17/05/2018
ফ্রেন্ডলিস্টে অনেক ছোট ভাই-বোন আছে যারা আমারে মেসেজ দেয় ভার্সিটি ভর্তির টিপস নিতে।ভাই,আমার কাছে এই বিষয়ে টিপস চাওয়া আর ফকিরের কাছে ভিক্ষা চাওয়া সমান কথা।😂
কারণ আমার নিজের মাথা ই ঠোলা!তরে আমি কি দিমু?কিন্তু তবুও দেবার আছে অনেক কিছু।যেমন গতবার ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে বা হসচের পরের ৩ মাস কেমনে কাটাইসি তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করা যেতে পারে।আমি অবসর,তাই অবসর কাটানোর জন্য এটা লেখছি।কেউ এটা পড়ে কারো মূল্যবান সময় নষ্ট করবেননা!
➜ প্রশ্ন-১:
ভাই আমি সায়েন্সের।কোন কোচিং করুম? ইঞ্জিনিয়ার,মেডিকেল না ক-ইউনিটের?
➤ উত্তর: HSC এর পরে তোদের জন্য ছয়টা রাস্তা খোলা আছে।
রাস্তা-১: ইঞ্জিনিয়ারিং
ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চাইলে তোকে ফিজিক্স,কেমিস্ট্রি এবং ম্যাথে ভালো হতে হবে।এই সাবজেক্টগুলার পুরা বই না হলেও বইয়ের বেশিরভাগ অধ্যায় সম্পর্কে ভালো আইডিয়া থাকতে হবে।বাংলাদেশে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চাইলে তোর ফার্স্ট এবং একমাত্র টার্গেট হবে বুয়েট।সেটা না হলে কুয়েট, রুয়েট, চুয়েট,সাস্ট কিংবা বুটেক্সের কথা পরে চিন্তা করা যাবে।আর যদি তোর বাপ-মায়ের কাড়ি কাড়ি টাকা না থাকে,শুরুতেই প্রাইভেট ভার্সিটির কথা মাথায় আনার দরকার নাই।অবশ্য এর জন্য রেজাল্ট এ প্লাস থাকা লাগলে মাস্ট!নাইলে আমার মতো ঘাড় ঘুরিয়ে শুধু অন্যের ললিপপ চোষা দেখতে হবে!
➤ রাস্তা-২:
মেডিকেল:- মেডিকেল বা ডাক্তারি পড়তে গেলে তোকে বায়োলজিতে অনেক ভালো হতে হবে এবং ভালো লাগতে হবে।মস্তানি করছিনা,বায়োলজি আমি অনেক ভালো পারতাম এবং ভালো লাগতো।কিন্তু আমি মেবি উলটা সৃষ্ট জীব।কারণ মেডিকেল আমি দুচক্ষে দেখতে পারতাম না,এখনো পারিনা!তাই পরীক্ষাও দেইনি মেডিকেলে!
সরকারী মেডিকেলে কম্পিটিশন অনেক বেশি।সেই কম্পিটিশনে টিকে থাকলে হলে,পরিশ্রমের পরিমাণ বাড়াতে হবে।আর বাপের জমি,মায়ের গহনা বিক্রি করে প্রাইভেট মেডিকেলের কথা চিন্তা করার আগে সুযোগ থাকতে চেষ্টা করে দেখ।
➤ রাস্তা-৩: সায়েন্সের সাবজেক্টে অনার্স-মাস্টার্স:-
অনেকের স্পেশাল টার্গেট থাকে- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মেসি,এপ্লাইড কেমিস্ট্রি।(আমার নিজেরই টার্গেট ছিলো এই তিনটা।অবশ্য জেনেটিক্সের প্যারা সহ্য না করতে পেরে আমি নিজেই মারা খাইতাসি।সাক্ষী তোরা নিজেই)....
সেক্ষেত্রে তোকে ঢাকা ইউনিভার্সিটির ক-ইউনিট এর জন্য প্রিপারেশন নিতে হবে।তবে এসব ছাড়াও ঢাবিতে সায়েন্সের আরো অনেক সাবজেক্ট আছে সেগুলারও ভালো ডিমান্ড আছে।ঢাকা ইউনিভার্সিটির ক-ইউনিট এর জন্য প্রিপারেশন নিলে সেই একই প্রিপারেশন নিয়ে জবি,রাবি,চবি,জাবিতে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে দিতে পারবি। তবে টার্গেট করতে হবে-যে করেই হোক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাবোই পাবো।
আর এখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগুলাতে পোলাপানের ঝোকটা একটু বেশি।কারণ সেশন জট নাই+উন্নত সুযোগ সুবিধা+ভালো সাব্জেক্ট!আমি নিজেই নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ভর্তি হয়েছি।কেউ আবার এটাকে বিভাগ চাই বলিয়া স্লোগান দিসনা ভাই!
