30/08/2024
ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতির আদৌ দরকার আছে কি ?
গত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল | সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী কতৃক পরিচালিত কোটাবিরোধী আন্দোলনের এক পর্যায়ে সরকার ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে সভা করে একপ্রকার দায়িত্ব দেয়, এই আন্দোলনকে দমানোর জন্য, যেটা আমরা সবাই টিভিতে দেখি | কিন্তু ছাত্রলীগ কি এই আন্দোলন থামাতে পেরেছিলো, নাকি তাদের অপকর্মের কারণে আন্দোলন আরো বেগবান হয়েছিলো ?
আমরা যদি বিগত ১৫ বছরের লেজুড়বৃত্তিক এই ছাত্র রাজনীতি একটু পর্যালোচনা করি, কেউ কি আমাকে বলতে পারবেন, ছাত্রলীগ সাধারণ ছাত্রদের পক্ষে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান উন্নয়নের জন্য বা তাদের আবাসন, গবেষণা, শিক্ষা বাজেট বৃদ্ধি, এজাতীয় কোন বিষয়ে কখনো সরকারের কাছে কোন দাবি করেছে ? একই কথা প্রযোজ্য বিনপি আমলে রাজত্ব করা ছাত্রদলের জন্যও |
তাহলে লেজুড়বৃত্তিক এই ছাত্র সংগঠনগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলে কি করে? একটু পর্যালোচনা করলেই দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক হেনো অপকর্ম নেই, যাতে এই ছাত্র সংগঠনগুলো জড়িত নয় | মাদক হতে শুরু করে, হলে সিট্ বাণিজ্য বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত কনস্ট্রাকশন কাজ হতে চাঁদা তুলা এবং সেন্ট্রাল নেতাকর্মী পর্যন্ত এইসব চাঁদাবাজির ভাগ পৌঁছে দেয়া তাদের অপকর্মগুলোর মধ্যে অন্যতম | বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পর্যায়ে কর্মচারী নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য, এমনকি শিক্ষক নিয়োগেও তাদের অপকর্মের কথা শোনা যায় | জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া শ্লীলতাহানি কান্ডের কাহিনী তো পুরো দেশবাশীরই জানা | তবে আশার কথা হলো, এতসব অপকর্মে লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতি করা গুটিকয়েক ছাত্রই জড়িত, অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীই সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যানারেই থাকে এবং আদৌ কোন অপকর্মের সাথে জড়িত নয়, যেটা আমরা এবারের ছাত্র আন্দোলন থেকে সহজেই অনুমান করতে পারি |
তাহলে লেজুড়বৃত্তিক এই ছাত্র রাজনীতির আদৌ কোন দরকার আছে কি? দেশের প্রয়োজনে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরাই তাদের বিবেকের তাড়নায় রাস্তায় নেমে আসবে এবং আন্দোলনে শরিক হবে | সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা কি করতে পারে, সেটা তাঁরা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, যা একেবারে অসম্ভবকে সম্ভব করা |
এবার আসা যাক লেজুড়বৃত্তিক শিক্ষক রাজনীতির কথায়, শিক্ষকরা খুব বেশি অপকর্মে জড়িত না থাকলেও, একাডেমিক মান উন্নয়ন, বা গবেষণার জন্য কখোনই তাদের সোচ্চার হতে দেখা যায় নি | যখন যে দল সরকারে থাকে, সেই দলের সমর্থক শিক্ষকরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সত্ত্বেও, তাদেরকে কখনই সরকারের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কোন দাবি দাওয়া করতে দেখা যায় না | বরং লেজুড়বৃত্তিক শিক্ষক রাজনীতিতে জড়িত অধিকাংশ শিক্ষকই বিভিন্ন পদ পদবীর পিছনেই দৌড়ান এবং সামান্য একটা পদ পদবি পেলেই খুশিতে গদগদ থাকেন |
৫৩ বছরতো লেজুড়বৃত্তিক এই শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতি দেখলাম, মৌলিক কোন পরিবর্তন তো হয়ইনি, বরং প্রকৃত শিক্ষা হতে যোজন যোজন দূরে চলে গিয়েছি | নতুন এই বাংলাদেশে সংস্কারের আশায় রইলাম |
অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম
বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়