22/07/2026
এমপি গাজি নজরুল ইসলামের ঘটনায় বিয়ের ব্যাপারটা যে বানোয়াট এবং মিথ্যা, দুটো জিনিস জানার পর সেটা বোঝা খুবই সহজ ছিল।
প্রথমটা হলো মেয়েটার বয়স এবং দ্বিতীয়টা হলো—এমপি নিজে মেয়েটার জন্য চাকরির সুপারিশ করেছিলেন।
বয়সের ব্যাপারটা বলি। আপনি একজন প্রায় ষাটোর্ধ্ব বয়সের বৃদ্ধলোক। আপনি যখন দ্বিতীয় বিয়ের চিন্তা করবেন, বাংলাদেশের সমাজ, সামাজিক বাস্তবতা এবং প্রেক্ষিত চিন্তা করে আপনি এমন বয়সের কাউকেই বাছাই করবেন যে একেবারে আটপৌরে তরুণী নয়। কারণ, একজন তরুণী, যে সদ্য তার যৌবনে প্রবেশ করেছে, সে একটা নির্দিষ্ট সময় অবধি স্বামীকে কাছে পাবে—এটা তো ধর্তব্য।
কিন্তু, আপনার বয়স ষাট পার হয়ে গেছে, অথচ আপনি যাকে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করছেন তার বয়স আঠারোও হলো না (মেয়ের স্কুলের সার্টিফিকেট অনুযায়ী)—দেশের আইনপ্রণেতা, তিনবারের সংসদ সদস্য এসব নাহয় বাদই দিলাম, সাধারণ চিন্তায় এটাকে কীভাবে বোঝা হবে?
হ্যাঁ, সমাজে এরকম কিছু ঘটনা আমরা দেখি। কিন্তু, এসব ঘটনাকে আমরা কি স্বাভাবিক চোখে দেখি বা দেখা উচিত? সদ্য কৈশোর পার করে যৌবনে পা রাখা একটা মেয়ে। তার স্বামী প্রায় ষাটোর্ধ্ব বয়সের একজন, যিনি আর সাকুল্যে হয়তো বাঁচবেন ১০ থেকে ১৫ বছর। এরমধ্যে উনি শারীরিকভাবে সক্ষমই বা থাকবেন কতোদিন?
তারপর মেয়েটার কী হবে?
ঠিক এই কারণেই এখানে বয়সের একটা ‘ম্যাচিং’ লাগে। কাছাকাছি বয়সের না হোক, অন্তত চল্লিশোর্ধ্ব বয়সের কাউকে, হতে পারে বিধবা অথবা বিয়েই হলো না এমন কাউকে চিন্তা করাটাই যুক্তিযুক্ত।
দয়া করে এখানে কেউ আল্লাহর রাসুল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং আম্মাজান আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার উদাহরণ টানবেন না। সেই ঘটনা সম্পূর্ণ আলাদা৷
দ্বিতীয়ত, বায়োডাটায় ‘জোর সুপারিশ’।
মেয়েটা যদি এমপি সাহেবের বিয়ে করা বউই হবে, তিনি কেন তাকে চাকুরিতে পাঠাবেন? মানে, এমপি সাহেবের ঘরে কী এমন আর্থিক দুরাবস্থা যে, বউকে বাইরে চাকরি করাতে হবে? এই চাকরি করে যে পয়সা মেয়েটা উপার্জন করবে, সেই পরিমাণ টাকা তো এমপি তার ডান হাত বাম হাতের চামচদের পেছনেই খরচ করার কথা।
একজন এমপি নিজের বউকে চাকরিতে পাঠাবে, তা-ও এমন জায়গায় যেখানে তাকেই সুপারিশ করে চাকরিটা পাইয়ে দিতে হচ্ছে, এটা তো তার মানইজ্জতের জন্যেই লজ্জাজনক।
এই দুটো ব্যাপার দেখেই আমি বুঝেছিলাম যে, ঘটনাটা ঝামেলাপূর্ণ।
তিনি এখানে অনেকগুলো অপরাধ করেছেন।
প্রথম অপরাধ হলো, তিনি তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। ‘জোর সুপারিশ’ করে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভনে তিনি একটা কিশোরী মেয়েকে তার সাথে অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য করেছেন।
দ্বিতীয় অপরাধ হলো, এই পুরো ব্যাপারটাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তিনি অনেক প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয়ভাবে উনার কী শাস্তি হবে আমি জানি না। দলগতভাবেও উনাকে কী শাস্তি জামায়াতে ইসলাম প্রদান করবে তা-ও অনুমান করতে পারছি না। তবে এই ধরণের অনৈতিক, অসামাজিক অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সংসদে রাখা হলে সংসদের ভাবগাম্ভীর্য নষ্ট হবে বলে মনে করি। বিশেষ করে, তিনি যে দলটার পক্ষ থেকে এমপি হয়ে এসেছেন, সেই দলটা যেহেতু ধর্ম এবং নৈতিকতার ছবক সামনে রেখে রাজনীতি করে, এই ঘটনার পর এই এমপিকে সংসদে ধর্মীয় দলের প্রতিনিধি দলের মাঝে রাখা তাদের নিজেদের জন্যেই মানহানিকর।
লেখা- আরিফ আজাদ
ছবি- সংগ্রহীত