➤ রাস্তা-৪:
আর্টস-কমার্সে ট্রান্সফার হয়ে তাদের ভাত মারা:-
ঘ-ইউনিট বলে একটা জিনিস আছে।সায়েন্সের পোলাপান অন্যদের থেকে একটু বেশিই সুবিধা পায়।এখানে তারা অন্যদের বাঁশ দিয়ে জায়গা হাতিয়ে নেয়।
তবে ঘ ইউনিটে সাম্নের দিকের সিরিয়ালে না থাকলে ভালো সাব্জেক্ট পাবার সম্ভাবনা কম!
➤ রাস্তা- ৫: ফেল করে আবার HSC পরীক্ষা:
এরকম চচিন্তা ভাবনা পোষণকারীদের জন্য রয়েছে কেয়া কসমেটিক্সের সৌজনে এক বালতি সাবান ও পরিবেশ বন্ধু গাছ!
➤ রাস্তা-৬: BMA লং কোর্স বা ISSB দিয়ে সেনাবাহিনী:
ফিজিক্যাল ফিটনেস আর টার্গেট থাকলে চান্স নিয়ে দেখ।অনেক ধামড়া জুনিয়র দেখলাম এলাকায়!
তবে কোন রাস্তায় গেলে ভালো হবে সেটা জিজ্ঞেস করার আগে নিজেকে প্রশ্ন কর-“কোন লাইনে যাওয়ার চেষ্টা করার ইচ্ছা এবং চান্স পাওয়ার যোগ্যতা তৈরি করার ক্ষমতা আমার আছে?”।যোগ্যতা নিয়ে চেষ্টা না করলে কিন্তু তোর যোগ্যতার চার আনা পয়সা দাম থাকবে না। এমন অনেক ট্যালেন্টেড পোলাপান দেখছি- একটুর জন্য অনেক পিছনে চলে গেছে।আর HSC পরীক্ষার পরেই বেশিরভাগ পোলাপান ফ্যামিলি থেকে ফ্রিডম পায়। অনেকেই ঢাকায় প্রথম আসে।এই সময়গুলাতে নিজেকে কন্ট্রোল করা খুবই টাফরে ভাই।সুন্দরী মাইয়া দেখে,এইটা অইটা খায়,নানান জায়গায় ঘোরার ব্যারামের ধরে!
তাছাড়া দুইটা ঈদ,রেজাল্টের বন্ধে টেরও পাবি না কেমনে টাইম শেষ হয়ে ভর্তি পরীক্ষার ডেট দিয়ে দিছে।
আমি নিজেও এই সমস্যার ভুক্তিভুগি ছিলামরে ভাই!
➜ প্রশ্ন-২: প্রতিদিন কয় ঘন্টা করে পড়া উচিত?
➤উত্তর: আমি বলি ১৮-২০ ঘন্টা।(হাসিস না)
তারমানে যতক্ষণ ঘুমাবি না ততক্ষণ পড়বি।তবে কোন ভাবেই ১২-১৪ ঘন্টার কম পড়লে হবে না।ল্যাপটপ, ফেইসবুক,ফ্রেন্ডশিপ,বার্থডে,মোবাইল ফোনের কল রিসিভ,প্রেম পিরিত সব বন্ধ!ভাই অন্তত তিনটা মাস গার্লফ্রেন্ডরে ছুটিতে পাঠা।আর যদি চান্স পাস তাইলে হয় গফ থাকবেনা আর থাকলেও তুই যেহেতু চান্স পাস নাই তোর মনে হবে প্রেমের কারণে তোর জীবনটা ধ্বংস হইসে।ছোট ভাইরাও অহরহ উদাহরণ দেখাবে;অমুক ভাই চুটিয়ে প্রেম করতো তাই আজ ভার্সিটিতে চান্স পায় নায়!
