Department of Political Studies, Gurukul

Department of Political Studies, Gurukul Welcome to the official page of the Department of Political Studies at Bangladesh Gurukul! Welcome to the Department of Political Studies, Gurukul!

Here, we embark on a journey through the intricate world of politics, exploring its vast landscapes that shape societies and influence our daily lives. Our department is dedicated to the comprehensive study of political history, theories, and concepts, providing insights into the evolution of political thought and practice. We delve into the meanings of key political terms, unraveling their signif

icance in the context of contemporary issues. Our mission is to foster a deeper understanding of political relationships within societies, examining how power dynamics, governance structures, and civic engagement impact communities both locally and globally. We also explore regional politics and world affairs, providing critical analyses of current events and their implications on a broader scale. Join us as we publish engaging content, thought-provoking articles, and insightful discussions that illuminate the complex interplay of politics and society. Whether you are a student, a scholar, or simply a curious individual, our page aims to be a valuable resource for all things political. Together, let’s cultivate an informed and active community that embraces the significance of political awareness in shaping our world. Stay connected with us for regular updates, and feel free to share your thoughts and ideas in the comments. Welcome to the Department of Political Studies—where political curiosity meets informed discussion!

25/09/2025

“সংস্কৃতি ছাড়া স্বাধীনতা অসম্পূর্ণ; কারণ সংস্কৃতিই একটি জাতির আত্মা।” — নেলসন ম্যান্ডেলা

বিশ্বের প্রথম সফল সাবমেরিন হামলা !!!আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৮৬৪ – এই দিনটি সামরিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বি...
16/02/2025

বিশ্বের প্রথম সফল সাবমেরিন হামলা !!!

আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৮৬৪ – এই দিনটি সামরিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। আমেরিকান সিভিল ওয়ার (American Civil War) চলাকালীন, কনফেডারেট সাবমেরিন H.L. Hunley সফলভাবে ইউনিয়ন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ USS Housatonic-কে ডুবিয়ে দেয়। এটি ছিল সামরিক ইতিহাসের প্রথম সফল সাবমেরিন হামলা, যা ভবিষ্যতের নৌযুদ্ধের কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

H.L. Hunley: প্রথম কার্যকর সাবমেরিন:
=========================
H.L. Hunley ছিল কনফেডারেট স্টেটস নেভির (Confederate States Navy) একটি গোপন সাবমেরিন প্রকল্পের অংশ। এটি মূলত আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় বিদ্রোহী রাজ্যগুলোর নৌবাহিনীর জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যাতে তারা ইউনিয়নের নৌ অবরোধ ভেঙে দিতে পারে।

✅ নকশা ও গঠন:
• H.L. Hunley ছিল ১২ মিটার (৪০ ফুট) লম্বা এবং ১.২ মিটার (৪ ফুট) চওড়া।
• এটি হাতে চালিত প্রপেলার ব্যবহার করে চলতো, যেখানে আটজন ক্রু ম্যানুয়ালি ক্র্যাঙ্ক ঘুরিয়ে সাবমেরিনটি চালাতো।
• এর মূল অস্ত্র ছিল একটি টর্পেডো ল্যান্সিং সিস্টেম, যা লম্বা দণ্ডের মাথায় বিস্ফোরক বসিয়ে সেটিকে শত্রু জাহাজের কাঠামোর সঙ্গে সংযুক্ত করত।

USS Housatonic-এর ওপর হামলা
======================
১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৮৬৪ রাতে, কনফেডারেট বাহিনীর H.L. Hunley দক্ষিণ ক্যারোলিনার চার্লসটনের উপকূলের কাছে নোঙর করা ইউনিয়ন নৌবাহিনীর USS Housatonic-এর দিকে গোপনে অগ্রসর হয়।

✅ হামলার কৌশল:
• H.L. Hunley-এর ক্রুরা সাবমেরিনটিকে ধীরে ধীরে USS Housatonic-এর কাছে নিয়ে যায়।
• ১৬ ফুট লম্বা একটি দণ্ডের মাধ্যমে টর্পেডো বিস্ফোরণ স্থাপন করা হয়।
• বিস্ফোরণের ফলে USS Housatonic মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ডুবে যায়।

