16/07/2026
শেখবাড়ী জামিয়া কেবল দীনি ইলমের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়; বরং সময়ের চাহিদা অনুধাবন করে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ সংযোজনের মাধ্যমেও একটি যুগোপযোগী শিক্ষা-পরিবেশ গড়ে তুলছে। আধ্যাত্মিক জগতের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি জাগতিক প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও জামিয়া বরাবরই দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে আসছে।
২০২২ সালে আমি জামিয়ায় দায়িত্ব লাভ করার পর বিভিন্ন প্রশাসনিক, প্রকাশনা ও লেখালেখির কাজের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তখন উপলব্ধি করি, পুরোনো কম্পিউটার দিয়ে এসব কাজ যথাযথভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। বিষয়টি আমি জামিয়ার সম্মানিত নির্বাহী মুহতামিম, হা. মাওলানা শেখ আহমদ আফজল বর্ণভী হাফিযাহুল্লাহ-এর নিকট পেশ করি। তিনি গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি শুনে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে নির্দেশ দিলেন—“ঢাকা থেকে ভালো মানের একটি কম্পিউটার ক্রয় করে নিয়ে আসুন।”
তাঁর সেই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলেই ২০২২ সালে প্রায় ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক ফুল কম্পিউটার সেট সংগ্রহ করা হয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রয়োজনীয় প্রতিটি আধুনিক যন্ত্রপাতি ধাপে ধাপে সংযোজন করা হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, আজ সিলেট থেকে আরও একটি নতুন প্রিন্টার ক্রয় করে সেই ধারাবাহিকতাকে সমৃদ্ধ করা হলো।
বর্তমানে শেখবাড়ী জামিয়ায় কম্পিউটার-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের আধুনিক সরঞ্জাম বিদ্যমান। যেমন—উন্নতমানের কম্পিউটার সেট, কালার প্রিন্টার, সাদা-কালো প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিন, স্ক্যানার, ল্যামিনেশন মেশিনসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপকরণ। আলহামদুলিল্লাহ, প্রযুক্তিনির্ভর দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার জন্য এখন জামিয়া একটি সমৃদ্ধ ও আধুনিক পরিবেশে পরিণত হয়েছে।
এসবের পেছনে যাঁর সুদূরপ্রসারী চিন্তা, প্রজ্ঞা, সাহসী সিদ্ধান্ত এবং সময়োপযোগী নেতৃত্ব নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে, তিনি হলেন জামিয়ার স্বপ্নদ্রষ্টা, বিচক্ষণ সংগঠক, দূরদর্শী প্রশাসক, যুগচিন্তার অধিকারী, আমীরে আঞ্জুমান আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ রশীদুর রহমান ফারুক বর্ণভী (দা.বা.)-এর সুযোগ্য বড় সাহেবযাদা, হা. মাওলানা শেখ আহমদ আফজল বর্ণভী হাফিযাহুল্লাহ।
তিনি শুধু একজন প্রশাসক নন; বরং এমন একজন দূরদর্শী অভিভাবক, যিনি উপলব্ধি করেন—দ্বীনের খেদমতকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার অপরিহার্য। তাই তিনি কখনো প্রয়োজনীয় কাজে কার্পণ্য করেন না; বরং সময়ের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তাঁর প্রজ্ঞা, উদার মানসিকতা ও আধুনিক চিন্তাশক্তির কারণেই শেখবাড়ী জামিয়া আজ ঐতিহ্যের পাশাপাশি আধুনিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে।
আল্লাহ তাআলা হযরতকে সুস্থতা, দীর্ঘ নেক হায়াত, ইলমে-আমলে আরও বরকত এবং দ্বীনের খেদমতে দীর্ঘদিন কাজ করার তাওফিক দান করুন। তাঁর ছায়া যেন যুগের পর যুগ এই জামিয়া, এর শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অগণিত দ্বীনপ্রেমী মানুষের মাথার ওপর অটুট থাকে। আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন।