05/09/2026
প্রিপেইড বিদ্যুত যারা ব্যবহার করছে, তাদের কারো কাছ থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচের কোন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছেনা। অভিযোগ আসতেছে যারা পোষ্টপেইড মিটার ব্যবহার করছে তাদের কাছ থেকে।
আজ থেকে বছর দশেক আগে ২০১৭ এর দিকে আমরা বাসায় পোষ্ট পেইড মিটার ব্যবহার করতাম। তো একদিন দেখা গেলো আমাদের ২০হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল আসছে।
আমরা গেলাম বিদ্যুত অফিসে, গিয়ে অভিযোগ জানানোর পর অফিস জানালো তদন্ত হচ্ছে, আপনারা পরের সাপ্তাহে আসুন। পরের সপ্তাহে গেলে দেখা গেলো সত্যিই আমাদের বিদ্যুৎ বিল পাওনা ২০হাজার সামথিং।
এবার জিজ্ঞেস করলাম বিদ্যুৎ বিল ২০হাজার প্লাস কেন আসলো।
মূলত এই দায় মিটার রিডারদের। পিডিবি বা পল্লীবিদ্যুতের মিটার রিডাররা প্রতিমাসে মিটার চ্যাক করতে আসেনা। তারা অফিসে বসেই পোষ্ট পেইড গ্রাহকদের একটা আনুমানিক বিল ধরিয়ে দেয়। গ্রাহক সে বিদ্যুত বিল পেয়ে সেটা পরিশোধ করে। তাদের মিটারে কত বিল এসেছে সেটাও গ্রাহকরা ক্রস চেক করেনা।
আমাদের বাসায় ২০১৭ সালের দিকে প্রতি মাসে বিল আসতো ৯০০-১২০০ এর মধ্যে। আমরা সেটা পরিশোধ করি। কিন্তু আমাদের মিটারে বিল উঠতো গড়ে ১৯০০-২২০০টাকা কোন মাসে তারও বেশী। তো প্রতি মাসে ১২০০ টাকা।পরিশোধের কারণে মাসপ্রতি ৭০০-৮০০টাকা ব্যালেন্স থেকে যেতো। জুন -জুলাই যেহেতু সরকারি প্রতিষ্ঠাণগুলোর অর্থবছর শুরু ও শেষ হয়। এই মাসটাতেই এসে পিডিবির মিটার রিডাররা মিটার চেক করতে আসে।
মিটার চেক করে দেখা যায় প্রায় প্রতিটি পরিবারেরই গড়ে প্রতিমাসে ৯০০-১২০০টাকা ব্যালেন্স রয়ে গেছে। তাতে দেখা গেলো বছর শেষে একটা বিশাল এমাউন্ট একসাথে বিল আকারে চলে আসছে। মিটার রিডারদের এই অবহেলা ও কার্যচুরি অপরাধের শামিল। কিন্তু তারা বছরের পর বছর যাবত এই অপরাধ করে যাচ্ছে।
প্রতিমাসে মিটার রিডিং অনুযায়ী বিল আসলে এই একসাথে অনেক এমাউন্টের বিল আসতোনা। এ বছর অগাস্টে যাদের একসাথে অনেক পরিমাণ বিল আসছে, যদি ফিজিকালী চ্যাক করা হয় ৯০% ক্ষেত্রে দেখা যাবে এটা মূলত পুরো এক বছরের মোট খরচ কৃত বিদ্যুতের এডজাস্টমেন্ট। কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায়, মিটার রিডাররা দুই বছর এমনকী তিন বছরও বিদ্যুতের মিটার স্বশরীরে চেক না করে বসে ছিল। ফলে তিন বছরের ব্যালেন্স বিল যখন একসাথে গ্রাহকের কাছে আসে। তকগন গ্রাহকের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে।
- তাইফুর রহমান তাইফ