29/07/2018
#যুগ্ম_আহ্বায়কঃ ফাহিম খান।
একটু চোখ বুলান, হয়তো জীবন বাচানোর একটা ওষুধ হতে পারে এই জ্ঞানটি।
#তথ্যসূত্রঃ জীববিজ্ঞান(2য় পত্র)(একাদশ-দ্বাদশ)- গাজী আজমল স্যার এর বই। ও understanding biology...
#ধূমপায়ী_ও_অধূমপায়ী_মানুষের_ফুসফুসঃ
একটি সিগারেটের শলায় থাকে প্রায় ৪ হাজার বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ। ধূমপান করার ফলে এসকল পদার্থ দেহের অভ্যন্তরে, বিশষত ফুসফুসে প্রবেশ করে দেহকে অসুস্থ করতে শুরু করে। সিগারেটে যে রাসায়নিক পদার্থ থাকে তার মধ্যে নিকোটিন, অর্সেনিক, মিথেন, অ্যামোনিয়া, কার্বন মনোক্সাইড, হাইড্রোজেন সায়ানাইড ইত্যাদি প্রধান। এ কারণে ধূমপায়ীর ফুসফুসের এক্সরে দেখতে রঞ্জিত ও ছোপযুক্ত মনে হয়। একজন অধূমপায়ী যে কাজ অতি দ্রুত করতে পারে, সে কাজ ধূমপায়ীর জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ হয়।
ধূমপায়ীর ফুসফুসে অধূমপায়ীর চেয়ে অল্প সংখ্যক অ্যালভিওলাই দেখা যায়। অ্যালভিওলাই হচ্ছে মানবদেহের রক্তপ্রবাহে অক্সিজেন স্থানান্তরে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ধূমপান করার কারণে অ্যালভিওলাই নষ্ট হয়ে যায় ও কালচে বর্ণ ধারণ করে। এগুলোর কখনও পুনর্জন্ম হয় না। একারণে যে কোনো শারীরিক পরিশ্রমে ধূমপায়ীরা অধূমপায়ীদের সঙ্গে পেরে উঠেনা।
মানুষের স্বাভাবিক ফুসফুসের অন্তঃপ্রাচীর জুড়ে চুলের মতো সিলিয়া থাকে। এগুলোর আন্দোলনে ফুসফুসের ভেতর কোনো ক্ষতিকর কণা থাকতে পারে না। ধূমপানের ফলে সিলিয়া অবশ হয়ে পড়ে, ফলে ধূলি ও কণা ভেতরে জমা হয়। ধূমপায়ীর ফুসফুসের এক্সরের এটিও অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
এক্স রে মেশিনে যে শক্তির রশ্মি ব্যবহৃত হয় তা খুব ছোট এবং রোগীর দেহ ভেদ করে বিশেষ ফিল্মে প্রতিচ্ছবির সৃষ্টি করে। কোমল টিস্যুর ভেতর দিয়ে এক্সরে সহজে অতিক্রান্ত হলেও ঘন টিস্যু (যেমন- হাড়), রশ্মিকে আটকে দেয়। ফিল্মের প্রতিচ্ছবিটি তখন ছায়ার ফটো-নেগেটিভের মতো দেখায়। এ ফিল্মের গাঢ় অংশের অর্থ হচ্ছে রশ্মি অতিক্রমের সময় ক বা একেবারেই কোনো বাধার সম্মুখীন হয়নি। কালচে রংয়ের মাঝখানে থাকে একটি সাদা দাগ (স্টার্ণাম) অন্যদিকে, সাদা অংশ হচ্ছে রশ্মি অতিক্রমের সময় কোনো না কোনো প্রতিবন্ধকের সম্মুখীন হয়েছে। চিকিৎসকরা এভাবে ধূমপায়ীর ফুসফুসে ধূলি-কণার জমাট, ছোপ ইত্যাদি শনাক্ত করেন।
অর্থাৎ অধূমপায়ী ব্যক্তির এক্সরে ফিল্মটি হবে কালো, ধূমপায়ীদের কোথাও কোথাও সাদাটে বা সাদা। ধূমপায়ীর ফুসফুসও ধূমপান অভ্যাসের আগে এক্সরে করালে কালোই হতো। কিন্তু ধূমপান শুরুর পর থেকেই তার ফুসফুস সাদাটে হতে শুরু করে। যদি ক্যান্সার টিউমার সৃষ্টি হয় তাহলে এক্সরে ফিল্মের কোথাও ঘন সাদা জায়গা দেখা দেয়।
এক্সরে দেখে চিকিৎসক ধূমপায়ী ব্যক্তির ফুসফুসে পানি জমা (Pleural effusion) শনাক্ত করতে পারবেন। তাছাড়া হিলার গ্রন্থি বড় হয়ে যেতে পারে (Hilar Lymphadenopathy)। ধূমপায়ী ব্যক্তির হৃৎপিন্ড লম্বাকার ছায়ার মকো দেখাবে এবং ডায়াফ্রাম এর লেভেল নিচু হয়ে যাবে।
শুধু ধূমপানেই যে ফুসফুসে কালচে ছোপ বা ধুলিকণাজনিত জমাটের সৃষ্টি হয় তা নয়। যারা অফিস আদালত, রাস্তা-ঘাট বা অন্য জায়গায় নিয়মিত বসেন যেখানে নিয়মিত আশপাশের সিগারেটের ধোঁয়া প্রশ্বাসের সঙ্গে গৃহীত হয়, এমন ব্যক্তিরা ধূমপানের যা কুফল তারাও তাতে ভুগেন। এমফাইসেমা, ব্রঙ্কাইটিস এমনকি ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে এভাবে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে। চিকিৎসা করাতে গেলে চিকিৎসককে এ ব্যাপারে খোলাখুলি বলতে হবে।