা, জোয়ার, বাজরা, রাগি ও বিভিন্ন শস্য নিয়ে সেখানে গবেষণা পরিচালিত হয়েছে।

এখানে তাঁর দর্শন ছিল কৃষি গবেষণা শুধু গবেষণাগারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং কৃষকের মাঠেই গবেষণার ফলাফল পরীক্ষা ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

পঞ্চব্রীহি ধান: এক গাছ থেকে বারবার ফলনের স্বপ্ন :

ড. আবেদ চৌধুরীর সবচেয়ে বেশি আলোচিত কৃষি উদ্ভাবন হলো ‘পঞ্চব্রীহি ধান’। সাধারণত ধান কাটার সময় পুরো গাছ কেটে ফেলা হয় এবং পরবর্তী মৌসুমে নতুন করে ধান রোপণ করতে হয়। কিন্তু ড. আবেদ চৌধুরীর দীর্ঘ গবেষণার লক্ষ্য ছিল ধানগাছকে এমনভাবে উন্নত করা, যাতে একবার রোপণের পর একই গাছ থেকে আবারও ধান পাওয়া যায়।

প্রায় ১৪ বছর ধরে তিনি এই ধারণা নিয়ে গবেষণা করেন। প্রথমে এমন কিছু দেশীয় ধানের জাত নির্বাচন করা হয়, যেগুলো কাটার পর একই গাছ থেকে আবার নতুন শীষ দিতে পারে। এরপর সেগুলো নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ, নির্বাচন ও সংকরায়ণের মাধ্যমে গবেষণা এগিয়ে নেওয়া হয়।

দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফল হিসেবে আসে পঞ্চব্রীহি ‘পঞ্চ’ অর্থ পাঁচ এবং ‘ব্রীহি’ অর্থ ধান। ধারণাটি হলো, একটি ধানগাছকে একবার রোপণ করে বিভিন্ন সময়ে পাঁচবার পর্যন্ত ধান উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করা। প্রচলিত বর্ণনায় এর উৎপাদনচক্রে বোরো, আউশ ও আমন মৌসুম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই উদ্ভাবনের সম্ভাবনা শুধু একই জমিতে বারবার ধান উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সফলভাবে প্রয়োগ করা গেলে এতে কৃষকের বীজ, চারা রোপণ, জমি প্রস্তুত ও শ্রমের প্রয়োজন কমতে পারে এবং একই জমি থেকে দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তাঁর নিজের ভাষায়, পঞ্চব্রীহি কোনো চূড়ান্ত গন্তব্য নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার একটি সূচনা ভবিষ্যতে আরও বেশি বার একই গাছ থেকে ফলন পাওয়ার সম্ভাবনাও তিনি দেখেছেন।

ধান নিয়ে তাঁর গবেষণা পঞ্চব্রীহিতেই শেষ নয়। দেশীয় ধানের বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নতুন জাতের উদ্ভাবন এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষি নিয়েও তিনি কাজ করেছেন। বিভিন্ন দেশীয় ও উন্নত জাতের সংকরায়নের মাধ্যমে নতুন বৈশিষ্ট্যের ধান তৈরির চেষ্টা করেছেন তিনি।

রঙিন ভুট্টা, বিভিন্ন শস্য এবং বহুবর্ষজীবী বা একাধিকবার ফলনশীল ফসল নিয়েও তাঁর গবেষণা রয়েছে। তাঁর কাজের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের কৃষিকে আরও বৈচিত্র্যময়, টেকসই ও কৃষকবান্ধব করে তোলা।

বিজ্ঞানী, লেখক ও কবি :

ড. আবেদ চৌধুরীর পরিচয় শুধু একজন বিজ্ঞানী হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ভাষায় পৌঁছে দিতে তিনি বাংলা ও ইংরেজিতে লিখেছেন। পাশাপাশি তিনি একজন কবিও।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও লেখার মধ্যে রয়েছে ‘মানুষের জিন, জিনের মানুষ’, ‘অণুভবের নীলনকশা’, ‘শৈবাল ও অন্তরীক্ষ’, ‘দুর্বাশিশির ও পর্বতমালা’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘স্বপ্ন সত্তা নদী ও অন্যান্য কবিতা’ এবং ইংরেজি ভাষায় Paradigm Shift ও Anguished Rivers and Other Designs প্রভৃতি।

