04/09/2026
#আমার_প্রথম_প্রেম
রোকসানা বৃষ্টি
আল ফা-ইযাত, ১০ম ব্যাচ
বৈশাখের শেষ আমের মুকুল ফোঁটার সাথে যখন বয়সের সীমান্ত রেখা কৈশোরের গন্ডি পেরলো ;
আমি তখন প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম, জানো?
না না, তা প্রথম দর্শনের প্রেম ছিল না মোটে!
ছিল চির-অদেখা এক মায়ার রুপকথা।ন-বটে?
দু'কাধে বিনুনি দোলানো বেখেয়ালি কিশোরী
লুকিয়ে চুরিয়ে মায়ের লাল শাড়ি কায়ায় জড়ি,
হারিয়েছিল সূদুর আরবের বালুময় বিরানে।
কখনো হুমায়ুন, কখনো বা শরৎচন্দ্রে হারিয়ে,
চপলা ষোড়শী থমকেছিল-এক ধু ধু মরু পারিয়ে।
যেই মরুতে দেখেছিলাম এক নাম–আল আমিন
যার সততায় মন্দও হতো লাজুক, নত, ক্ষীণ।
কিশোরীর হৃদয়ে ফোঁটা প্রথম প্রেমের ফুল,
নাম ছিল তাঁর - শোন গো, মুহাম্মদে রাসুল!
চৌদ্দশ বছরের সময়কে কি পেছনে ফেলা যায়?
বলো তো, এতো দূরত্বেও কি প্রেম কভু হারায়?
লাউ ছিল ভারি অনাদরের। মা বলতো, ঢং হাজার!
খুঁতখুঁতে স্বভাব নাকি,রাজ্যের আদিখ্যেতা আমার।
একদিন জানলাম,প্রিয় ছিল তাঁর লাউয়ের স্বাদ।
দুপুররঙে আমার থালায় লাউ-চিংড়ি দেখে
মা'র চোখে জমে বিস্ময়-আহ্লাদ!
জ্বরে কাহিল হলে রাগ হতো ভীষণ অসুখে,
পারলে জ্বরের গোত্রটাকেই ধরি মুঠো মুঠো সুখে।
তিনি বলেছিলেন," জ্বরকে দিও না গালি।
অসুখও যে রহমত ; বুঝেছো বোকা বালি!"
আমার যে কি হলো! আমি নিজেও জানি না,
হয়ে গেলাম জ্বরে কাবু আদুরে ছানা।
আচ্ছা, প্রেম কি এমনই হয়?
নীরব, নিরালায়! অদেখা চোখের গভীর মায়ায়!
আরবের বালিয়াড়ি, মরুভূমি আর গ্রীষ্মের দুপুর
সবেতেই ভেসে বেড়ায় প্রেমের উষ্ণ বারুদ।
মদিনার হাওয়ায় মিশে আছে রাসুলের দোয়া
উহুদ থেকে নেমে আসে শীতল বিকেলের ছোঁয়া।
সেই হাওয়ায় আমি হারাই গো এক অচেনা জগতে
হেরার নিস্তব্ধতায় বুক পাতি অমলিন আশাতে।
আচ্ছা বলো, তাঁকে কেমন করে না ভালোবাসি?
তায়েফের প্রস্তরখন্ডেও যাঁর কন্ঠ যায় দুয়ায় ভাসি।
রক্তাক্ত বদনেও যাঁর ঠোঁটে নেই কোন অনুযোগ
যাঁর অন্তরে কেবল উম্মাতেরই আর্ত অনুরোধ।
যিনি রাত জাগতেন উম্মাতের জন্য চোখ ভেঁজাতে
ইয়া উম্মাতি! এই দুয়াই লেগে থাকতো তাঁর ঠোটে।
আমি শুনে থমকে যাই! এ কেমন প্রেম!
যে প্রেমে নিজেকে ভুলে যায় পুরো উম্মাতের হেম।
তাঁর প্রেমে কেমনে আমি না ডুবি গো!
মৃত্যুক্ষণেও আমার কথা যার স্মরণে ছিল!
কম্বল জড়িয়ে গায়,খাদিজার আশ্বাসে হলেন শান্ত
নবুয়তের ভার! তবু মানুষটা ছিলেন বিনয়ী, ক্লান্ত।
মক্কার কাঁটা বিছানো তপ্ত বালিতে তাঁর পদচিহ্ন ;
মোর হৃদয় করে উচাটন, এই ভূমির তরে যে,
আমার সারা জনম হয় রিক্ত, নিঃস্ব।
শিয়াবে আবু তালিব–ক্ষুধার তরে কাটে প্রহর
পাতা চিবিয়ে যায়, তবু বিশ্বাস রয় অটল, অবিচল।
হিজরতের তীব্র বেদনায় অদৃশ্য রক্তক্ষরণ
এই ক্ষরণেই যে লেখা দ্বীনের দূরপ্রহরী বিচরণ।
উহুদের ঢালে রক্তাক্ত মুখ, দাঁত ভাঙা বেদনা
তবু হৃদয়ে তাঁর–দ্বীন ইসলাম ;
এই কি সাধারণ প্রেমের ভাষা!
মক্কা বিজয়ে করি উচু শির, প্রবেশ নিজ ভূমে।
কাফির-মুশরিকেরা আজ কাঁপে থরথর,
প্রতিশোধ ধেয়ে এলো বলে!
আনম্র কন্ঠে প্রতিশোধ নয়,নেই অভিযোগ কোন ;
ক্ষমার এই শ্লোক জগতজুড়ে ইতিহাস বনে গেলো।
ক্ষমতার চূড়ায় দাড়িয়েও যিনি নিরহংকার,বিনীত ;
আমি তাঁরে বাসি, বাসি গো ভালো!
কখনোও না দেখে কি প্রেম হয় বলো?
হয় বৈকি! এই যে আমি গেলাম পড়ে
ধপাস! পড়লাম অতলে গো!
চোখে না দেখেও যার বিরহে হৃদয় ভেঙে আসে
যাঁর নামে বুক কেঁপে উঠে তীব্র নিঃশ্বাসে।
আমি তাঁকে খুঁজি না এই আকাশে
তাঁকে খুঁজে নিতে চাই হাশরের বিস্তৃত ময়দানে।
তৃষ্ণার্ত এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার জনম তৃপ্ত করতে চাই
তাঁর হাতের কাউসারের মধুর শরাবে।
কখনো না দেখেও যে প্রেম আমাকে ভেঙে গড়ে
সে যে চোখের নয়,আত্নাকে আল্লাহর দিকে মোড়ে।
চিরন্তন প্রেমের কলি ফোঁটে আমার অন্তরে
নীরব আলোর মাঝেই জ্বলে রাসুল তোমার তরে।
সেই যে পেরোল প্রথম প্রেমের প্রহর
এক চিরন্তন প্রেমে বাঁধা পড়ল কিশোরীর অন্তর।
নবীপ্রেমের আলোয় জ্বলে আধার মনন কোণ
জোনাক-আলোয় ভেসে যায় স্বপ্নের নরম জনন।
যে স্বপনে সদা ভাসে উড়ান ❝রাসুল❞ নামে
আলোর ডানা মেলে, সে উড়ে হৃদয় কাননে।
ফিরদাউসের সর্পিল পাহাড়ি পথের বাঁকে
রাসুলের সাক্ষাতের স্বপ্নে,
রূপকথার ফিনিক্স উড়ে যায় কিশোরীর হৃদয় অরণ্যে।
~সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম~💚