18/08/2026
নারী বাস ড্রাইভার আর কন্টাক্টারদের জন্য এই দেশে বাস চালানোটা খুবই চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে৷
এখনই একদল মিসোজিনি নারীদের ড্রাইভিং নিয়ে সন্দেহ পোষণ করছে।
যেখানে পাবলিক বাস নামক উড়োজাহাজের স্টিয়ারিং পুরুষের কাছে থাকলে আয়তুল কুরসি পড়তে থাকতে হয়, সেখানে নারী বাস চালু হওয়ার আগেই পাবলিক ট্রান্সপোর্টে নিরাপত্তার জন্য শুরু হলো "নারী ড্রাইভিং ইস্যু"।
ভাবটা এমন যেন সড়ক "দক্ষ ও সচেতন" পুরুষ চালক দিয়ে ভরা! এদিকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রশিক্ষিত নারী চালকদের নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়ে যাচ্ছে রাস্তায় নামার আগেই।
আসল চ্যালেঞ্জ তো এখনো বাকিই আছে। রাস্তাঘাটে চলতে গেলে প্রতিদিনই এক গাড়ি আরেক গাড়িতে লাগায় দেয়, এরপর চলে গ্যাঞ্জাম। লোকাল বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা, চালকের অদক্ষতা ও অসচেতনা, আর গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অনেক ছোট বড় এক্সিডেন্ট প্রতিদিন অসংখ্য হচ্ছে।
কিন্তু এসব ঘটনা যখন নারী বাসের সাথে ঘটবে, তখন শুরুতেই দোষ দেওয়া হবে নারী চালককে। বলা যায়, সরাসরি দোষ দেওয়া হবে চালকের "নারী" সত্তাকে। বিচ্ছিন্ন কিছু দুর্ঘটনাকে জড়ো করে মিসোজিনিক পত্রিকাগুলো সংবাদ করবে "নারী বাসে দুর্ঘটনা" শিরোনামে। প্রতিটা ছোট খাটো ইস্যুকে পুঁজি করে চলবে চালকের নারী সত্তার নাড়ি নক্ষত্রকে পেঁচানো।
আর নারী বাসে দুর্ঘটনা বেশি হওয়ারও কথা। যেই চালকের দোষ ধরার জন্য কয়েকটা গোষ্ঠী আগে থেকে হা করে আছে, রাস্তাঘাটে তার জন্য অপেক্ষা করে আছে প্রতি ক্ষণের বৈষম্য, সেখানে গাড়ি চালাতে গিয়ে তার হাত কাঁপা খুবই স্বাভাবিক।
আমাদের মতো মেয়েরা যারা প্রতিনিয়ত পাবলিক বাসে চলাফেরা করে, তারা জানে এই নারী বাস আমাদের জন্য জীবন রক্ষা করা স্বস্তির এক নজির। তাই উল্টাপাল্টা সমালোচনার মুখে এই উদ্যোগ যেন ব্যহত না হয়, সেটাই এখন চ্যালেঞ্জ।
-মালিহা নামাল