27/02/2026
ববি সাহেব হতাশ, কেন আমরা বাহিরে পড়তে আসি। আচ্ছা ধরেন আসলাম না, তাহলে আমি কি কি করতে পারতাম বলেন। আমি ২০১৮ তে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে পাস করি। তো আমরা ক্লাসমেটরা বেশিরভাগই হয় স্টিল ইন্ডাস্ট্রি, পাওয়ারপ্ল্যান্ট বা ফার্মাসিউটিক্যালস এসবে জয়েন করি। মোটামুটি কয়েকদিনের মাথায় বুঝি, ওইখানে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং এর ইন্টেলেকচুয়াল এপ্লাই করার খুব একটা স্কোপ নাই। হাতে গোনা কয়েকটা ব্যতিক্রম বাদে, মোটামুটি একটা টেম্পলেট এর মধ্যেই আমাদের সব কাজ করতে হয়। এখন ধরেন আমরা এডভান্সড কিছু করতে বা শিখতে চাই, তাহলে নেক্সট স্টেপ হল MS/PhD করতে দেশের বাহিরে আসা। প্রতিমন্ত্রী সাহেব যেহেতু দেশের বাহিরেই পড়েছেন, উনার জানার কথা ভাল মানের গবেষনা, পাবলিকেশন, কনফারেন্স, পেটেন্ট এসব না করলে বাহিরের বিশ্ববিদ্যালয় MS/PhD ডিগ্রি দিবে না।
এখন বলেন, এই MS/PhD করার পর, আমার দেশে কি কি কাজ করার আছে। মুখস্থ বলতে পারেন, দেশে শিক্ষকতা করাইতে। কিন্তু আপনি কয়জন কে টিচার পজিশন দিতে পারবেন? আর সবাই শিক্ষকই বা কেন হতে চাইবে? কেউ যদি হাই স্কিল নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতেই আবার ব্যাক করতে চায়, তার জন্য কি বর্তমান সিস্টেমে কোন ব্যবস্থা আছে, লাইক সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার বা R&D ইঞ্জিনিয়ার টাইপ। নাহ নাই, আসলেই নাই! তাকে আবারো এসে নবম গ্রেডে সেই ট্রেডিশনাল ইঞ্জিনিয়ার পজিশনে বিএসসির এক্সাম দিয়েই ঢোকা লাগবে। কিন্তু ধরেন আমি ঢুকলাম ৯ম গ্রেডেই, এখন আমার বস যদি হয় নিচের গ্রেড থেকে প্রোমোশন পাওয়া কোন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার, আপনি বুঝতেছেন, কনফ্লিক্টটা কোন লেভেলের হবে। ডিপ্লোমা বস ও কমফর্টেবল ফিল করবে না, PhD ইঞ্জিনিয়ার ও সাফোকেশনে পড়বে। তার উপর আপনার কোন ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরেই এই PhD এক্সপার্টিজ এপ্লাইয়ের স্কোপ থাকবে না।
আমি বর্তমানে নাসার সাথে একটা প্রজেক্টে কাজ করছি, যেখানে আমাদের টার্গেট হল, আমরা ডিপ স্পেসে হিউমেন হিস্ট্রিতে ফার্স্ট টাইম কোন মানুষ ছাড়াই, অটোমেটেড ভাবে কম্পোজিট টিউব ম্যনুফ্যাকচার করব। যাতে ভবিষ্যতে স্পেসে যত স্ট্রাকচার বানানো হবে, সেটা পৃথিবীতে না বানিয়ে স্পেসেই তৈরী করা সম্ভব হয়। তার আগে গত বছর মেটা যে EMG wristband লঞ্চ করেছে, আমি সেই টিমের রিসার্চার ছিলাম। এখন আপনি বলেন, আমি যদি দেশে ব্যাক করতে চাই, কোন পজিশনে আমি একটা চাকরি পেতে পারি। মোটাদাগে এবার বাহিরের বাকি সবার এক্সপার্টিজের কথা চিন্তা করেন। বিশ্বাস করেন, এদের একটা বিশাল অংশের কাছে দেশের পেস্কেলটা মেইন কন্সার্ন না। আমাদেরকে কাজ করার স্কোপটা দেন, বলেন, যাও তোমাকে ৫ বছরের অথোরিটি দিলাম, একটা মেইড ইন বাংলাদেশ এর এয়ারপ্লেন মডেল ডিজাইন কর। এই স্কোপ আর অথরিটি দেন, তারপর বলিয়েন কত পার্সেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ব্যাক করে। পাশের দেশগুলোকেই দেখেন, তারা কিভাবে এই রিভার্স ব্রেনড্রেইন করছে।
একদিকে বলেন, এমন শিক্ষা ব্যবস্থা দিব,বাহির থেকে মানুষ পড়তে আসবে; আবার ওই দিকে বলেন BCKRUET এর গ্র্যাজুয়েটদের আপনার দরকার নাই। মানে তাহলে কি, বিদেশ থেকে ডিপ্লোমা করার জন্য মানুষ বাংলাদেশে আসবে! প্রতিমন্ত্রী সাহেবের একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড বেশ চমৎকার, হায়ার এডুকেশনে আমাদের ইন্সপায়ারিং ফিগার এমনিতেও কম। উনি আমাদের এই জেনজি জেনারেশনের জন্য একটা আইডল হতে পারতেন। কিন্তু এসব পপুলিস্ট কথা বলে, উনি যে উনার কথার ওয়েট হারাচ্ছেন, এটা উনাকে কে বুঝাবে। যাই হোক, সবই পলিটিক্সের খেলা। সাধেই লোকে বলেনা, অন্ধের দেশে আয়না বেচতে যাওয়াটাই মূর্খতা।
- জহিরুদ্দিন পিয়াল
ইউনিভার্সিটি ওব ইলিনয়স আরবানা
এক্স- চুয়েট
[HSC 23/24 ব্যাচ থেকে আমাদের writing টিমে জয়েন করতে আবেদন করো এই লিংকে https://bit.ly/CampsCr ]