20/10/2021
ফার্স্ট ক্লাস পাওয়ার সঠিক পরামর্শ
আমরা এসএসসি ও এইচএসসি তে যেভাবে পড়াশোনা করি, তার তিন ভাগের এক ভাগও যদি অনার্স বা ডিগ্রিতে করি, তাহলে আমাদের ফার্স্ট ক্লাস রেজাল্ট কেউ আটকাতে পারবে না। কিন্তু অনার্স বা ডিগ্রিতে এসে চাইলেও অধিকাংশের ভালোভাবে পড়াশোনা হয়ে উঠে না।
যেহেতু সবার পরীক্ষা একদম সন্নিকটে সে অনুযায়ী এ অল্প সময়ে কীভাবে ভালো প্রস্তুতি নেওয়া যায় তার একটি রোড ম্যাপ দিবো।
পরীক্ষার আগের প্রস্ততি:
যদি এখনো বই, গাইড, সাজেশন কেনা না হয় কিনে ফেলুন বা যদি আপনার ইতোমধ্যে সব বই কেনা শেষ হয় তাহলে আপনার প্রথম কাজটি সম্পূর্ণ করে ফেলেছেন।
আপনার বিভাগের সব কোর্সগুলো দেখে যে যে বিষয়গুলো আপনার কাছে কঠিন মনে হবে, এ ধরনের বিষয়গুলো আলাদা করে নিন।
ভালো রেজাল্ট করার জন্য সহজ সাবজেক্ট বা কোর্স গুলোকে বেশি মূল্যায়ন করুন।
এখন আমরা ২ টা বিষয় উপস্থাপন করবো:
১. কোন কোর্স কিভাবে পড়লে অল্প সময়ে শেষ করা যাবে।
২. ফার্স্ট ক্লাসের জন্য জিপিএ ক্যালকুলেশন
কোন কোর্স কিভাবে পড়লে অল্প সময়ে কাভার করা যাবে।
অধিকাংশ গবেষকদের মতে একটা কোর্স ২০ ঘণ্টায় শেষ করা সম্ভব। যদি সময় টা সময়ের মত কাজে লাগানো যায়।
থিওরিক্যাল সাবজেক্টগুলো যেভাবে পড়বেন: আপনি আপনার সাজেশন বা গাইড বই টা নিয়ে ২০১৯ সালে প্রশ্ন টা প্রথমে মিলিয়ে দেখবেন বিগত সাল থেকে কত % প্রশ্ন কমন এসেছে। আমাদের এনালাইসিস অনুযায়ী প্রায় প্রত্যেক বিভাগে ৬০% থেকে ৮৫% পর্যন্ত প্রশ্ন কমন এসেছে। যা আপনাকে ৮০% থেকে ১০০% সম্পূর্ণ প্রশ্নের সমাধান করতে সহায়তা করবে।
ক বিভাগের প্রশ্নের জন্য ৭ বছরের প্রশ্নপত্র ১২*৭ = ৮৪ টা অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন পরীক্ষা শুরুর আগে এক নজর ভালোভাবে দেখে নিবেন। নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারবো ক বিভাগ থেকে ৬-১০ টা প্রশ্ন আপনি অনায়াসে সমাধান করতে পারবেন।
খ এবং গ বিভাগের ক্ষেত্রে থিওরিক্যাল সাবজেক্ট হলে প্রথমে আপনার বইয়ের প্রতিটি অধ্যায় ভালোভাবে দেখে কোন কোন অধ্যায় থেকে বেশি প্রশ্ন বিগত সালে আসছে অধ্যায় গুলো সিলেক্ট করে নিবেন।
প্রত্যেকটি অধ্যায়ের মূলভাব ভালোভাবে বুঝে বর্ণনামূলক প্রশ্নগুলোর পয়েন্টগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করে নিন। প্রত্যেক পার্থক্য রিলেটেড প্রশ্নগুলো কয়েকবার করে পড়ে নিবেন। মনে রাখবেন, আপনার পয়েন্টগুলো যদি যথোপযুক্ত হয়, বর্ণনা টা উপযুক্ত না হলেও ভালো নাম্বার পাবেন।