আর চান্স না পেলে পাশের বাসার আন্টি আত্মীয় স্বজন সব কাটাপ্পা হয়ে যাবে আর তুই হবি বাহুবালি!আরাম টারাম এই তিনমাস বাদ।মেধার ঘাটতি পরিশ্রম দিয়ে পুষিয়ে দেয়া যায়।মনে রাখিস,আজকের একটু আরাম বাকি জীবনের জন্য ব্যারাম হয়ে দাঁড়াবে।
➜ প্রশ্ন-৩: কোন কোচিং সেন্টারে ভর্তি হলে ভালো হবে?
➤উত্তর: শুন,ভালো কোচিং সেন্টারে ভর্তি হতে পারলেই যে তুই চান্স পেয়ে যাবা তা কিন্তু না।কোচিং সেন্টার তোরে ভার্সিটিতে ঢুকায় দিবে না,তোর ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে দিবে না।তোর পরীক্ষা তোকেই দিতে হবে।কোচিং সেন্টারের কাজ হচ্ছে তোকে রুটিনের মধ্যে রাখা, চ্যাপ্টার বাই চ্যাপ্টার পরীক্ষা নিয়ে তোকে পড়ার জন্য তাগাদা দেয়া। আরো কিছু ভালো স্টুডেন্ট একসাথে করে তোর ভিতরে কম্পিটিটিভনেস তৈরি করতে সাহায্য করা,কিছু টিপস দেয়া। তাই অন্য ভালো স্টুডেন্টরা যেখানে ভর্তি হয় তুইও সেখানে ভর্তি হও।সেখানে ভালো করার চেষ্টা কর।তাতে কনফিডেন্স বাড়বে।তবে কোচিং সেন্টারে খারাপ করলেও প্রিপারেশন চালিয়ে যেতে হবে।কারণ ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষার সময়, ভার্সিটির লোকজন কোচিং সেন্টারে এসে খোজ নিবে না, কোচিং এ কে ভালো কে খারাপ ছিলো।আমি উদ্ভাসে ইঞ্জিনিয়ারিং+বায়োলজি কোচিং করেছিলাম।এটা করলে মোটামুটি ইঞ্জিনিয়ারিং+ভার্সিটি ক+জীববিজ্ঞান অনুষদ সব কভার হবে।
তাই আমার সাজেশন:-ইঞ্জিনিয়ারিং হলে উদ্ভাস আর রেটিনা হলো মেডিকেল!
আর ধর তুই উদ্ভাসের ইঞ্জি কোর্সে ভর্তি হলি কিন্তু A+ পাইলিনা।চিন্তা নাই।তোকে ওরা ভার্সিটি ক হতে শিটফ রে দেবে!
➜ প্রশ্ন-৪: মোট কয়টা বই থেকে পড়া উচিত?
➤উত্তর:যে বইটা দুইবছর পড়ে এসেছিস অইটাই ভালোভাবে পড়।এর পাশাপাশি, আরেকটা বইয়ের উদাহরণ সমস্যাগুলা দেখ।
আর ভার্সিটিতে চান্স পেতে হলে বিগত বছরের প্রশ্ন সলভ করার কোনো বিকল্প নাই!ঢাবিতেও ১০০ টার মধ্যে ১২-১৫ টা বিগত বছরের প্রশ্ন আসে!
➜ প্রশ্ন-৬: কোচিং এর লেকচার শিট অনেক কঠিন।এগুলা আবার অনেকসময় ভর্তি পরীক্ষাতেও আসছে।আমি এগুলার কিচ্ছু বুঝি না।আমার কি হবে রনি ভাই?
➤ উত্তর: শুনো,যে ফার্স্ট হয় সেও ১০০ তে ১০০ পায় না।তুই ও পাবি না।আর ভালো সাবজেক্টে চান্স পাওয়ার জন্য তোকে সব পারা লাগবে না।সো, কোচিং এর লেকচার শিটের ৭০-৮০% বুঝলেই হবে।ওদের গাইড বই দেখেও মাথার তার ছেড়ার কোনো কারণ নাই।বরং বইয়ের উপর জোর দে।ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন বই থেকে আসবে,কোচিং এর লেকচার শিট বা গাইড থেকে নয়।
➜ প্রশ্ন-৭: কোচিং এর টেস্টে নম্বর তেমন পাই না। মেরিট লিষ্টে আমার নাম উঠে না। আমার কি ছেড়ে দেয়া উচিত?