✅ হামলার ফলাফল:
• USS Housatonic-এর পাঁচজন ক্রু মারা যান, বাকিরা বেঁচে যান।
• H.L. Hunley-ও বিস্ফোরণের ধাক্কায় ডুবে যায় এবং পুরো ক্রু নিহত হয়।
• যদিও সাবমেরিনটি বেঁচে ফেরেনি, এটি সামরিক ইতিহাসে প্রথম সফল সাবমেরিন হামলা হিসেবে স্বীকৃত হয়।

H.L. Hunley-এর পরবর্তী আবিষ্কার ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব:
===================================
✅ ১৯৯৫ সালে H.L. Hunley সাবমেরিনটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়, এবং ২০০০ সালে এটি উদ্ধার করা হয়।
✅ এটি বর্তমানে দ্য হানলি ল্যাবরেটরিতে সংরক্ষিত আছে, যেখানে গবেষকরা এর রহস্য ও ক্রুদের ভাগ্য সম্পর্কে গবেষণা চালাচ্ছেন।
✅ এই ঘটনা ভবিষ্যৎ নৌযুদ্ধের প্রযুক্তিতে বিপ্লব ঘটায় এবং আধুনিক সাবমেরিন যুদ্ধের ভিত্তি স্থাপন করে।

H.L. Hunley-এর সফল আক্রমণ সামরিক যুদ্ধ কৌশলের নতুন যুগের সূচনা করে। যদিও এর ক্রুরা বেঁচে ফিরতে পারেনি, তবে তাদের সাহসী প্রচেষ্টা নৌবাহিনীর যুদ্ধ কৌশলকে আমূল পরিবর্তন করে দেয় এবং পরবর্তী যুগের সাবমেরিন প্রযুক্তির পথপ্রদর্শক হয়।

Ali ibn Abi Talib (RA), the fourth caliph of Islam and the cousin and son-in-law of Prophet Muhammad (PBUH), is a toweri...
19/12/2024

Ali ibn Abi Talib (RA), the fourth caliph of Islam and the cousin and son-in-law of Prophet Muhammad (PBUH), is a towering figure in Islamic history. Renowned for his unparalleled courage, deep wisdom, and profound piety, he played a pivotal role in the early establishment and spread of Islam. Born in the sacred city of Mecca, he was the first child to accept Islam and spent his life serving the Prophet and the Muslim community with unwavering loyalty. As a caliph, he emphasized justice, equality, and the well-being of his people, leaving behind a legacy of leadership rooted in Islamic principles. Ali (RA) is also celebrated for his eloquence, as seen in his sermons and letters compiled in Nahj al-Balagha, and for his unmatched contributions to Islamic jurisprudence and spirituality.

Jawaharlal Nehru (1889–1964) was a visionary leader, freedom fighter, and the first Prime Minister of independent India....
19/12/2024

Jawaharlal Nehru (1889–1964) was a visionary leader, freedom fighter, and the first Prime Minister of independent India. A prominent figure in the Indian independence movement, he was deeply influenced by Mahatma Gandhi's philosophy of nonviolence and civil disobedience. Known as "Pandit Nehru" for his scholarly pursuits, Nehru was instrumental in shaping India's democratic institutions, promoting secularism, and fostering scientific and industrial advancements to build a modern nation. His eloquence, charisma, and progressive ideals earned him respect both at home and on the global stage. Nehru’s legacy is immortalized through his commitment to education, economic reform, and his love for children, symbolized by the celebration of Children’s Day on his birthday, November 14th.

Lee Kuan Yew, often referred to as the founding father of modern Singapore, was a visionary leader and statesman who ser...
19/12/2024

Lee Kuan Yew, often referred to as the founding father of modern Singapore, was a visionary leader and statesman who served as the country's first Prime Minister from 1959 to 1990. Under his leadership, Singapore transformed from a struggling post-colonial city-state into a global economic powerhouse known for its exceptional infrastructure, political stability, and high standard of living. A champion of meritocracy, discipline, and pragmatism, Lee implemented policies that emphasized education, trade, and foreign investment while maintaining a strong focus on multiracial harmony and national unity. His legacy continues to inspire leaders worldwide, showcasing the impact of determination and strategic governance.

