20/04/2026
ব্যস্ত শহরের এক লাইব্রেরির কোণায় বসে নীলিমা যখন তার মোটা মোটা বইগুলোর মাঝে ডুবে থাকত, তখন পাশের টেবিল থেকে আবির শুধু তার কলম থামিয়ে তাকিয়ে থাকত। আবির আর নীলিমা দুজনেই একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কিন্তু দুজনের পৃথিবী একদম আলাদা।
আবিরের ডায়েরিটা কেবল গণিতের সমীকরণে ভরা নয়, সেখানে প্রতিটা পাতার মার্জিনে নীলিমার একটা করে ছোট স্কেচ আঁকা থাকে। নীলিমা যখন চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে গভীর মনোযোগে পড়াশোনা করে, আবিরের মনে হয় এই দৃশ্যটাই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য।
একদিন ভারি বৃষ্টির বিকেলে লাইব্রেরি থেকে বের হতে গিয়ে নীলিমা দেখল তার কাছে ছাতা নেই। সে সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে একটু বিরক্ত হচ্ছিল। আবির তার পেছনেই দাঁড়িয়ে ছিল। তার ব্যাগে ছাতা থাকলেও সে নীলিমার পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর সাহস পেল না। শুধু নিজের ছাতাটা একটু এগিয়ে দিয়ে বলল,
"আমার কাজ শেষ, এই ছাতাটা আপনি নিয়ে যান। কাল লাইব্রেরিতে ফেরত দিলেই হবে।"
নীলিমা অবাক হয়ে তাকিয়ে বলল, "কিন্তু আপনি ভিজবেন তো?"
আবির শুধু একটু হেসে বলল, "বৃষ্টিতে ভিজতে আমার ভালো লাগে।"
নীলিমা চলে যাওয়ার পর আবির সত্যিই ভিজতে ভিজতে বাসায় ফিরল। সে রাতে তার প্রচণ্ড জ্বর আসল। পরের দিন নীলিমা লাইব্রেরিতে এসে ছাতাটা ফেরত দিতে গিয়ে দেখল আবিরের সিটটা ফাঁকা। নীলিমা সেদিনই প্রথম অনুভব করল, প্রতিদিন তাকে আড়াল থেকে লক্ষ্য করা ওই শান্ত ছেলেটার অভাব সে কতটা বোধ করছে।
সেদিন ডায়েরির পাতায় আবির নতুন কোনো সমীকরণ লেখেনি, শুধু লিখেছিল—
"কিছু মানুষের কাছে নিজের ভালোলাগা প্রকাশ করার চেয়ে, তাদের একটু আড়াল থেকে সাহায্য করতে পারাই আসল সুখ।"
&Confessions #অব্যক্ত_ভালোবাসা #ভালোবাসার_অনুভূতি