18/08/2026
দুইটা সময়ে ব্যাচের সবাই একসাথে হয় সব মতের ভিন্নতা একপাশে রেখে- একটা হলো ক্যাম্পাসে নতুন আসার পর ওরিয়েন্টেশনের দিন আরেকটা বিদায়ের দিন। এর মাঝের সময়টায় দেখা যায় মতের ভিন্নতাসহ নানান সমস্যার।
ফেয়ারওয়েল এর সময়টায় একদম সবশেষে একটা দৃশ্য সবার কাছেই পরিচিত থাকে যেটা হলো সবাই সবাইকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে। তখন মনে হয় ৪ বছর লম্বা সময় হলেও চোখের পলকে চলে গেছে।
এই সময়টায় এমন অনেক দেখেছি ৪ বছরে শ-ত্রুর মতো করে ছিলো কিন্তু আর আবেগকে কন্ট্রোল করতে না পেরে একজন আরেকজনের কাছে ক্ষমা চেয়ে অঝোর কান্না করতে। এরপর আবার প্রোগ্রাম শেষে বিদায়ী ব্যাচ একটা শেষ আড্ডা দেয় ক্যাম্পাসে।সেখানেও সবাই একসাথে বসে- মতের অমিল থাকলেও এক হয়ে যায়।এমনটাই হয়ে আসছে৷
এই ছোট্ট সময়টায় নিজের ব্যাচ সহ অন্য যে কারো সাথেই কিছু করা মানে হলো তার ক্যাম্পাস জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণ হয়ে দাঁড়ানো যার কারণে সবসময় একজন মানুষের জীবনে ঘৃণ্য ক্যারেক্টর হয়ে থাকতে হবে। এই ছোট্ট সময়টায় আমরা কেউই চাইনা এমনতা হতে।
একজন আরেকজনকে মার-ধর, হেনস্তাসহ যাই করা হয়না কেন এগুলাতো নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের কারো না কারো সাথেই করা হয়। নিজেদের মধ্যকার কলহ - দুনিয়ার সবচেয়ে জঘন্য কাজের একটা। এই যে প্রতিটা ঝগড়ার পর যারা মার খায় এবং যারা মারে তাদের দুই পক্ষের ছবি, ভিডিওই সোশ্যাল মিডিয়ায় আসে। দুইপক্ষের ইমেজই ভিন্নভাবে অন্যরকম হয়। এছাড়াও এমন অনেকেরই বাবা, মা আছে যাদের ওই কন্ডিশন নাই যে এগুলা দেখে সহ্য করবে৷ এমন মুহূর্তে হয়তো অনেক পেরেন্টসই সন্তানের এই অবস্থার জন্য আফসোস করে।
আরেকটা কালচার নতুন করে চর্চা হচ্ছে- জুনিয়র দিয়ে সিনিয়রকে হেনস্থা। সবার মানসিক অবস্থা এক থাকেনা। সবার ভেতরকার গল্পটা, সংগ্রামটা ভিন্ন থাকে। এই চর্চাটা এখনই বন্ধ করা উচিত।
সবশেষে ,আমরা সবাই চাই সবার জন্য নিরাপদ একটা ক্যাম্পাসে যেখানে সবাই সবার মতো করে নিজেদের এই জার্নিটার মধ্যে ভালো কিছু গল্প সাজাতে পারবে। যাতে করে সারাজীবন একটা ভালো অধ্যায় হয়ে থাকে।