Barry Goldwater (1909–1998) was a prominent American politician, businessman, and five-term U.S. Senator from Arizona wh...
19/12/2024

Barry Goldwater (1909–1998) was a prominent American politician, businessman, and five-term U.S. Senator from Arizona who profoundly shaped the modern conservative movement in the United States. Known as "Mr. Conservative," Goldwater was the Republican Party's presidential nominee in 1964, advocating for limited government, individual liberty, and a strong national defense. Although his presidential bid was unsuccessful, his ideas laid the groundwork for the resurgence of conservatism that defined later decades, influencing figures like Ronald Reagan. Beyond politics, Goldwater was a skilled photographer, avid pilot, and advocate for Native American rights, embodying a complex and enduring legacy in American history.

বাংলাদেশের গণপরিষদ গঠন ও সংবিধান কমিটি:==============================১৯৭২-এর জানুয়ারির ১১ তারিখ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ...
02/11/2024

বাংলাদেশের গণপরিষদ গঠন ও সংবিধান কমিটি:
==============================
১৯৭২-এর জানুয়ারির ১১ তারিখ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্বাক্ষরিত “বাংলাদেশের অস্থায়ী সংবিধান আদেশ, ১৯৭২” জারি করা হয়। এই আদেশ বলে বাংলাদেশের জনগণের অভিপ্রায় অনুসারে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অবলম্বিত হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। পরে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাইদ চৌধুরী ১৯৭২ সালের ২৩শে মার্চ গণপরিষদ আদেশ জারি করেন। এবং তা ১৯৭২ সালের ২৬শে মার্চ থেকে কার্যকরী বলে ঘোষিত হয়।

এই আদেশ বলে, ৭ ও ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের জাতীয় এবং প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত ৪৬৯-এর (জাতীয় পরিষদে ১৬৯ জন আর প্রাদেশিক পরিষদে ৩০০ জন) মধ্যে ৪০৩ জন সদস্য নিয়ে গণপরিষদ গঠিত হয়। ৪০৩ জনের মধ্যে ৪০০ জন সদস্য ছিল আওয়ামী লীগের আর ১ ছিল ন্যাপের আর ২ জন ছিল নির্দলীয়। গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে ১০ এপ্রিল ১৯৭২ সালে। অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ। প্রথম অধিবেশনের শুরুতে শাহ আব্দুল হামিদ স্পীকার ও মোহাম্মদ উল্ল্যাহ ডেপুটি স্পীকার নির্বাচিত হন।

সংবিধান কমিটি গঠন:
==============
১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট “খসড়া সংবিধান-প্রণয়ন কমিটি” গঠিত হয়। তাঁরা হলেন:

