17/10/2025
এ বছর একাদশ শ্রেণির ভর্তির সময়ে কোন একটা চক্র একটা প্রপাগাণ্ডা ছড়িয়ে দিল বন্দর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখার পড়াশোনা আগের মতো নেই। যারা এটা করেছেন তাদের মেয়ে কখনো পড়েনি এই কলেজে। আজকের ফলাফল বিশ্লেষণ করে আমি দেখলাম যারা পাশ করেছে তাদের জিপিএ এসএসসির তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এসএসসিতে জিপিএ -৫ না পাওয়া মেয়েও জিপিএ -৫ পেয়েছে। এই ব্যচের এক অভিভাবককে এসএসসি পাস করার পর আমার কলেজে ভর্তির জন্য বলায় আমাকে রীতিমতো তাচ্ছিল্য করে মেয়েকে ঢাকার সবচেয়ে বেশি টাকা যেই কলেজে খরচ করতে হয় সেই কলেজে ভর্তি করেছেন। আজকে জানতে পারলাম লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে ফলাফল জিপিএ -৫ পায়নি। এখন প্রশ্ন হলো আমার কলেজে এতগুলো মেয়ে ফেল করল কেন! যারা ফেল করেছে তারা ভর্তির পর কলেজের সাথে কোন যোগাযোগ রাখেনি।বার বার অভিভাবকদের ডেকেও কোনো প্রতিকার পাইনি। নির্বাচনী পরীক্ষায় একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পরেও পারিপার্শ্বিক চাপে অঙ্গীকার নিয়ে তাদের দাখিলা ফরম পূরণ করতে বাধ্য হই। কিন্তু ফরমফিলাপের পর তাদের বাসায় শিক্ষক পাঠিয়ে ও কলেজে আনতে পারিনি ।যার ফলাফল আজকে যারা ফেল করেছে। নানান প্রপাগান্ডা ও মানুষের অলীক কল্পনার কারণে আমরা মানসম্মত শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারিনা। দূর্বল শ্রেণির যারা ভর্তি হয় তাদের বেশিরভাগের কোন ভবিষ্যত এইম নাই যার কারণে তারা কলেজে আসেনা ফলে তাদের নিয়ে আমাদের বিপত্তিতে পড়তে হয়।ফেল করবে জেনেও নানান কারনে ফরমফিলাপ করাতে হয়।অনেকেই এসএসসি পাশের পর বলতে শুনি এতদিন এখানে পড়েছি তাই এখন বাইরে পড়তে চাই। এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল একটা শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির জন্য সময় অত্যন্ত কম। এই অল্প সময়ে এসএসসির তুলনায় পাঁচ গুণেরও বেশি সিলেবাস শেষ করতে হলে তার প্রত্যেকটা মূহুর্ত কাজে লাগলো জরুরি। অনেকেই এইচএসসির ফলাফলের পর আফসোস করতে শুনেছি যে স্যার কথা না শুনে ভুল করেছি তখন আর এ ভুলের কোন সমাধান অবশিষ্ঠ থাকেনা। আমি চ্যালেন্জ করে বলতে পারি বেশি টাকার কলেজ ও কম টাকার সরকারি কলেজের চেয়ে আমার কলেজের পড়াশোনার মান, শিক্ষকদের মান এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতা অনেক বেশি।
আমি প্রতিটি ব্যচের মেয়েদের কাছ থেকে একটা কমন ডায়লগ শুনতে পাই সেটা হচ্ছে ভর্তি হওয়ার আগে যে অভিযোগগুলো শুনে আসছি ভর্তি হওয়ার পর দেখলাম তার সম্পূর্ণ বিপরীত।
বন্দরের অভিভাবকদের প্রতি আমার অনুরোধ আপনারা গুজব বা অলীক কল্পনা বাদ দিয়ে বন্দর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখার প্রতি আস্থা রেখে আপনার মেয়েকে ভর্তি করবেন ইনশাআল্লাহ সময় শেষে আপনার আস্থার প্রতিফলন পাবেন।
কেন আস্থা রাখবেন ঃ
ক) শতভাগ আন্তরিকতা নিয়ে শিক্ষকদের মানসম্মত পাঠদান।
খ) বিগত সময়ে যারা ভালো ফলাফল নিয়ে ভর্তি হয়েছে তারা আরও ভালো ফলাফল নিয়ে বের হয়েছে।
গ) ভালো ফলাফল করার পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, ইন্জিনিয়ারিং এ চান্স পেয়েছে।
ঘ) যেহেতু যাতায়াতের জন্য সময় ক্ষেপণ হবে না তাই পড়াশোনা করার পর্যাপ্ত সময় পাবে।
ঙ) বিগত সময়ে যাঁরা পাশ করেছে বা যাঁরা বর্তমানে পড়ছে তাদের কলেজের প্রতি পজিটিভ ধারণা।
চ) প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করলে এ পর্যন্ত কোন ফলাফলে আমার কলেজ বন্দরে সেকেন্ড হয়নি কোন কোন বছর নারায়ণগঞ্জ জেলার মধ্যে প্রথম হয়েছে।
আপনারা এসে আমি যা বলেছি বা বলার চেষ্টা করেছি তা বাস্তবে খোঁজ খবর নিয়ে আশা করি ভবিষ্যতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন এই প্রত্যাশা করছি।
ধন্যবাদ
মোহাম্মদ মিজানুর রহমান
অধ্যক্ষ(ভারপ্রাপ্ত)
বন্দর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ
বন্দর, নারায়ণগঞ্জ।