07/03/2026
এইচএসসি ফল বিপর্যয়: লক্ষ্মীপুরসহ কুমিল্লা বোর্ডের ১৩ কলেজের পাঠদান ও স্বীকৃতি স্থগিত
এইচএসসি পরীক্ষায় আশানুরূপ ফলাফল না হওয়ায় লক্ষ্মীপুরসহ কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ১৩টি কলেজের একাদশ শ্রেণির পাঠদান ও একাডেমিক স্বীকৃতি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর রুনা নাছরিন স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এ স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি শুক্রবার (৬ মার্চ) জানাজানি হয়।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. সামছুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশের হার শূন্য থেকে পাঁচ শতাংশের মধ্যে ছিল, সেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল সন্তোষজনক না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ৭ জানুয়ারি বোর্ড চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা কমিটির সভায় সংশ্লিষ্ট ১৩টি প্রতিষ্ঠানের একাদশ শ্রেণির পাঠদান ও একাডেমিক স্বীকৃতি স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়।
স্থগিত হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের জিনদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের তোরাবগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লক্ষ্মীপুর সদরের ক্যামব্রিজ সিটি কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের নিদারাবাদ ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার ষাইটশালা আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুমিল্লার লালমাই উপজেলার সুরুজ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের চানপুর আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লক্ষ্মীপুরের রামগতির সেবা গ্রাম ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চাঁদপুরের মতলব উত্তরের জিবগাঁও জেনারেল হক হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম মডেল কলেজ, কুমিল্লার দাউদকান্দির অজরা এসইএসডিপি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের তোহা স্মৃতি গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং চাঁদপুরের মতলব উত্তরের শরিফুল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. সামছুল ইসলাম বলেন, “এটি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি উদাহরণ। যারা ধারাবাহিকভাবে খারাপ ফলাফল করবে তাদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।”
তবে বোর্ড সূত্র জানায়, এই সিদ্ধান্ত সাময়িক। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে শিক্ষার মান উন্নয়নে পদক্ষেপ নিলে পুনরায় একাদশ শ্রেণির পাঠদান ও একাডেমিক কার্যক্রম চালুর সুযোগ পাবে।