22/08/2020
.0
গল্পের নাম:বিশৃঙ্খল জীবন
লেখক:ইনজামামুল হক
তোরা যে ভাবে লেখা-লেখি শুরু করছিচ এটা দেখে নিজেকে আর সামলাতে পারলাম না ,
তাহলে শুরু করা যাক-
আসলে আমি খুব ভাগ্যবান কারন আল্লাহ্ আমাকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মা-বাবা দিয়েছে,
ছোট বেলা থেকেই আমি অন্য দের থেকে ব্যতিক্রম ছিলাম,পড়া শুনা ও করতে চাইতাম না!
কিন্তু আমাকে পড়তে হতো , ক্লাস 1এ ভর্তির আগেই বিভিন্ন ধরনের বই আমার মাথার উপর
চাপিয়ে দেওয়া হতো , , আমার মা এখন বলে ,আমার নাকি চোখ দিয়ে পানি করতো আর মুখ দিয়ে পড়া লাগত, না পড়লেই মার!যাই হোক এই চাপে চাপে প্রাইমারি টা পর করলাম ,তার পর
মাধ্যমিকের যাত্রা শুরু ,, স্কুলে যেতেই একটা মেয়েকে ভালো লাগতে শুরু করলো এর আগে যে
মেয়ে টাকে ভালো লাগতো তাকে আর মনে পড়তো না!! ঐ মেয়ের সাথে খুব ভালো একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে ,অন্য দিকে মা -বাবা এর দেওয়া চাপের পরিমান কম ছিল ,তাই পড়া শুনা
ও তার মতো ছিলো , 6-7 যখন উঠলাম তখন প্রথম সারিতে ছিলাম তবে রেজাল্ট আমার ও আমার পরিবারের কাছে খুব কষ্টের ছিল , কিছু দিন মন খারাপ ছিলো , নতুন যে জুনিয়ার
আসলে তাদের মধ্য একটা মেয়েকে ভালো লাগায় মন খারাপ আর আগের মেয়ে টাকে ও ভুলে গেলাম।। চলছিলো ভালোই!! ক্লাস 7 এর ফলাফল খুব খারাপ হলো ,,মা অনেক মারছিলো !!
ঐ মার এর কথা এখনো মনে পড়লে এখনো ভয় লাগে । কিছু দিন পর সব ঠিক হলো , আমি চলছিলাম আমার গতিতে , আবার নতুন মেয়ে সেই আড্ডা!!!চলে এলো jsc,3-4 টা স্কুলের পরীক্ষা একটা স্কুলে হতো !!পরীক্ষা দিতে গিয়ে ও এক মেয়ের চক্করে পড়লাম , এমন ও হয়েছে পরীক্ষার হলে বসে ভাবতাম কী করে পাটানো যাই।। এই করতে গিয়ে পরীক্ষা চরম খারাপ হলো, , যাই পরীক্ষা শেষে মামা বাড়ি বেড়াতে গেলাম , ঐ খানে একটা মেয়ের সাথে
সম্পর্কে জড়িয়ে যাই!!আচ্ছা শুধু স্কুল-কলেজ এর বিষয় গুলো তুলে ধরি বাইরের টা বাদ ই থাক!!! Jsc এর রেজাল্ট দিলো , আমি পেলাম 3.39!!!খুব কন্না করেছিলাম , সব থেকে বেশি খারাপ লাগছিলো আমার জন্য আমার মায়ের চোখে পানি দেখে , তখন নিজেকে অপরাধী লাগছিলো, আমার বাবা আমার সাথে 1 মাস কথা বলেছিলো না , আমি নিজের সাথে কথা বলতে খুব ভালো বাসি , নিজেকে সেদিন বলেছিলাম বাবা মার চাওয়া টা পূরণ করতে হবে ,তাই যে ভাবে হোক ,নিজেকে অনেক ভারি ভারি কথা ও বলেছিলাম, ।।। স্কুল পরিবর্তনকরলাম, নতুন বন্ধু নতুন মেয়ে,সব কিছু মিলিয়ে jsc এর কষ্ট টা ভুলে গেলাম , সব কিছু আবার শুরু হলো , এল মধ্যে 9 এ আমি সব গুলো বিষয়ে কখনো পস করিনি ,যাই হোক ফেল করে 10 উঠলাম!!আড্ডাবাজি, মেয়েবাজি সব ঠিক ই ছিলো,, ক্লাস 10 এর 3 মাস পার হবার পর পরীক্ষা হলো ,এখানে ও এক বিষয়ে ফেল । স্কুল থেকে বললো স্যার-ম্যামরা বাসায়