কুলাউড়ার জন্য অনুপ্রেরণার নাম

একজন মানুষ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিজ্ঞানী হওয়ার পরও নিজের জন্মগ্রামকে গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন—এটি ড. আবেদ চৌধুরীর জীবনের অন্যতম অনন্য দিক।

কুলাউড়ার হাজীপুর ইউনিয়নের কানিহাটির মাটি থেকে তাঁর যাত্রা শুরু হয়ে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক গবেষণাগারে। আবার সেই আন্তর্জাতিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নিয়েই তিনি ফিরে এসেছেন নিজের গ্রামের কৃষকের কাছে।

তাই ড. আবেদ চৌধুরী শুধু একজন বিজ্ঞানীর নাম নন; তিনি কুলাউড়ার মাটি, কৃষি ও মানুষের সঙ্গে যুক্ত এক অনুপ্রেরণার নাম।

কুলাউড়ার সন্তান হিসেবে তাঁর অর্জন আমাদের গর্বিত করে। আর পুসাকের অ্যালামনাই হিসেবে তাঁর পথচলা আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য আরও বড় অনুপ্রেরণা—সুযোগ পেলে কুলাউড়ার একজন শিক্ষার্থীও যে বিশ্ববিজ্ঞানের অঙ্গনে নিজের জায়গা করে নিতে পারেন, তাঁর জীবন তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।

কুলাউড়া থেকে বিশ্বমঞ্চ—ড. আবেদ চৌধুরীর এই পথচলা তাই শুধু একজন বিজ্ঞানীর জীবনী নয়; এটি কুলাউড়ার মাটি থেকে উঠে আসা এক স্বপ্ন, গবেষণা ও সম্ভাবনার গল্প।

📖 পুসাকের দ্বিতীয় প্রকাশনা | লেখা আহ্বানপাবলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব কুলাউড়া (পুসাক) ইতোমধ্যে প্রকাশ ক...
01/09/2026

📖 পুসাকের দ্বিতীয় প্রকাশনা | লেখা আহ্বান

পাবলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব কুলাউড়া (পুসাক) ইতোমধ্যে প্রকাশ করেছে আমাদের প্রথম ম্যাগাজিন “তারুণ্যে কুলাউড়া”। সেই ধারাবাহিকতায় এবার দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশিত হতে যাচ্ছে পুসাকের নতুন সৃজনশীল ম্যাগাজিন।

এই আয়োজনে কুলাউড়ার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লেখা ও সৃজনশীল কাজ আহ্বান করা হচ্ছে।

🖋️ যেসব বিভাগে লেখা/কাজ পাঠানো যাবে—
▪ কবিতা
▪ ছোটগল্প
▪ প্রবন্ধ
▪ স্মৃতিচারণ
▪ ভ্রমণকাহিনি
▪ ডায়েরি/অনুভূতি
▪ চিত্রাঙ্কন
▪ ফটোগ্রাফি
▪ অন্যান্য সৃজনশীল কাজ

📌 তথ্য হালনাগাদ:
যারা “তারুণ্যে কুলাউড়া” ম্যাগাজিনে ইতোমধ্যে নিজেদের তথ্য দিয়েছেন, তাদের পুনরায় তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
তবে কেউ যদি ছবি পরিবর্তন বা নতুন ছবি যুক্ত করতে চান, সেক্ষেত্রে ফর্মটি পূরণ করতে পারবেন।

📋 তথ্য/লেখা জমা দেওয়ার ফর্ম:

https://form.svhrt.com/6a959faeb77f04dd649c094d

আপনার একটি লেখা হয়ে উঠতে পারে কুলাউড়ার তরুণ প্রজন্মের গল্পের অংশ।
নিজের কথা, নিজের ভাষায়—লিখুন, পাঠান এবং জায়গা করে নিন পুসাকের দ্বিতীয় প্রকাশনায়।

কুলাউড়া চা-বাগান থেকে অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষণায় চম্পা নাইডুর অনন্য পথচলা।চা-বাগানের ভেতর থেকে শুরু হয়েছিল প...
30/08/2026

কুলাউড়া চা-বাগান থেকে অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষণায় চম্পা নাইডুর অনন্য পথচলা।

