28/06/2025
এসএসসির ফলাফল যেন আত্মহত্যার কারণ না হয়।
সময় উপযোগী তথ্য।
#দুইবিপরীতচিত্র: উল্লাস বনাম হতাশ**
এসএসসি, এইচএসসি, দাখিল, আলিম কিংবা সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় আমাদের দেখতে পায়, এক পাশে আনন্দের ঝলক। আরেক পাশে প্রিয়জন হারানোর বেদনা ও চোখের জল। পরীক্ষার প্রথম পাতায় উঠে আসে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের হাসিমাখা মুখ। আরেক পাশে থাকে কেউ আত্মহত্যা, কেউ ঘরছাড়া, কোথাও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা; যার ফলে একটা জীবন নিজের হাতে শেষ করে দেওয়ার পথ বেছে নেয়।
পরীক্ষায় ভালো না করা মানেই যে একজন শিক্ষার্থী ব্যর্থ, তা নয়। কিন্তু সমাজ, পরিবার এমনকি শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিতে পরীক্ষার ফলাফলই যেন জীবনের শেষ কথা! এমন একটি কৃত্রিম চাপ শিক্ষার্থীদের ওপর এমনভাবে এসে পড়ে যে কেউ কেউ হতাশায় আত্মহত্যার চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।
আমরা সব সময় শিক্ষার্থীদের গল্প বলি— আমি, তুমি, কিন্তু যখন শিক্ষার্থীরা পাশ করে, তারা সেটা দেখে না। কিন্তু যখন তারা ফেল করে, তখন করুণ গল্পগুলো তারা দেখে— কে মায়ের চাপে, পারিবারিক সংকটের কারণে, নাকি আরও গভীর কোনো সামাজিক ক্যাটালিস্ট সমস্যা আছে, সে বিষয় আমরা গবেষণা বা কার্যকর উদ্যোগে পিছিয়ে।
---
# # #আত্মহত্যারঝুঁকিতেথাকাশিক্ষার্থীদেরচেনারউপায়কী
অনেকে নিরুপায় চিন্তাভাবনা করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তাদের ইঙ্গিত স্পষ্ট পাওয়া যায়। কিন্তু হত্যার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আমরা আলাদা আটচ বা অনুমান করা সহজ না— হতে পারে। তবে কাছের মানুষ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা বন্ধুদের সহজে কিছু মনোইঙ্গিত মনে করেন। সাধারণত যেগুলো আত্মহত্যা ঝুঁকির আগে গবেষকেরা মনে করেন, সেগুলো হলো—
১. আত্মহত্যা বা মৃত্যু নিয়ে কথা বা লেখা, অনেক সময়কার তুলনায় উদ্ভট মেলে। যেমন "আমার সবকিছু ভালো" বা "আমি সব শেষ করে যাচ্ছি" অথবা "বেঁচে থাকার মানে কী", "পৃথিবীর তোমাকে আমার ভালো চিঠা করে হবে না" অথবা "আমি থাকলেও কেউ কিছু যায় আসে না";
২. ব্যর্থতা সামর্থ্যের অতিরঞ্জন;
৩. নিজের বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন থাকা;
৪. নিজের প্রিয় বস্তু বা মূল্যবান জিনিস অন্যকে দিয়ে দেওয়া;
---
#আত্মহত্যারপথথেকেফেরানোরউপায় কী হতে পারে?
এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই নেওয়া যায় না। এই "অর্থহীন" ফলাফলের দরজায় বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা যা করার আমাদেরই করতে হবে। শিক্ষার্থীদের বাঁচানোর দায়িত্ব আমাদেরই দ্বার।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক ক্ষেত্রে নজর দেওয়া যায়:
১. পরীক্ষা পদ্ধতি ও ফলাফল পদ্ধতির পরিবর্তন;
২. পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর থেকে অভিভাবক ও মা-বাবাকে সতর্ক করে দেওয়ার বিশেষ প্রচারণা। পরিবারে পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে অতিরিক্ত চাপ যেন না দেওয়া হয়। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতি দিতে হবে এবং তাদের প্রতি মমত্ব ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা;
৩. ফেল করার নানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উদ্যোগগুলোর উল্টো প্রচারণা চালিয়ে সমাজের ইতিবাচক ধরনের উদ্যোগকে উৎসাহিত করা;
৪. যেহেতু আত্মহত্যা তালিকায় মেয়েদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেশি, তাই এদের বিষয়ে আলাদাভাবে উদ্যোগ।..
অভিভাবকের প্রত্যাশা ও মানসিক বোঝা
বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের জীবনে অভিভাবকের সামাজিক প্রত্যাশা প্রভাব ফেলে মারাত্মকভাবে
উৎস: প্রথম আলো। (২৮/০৬/২০২৫)