অত্র মিঠাছরা ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসাটি চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলার ৯ নং ইউনিয়নের অন্তর্গত মিঠাছরা বাজারের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত। উক্ত প্রতিষ্ঠানটি মুহতারাম মরহুম মাওলানা সাজেদ উল্লাহ (রহ:) ১৮৮১ সালে প্রথম নিজ বাড়ীর কাছারীতে পাঠ দান করার মাধ্যমে আরম্ভ করেন। এরপর সম্ভবত বছর দেড়েক সেখানে দারস চলা অবস্থায় অবশেষে মিঠাছরা বাজারের পার্শ্ব নিজস্ব জমির উপ্র ছনের চাউনি দিয়ে কুড়ে
র ঘর তৈরী করে প্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তন করেন এবং তাতে পড়া-লেখার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকেন। পর্যায়ক্রমে প্রায় ১.৮৬ শতক (এক একর ছিয়াশি শতক) জমির উপর মাদ্রাসাটি স্মপ্রসারণ করা হয়। এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষের সার্বিক সহ্যোগীতাআ ও তার প্রানন্তকর প্রচেষ্টায় তিল তিল করে অত্র প্রতিষ্ঠানটি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। আরো বেশ কয়েক বছর পর টিনের চাউনী ও বেড়া দিয়ে নতুন করে মাদ্রাসাটি গড়ে তোলেন। এরও বহু বছর পরে বর্তমান দালান দ্বারা নতুনভাবে প্রতিষ্ঠানটি সজ্জিত করা হয়।
উল্লেখিত মিঠাছরা ইসলামিয়া ফাজিল (বি.এ) মাদ্রাসাটি ভারত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন দ্বীনি প্রতিষ্ঠান এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামে একমাত্র ঐতিহ্যবাহী পুরাতন দ্বীনি মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মাদ্রাসাটি মিঠাছরার মাওলানা অলি আহমদ শাহ (রঃ), সুফিয়ার মাওলানা আবদুল গণী (রঃ), ব্রাম্মনসুন্দর এলাকার মাওলানা নজির আহমদ (রঃ), ভাড়িয়াখালীর মাওলানা লকিয়ত উল্লাহ (রঃ) ও প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মরহুম সাজেদ উল্লাহ (রঃ) এর কনিষ্ট পুত্র মরহুম মাওলানা সাঈদুজ্জামান (রঃ) এর ন্যায় অসংখ্য অলামায়েকেরাম, বুজুর্গানেদ্বীন, অলিয়ে কামেল ও দেশ বরণ্য সমাজ সেবক তৈরীতে অবদান রেখে আসছে। বর্তমানেও সুদক্ষ পরচালনা কমিটি, বিজ্ঞ উপাধ্যক্ষ, যুগপোযোগী ইসলামী ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত অভিজ্ঞ অধ্যাপক, প্রভাষক সহ একঝাক শিক্ষক্মন্ডলীর সমন্ব্যে সুপরিকল্পিতভাবে তাদের ঐকান্তিক সাধনায় বহু আলেম শত শত দেশ ও জাতীর সেবক তৈরীতে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন। যার ফলস্বরুপ অত্র প্রতিষ্ঠানের সুযোগ্য শিক্ষার্থীরা বিভিন্নভাবে দেশ-মাতৃকা এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যায়ও সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে এই প্রাচীনতম দ্বীনি প্রতিষ্ঠানটি আজও সুনামের সাথে ইসলামী ও আধুনিক শিক্ষার অভাব পুরণ করেই চলেছে।
উল্লেখ্য যে, অত্র মাদ্রাসার শ্রেণীকক্ষ চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। তাছাড়া এর দুইটি ভবনই সম্পূর্ণরূপে জরাজীর্ণ ও ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এমন ঝুকিপুর্ণ অবস্থায় থাকার পরও উপায়ন্ত না দেখে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে ক্লাশ পরিচালনা করতে বাধ্য হচ্ছেন। ভবন দুইটির অবস্থা এমন নাজুক পর্যায় পৌছেছে যে, যে কোন সময় তা ধসে পড়ে প্রাণহানি সহ বড় ধরনের সমুহ ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। ভবন দুইটি নতুনভাবে নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। উক্ত ভবনদ্বয় নির্মাণের জন্য কোন সুহৃদয় দানবীর ব্যক্তি যদি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে বিল্ডিং বরাদ্দ প্রদান কএন তাহলে জীবনহানি ও সমুহ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
বর্তমান বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল বাংলা গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। সরকারের এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে শিক্ষামন্ত্রনালয় থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ তথ্য সামগ্রী সরবরাহ ও সম্মানীত এলাকাবাসী এবং বিজ্ঞ সুধীমন্ডলী যদি আরো সচেতনতার সাথে তাদের সার্বিক সহযোগীতার হাত সম্প্রসারণের মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে অবশ্যি অত্র প্রতিষ্ঠান মরহুম মওলানা সাজেদ উল্লাহ (রঃ) এর স্বপ্ন ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং ডিজিটাল বাংলায় রুপায়িত করার গুরুত্বপূর্ণ সাহসী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ।