23/09/2026
জেনে নিন!
ইনস্টিটিউট অফ হেলথ টেকনোলজি (IHT), ঢাকা - পূর্ণাঙ্গ বিবরণী ---
১. প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস:
- প্রতিষ্ঠিত: ১৯৬৩ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের অধীনে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পূর্বনাম: শুরুর দিকে এই প্রতিষ্ঠানটি "প্যারামেডিক্যাল ইনস্টিটিউট" নামে পরিচিত ছিল।
- যাত্রার শুরু: প্রথম অবস্থায় মাত্র ৩০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুধুমাত্র স্যানিটারি ইন্সপেক্টরশিপ ট্রেনিং (SIT) কোর্স চালু করার মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে দেশের ক্রমবর্ধমান চিকিৎসা চাহিদা ও স্বাস্থ্য খাতের বিস্তৃতির কথা মাথায় রেখে এর পরিধি বাড়ানো হয়।
২. বিবর্তন ও আধুনিকায়ন:
- নামকরণ পরিবর্তন: ১৯৮৯ সালের ১২ জুলাই ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে বর্তমান নাম "ইনস্টিটিউট অফ হেলথ টেকনোলজি (IHT)" রাখা হয়।
- ডিপ্লোমা কোর্সের বিস্তার: ১৯৮৯ সাল থেকেই মূলত বিভিন্ন বিষয়ে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি কোর্সগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হয়। এর মাধ্যমে দেশের হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেক্টরের জন্য দক্ষ টেকনোলজিস্ট তৈরির প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয় এই প্রতিষ্ঠান।
- উচ্চশিক্ষার সুযোগ (বিএসসি): যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বর্তমানে এখানে ডিপ্লোমা কোর্সের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়ে ৪ বছর মেয়াদী বিএসসি ইন হেলথ টেকনোলজি (ল্যাবরেটরি, রেডিওলজি, ফিজিওথেরাপি ইত্যাদি) কোর্স চালু রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও উচ্চতর গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
৩. প্রশাসনিক কাঠামো ও ভৌগোলিক অবস্থান:
- অবস্থান: মহাখালী, ঢাকা (জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত)।
- পরিচালনা পর্ষদ: এটি সরাসরি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর (DGME) দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।
- গুরুত্ব: এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং পুরোনো আইএইচটি। প্রতি বছর এখান থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী স্বাস্থ্য প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় ডিপ্লোমা ও বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করে দেশ ও বিদেশে প্রশংসনীয় অবদান রাখছেন।
৪. পঠিত বিভাগসমূহ ও পাঠ্যক্রম (ডিপ্লোমা):
এখানে মেডিকেল টেকনোলজির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আধুনিক বিভিন্ন শাখায় পড়াশোনা করার সুযোগ রয়েছে যা ৩/৪/৫ বছর মেয়াদী হয়ে থাকে।যেমন:
1. ল্যাবরেটরি মেডিসিন:প্যাথলজি, হেমাটোলজি ও বায়োকেমিস্ট্রি সংক্রান্ত নানাবিধ নিখুঁত ও জীবন রক্ষাকারী সব ধরনের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
3. রেডিওলজি ও ইমেজিং: এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই এবং আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরিচালনার আধুনিক প্রযুক্তিগত শিক্ষা।
4. ফিজিওথেরাপি: শারীরিক ব্যায়াম, রিহ্যাবিলিটেশন এবং থেরাপিউটিক পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন জটিল শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা।
5. ডেন্টিস্ট্রি: ডেন্টাল টেকনোলজি, দাঁতের প্রযুক্তিগত চিকিৎসা ও রক্ষণাবেক্ষণ।
6. ফার্মাসি: মানসম্মত ওষুধ প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা।
7. রেডিওথেরাপি: ক্যানসার রোগীদের উন্নত রেডিয়েশন ও এক্স-রে থেরাপি প্রদান।
8. ওটিএ (Operation Theatre Assistant - OTA): অস্ত্রোপচার কক্ষের যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত রাখা, ব্যবস্থাপনা এবং অপারেশন চলাকালীন ডাক্তারদের সরাসরি সহায়তা প্রদান।
9. ইনটেনসিভ কেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট (Intensive Care Assistant - ICA): এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগ। আইসিইউ (ICU) বা সিসিইউ (CCU)-তে চিকিৎসাধীন আশঙ্কাজনক রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং ভেন্টিলেটরের মতো জীবন রক্ষাকারী যন্ত্রপাতি পরিচালনায় ডাক্তার ও নার্সদের সহায়তা করাই এই বিভাগের কাজ।
