10/10/2013
মনিরামপুরের সবুজের বিস্ময়কর
মেশিন উদ্ভাবন
মনিরামপুর (যশোর) থেকে আবু
বক্কার সিদ্দীক
চোর ধরা ও অগি্নকান্ড
নিয়ন্ত্রণের বিস্ময়কর একটি মেশিন আবিষ্কার
করেছে যশোরের মনিরামপুর
ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর
বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সবুজ
হোসেন । কোনো ঘরে চোর
ঢুকলে বা আগুন লাগলে তার আবিষ্কৃত
মেশিনটি স্বয়ংক্রিয়ভাব
ে মোবাইলে গৃহমালিককে ডেকে দে
একই সাথে ঘরে আগুন
লাগলে নিভানোর কাজও করবে।
আবিষ্কারক সবুজ তার আবিষ্কৃত যন্ত্রটির নাম দিয়েছে থিফ
অ্যান্ড ফায়ার কন্ট্রোল মেশিন।
তার উদ্ভাবিত মেশিনটির
কার্যকারিতা সম্পর্কে মেশিনটি
একটি সুইচ দেখিয়ে বলে, ঘর
থেকে বাইরে যাওয়ার সময় এটি অন করে মেশিনের
নির্ধারিত স্থানে একটি মোবাইল
রেখে দিতে হয়। ঘরে চোর
ঢুকলে মোবাইলের সেন্ট
বাটনে মেশিনটি ধাক্কা দেবে।
এতে মালিকের কাছের মোবাইলটিতে রিং হবে। মালিক
আগত কলের নম্বর
দেখে বুঝতে পারবেন তার
ঘরে চোর ঢুকেছে। একটি বিস্ময়কর ব্যাপার হলো-
মেশিনটি মোবাইলের সেন্ট
বাটনে এমনভাবে ধাক্কা দেবে যে
তা বুঝতে পারবে না। সবুজ একই
মেশিনের আর একটি সুইচ
দেখিয়ে বলে, এটি অন করে রেখে ঘরে আগুন
লাগলে মেশিনটি নিজেই আগুনের
স্থানে পানি দিয়ে তা নিভানোর
কাজ করবে। এক্ষেত্রে অবশ্য
পাইপের মাধ্যমে বাড়ির পানির
ট্যাংকির সাথে সংযোগ থাকতে হবে। সরেজমিন
গেলে বর্ণনামতে বিষয় দুটির
কার্যকারিতাও দেখায় সবুজ। এছাড়াও সবুজ হোসেন এয়ারকুলার,
অটোলাইটিং মেশিন ও কাঁচের
পরিবর্তে তরল পদার্থ
দিয়ে লেন্স তৈরি করেছে ।
সে জানায়, ঘরে একা থাকার সময়
প্রচলিত এয়াকুলার দিয়ে পুরো ঘর ঠা-া করার দরকার নেই।
এতে বিদ্যুতের অপচয় হয়।
এক্ষেত্রে ডেস্ক এয়ারকুলার
ব্যবহার করলে একজনের
উপযোগী জায়গা ঠা-া হবে।
সাশ্রয় হবে বিদ্যুতের। অটো লাইটিং মেশিনটি রাতে জ্বল
অফ হয়ে যাবে। কোন সময় সুইচ অফ
বা অন করার ঝামেলা নেই।
সে পানি, বেনজিন
অথবা গি্লসারিনের যে কোন
একটি তরল পদার্থ দিয়ে তৈরি করেছে লেন্স।
সে জানায়, তার উদ্ভাবিত লেন্স
উত্তল ও অবতল উভয়
ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়।
কিন্তু কাচের লেন্স
দিয়ে সেটি সম্ভব নয়। মনিরামপুর
মহিলা ডিগ্রি কলেজের পদার্থ
বিজ্ঞান বিভাগের
সহকারী অধ্যাপক বিদ্যুৎ রায়
বলেন, হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম
নিয়ে দারিদ্রের সাথে সংগ্রাম করে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে সে
তারপরও বিজ্ঞান গবেষণায়
ডুবে থেকে একের পর এক নতুন
বিষয় উপস্থাপন করছে সে।
তাকে প্রকৃতভাবে গাইড ও
সহযোগিতা করতে পারলে সে অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে আমার
বিশ্বাস। সবুজ হোসেন উপজেলার
গাংড়া গ্রামের হতদরিদ্র
পরিবারের ছেলে। তার
বাবা রাশেদ শেখ মানসিক
প্রতিবন্ধী। সহায় সম্বল
বলতে দুই শতকের ভিটেবাড়ি ছাড়া কিছুই নেই
তাদের। ২০১২ সালের
এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান
বিভাগ থেকে জিপিএ ৫.০০
পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল।
হিতাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় লেখাপড়া শিখছে সে।
বর্তমানে মনিরামপুর
ডিগ্রি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক
শ্রেণীতে পড়াশুনা করছে।
লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁেক বিজ্ঞান
গবেষণায় ডুবে থাকে সে। সবুজ জানায়, সূর্যশক্তি দিয়ে সৌর
বিদুৎ নয়, তাপ বিদ্যুৎ ও
পানি বিদ্যুতের চেয়েও
শক্তিশালী বিদ্যুৎ উৎপাদন
সম্ভব। কিন্তু এটি ব্যয়বহুল
হওয়ায় সামনের দিকে এগোতে পারছি না।