গিয়ে অভিভাবকের কাছে ফলাফল দিবে , এবার তো মহা বিপদ,আমার বাসায় স্যারেরা গেলে আমার মায়ের অবস্থায় দেখে সেই jscএর কথা মনেপড়ে গেল, নিজের সাথে বলা কথা গুলো মনে পড়ে গেলো , নিজেকে পরিবর্তন করতে শুরু করলাম,স্কুল আর ব্যাচ বাদে বাসা থেকে বের হতাম না , রিলেশন আড্ডা সব বাদ দিলাম, শুধু স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা টা ছিলো, 9-10 পড়া কালিন এমন কোন অপরাধ /ফাজলামি নাই যেটা আমি করিনি , সব করছি ।সব বাদ দেওয়া পর শুধু স্কুলে গিয়ে একটু ফাজলামি করতাম ,পড়া শোনা শুরু করলাম। খুব কষ্ট হচ্ছিল, কারন ক্লাস 6-9 পর্যন্ত বড়ো একটা গ্যাপ রয়েছে , তাপ পর ও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম , এর মাঝে ষ্টাইল করে চুল কাটার জন্য আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়, আমিও
রাগ করে ঢাকা চলে যেতে চেয়েছিলাম,টিকিট করা ও শেষ 30মিনিট পর বাস।এর মধ্যে সংবাদ পেয়ে আমাকে নিয়ে আসে , আবার পড়া শুনা শুরু করলাম, , আমার মাথায় শুধু একটা কথাই ঘুরতো ,সেটা হলো রেজাল্ট যা ই হোন না কেমন ঐ রেজাল্ট যেন আমার মা বাবা কে খুশি করতে পারে ,পরীক্ষা দিলাম , ভালোই হলো পরীক্ষা। একটা বিষয় কী , আমি যেটা করতে চাই সেটা আমি করবোই , হয় এখন না হয় কিছু দিন পর তবে আমি করবো, ঐ যে ঢাকা যেতে চেয়েছিলাম, ঢাকা আমার যেতে হবে , আর পরীক্ষা শেষ ফ্রি সময়, যেতে আমাকে হবেই,ঐ ইচ্ছা টা পূরণ করার যথার্থ সময়, বাবা মা অনেক বারন করলো , তার পর ও গেলাম , আমার সম বয়সি এলাকার একটা চাচা একটা ব্যাটারি ফ্যাক্টরি তে চাকুরি করতো, ওকে বলে সেখানে গেলাম, 7000টাকা বেতনে চাকুরি নিলাম,অনেক কষ্ট হতো,করানো আমি কখনো কোন কাজ করিনি ,অভাব জিনিস টা কী কখনো আমি বুঝতে পারিনি,আর সেই আমাকে সকল 9টা থেকে সন্ধ্যা 7টা পর্যন্ত কজ করতে হয়। ভাবছিলাম চলে আসবো , তবে আসিনি কারন , কোন কিছু করতে গিয়ে পিছু হেঁটে চলে আসা এটা আমি মেনে নিতে পারিনি , বাড়িতে ফোন দিলে সবাই কন্না করে বলে তোর কী লাগবে বল ,চাকরি কেন করতে হবে, তবুও শুধু নিজের কাছে হেরে যাব না বলেই 1 মাস 17 দিন চাকুরি করলাম। এর মধ্যে ssc এর রেজাল্ট বের হলো , রেজাল্ট এ আমার মা-বাবা খুশি ছিলো তো আমি ও খুশি । খুলনার প্রথম সারির একটা কলেজে (খুলনা পাবলিক কলেজ)ভর্তি হলাম, আবার শুরু হলো সেই আডাবাজি আর মেয়ে বাজি ,, তবে পড়াশুনা করতাম যে টুকু না করলে নয়!!!