➤ উত্তর: কোচিং এর মেরিট লিষ্টের অনেক পোলাপান আছে যারা শেষ পর্যন্ত চান্সই পাবে না।সো, সেখানে নম্বর না পাইলেও,চেষ্টা চালাতে থাকবি।পরীক্ষা দিতে থাকবি। আসল প্রিপারেশন হচ্ছে তোর বাসায়।
আর যদি আমার মতো ফাঁকিবাজ হোস তাইলে কোচিংয়ের এক্সামগুলাতে OMR শিটে রুল ভুল ভরাট করে দিয়ে আসিস।তাইলে বাসায় রেজাল্ট যাবেনা।আর নিশ্চিত ম্রা'র হাত থেকে বেঁচে যাবি!
➜ প্রশ্ন-৮: কোচিং এর ভালো ভালো টিচারগুলো সব ঢাকায়। আমার কি যে করেই হোক ঢাকায় কোচিং করতে চলে যাওয়া উচিত?
➤ উত্তর: ঢাকায় যেতে পারলে ভালো।তবে ঢাকায় গিয়ে অনেকেই ছাড়া পেয়ে পড়ালেখা কমিয়ে দেয়। প্রতিবছর শত শত পোলাপান ঢাকার বাইরে কোচিং করে চান্স পায়। আসল কাজ হচ্ছে পড়ালেখা করা।লেখাপড়া না করলে কোচিংয়ে গিয়া লাভ নাই।এর চেয়ে বাপের ব্যাবসা দেখ।বাপের চাপ কমবে!
➜ প্রশ্ন-৯: আমার ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ার সখ। আব্বু জোর করে মেডিকেলের কোচিং এ ভর্তি করায় দিছে। এখন আমি ঠিকমতো পড়ায় মন দিতে পারতেছি না। কি করবো?
➤ উত্তর: শুন ভাই,লাইফটা তোর।মাঝখানে ঝুলে থাকলে তোরই ক্ষতি।তাই আব্বুর সাথে ডাইরেক্ট কথা বলতে না পারলে মেডিকেলের ভর্তি কোচিং সিরিয়াসভাবে কর। আর না হলে,তোর আম্মু বা কাউকে দিয়ে আংকেলকে বুঝিয়ে বল।আমি ফ্যামিলির দিক থেকে আলহামদুলিল্লাহ।কারণ আমার মা-বাবা আর আন্টি আমার উপরে কোনো সময়ই কিছু চাপায় দেয়নি।বলছে "তোমার যে সাব্জেক্ট চয়েজ সেটা নিয়েই পড়ো"....
আমি যদি শখ করে পালি নিয়ে পড়তাম তবুও আমার বিশ্বাস তারা আমায় কিছু বলতোনা।আর দূ:সময়ে ফ্যামিলিকে কাছে পাওয়া যেনো খোলা আকাশের নিচে আশ্রয়স্থল খুজে পাওয়া।A+ না পেলে অনেক মা-বাবাই বলে "আজ থেকে তোর পড়ালেখা বন্ধ।তুই গাড়ির তলে চাপা পড়ে মর।তোর কারণে আমি আজ মুখ দেখাতে পারছিনা।তোকে হোটেলে/গ্যারেজে দিয়া দিবো।তোর পিছনে শুধু শুধু কাড়ি কাড়ি টাকা ঢাললাম।অনেক ক্ষেত্রে আবার কথা বলাও বন্ধ করে দেয়"...এটার পক্ষে মোটেও আমি নই।কারণ তোর মা বাবা হসচে তোকে শুধু A+ পাবার জন্য জন্ম দেননি।আর A+ না পেলে গ্যাবন যে শেষ তাও একদম ভুল।রেজাল্ট এদিক সেদিক হতেই পারে হওয়াটাই স্বাভাবিক।এই দু:সময়েও মা-বাবাকে প্রেরণা যুগাতে হবে।যেটা আমি আমার মা-বাবার কাছ থেকে ১০০% পেয়েছি।অনেক গোল্ডেন দেক্সি কোনখানে জায়গা না করতে পেরে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে গোল্ডেনের সার্টিফিকেট নিয়ে আবার অনেক জায়হায় দেক্সি প্লাস না পেয়েও ঢাকা ভার্সিটিতে ফার্মেসি!মূল কথা হচ্ছে মাল থাকতে হবে তোর ভিতরে।আমি অই মালের কথা বলছিনা।মানে প্রতিযোগিতা করার মতো প্রস্তুতি থাকতে হবে,তাইলেই সাক্সেস!
➜ প্রশ্ন-১১:
মেডি+ইঞ্জি/ক + ঘ একসাথে দুইটার প্রিপারেশন নিই।তুমি কি বলো?
