09/02/2014
সান্ধ্য
কোর্সবিরোধী আন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
বন্ধ হয়ে গেলেও তার মধ্যেই চলছে সান্ধ্য
কোর্সের ক্লাস।
অনির্দিষ্টকালের ছুটির মধ্যে বাণিজ্য অনুষদের
সান্ধ্যকালীন এমবিএ-এর ক্লাস চলার
পাশাপাশি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে সান্ধ্য
কোর্সের ভর্তি কার্যক্রমও চলছে।
এমবিএ ক্লাস চালু রাখার বিষয়ে বাণিজ্য অনুষদের
ডিন অধ্যাপক আমজাদ হোসেন বিডিনিউজ
টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যেহেতু
তারা (শিক্ষার্থী) অর্থ দিয়েছে, তাই তাদের
তো আর ক্ষতিতে রাখা যায় না।”
এই বিষয়টি নিয়েই সান্ধ্য কোর্সের
বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের
শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার
‘বাণিজ্যিকীকরণ’ হচ্ছে।
বাণিজ্যিক অনুষদে এমবিএসহ
চারটি বিভাগে সান্ধ্যকালীন কোর্স চালু করার পর
সম্প্রতি সামাজিক বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন
অনুষদে আরো ১০টি বিভাগে তা চালুর উদ্যোগ
নেয়া হলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে, যার
সঙ্গে তাদের বর্ধিত ফি বাতিলের দাবিও ছিল।
আন্দোলনের মুখে বর্ধিত ফি প্রত্যাহার করা হলেও
সান্ধ্য কোর্স চালু রাখার বিষয়ে অটল অবস্থান
নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এর প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা ধর্মঘট
চালিয়ে গেলে গত ২ ফেব্রুয়ারি তাদের ওপর চড়াও
হয় পুলিশ ও ছাত্রলীগ। এতে উত্তেজনার
মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস কার্যক্রম
অনির্দিষ্টকাল বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল
ছাড়তে বলা হয়।
এরপর গত এক সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস-
পরীক্ষা সব বন্ধ থাকলেও সরেজমিন
ঘুরে দেখা যায়, বাণিজ্য অনুষদের অধীনে হিসাব
বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের সান্ধ্য
কোর্সের চারটি সেমিস্টারের পরীক্ষা চলছে।
ওই বিভাগের জানুয়ারি-জুন সেমিস্টারের নতুন
বর্ষের (১২তম ব্যাচের) ভর্তি কার্যক্রমও শুরু
হচ্ছে।
বিভাগের সহকারী নিবন্ধক আবু সামা সরকার
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নতুন
ব্যাচের মৌখিক পরীক্ষা সোমবার সকাল
১০টা থেকে শুরু হবে। মৌখিক পরীক্ষায়
যারা টিকবে তারা সেদিনই ভর্তি হতে পারবেন। ওই
ব্যাচের উদ্ভোধনী ক্লাস শুরু হবে আগামী ১৩
ফেব্রুয়ারি।
ফাইনান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে নতুন
ব্যাচে ভর্তির পর গত ৩১ জানুয়ারি ক্লাস শুরু
হয়েছিল। বন্ধের মধ্যে প্রতি শুক্র ও শনিবার
বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ওই
ক্লাসও নিয়মিত চলছে বলে ওই বিভাগের
সহকারী নিবন্ধক আব্দুল মান্নান বিডিনিউজ
টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান।
এছাড়াও আইন অনুষদের সান্ধ্যকালীন দুই বছর
মেয়াদি এলএলএম কোর্সের ভর্তি কার্যক্রম
চলছে। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত
ভর্তি কার্যক্রম চলবে বলে জানান ওই অনুষদের
সহকারী নিবন্ধক আখতারুজ্জামান।
বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভ্ন্নি অনুষদে নিয়মিত ভর্তিতে ৩
থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা লাগলেও সান্ধ্য
কোর্সে ভর্তি হতে টিউশন ফি নেয়া হয় ১ লাখ ৫
হাজার টাকা। সেইসঙ্গে ভর্তি ফিসহ অন্যান্য ফিও
যোগ হয়।
সান্ধ্য কোর্সের সনদ দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট বিভাগ
থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড.
আনোয়ার হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
ডটকমকে বলেন, তার দপ্তর থেকে এই সনদ
দেয়া হয় না।
নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে সান্ধ্য কোর্সের
কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়
প্রশাসন বেসরকারিকরণের
দিকে এগুচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের
জনসংখ্যা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান।
“এটা কি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়,
নাকি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, তা নিয়ে এখন
আমাদের সন্দেহ। যেখানে ২৯ হাজার শিক্ষার্থীর
ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ, সেখানে সান্ধ্যকোর্সের
পরীক্ষা-ক্লাস কিভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে,”
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন এই
শিক্ষার্থী।
সান্ধ্যকোর্স বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের
সমন্বয়ক ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের
সভাপতি আয়তুল্লাহ খোমেনী বিডিনিউজ
টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তারা (সান্ধ্য
কোর্সের শিক্ষার্থীঅরা) কাঁচা পয়সা দিচ্ছে আর
আমরা তা দিতে পারি না, এটাই কি কারণ?
প্রশাসনের এই আচরণ সান্ধ্যকোর্স বাতিলের
দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরল বলেও মন্তব্য
করেন তিনি।
RONY1188.jpg
“এটা আবার প্রমাণিত হল
যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বাণিজ্যকীকরণের
পথে হাঁটছেন।”
ছুটির মধ্যে সান্ধ্য কোর্স চালু রাখার বিষয়ে হিসাব
বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের
সভাপতি অধ্যাপক সুভাষ চন্দ্র শীল বিডিনিউজ
টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা নিয়মিত
কোনো কোর্স নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক
কার্যক্রমের বাহিরে, তাই ক্লাস-
পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে।”
বন্ধ রাখলে সান্ধ্য কোর্সের শিক্ষার্থীরা সেশস
জটে পড়বে বলেও কারণ দেখান তিনি। নিয়মিত
শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকলে তারাও
তো সেশন জটে পড়বে- এই প্রশ্ন করা হলে তার
কোনো উত্তর মেলেনি এই অধ্যাপকের কাছে।
অধ্যাপক সুভাষ শীল পাল্টা যুক্তি দেখান-
“সান্ধ্যকোর্সের
শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়কে তাদের মোট টিউশনির
শতকরা ২৫ ভাগ প্রদান করে আসছে, কিন্তু
তারা তো বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার, বাস ব্যবহার
করে না। ক্লাস-
পরীক্ষাটা আমরা চালিয়ে নিচ্ছি মাত্র।”
বাণিজ্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক আমজাদ হোসেন
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,
“আমরা সান্ধ্য কোর্সটিকে এগিয়ে নিচ্ছি মাত্র।”
সান্ধ্য কোর্স চালু থাকার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের
উপাচার্য অধ্যাপক মিজানউদ্দিন বিডিনিউজ
টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা তো চাই
বিশ্ববিদ্যালয়ে খোলা থাকুক, সকলের ক্লাস চলুক।
“কিন্তু শিক্ষার্থীরাই যদি আন্দোলন করে শিক্ষার
পরিবেশ বিঘ্নিত করতে চায়,
আমরা কী করতে পারি?”
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল বন্ধ থাকলে নিয়মিত
ক্লাস-পরীক্ষা নেয়া যায় না বলে উল্লেখ করেন
তিনি।
সান্ধ্য কোর্সের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের
হলে কোনো সিট বরাদ্দ পান না।