আমার কলেজ লাইফের যতো গুলো মেয়ের সাথে যোগাযোগ করার মাধ্যম পেয়েছি তাদের সাথে রিলেশন করছি , বাড়িওয়ালার মেয়ে থেকে শুরু করে বাদ পড়েনি কেউ!!! এর মধ্যে হালকা পাতলা মাসতানি ও শুরু করেছি, বন্ধুর সংখ্যা খুব বেশিছিল , আডাবাজির কোন লিমিট ছিলো না , এই করতে করতে HSC এর নির্বাচনী পরীক্ষা চলে আসলো, ফলাফল যা হল কোন ভাবে চলে, তখন আবার নিজের সাথে একটু কথা বললাম, নিজেকে বললাম প্রথমত গ্রাম থেকে আসা , সবাই ভাবছে আমি ভালো কিছু করবো , এদিকে আমার বাবা মা আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন দেখছে , আর আমার যে অবস্থা তা দিয়ে তাদের খুশি করতে পারবো না , ঐ দিন ই আবার ও সব বাদ দিলাম !!ঐ সময়ে hsc পরীক্ষার দিন পর্যন্ত পড়ার রুটিন করলাম , আড্ডা রিলেশন সব বাদ দিলাম, সিম পরিবর্তন করলাম , আগে 3 টা ব্যাচ ছিলো , সাথে আরো 3 টা নিলাম ।6 টা ব্যাচ +বাসায় একজন স্যার । নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করছিলাম ,পরীক্ষা খুব ভালোই দিয়েছিলাম।
পরে কোচিং এ ভর্তি হলাম , রোজার মধ্যে কোচিং এ ক্লাস চলছিলো , আর আমি ভাবলাম একটু আডাবাজি করি ঈদের পর পড়বো,ঈদের পর কোচিং এ গিয়ে দেখলাম সবার 70% শেষ ,,, আমার মাথার আকাশ ভেঙ্গে পড়ল , কোচিং এর সাথে নিজেকে আর মেলাতে পারছিলাম না , কোচিং এ ওদের অবস্থা দেখে বাসায় এসে 2 ঘন্টা আমার মুড অফ থাকতো , অনেক বেশি চাপ নেওয়ার কারনে পড়তে পারতাম না ,এই করতে করতে কোচিং এ যাওয়া বন্ধ করে দিলাম , ইংরেজি বাদে অন্য কোন কিছুতে আমার সমস্যা ছিলো না , তাই ইংরেজি এর জন্য একটা স্যার নিলাম,।। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা চলে আসে আমি ঢাকার সিলেবাস আর আমার প্রস্তুতির সাথে মেলালে বুঝলাম হবে না , জগন্নাথ এর সিলেবাস অনুযায়ী পড়তে থাকলাম , ঢাকার পরীক্ষা প্রস্তুতি হিসাবে ভালোই হলো , জগন্নাথ এর পরীক্ষা শেষ করে ভাবলাম জগন্নাথে হয়ে যাবে ,যখন প্রশ্ন মেলালাম, তখন সব শেষ হয়ে গেল , এমন এমন ভুল করছি যা মেনে নেওয়া যাই না, আমি রাগে নিজের হাতে কামড় দিয়ে রক্ত বের করে ফেলেছিলাম।। ভর্তি পরীক্ষার সময় আমি পড়ে মনে শান্তি আনতে পারছিলাম না , পড়তে ই পারছিলাম না , হয়তো খুব বেশি চাপ নিয়েছিলাম এই জন্য, ঐ সময়ে দিন গুলো খুব কষ্টে কেটেছে , আল্লাহ্ যেন ঐ রকম কষ্টের দিন আমার জীবনে আর না আনে , চাপের পরিমান এতো ছিলো প্রাই মনে হতো এখন মনে হয় ষ্টোক করবো।