ড. কামাল হোসেন (ঢাকা-৯, জাতীয় পরিষদ)
মো. লুৎফর রহমান (রংপুর-৪, জাতীয় পরিষদ)
অধ্যাপক আবু সাইয়িদ (পাবনা-৫, জাতীয় পরিষদ)
এম আবদুর রহিম (দিনাজপুর-৭, প্রাদেশিক পরিষদ)
এম আমীর-উল ইসলাম (কুষ্টিয়া-১, জাতীয় পরিষদ)
মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম মনজুর (বাকেরগঞ্জ-৩, জাতীয় পরিষদ)
আবদুল মুনতাকীম চৌধুরী (সিলেট-৫, জাতীয় পরিষদ)
ডা. ক্ষিতীশ চন্দ্র মণ্ডল (বাকেরগঞ্জ-১৫, প্রাদেশিক পরিষদ)
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত (সিলেট-২, প্রাদেশিক পরিষদ)
সৈয়দ নজরুল ইসলাম (ময়মনসিংহ-১৭, জাতীয় পরিষদ)
তাজউদ্দীন আহমদ (ঢাকা-৫, জাতীয় পরিষদ)
খন্দকার মোশতাক আহমেদ (কুমিল্লা-৮, জাতীয় পরিষদ)
এ এইচ এম কামরুজ্জামান (রাজশাহী-৬, জাতীয় পরিষদ)
আবদুল মমিন তালুকদার (পাবনা-৩, জাতীয় পরিষদ)
আবদুর রউফ (রংপুর-১১, ডোমার, জাতীয় পরিষদ)
মোহাম্মদ বায়তুল্লাহ (রাজশাহী-৩, জাতীয় পরিষদ
বাদল রশীদ, বার অ্যাট ল,
খন্দকার আবদুল হাফিজ (যশোর-৭, জাতীয় পরিষদ)
শওকত আলী খান (টাঙ্গাইল-২, জাতীয় পরিষদ)
মো. হুমায়ুন খালিদ
আছাদুজ্জামান খান (যশোর-১০, প্রাদেশিক পরিষদ)
এ কে মোশাররফ হোসেন আখন্দ (ময়মনসিংহ-৬, জাতীয় পরিষদ)
আবদুল মমিন
শামসুদ্দিন মোল্লা (ফরিদপুর-৪, জাতীয় পরিষদ)
শেখ আবদুর রহমান (খুলনা-২, প্রাদেশিক পরিষদ)
ফকির সাহাব উদ্দিন আহমদ
অধ্যাপক খোরশেদ আলম (কুমিল্ল্না-৫, জাতীয় পরিষদ)
অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক (কুমিল্লা-৪, জাতীয় পরিষদ)
দেওয়ান আবু আব্বাছ (কুমিল্লা-৫, জাতীয় পরিষদ)
হাফেজ হাবিবুর রহমান (কুমিল্লা-১২, জাতীয় পরিষদ)
আবদুর রশিদ
নুরুল ইসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৬, জাতীয় পরিষদ)
মোহাম্মদ খালেদ (চট্টগ্রাম-৫, জাতীয় পরিষদ)
রাজিয়া বানু (নারী আসন, জাতীয় পরিষদ)

কমিটি কর্তৃক খসড়া প্রণয়ন:
================
১৭ এপ্রিলের এই কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিটি জনগণের সকল অংশের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জন্য একটি খসড়া সংবিধান প্রণয়নকালে কমিটি কর্তৃক বিবেচনার জন্য যেকোন প্রতিষ্ঠান এবং এই ব্যাপারে আগ্রহী যে কোন ব্যক্তির নিকট হতে লিখিত প্রস্তাব আহ্বান করে।[১৩] এইরূপ সকল প্রস্তাব ১৯৭২ সালের ৮ই মের মধ্যে বাংলাদেশ গণপরিষদের খসড়া সংবিধান-প্রণয়ন কমিটির সচিবের নিকট রেজিস্ট্রিকৃত ডাকযোগে পাঠানের অনুরোধ জানায়।

এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যম, সংবাদপত্র, বেতার ও টেলিভিশন ইত্যাদির মাধ্যমেও প্রস্তাব পাঠানোর আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর ফলে কমিটি ৯৮টি স্মারকলিপি লাভ করে যা কমিটির সদস্যদের কাছে পেশ করা হয়।[১৩] এপ্রিলের ১৭ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত কমিটির ১৩টি ও মে মাসের ১০ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত ১৬টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২৯টি বৈঠকে প্রতিটি খসড়া বিধান নিয়ে আলোচনা হয় এবং বিভিন্ন দেশের সংবিধান পর্যালোচনা করা হয়।[১৩]

বেশীর ভাগ অনুচ্ছেদ ও দফা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত হয়। কিছু ক্ষেত্রে উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতানুযায়ী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯৭২-এর মে মাসের ২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, খসড়া বিধানাবলী নিয়ে সদস্যগণ যে সব সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, তার ভিত্তিতে সংবিধানের একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রস্তুত করা হবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রস্তুত করা হয় এবং জুনের ৩ তারিখে কমিটি বৈঠকে তা উপস্থাপন করা হয়। কমিটি এই খসড়াটি দফাওয়ারী পর্যালোচনা করে জুনের ১০ তারিখে কমিটি কর্তৃক খসড়া সংবিধান অনুমোদিত হয়।