যদি আপনার হাতে খুব কম সময় থাকে তাহলে আপনি প্রথমে অধ্যায়ের মূলভাব টা আয়ত্ত করে নিবেন। বিগত সালের প্রশ্নগুলো ভালোভাবে কয়েকবার পড়ে, প্রশ্নের পয়েন্ট একবার খাতাতে লিখুন। লেখার ফলে আপনার পয়েন্টগুলো কিছুটা মনের মধ্যে স্থায়ী হবে।
গণিত সমাধান: গণিত সম্পর্কিত যে সাবজেক্টগুলো আছে, এগুলো ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা আগেই জেনেছি মিনিমাম ৬০% থেকে ৮৫% কমন প্রশ্ন বিগত সাল থেকে আসবেই।
তাহলে আমরা যদি একটা হিসাব মিলাই: প্রতি ইয়ারে যদি ১০ টা করে ম্যাথ আসে ৭ বছরে ৭০ টা ম্যাথ সমাধান । এ ৭০ টা ম্যাথের মধ্যে মিনিমাম ১০-২০ টা প্রশ্ন ২ বার তিন করে রিপিট হওয়ায় বাদ যাবে। তাহলে আপনি যদি ৫০ টা ম্যাথ ভালোভাবে প্র্যাকটিস করেন। আপনি মিনিমাম ৬০% প্রশ্ন কমন পাবেন। যেটাতে আপনি বর্ণনা মূলক এবং গণিত মিলায় B (3.OO) রেজাল্ট চোখ বন্ধ করে করা যাবে।
এবার আমরা জিপিএ ক্যালকুলেশন দেখি:
সাবজেক্টগুলো আলাদা করার পর আপনাকে কোন সাবজেক্টে কী পরিমাণ রেজাল্ট করতে হবে সেটা ঠিক করে নিতে হবে।
ধরে নিলাম আপনি ব্যবস্থাপনা ২য় বর্ষে আছেন। আপনার এ বর্ষে ৭ টা কোর্স বা সাবজেক্ট আছে। যেখানে ফিন্যান্স, ব্যবসায় গণিত, ব্যবসায় যোগাযোগ আপনার কাছে কঠিন মনে হতে পারে। কিন্তু বাকি ৪টি সাবজেক্ট অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কাছে সহজ। সেটার আলোকে একটা ক্যালকুলেশন দেখুন।
ব্যবস্থাপনার এই ৪ টি সহজ সাবজেক্ট এর মধ্যে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় আইনগত পরিবেশ বিষয় গুলোর মধ্যে আপনাকে ২ টাতে A+ (৩.৫০) এবং সামষ্টিক অর্থনীতি এবং কম্পিউটার তথ্য প্রযুক্তিতে B+ (৩.২৫) সহজে নিতে পারবেন। না পারলেও বং গণিত রিলেটেড ৩ টার মধ্যে অন্তত ২ টাতে C+(2,50) এবং ১ টাতে B-(2.75) ও পান, তাহলে আপনার রেজাল্ট দাড়ায়:
B+ ২ টা =(৩.২৫*২) = ৬.৫০
A - ২ টা = (৩.৫০*২) = ৭.০০
B- ১ টা =(২.৭৫*১)=২.৭৫
C+ ২ টা = (২.৫০*২) = ৫.০০
তাহলে আপনার টোটাল জিপিএ (২১.২৫/৭) = ৩.০৩
পরীক্ষার হলের করণীয়:
● টাইম ম্যানেজমেন্ট করে নিবেন, কোন অংশের প্রশ্নে কতক্ষণ সময় ব্যয় করবেন।
● ক বিভাগ, খ বিভাগ ও গ বিভাগ ধারাবাহিকভাবে উত্তর করবেন।
● খ বিভাগে ২/৩ পৃষ্ঠার বেশি লিখবেন না।
● গ বিভাগে ৩/৪/৫ পৃষ্ঠার বেশি লিখবেন না।
● সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দিবেন।
● কোন প্রশ্ন বড় করতে গিয়ে শেষের প্রশ্ন গুলো যাতে ছোট বা অগোছালো না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।
পরিশেষে একটি কথায় বলবো, ভালো রেজাল্ট করতে সবগুলো সাবজেক্ট সমান গুরুত্ব দিন। কঠিন সাবজেক্টে রেজাল্ট খারাপ হলেও সহজ টা দিয়ে যাতে ওভারকাম করা যায়।