➤ উত্তর: যদিও একটা মাত্র এক্সট্রা সাবজেক্ট,তারপরেও
সেটার ক্লাস বা পরীক্ষা দিতে গেলে তোর চিন্তা ভাবনায় একটু আধটু চেইঞ্জ আসবে।যেটা বেশিরভাগ পোলাপান সঠিকভাবে হ্যান্ডেল না করে,কনফিউজড হয়ে যায়। আবার কোনটাতে প্রায়োরিটি দিবে সেটা নিয়ে চিন্তা করতে গিয়ে সময় নষ্ট করে।তাই আমার পরামর্শ হচ্ছে -দুই নৌকায় পা দেওয়ার দরকার নাই।একটা টার্গেট সেট করো। সেটার জন্য সর্বস্ব নিয়ে ঝাপিয়ে পড়।
➜ প্রশ্ন-১২:
আমিতো গ্রামের কলেজ থেকে পড়েছি।ঢাকায় পড়ালেখা করিনি।তো আমি কি চান্স পাবো?
➤ উত্তর:-লুল লজিক ভাই।ভার্সিটি চান্স মেধা দেখে দেয়।কলেজ দেখে নয়।আর ঢাকার ছাত্ররা গ্রামের ছাত্রদের থেকে তুলনামূলক এগিয়ে থাকবে এটাই স্বাভাবিক।তবে প্রচন্ড পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস থাকলে তোকেও কেউ আটকাতে পারবেনা।ঢাকার কোনো ছাত্র মেরিট পজিশনে ১ হলে তুইও ৫০ অন্তত হতে পারবি।আর আমি নিজেই গ্রামের কলেজ থেকে লেখাপড়া করেছি।আর ঢাবিতে খোজ নিয়ে দেখ অধিকাংশ পোলাপানই ঢাকার বাইরে+উপজেলা লেভেল থেকে এসেছে।
লাখ লাখ মেধাবীর সাথে প্রতিযোগীতায় লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে দরকার কঠোর পরিশ্রম,দৃঢ় মনোবল ও আত্মবিশ্বাস।
আমি কখনোই ভালো ছাত্র ছিলাম না,নিজেকে কখনো ভালো ছাত্র বলে দাবি করিনা।পড়ালেখায় আমি যথেষ্ট ফাঁকিবাজ।ইন্টার লাইফে পড়ালেখা বলতে হসচের আগের দুইমাস+পরের তিনমাস=৫ মাস।
আমাকে ফলো করলে কেউ নির্ঘাত মারা খাবি।
আর লেখাগুলু কেন লেখলাম?অনেকে ভাবতে পারিস রনি ভাই নিজেই তো ঢাবি,বুয়েট,চুয়েট,কুয়েট এগুলাতে চান্স পায়নি তো আমাদের উপদেশ দিচ্ছে কেন?
ভাই আমার রেজাল্ট ছিলো ৪.৫০।সব গোল্ডেনের ভিড়ে আমি কোনো জায়গায় এক্সামই দিতে পারিনাই।
তবে আমি যে মারা গুলা খাইসি আমি চাই আমার ছোট ভাই সে মারা না খাক।তোরা একজন ও যদি এইগুলা পড়ে ইন্সপায়ার হোস তাইলেই আমার সার্থকতা।
মনে রাখিস,ভার্সিটিতে চান্স না পেলে তোকে কেউ বাল দিয়াও জিগাবেনা।তখন যত দোষ আছে সবগুলা সামনে আনবে।বলবে অইযে সারাদিন প্রেম করতো/খেলাধুলা করতো/আড্ডা দিতো/মুভি দেখতো/ফেসবুকে থাকতো তাই চান্স পায় নাই ভার্সিটিতে।তখন গর্তে লুকিয়েও শান্তি নাই।হ্যাটার্সরা গর্ত থেকে টেনে বের করে আনবে।আর যদি চান্স পাস তাইলে সাত খুন মাফ।সবাই বলবে ছেলেটা প্রেম করে/খেলাধুলা করে/আড্ডা দিয়ে/মুভি দেখে/সারাদিন ফেসবুকে থেকেও ভার্সিটিতে চান্স পাইসে।অমুকের ছেলেটা আসলে জিনিয়াস।
শেষ কথা:-কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নাই।কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়বি।
সফলতা তোর কাছে আসবেই ইনশাল্লাহ"!
-মোহসিন আলম রনি
-বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ,নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
(পরিমার্জিত)......