17/10/2026
পাল্টা আক্রমণ নাকি সন্ত্রাসী হামলা?
সচারাচর আমি খুব একটা লিখালিখি করি না, তাই কোন কথা ভূল লিখে থাকলে সংশোধন করে দিবেন।
এখন পর্যন্ত যতটুকু দেখেছি তা দেখে একবার এর জন্য মনে হয় নাই, এটা কোন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের দ্বারা ঘটানো কোন কাজ। ক্যাম্পাস জীবনে অনেক মারামারি দেখেছি, কিন্তু আজ পর্যন্ত কখনো এভাবে অমানুষের মত মারতে দেখি নাই। গ্যাঞ্জাম , মারামারি কম বেশি সব জায়গায় হয়, আমাদের এখানেও নতুন কিছু নাই কিন্তু তাই বলে মানুষের মাঝে কী কোন মনুষ্যত্ব থাকবে না। নিজে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে কিভাবে পারে আরেকজন শিক্ষার্থীকে এভাবে মারতে। নিচের ছবিগুলো দেখে বোঝার উপায় নেই, এরা আদৌ শিক্ষার্থী নাকি গুন্ডা, মস্তান। আপনাদের মধ্যে কী কোন বিবেক নেই, এখানে যারা আছে সবাইতো আপনাদের ভাই (ছোট হোক বা বড়)। রাগের মাথায় তাই বলে এভাবে জন্তু জানোয়ারের মত মারবে। আজ আল্লাহ না করুক কেউ যদি মারা যেত, পারতেন নিজেদের ক্ষমা করতে ? পারতেন কাউকে এর কারণ ব্যাখা করতে? প্রশ্ন রেখে গেলাম।
আপনাদের মনুষ্যত্ব আজ কোন জায়গায় গিয়ে দাড়িয়েছে একবার চিন্তা করুন, আপনারা আপনাদের মারামারি কে যৌক্তিক দাবী করতে গিয়ে রবিউল এর ছাত্রলীগ ট্যাগ কে সবার সামনে তুলে ধরছেন। একবার চিন্তা করেন তো কতো নিচে আপনারা নেমেছেন। একটা হামলার যৌক্তিক কারণ দেখানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহার করছেন সে ছাত্রলীগ। আরে ভাই, জুলাই আন্দোলন হয়ত আপনিও করেছেন কিন্তু একজন ছাত্রলীগ কর্মী নিজের জায়গা থেকে সরে গিয়ে দেশের কল্যাণে তার নিজের দল কে বিসর্জন দিয়ে জুলাই আন্দোলন করেছে। আপনাদের কল্পনাতে আসে নাই কখনো যে, সাধারণ শিক্ষার্থী যেভাবে হুমকির মুখে থেকে আন্দোলন করেছে, সেখানে একজন ছাত্রলীগ কর্মীর কি পরিমান ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। কীভাবে আসবে মনুষ্যত্ব বোধ যদি থাকে তবে না আসবে ।
আপনারা অনেক বড়, অনেক শক্তিশালী , আপনারা অনেক কিছু করতে পারেন কিন্তু আপনাদের এই অধিকার কেউ দেয় নাই, কোন মায়ের কোল খালি করার। আপনাদের এই অধিকার কেউ দেয় নাই যে মেরে রক্তাক্ত অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার। চড়, থাপ্পড়, কিল , ঘুষি একজায়গায় আর মেরে খুন করার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এক বিষয়। যদি আপনারা কেউ অমানুষ না হন তাহলে আমাকে অন্তত এই যুক্তি দেখাতে আসবেন না।
অবশেষে আপনাদের ইউনিটি আপনাদের কাজে এসেছে। আপনারা হচ্ছে এতোটায় পাশবিক পর্যায়ে চলে গেছেন, যে আপনাদের মধ্যে কেউ একজন রেপ করবে আর আপনারা বাকীরা যুক্তি দ্বার করাবেন মেয়ের চরিত্র নিয়ে।মেয়েটা কোথায় যায়, কী পোশাক পড়ে ইত্যাদি ইত্যাদি। যেমনটা রবিউল কে ট্যাগ দিচ্ছেন ছাত্রলীগ, গাজাখুর, ইত্যাদি। আপনাদের চিন্তায় কি একবারও আসছে না যে আপনাদের করা আক্রমণ একটা মানুষের জীবন নিয়ে নিতে পারত।
প্রশাসন যা ভালো মনে করে করবে। কারণ যেই প্রশাসন কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে এতো কিছু হয়ে যায়, সেই প্রশাসন আর যাই করুক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে অক্ষম এতোটুকু বোঝা যায়। যেই প্রশাসন মারামারি শুরু হওয়ার ২০ মিনিট পর পুলিশ নিয়ে আসে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সেই প্রশাসন আর যাই হোক শিক্ষার্থী বান্ধব না। আপনারা আপনাদের সন্তানদের নিরাপত্তাটা ঠিক ভাবে করবেন , আশাকরি সেখানে আবার অবহেলা করবেন না। কারণ সবকিছু অবহেলা করা আপনাদের রক্তে মিশে গেছে, চাইলেও বের করা সম্ভব না।
সংরক্ষিত: তূর্য