চা-বাগানের ভেতর থেকে শুরু হয়েছিল পথচলা। নানা প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা ও সংগ্রাম পেরিয়ে সেই পথচলা আজ পৌঁছেছে ভারতের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষণায়। তিনি আমাদের গর্ব, চম্পা নাইডু পাবলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব কুলাউড়া (পুসাক)-এর একজন সম্মানিত অ্যালামনাই।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার লংলা চা-বাগানে বেড়ে ওঠা চম্পা নাইডুর গল্প শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি স্বপ্ন, সংগ্রাম, অধ্যবসায় ও সম্ভাবনার এক অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প। সীমিত সুযোগের মধ্যেও একজন চা-বাগানের মেয়ে যে উচ্চশিক্ষার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, তাঁর পথচলা তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।

২০১০ সালে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে চম্পা ভর্তি হন ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন স্কুলে। চা-বাগান শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য পরিচালিত এই আবাসিক প্রতিষ্ঠানে বিনা খরচে পড়াশোনা ও আবাসনের সুযোগ তাঁর শিক্ষাজীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে এসএসসি এবং ২০১৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। পাশাপাশি লাভ করেন ডাচ্-বাংলা ফাউন্ডেশনের বৃত্তি।

এরপর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি নিজের শেকড় ও চা-বাগানের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা ধরে রাখেন চম্পা। চা-শ্রমিক ও তাঁদের সন্তানদের শিক্ষা, অধিকার, জীবনযাত্রা এবং সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাঁর আগ্রহ আরও বিস্তৃত হয়। পরবর্তীতে পাবলিক পলিসি ও হিউম্যান রাইটস নিয়েও কাজ শুরু করেন তিনি।

উচ্চশিক্ষার ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালে ICCR Scholarship নিয়ে ভারতে গিয়ে অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তি হন। নিজের পারিবারিক শেকড় ও অন্ধ্র প্রদেশের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের কারণে অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর পথচলায় বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

২০২৫ সালে দ্বিতীয়বারের মতো ICCR Scholarship অর্জন করে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে শুরু করেন পিএইচডি গবেষণা। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও নিজের শেকড়ের টান এবং অন্ধ্র প্রদেশের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়েই গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

বর্তমানে ২০২৫–২০২৮ সময়কালে অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে তাঁর গবেষণার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশের চা-বাগানের শ্রমজীবী মানুষের জীবন, মানবাধিকার ও সামাজিক বাস্তবতা। একই সঙ্গে চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং তাঁদের জন্য কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ করছেন তিনি।

সবচেয়ে অনুপ্রেরণার বিষয় হলো—চম্পা চা-বাগান থেকে বেরিয়ে এসেছেন, কিন্তু চা-বাগানকে পেছনে ফেলে আসেননি। নিজের শেকড়ের মানুষদের জীবন, অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করেই তিনি তাঁর একাডেমিক ও গবেষণার পথ এগিয়ে নিচ্ছেন।

পুসাক বিশ্বাস করে, একজন অ্যালামনাইয়ের সাফল্য শুধু তাঁর নিজের অর্জন নয়; এটি পুরো কুলাউড়ার তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা। চম্পা নাইডুর পথচলা আমাদের দেখায় পরিবেশ হয়তো স্বপ্নকে সীমাবদ্ধ করতে পারে, কিন্তু দৃঢ় সংকল্প, শিক্ষা ও অধ্যবসায় স্বপ্নের সীমা নির্ধারণ করতে পারে না।

চা-বাগানের মাটি থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক পরিসরে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় নিজের অবস্থান তৈরি করা চম্পা নাইডু আজ কুলাউড়ার অসংখ্য শিক্ষার্থী ও বিশেষ করে চা-বাগানের তরুণীদের জন্য এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা।

পুসাক পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের প্রিয় অ্যালামনাই চম্পা নাইডুকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা।
তাঁর গবেষণা ও ভবিষ্যৎ পথচলা আরও সমৃদ্ধ হোক এবং তাঁর হাত ধরে কুলাউড়ার আরও অনেক স্বপ্ন একদিন দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছাক।

PUSAK Alumni | Inspiring Beyond Boundaries

কুলাউড়া উপজেলার কৃতি সন্তান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৪–১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং পাবলিক ইউনিভার...
28/08/2026

কুলাউড়া উপজেলার কৃতি সন্তান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৪–১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং পাবলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব কুলাউড়া (পুসাক)-এর সাবেক আহ্বায়ক এনামুল হাসান কাওসার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যকলা বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় পাবলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট'স অ্যাসোসিয়েশন অব কুলাউড়া (পুসাক)-এর পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন।

আপনার নেতৃত্ব, দক্ষতা ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতায় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ হবে—এই প্রত্যাশা করি।

— পাবলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট'স অ্যাসোসিয়েশন অব কুলাউড়া (পুসাক)

Happy Birthday!!Public University Students’ Association of Kulaura (PUSAK) extends its warmest birthday wishes to our Ho...
09/08/2026

Happy Birthday!!

Public University Students’ Association of Kulaura (PUSAK) extends its warmest birthday wishes to our Honorable Alumnus, Ahmed Saifuddin Chowdhury Mintu, Managing Director & CEO of Bangladesh General Insurance Company PLC.

Your remarkable leadership, dedication, and professional achievements continue to inspire us. May Allah bless you with good health, happiness, longevity, and continued success in every aspect of life.

Wishing you a wonderful birthday and a prosperous year ahead.

Public University Students’ Association of Kulaura (PUSAK)

21/06/2026

‘‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৬’’ এ হামদ-নাত ক্যাটাগরিতে জাতীয় চ্যাম্পিয়ান হওয়া কুলাউড়ার কৃতী শিক্ষার্থী মাহিমা ইসলাম পুসাক সভাপতি ও জাকসুর নাট্য সম্পাদক রুহুল ইসলাম ভাইকে একটি হামদ গেয়ে শোনান।

পাবলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব কুলাউড়া (পুসাক)-এর কার্যক্রম ও জাতীয় চ্যাম্পিয়ন মাহিমা ইসলামকে সংবর্ধনা প...
20/06/2026

পাবলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব কুলাউড়া (পুসাক)-এর কার্যক্রম ও জাতীয় চ্যাম্পিয়ন মাহিমা ইসলামকে সংবর্ধনা প্রদানের সংবাদ প্রকাশ করার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

📌 সংবাদের লিংক কমেন্ট বক্সে দেওয়া হলো।

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৬ এ জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জনকারী কুলাউড়ার কৃতি শিক্ষার্থী মাহি...
19/06/2026

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৬ এ জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জনকারী কুলাউড়ার কৃতি শিক্ষার্থী মাহিমা ইসলামকে অভিনন্দন ও উৎসাহ প্রদান করতে পাবলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব কুলাউড়া (পুসাক)-এর শুভেচ্ছা সাক্ষাৎ ও উপহার প্রদান।

১৯ জুন ২০২৬ রোজ শুক্রবার, মাহিমার নিজ বাড়িতে উপহার প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন পুসাকের সম্মানিত সভাপতি রুহুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আহবাব জামান আকিব, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সাফি এবং করেরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং মাহিমা ইসলামের মাতা হালেমা আক্তার।

সাক্ষাৎকালে পুসাকের সভাপতি ও জাকসুর নাট্য সম্পাদক রুহুল ইসলাম তার এই অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এবং তার সর্বাঙ্গীণ সুন্দর ভবিষ্যৎ ও উত্তরোত্তর সাফল্যের জন্য শুভকামনা জানান। পাশাপাশি যেকোনো প্রয়োজনে পুসাকের পাশে থাকার আশ্বাস ব্যক্ত করেন।

পরিশেষে পুসাক বিশ্বাস করে, মাহিমা ইসলামের এই অসাধারণ সাফল্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষা ও মেধা বিকাশে আরও অনুপ্রাণিত করবে এবং কুলাউড়ার জন্য গৌরব বয়ে আনবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬তম ব্যাচের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং পুসাকের এল্যামনাই সাইফুল ইসলাম শাহীন-এর মৃত...
14/06/2026

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬তম ব্যাচের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং পুসাকের এল্যামনাই সাইফুল ইসলাম শাহীন-এর মৃত্যুতে পাবলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব কুলাউড়া (পুসাক) গভীরভাবে শোকাহত।

আমরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম দান করেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

— পাবলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট'স অ্যাসোসিয়েশন অব কুলাউড়া-(পুসাক)

Address

Kulaura
3032

Telephone

+8801726472123

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Public University Students' Association of Kulaura - PUSAK posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The University

Send a message to Public University Students' Association of Kulaura - PUSAK:

Shortcuts

Share