27/07/2023
প্রসঙ্গঃ আশুরার ছিয়াম
১। আশুরার ছিয়ামের ফযিলতঃ
আবূ কাতাদাহ্ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের শেষাংশে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- ”আশুরার সওম সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছরের গুনাহসমূহের কাফফারাহ হয়ে যাবে।” (সহিহ মুসলিম আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১১৬২)
২। আশুরার ছিয়াম রাখার কারণ/উদ্দেশ্যঃ
ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদ্বীনায় আগমন করে দেখতে পেলেন যে, ইয়াহুদীগণ ‘আশূরার দিনে সওম পালন করে। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ কি ব্যাপার? (তোমরা এ দিনে সওম পালন কর কেন?) তারা বলল, এ অতি উত্তম দিন, এ দিনে আল্লাহ তা‘আলা বনী ইসরাঈলকে তাদের শত্রুর কবল হতে নাজাত দান করেন, ফলে এ দিনে মূসা আলাইহিস সালাম সওম পালন করেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমাদের অপেক্ষা মূসার অধিক নিকটবর্তী, এরপর তিনি এ দিনে সওম পালন করেন এবং সওম পালনের নির্দেশ দেন। (সহিহ বুখারীঃ ২০০৪)
৩। কেন ২ দিন ছিয়াম রাখতে হবেঃ
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আশূরার দিন সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করেন এবং লোকদেরকে সিয়াম (রোজা/রোযা) পালনের নির্দেশ দেন, তখন সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়াহুদ এবং নাসারা এ দিনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে থাকে। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইনশাআল্লাহ আগামী বছর আমরা নবম তারিখেও সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করব। বর্ণনাকারী বলেন, এখনো আগামী বছর আসেনি, এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকাল হয়ে যায়। (সহিহ মুসলিম আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১১৩৪)
৪। সতর্কতাঃ
এর সাথে ইমাম হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহু বা কারবালার ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।