14/02/2025
আনন্দ মোহন কলেজ
সিট বরাদ্দের টাকা নিয়ে হলে উঠতে না দেওয়ার অভিযোগ ৩৫ শিক্ষার্থীর।
ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের ৩৫ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে রসিদ ছাড়া টাকা নিয়ে হলে উঠিয়ে আবার বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে হোস্টেল স্টিয়ারিং কমিটির আহবায়ক বরাবর অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি আনন্দ মোহন কলেজের নবায়নযোগ্য আবাসিক শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশ করে সুপারের কার্যালয়। এ তালিকায় ২৭১ জন শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে।
কলেজ সূত্রমতে, আনন্দ মোহন কলেজে মোট ৩টি ছাত্র হোস্টেল আছে এগুলো হলো কবি জসিমউদ্দিন হল, কাজী নজরুল ইসলাম হল ও আহমেদ সালেক হল (তরুণ হল নামে পরিচিত)।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হোস্টেল কর্তৃপক্ষ নুরুল আমিন এর মাধ্যমে ৩৫ জন ছাত্রের কাছ থেকে জনপ্রতি ২ হাজার করে টাকা নেয়। পরে তাদের প্রত্যেকে আইডি কার্ড দিয়ে হলে উঠানো হয়। তবে এই টাকার বিপরীতে তাদের কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি।
ইতিহাস বিভাগের ২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তানভীর হাসান বলেন, টাকা নিয়ে আমাকে হলে সিট দেওয়া হয়। ৫ আগস্টের এর পর থেকে আমি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে A-২১২ সিটে উঠি। তারা আমাকে বৈধ আইডি কার্ডও দেয়। এখন হঠাৎ করেই নবায়নযোগ্য আবাসিক শিক্ষার্থীদের খসড়া তালিকা প্রকাশ করে হল সুপারের কার্যালয়। এ তালিকায় আমার নাম নেই। পরে আমাকে হল থেকে বেরিয়ে যেতে বলে। আমার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরে। আর্থিক সংকটের কারণে আমি এখন কোনো মেসেও উঠতে পারবো না।
একই বিভাগের ১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মেহেদী হাসান দোলন। তিনি কবি জসীমউদ্দীন হলের ৪০৭নং কক্ষে থাকেন। তিনি বলেন, আমার বাড়ি নেত্রকোণা জেলার কমলাকান্দা থানায় অবস্থিত। আমি এখনো হলে অবস্থান করছি। আমার আইডি কার্ডের মেয়াদ আছে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত। আমাকে এখন হল থেকে বের করে দেওয়া হলে পড়াশোনা বন্ধ করে বাড়ি ফিরে যেতে হবে।
মেহেদীর সহপাঠী হাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের হল থেকে বের করার ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলাম। এখন আমাদের বাদ দিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ নতুন করে আবাসিক শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে ছাত্রলীগের কয়েকজন সক্রিয় কর্মীও তালিকাভুক্ত হয়েছে। বিষয়টি খুব দুঃখজনক।
প্রার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হল সুপার ও অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাহজাহান করিম বলেন, সরকার পতনের পর কলেজ ক্যাম্পাসে প্রশাসন বলতে কিছু ছিল না। কিছু ছাত্রলীগের ছেলে হল ছেড়ে পালিয়ে যায়। ঐ ফাঁকা সিটগুলোতে কিছু শিক্ষার্থী ওঠে। আমরা যাচাই-বাছাই করে নতুন তালিকা তৈরি করেছি।
টাকা নেওয়া এবং আইডি কার্ড দেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলেন তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছে বৈধ কোন রশিদ নেই, আর তাদের আইডি কার্ড গুলোও ভুয়া।
Copied from: https://rtvonline.com।