12/12/2025
আবদুল হামিদ খান ভাসানী
১২ ডিসেম্বর ১৮৮০ – ১৭ নভেম্বর ১৯৭৬, যিনি মাওলানা ভাসানী নামেই সমধিক পরিচিত, ছিলেন বিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম তৃণমূল রাজনীতিবিদ ও গণআন্দোলনের নেতা, যিনি জীবদ্দশায় ১৯৪৭-এ সৃষ্ট পাকিস্তান ও ১৯৭১-এ প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের মানুষের কাছে “মজলুম জননেতা” হিসাবে সমধিক পরিচিত। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট গঠনকারী প্রধান নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায়ও তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনের বেশিরভাগ সময়ই তিনি চীনের মাওপন্থী কম্যুনিস্ট তথা বামধারার রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তাছাড়াও উপমহাদেশে কম্যুনিস্ট ধারার রাজনীতির প্রসারে তার বিশেষ অবদান ছিল। এজন্য তার অনুসারীরা তাকে “লাল মওলানা” নামেও ডাকতেন। তিনি কৃষকদের জন্য পূর্ব পাকিস্তান কৃষক পার্টি করার জন্য সারাদেশব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জে দরিদ্র কৃষকঘরে জন্ম নিয়েছিলেন আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
ছোটবেলায় বাবা–মাকে হারিয়ে তিনি চরম অভাব ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই বড় হন।
বিভিন্ন আলেমের কাছে আশ্রয় পেয়ে তিনি ধর্মচর্চা ও শিক্ষার পথ ধরে এগোতে থাকেন।
দেওবন্দে শিক্ষা শেষে তিনি আসামে এসে কৃষক-প্রজা আন্দোলনের নেতৃত্বে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
ব্রহ্মপুত্রের ভাসান চরে কৃষক সম্মেলন করে তিনি “ভাসানীর মাওলানা” নামে পরিচিতি পান।
১৯১৯-এর অসহযোগ আন্দোলন থেকে শুরু করে তিনি উপমহাদেশের রাজনীতিতে দৃঢ় অবস্থান নেন।
পরে মুসলিম লীগে যোগ দিয়ে আসামের বাঙালিদের রক্ষায় সামনে থেকে লড়াই করেন।
১৯৪৯ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ—ভবিষ্যতের আওয়ামী লীগের ভিত্তি।
খাদ্য আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন ও যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে তিনি জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন।
১৯৫৭-এর কাগমারী সম্মেলনে তিনি পাকিস্তানি শোষকদের উদ্দেশে ঐতিহাসিক “আসসালামু আলাইকুম” বিদায় ঘোষণা করেন।
এরপর ন্যাপ গঠন করে তিনি বামপন্থী রাজনীতিকে শক্ত ভিত্তি দেন।
১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে তিনি আবারও আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের প্রধান অনুপ্রেরণা হন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ভারতে গিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন জোগাড় করেন।
স্বাধীনতার পরও তিনি কৃষক, শ্রমিক ও বঞ্চিত মানুষের অধিকারের জন্য আপসহীন লড়াই চালিয়ে যান।
১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন, আর সন্তোষে তার মাজার আজও সংগ্রামের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।