এরপর খসড়া সংবিধানের পাঠ আইনগত খসড়া রচনাকারীদের এবং বাংলা ভাষার পণ্ডিতদের দিয়ে পরীক্ষা করানো হয় ও তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমার্জিত খসড়া সংবিধানের একটি পাঠ আগস্টের ১০ তারিখ কমিটি বৈঠকে উপস্থিত করা হয়। আগস্টের ১০ থেকে সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ এবং সেপ্টেম্বরের ৯ থেকে অক্টোবরের ১১ তারিখ পর্যন্ত কমিটি পুনরায় এই পাঠের পর্যালোচনা করে। কোন কোন বিষয়ে কমিটির ৬ জন সদস্য সংখ্যগরিষ্ঠ মত সমর্থন করেননি এবং মতানৈক্যমূলক মন্তব্য সংযোজন করার অভিপ্রায় জ্ঞাপন করেন। চূড়ান্তরূপে গ্রহণ করার জন্য কমিটি এ বিষয়ে মতানৈক্যমূলক মন্তব্য সংযোজনসহ একটি রিপোর্ট প্রস্তুত করে ও খসড়াটি বাংলাদেশ গণপরিষদে পেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

খসড়া সংবিধান পেশ:
============
১৯৭২-এর অক্টোবরের ১২ তারিখ গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্পীকার মোহাম্মদউল্লাহ দিনের ৪ নং কর্মসূচী অনুযায়ী খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি কামাল হোসেনকে রিপোর্টসহ খসড়া সংবিধান বিল পেশ করার অনুরোধ করেন। কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি বলেন:

স্পীকার সাহেব, আপনার অনুমতিক্রমে বাংলাদেশ গণপরিষদের প্রস্তাব অনুযায়ী গঠিত সংবিধান-প্রণয়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে আমি এই কমিটির রিপোর্ট এবং সেই সঙ্গে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জন্য সংবিধান বিল পেশ করছি।

সংবিধানে যেন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়, সেজন্য খসড়া সংবিধানের প্রস্তাবনায় বলা হয়:

…যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তিসংগ্রামে আত্মনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হইবে।

খসড়া সংবিধানে আরো বলা হয় যে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করার উদ্দেশ্যে ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে জাতিসংঘ কতর্ক ঘোষিত “মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র”-এ লিপিবদ্ধ মৌলিক মানবাধিকারসমূহ হুবহু সংরক্ষিত করে এই খসড়ার তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার বিধানাবলী সংযোজন করা হয়। আর আইন সভা গঠনের ব্যবস্থা করা হয়েছে অন্যূন আঠারোো বছর বয়স্ক নাগরিকদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে। নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগের ভার অর্পিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভার উপর; আর এই মন্ত্রিসভাকে যৌথভাবে সংসদের কাছে দায়বদ্ধ রাখা হয়। আরো ব্যবস্থা করা হয় যে, রাষ্ট্রপতি হবেন সাংবিধানিক প্রধান; তার ক্ষমতা ও পরিধি কি হবে, তা খসড়ায় বিধিবদ্ধ করা হয়। এই খসড়ায় নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করার ব্যবস্থা করা হয়। সংসদীয় গণতন্ত্রের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য যে সব পদ ও দপ্তর অপরিহার্য বলে মনে করা হয়, সে সব পদ ও দপ্তর সৃষ্টির ব্যবস্থা করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এটর্নি-জেনারেল, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও পরীক্ষকের পদ এবং নির্বাচন কমিশন ও সরকারী কর্ম কমিশন দপ্তর।

হাতেলেখা খসড়া সংবিধান বিল পেশ করার পর গণপরিষদ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কমিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর ভাষণে বলেন:

…প্রায় ৭২ দিন আমাদের এই কমিটির সদস্যরা কাজ করেছেন, চিন্তা করেছেন, আলোচনা করেছেন এবং পৃথিবীর সমস্ত সংবিধান যতদূর সম্ভব দেখাশুনা করে একটি খসড়া আজ এই গণপরিষদে পেশ করতে পেরেছেন। …আজ বাংলাদেশের গণপরিষদের সদস্যরা সেই রক্ত লেখা দিয়ে শাসনতন্ত্র দিতে চান। শাসনতন্ত্র ছাড়া কোন দেশ চলতে পারে না। …শাসনতন্ত্র ছাড়া কোন দেশ- তার অর্থ হলো মাঝিবিহীন নৌকা, হালবিহীন নৌকা। শাসনতন্ত্রে মানুষের অধিকার থাকবে, শাসনতন্ত্রে মানুষের অধিকারের সঙ্গে সঙ্গে কর্তব্যও থাকবে। এখানে ফ্রি স্টাইল ডেমোক্রেসি চলতে পারে না। …আমাদের আদর্শ পরিষ্কার হয়ে রয়েছে। এই পরিষ্কার আদর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে এবং সে আদর্শের ভিত্তিতে দেশ চলবে। …চারটি আদর্শের ভিত্তিতে বাংলার শাসনতন্ত্র তৈরি হবে।” “…দুনিয়ার কোন দেশে দেখা যায় না, দশ মাসের মধ্যে কোন দেশ শাসনতন্ত্র দিতে পেরেছে। মোবারকবাদ জানাবো বাংলার জনসাধারণকে। যাদের রক্তে লেখা এই শাসনতন্ত্র…।

সংবিধান বিল উত্থাপন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি কামাল হোসেন তাঁর বক্তৃতায় বলেন:

…আজ আমি সর্বপ্রথমে শ্রদ্ধার সঙ্গে সেই বীর শহীদদের স্মরণ করি যাঁরা জাতীয় মুক্তিসংগ্রামে আত্মাহুতি দিয়েছেন। যাঁদের প্রাণের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের সংবিধান রচনার সুযোগ পেয়েছি। …বাংলা ভাষায় খসড়া সংবিধান পেশ করতে পেরেছি, একারণেও আজকের দিন আমাদের জন্য অত্যন্ত সুখের দিন। বাংলা ভাষার ইতিহাসেও এটা স্মরণীয় ঘটনা। রাষ্ট্র-ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের যে মহান পর্ব রচনা করেছিল, তার যোগ্য পরিণতি আজ ঘটলো। …সংবিধানকে বলা হয় একটা দেশের মৌলিক আইন বা সর্বোচ্চ আইন। সংবিধান জনগণকে প্রেরণা দেবে এবং জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সমাজ গঠনের ভিত্তি সংস্থাপন করবে, এটা আশা করা যায়। আইনগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলা যায় যে, জনগণ যে ক্ষমতার মালিক, সেই ক্ষমতা আইনসঙ্গতভাবে প্রয়োগ করার জন্য কতকগুলা প্রধান অঙ্গ সংবিধানে প্রতিষ্ঠা করা হয়। যে দেশের এরকম মৌলিক আইন আছে, সে দেশে কোন ব্যক্তি বা কোন রাষ্ট্রীয় অঙ্গ সেই আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। এই জন্যই বলা হয় যে, সাংবিধানিক সরকারে ব্যক্তির শাসন নয়, আইনের শাসন প্রবর্তিত হয়। …সংবিধান প্রণয়নের যে ঐতিহাসিক দায়িত্ব আমাদের উপর অর্পিত হয়েছে, তার ভিত্তিতে শুধু আমাদের বর্তমান জনগণ নন, পৃথিবীর মানুষ এবং আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরেরা আমাদের প্রচেষ্টাকে বিচার করবেন। এই কথা ক’টি বলে আমি গণপরিষদে সংবিধান-বিল উত্থাপন করছি।

#সংবিধান #গণপরিষদ

Address

86/1 New Eskaton Road, Dhaka
Kushtia
7000

Website

http://en.gurukul.edu.bd/

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Department of Political Studies, Gurukul posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The University

Send a message to Department of Political Studies, Gurukul:

Share