৫. বিএসসি ইন হেলথ টেকনোলজি কোর্স ও আসন বিন্যাস:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ঢাকা আইএইচটিতে বর্তমানে ৪ বছর মেয়াদী বিএসসি কোর্সের আসন বিন্যাস নিচে দেওয়া হলো:
- বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি: ৫৫ টি আসন
- বিএসসি ইন হেলথ টেকনোলজি (ল্যাবরেটরি): ৫৫ টি আসন
- বিএসসি ইন হেলথ টেকনোলজি (রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং): ৪০ টি আসন
৬. ক্যাম্পাস সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো:
- ক্যাম্পাস ও হোস্টেল: এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ ও নান্দনিক আইএইচটি ক্যাম্পাস। দূরদূরান্ত থেকে আগত ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য রয়েছে নিরাপদ ও পৃথক আবাসিক হোস্টেল সুবিধা।
- খেলার মাঠ: শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ রয়েছে।
- হাসপাতাল অ্যাটাচমেন্ট ও ইন্টার্নশিপ: বাস্তবমুখী জ্ঞান ও ইন্টার্নশিপ প্রশিক্ষণের জন্য শিক্ষার্থীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় সরকারি হাসপাতালে কাজ করার সুযোগ পায়।
- সাংস্কৃতিক পরিবেশ: আইএইচটি ঢাকার শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং ক্যাম্পাসে গান, আবৃত্তি বা বিভিন্ন সৃজনশীল চর্চায় অত্যন্ত সক্রিয় থাকে, যা এখানকার ক্যাম্পাস জীবনকে করে তোলে বৈচিত্র্যময় ও প্রাণবন্ত।
৭. কর্মসংস্থান ও ক্যারিয়ার সম্ভাবনা:
এখান থেকে সফলভাবে ডিপ্লোমা বা বিএসসি সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীদের সামনে রয়েছে উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের হাতছানি:
১. সরকারি চাকরি (Government Jobs)
সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ: দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বিশেষায়িত ইনস্টিটিউটগুলোতে সরকারিভাবে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব, রেডিওলজি, ডেন্টাল, ফিজিওথেরাপি ইত্যাদি) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC)-এর মাধ্যমে বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে এসব নিয়োগ সম্পন্ন হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান: আইসিডিডিআর,বি (ICDDR,B), আইইডিসিআর (IEDCR) কিংবা জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের মতো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট বা টেকনোলজিস্ট হিসেবে কাজের দারুণ সুযোগ রয়েছে।
২. বেসরকারি খাত (Private Sector)
বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক: দেশের যেকোনো স্বনামধন্য বেসরকারি হসপিটাল নেটওয়ার্কে ফুল-টাইম টেকনোলজিস্ট হিসেবে আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি পাওয়া যায়।
ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ল্যাব: স্কয়ার, ল্যাবএইড, পপুলার, ইবনে সিনা কিংবা ইউনিকোড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মতো বড় বড় ল্যাব নেটওয়ার্কে দক্ষ টেকনোলজিস্টদের চাহিদা সবসময়ই শীর্ষে থাকে।
৩. উচ্চশিক্ষা ও শিক্ষকতা (Higher Education & Teaching)
বিএসসি ও এমএসসি (MSc): ডিপ্লোমা শেষ করার পর বিএসসি ইন হেলথ টেকনোলজি কিংবা পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য পাবলিক বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউটে মাস্টার্স করার সুযোগ রয়েছে।
একাডেমিক ক্যারিয়ার: বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি আইএইচটি (IHT) বা ম্যাটস প্রতিষ্ঠানে ইনস্ট্রাক্টর বা শিক্ষক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে।
৪. আন্তর্জাতিক ও প্রবাস জীবন (Global Career)
বর্তমান বিশ্বে দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা কিংবা কানাডার মতো দেশগুলোতে নথিপত্র ও রিকগনিশন (যেমন- লাইসেন্সিং পরীক্ষা) সম্পন্ন করে প্রফেশনাল জব সেক্টরে পা জমানো সম্ভব।
📝 Raj Talukder
~বি.এস.সি ইন ল্যাবটারি মেডিসিন(Dhaka IHT)
~সেশন ২৫ -২৬