এই ভাবে জাহাঙ্গীরনগরের পরীক্ষা ও শেষ হলো, , অনেক দিন পর গ্রামে গেলাম , ও ভালো কথা hsc রেজাল্ট এর ব্যপারে তো কিছু বলা হলো না। আমার বিশ্বাস ছিলো A+ আসবে তবে ভাগ্য সহায় ছিলো না , তাই একটু জন্য মিচ হলো , ভাগ্যের কথা এই জন্য ই বলছি কারন আমি বাংলায়া 30টি টিকে 30 টি ই হয়েছিল তবে রিটেনে পেলাম মাত্র 38 যেটা আমার আছে একটু অন্য রকম লাগছে ,যাই হোক মা-বাবা খুশি ছিলো না তবে কষ্ট পাইনি , তাই আমি ও কষ্ট পাইনি , । ঐ যে গ্রামে গেলাম , এক জন আমার ভর্তি পরীক্ষার খোঁজ নিচ্ছিল , আমার পরীক্ষা গুলো কথা শুনে সে একটা কথা বলে ছিলো যেটা শুনে 1 মিনিট আমার শরীর ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিলো,আমি ঐ সময়ে খুলনা চলে আসি , আসার পথে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যতো গুলো বই বের হয় সব গুলো কিনি , মোট 5 টা বই কিনি , বাসায় গিয়ে ঐ অবস্থায় আবার রুটিন করি , আবার নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করি ,
ভালোই পরীক্ষা দেই,(অনেক বড় করে ফেলছি ছোচ করি )মেধা তালিকায় নাম আসে ,যেদিন রাতে রেজাল্ট দিয়েছিল ঐ দিন রাত 8 টায় আমি কুষ্টিয়া থেকে খুলনা পৌছায়,খুব ক্লান্ত তাই খাবার অর্ডার করে খেয়ে 9 টার ভেতরে ঘুমিয়ে পড়ি,মনে হয় 5 বছর পর ঐ দিন এতো সকলে ঘুমিয়েছি , তাড়াতাড়ি ঘামানোর জন্য ফজরের অগে ঘুম ভেঙ্গে যায়, রীতিমত ফোন হতে নিতেই দেখি অনেক গুলো বন্ধু ফোন করেছে , ভাবলাম কিছু একটা হয়েছে , সবার ফোন দেখে খুব টেনশন হচ্ছিল তবে ঐ টাইমে তো আর কাউকে কল ব্যাক করা যাই না তাই ভাবলাম ডাঁটা টা অনেক করি দেখি কিছু জানতে পারি কী না , ডাঁটা অনেক করতে ই দেখি একটা বন্ধু রাবি এর লোগ দিয়ে পোস্ট করছে শ্বপ্নে ছোয়া হলো না , তখন বুঝলাম কী হয়েছে আমার শরীর কাঁপছে বেড থেকে নেমে টেবিলে ফাইল আনতে গিয়ে 3 বার পড়ে গিয়েছি ,এতো ই নারভাচ ছিলাম কিছুই করতে পারছিলাম না , খুব কষ্ট করে রোল টা টাইপ করে সাবমিট করলাম ,ঐ সময়ে সার্ভারে লোড কম থাকায় সাথে সাথে চলে আসে , আমি নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না , জুম করে করে বার বার দেখছিলাম এটা আমার রোল তো ? ঐ সময়ের অনুভূতি টা আসলে কোন ভাবে প্রকাশ করা যাই না ,, আবার ও বাবা মা কে খুশি করতে পারলাম , এটাই শান্তি। আসলে আমার মা-বাবার জন্য ই আমি আজ এখানে ।।। এখনো আমার কোন কাজে যদি আমার বাবা মা খুশি তো আমি খুশি সে কাজ টা যত কম মূল্যাবান হোক না কেন , আর কোন কাজে আমার মা বাবা খুশি না হলে আমি খুশি না ঐ টা যতো বড় হোক না কেন ,,,। সবাই তার জীবনের লক্ষ্য নিজে ঠিক করে , আর আমার জীবনের লক্ষ্য আমার বাবা ঠিক করে , আমার পথ আমার বাবা দেখায় , আমি শুধু বাবার স্বপ্নকেই পূরণ করে চলতে চাই , আর নিজে শ্বপ্ন দেখতে চাই না কারন আমার বাবার থেকে ভালো শ্বপ্ন আমি দেখতে পারবো পারবো না!!!!