RUET-Admission Test Helpline

RUET-Admission Test Helpline Main purpose is to help the student who are going to appear in the admission test of RUET

যে 'অভ্র' কি বোর্ড এ টাইপ করে অনায়াসে বাংলা লিখছেন,আপনি কি জানেন এর জনক কে???
07/06/2019

যে 'অভ্র' কি বোর্ড এ টাইপ করে অনায়াসে বাংলা লিখছেন,আপনি কি জানেন এর জনক কে???

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পড়ছিলেন মেধাবী মেহেদী হাসান খান। কিন্তু শিক্ষকরা বলেছিলেন, এই ছেলে ডাক্ত...

29/05/2019

কি নিয়ে এত হতাশ আপনি?

চলেন একটা গল্প শুনাই!
কুয়েট সিএসই ২কে১৭ ব্যাচের ছাত্র সাজিদ মাহমুদ সময়। বাবা নেই ছেলেটার। কোনো ভাই বোন নেই। আম্মু মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত। ঠিক এই মূহুর্তে ছেলেটার সাথে মা'কে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মত কোনো আত্নীয় স্বজনও পাশে নাই। জাস্ট একদম একা একটা ছেলে মা'কে বাচানোর যুদ্ধে। আমি একটু আগে ওর সাথে ফোনে কথা বললাম। ওর কথা শুনে আমি জাস্ট স্তব্ধ হয়ে গেছি। এরকম চরম বিপর্যয়েও সে মা'কে বাচানোর যুদ্ধে একা যুদ্ধ করে যাচ্ছে। একটু বোকা টাইপের ছেলেটা। আমার মনে হয়না কেউ কখনও কল দিয়ে হলেও তার কোনো খোজ নিছে। র‍্যাগ দেওয়ার সময় আমরা যে ভ্রাতৃত্বের ডেফিনিশন দেই সেটা আমরা ভুলে গেছি কুয়েটিয়ান হিসেবে।

ছেলেটাকে মাত্র ৫০,০০০ টাকা দিছে নিজের ব্যাচের বন্ধুরা মিলে। আর কোনো টাকা কোথাও থেকে পায়নাই সে। এটা নিয়েই সে স্বপ্ন দেখতেছে।

আমরা ট্রাই থেকে গত ২ সপ্তাহ থেকে টাকা কালেকশন করতেছি বিভিন্ন মার্কেটের সামনে থেকে, বিভিন্ন ইফতার পার্টি থেকে। আসলে এভাবে খুব বেশি দূর আগানো যাচ্ছে না। অনেক টাকা দরকার।

আমি পার্সোনালি আজ প্রায় নিজের পরিচিত ২০০ জন সিনিয়রকে ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে নক করছি। খুবই হতাশাজনক হলেও সত্যি যে মাত্র ৬-৭ জন রেস্পন্স করছে। আর ৪-৫ জন বলছে দিবে।

আমার প্রশ্ন হচ্ছে এত ইউনিটি, এত ব্রাদারহুড দিয়ে কি করবেন আপনারা ভাই? ৫০-১০০ টাকা করে কন্ট্রিবিউট করে একটা ছোট ভাই'য়ের স্বপ্ন কে বাচায়ে রাখায় হেল্প করতে পারেন না - কিসের ব্রাদারহুড দেখান আপনারা? 🙂

১০০-২০০ করে টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নাই এরকম একটাও কুয়েটিয়ান নাই এই ক্যাম্পাসে। সবাই ১০০-২০০ করে দিলেও অন্তত ছেলেটার মা'কে বাচানোর স্বপ্ন আরও রঙিন হয়ে যেত।

আর আমাদের চোখের সামনেই যদি একটা এক্সিডেন্ট হয়ে যায়-এর দায় এড়াবেন কিভাবে? ক্যাম্পাসে ছেলেটাকে দেখলে সহানুভূতি দেখাবেন কোন মুখ নিয়ে? ব্রাদারহুড,ইউনিটির ডেফিনিশন পাল্টায়ে ফেলবেন?

চলেন আমরা আমাদের মা'কে বাচাই। ফিরে আসুক আমাদের মাঝে। মা'কে জড়িয়ে আবারও সময় বিজয়ের হাসি হাসুক। প্লিজ!

নয়তো চরম অপরাধহীনতায় ভুগবেন! আর ছেলেটাকে কল করে একটু খোজ খবর নিয়েন ভাই প্লিজ। অন্তত ও সাহস পাবে 🙂

- রাশেদের পোস্ট থেকে নেয়া৷

বিকাশ: 01784007443
রকেট: 017840074430
.. 🙏🏼🙂

16/05/2019

রমযান মাস
যা সাদকা করা হবে,কমপক্ষে ৭০ গুণের বেশি সাওয়াব লেখা হবে
যে যতটা পারেন
মানবিক বোধ থেকে হোক আর পূণ্যের আশায় হোক
এগিয়ে আসুন
আজ আপনি কাউকে সাহায্য করবেন
কাল আল্লাহ আপনাকে আপনার বিপদে সাহায্য করবেন ইনশাআল্লাহ

আসসালামু আলাইকুম

আমাদের মায়ের জন্য একটা মানবিক আবেদন।
আমি জানি না , সবার কাছে বিষয়টা কতটা স্পর্শকাতর মনে হবে, তারপরও আমি চেষ্টা করব, এই মেসেজটির মাধ্যমে যতটুকু তুলে ধরতে পারা যায়, তুলে ধরতে।

সাজিদ মাহমুদ সময়, কুয়েট সিএসই' ১৭। বেশ কয়েক বছর আগে তাঁর বাবা মারা যায়। ভাই-বোন কেউ নাই। মায়ের একমাত্র সম্বল। আর সেই সময়ের, এককথায় মা ছাড়া এই দুনিয়ায় একদম আপন বলতে আর কেউ নেই।।

তার মা আজ দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত। ব্লাড ক্যান্সার, একিউট । বাঁচা-মরা সম্পূর্ণটাই মহান আল্লাহর হাতে। চিকিৎসার মাধ্যমে শুধু দিন ক্ষণটাকেই বাড়ানো যেতে পারে। মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমত হলে , হয়ত আবার সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন সকলের মাঝে।

মা কি জিনিস , আমরা সকলেই বুঝি। যার মা নেই , তার কষ্ট বোঝা, যার মা আছে তার পক্ষে বোঝা খুবই দুষ্কর। তাই কেবল তাঁর ব্যাচমেট হয়ে বলছি না, আজ মানবিকতার পক্ষ হয়েই বলতে হচ্ছে, 'সময়' এর জন্য, আমাদের এই ভাইটির জন্য একটু এগিয়ে আসলে, এক সন্তানের মা, তাঁর সন্তানকে আরো কিছুদিন কোলে ঘুম পাড়াতে পারবে।

এতদিনের চিকিতসায় এখন অর্থের সংকটে সে। ঈদের আগে হসপিটাল চার্জ, ঔষুধ, মিলে প্রায় ২ লাখের উপর লাগবে। পরবর্তী ৩ মাসে একই চিকিৎসা চলবে। এ তিন মাসে আরো ৬-৭ লাখ টাকা লাগবে। এরপর টেস্টের সাপেক্ষে পরবর্তী সিধান্ত জানাবেন চিকিৎসকরা। এতো খরচ তাঁর পক্ষে সামলানো সম্ভব হচ্ছে না। সময় এর সাথে কথা বলার এক ফাঁকে কাঁদ কাঁদ অবস্থায় সময় বলেই ফেলে, "এরপর আর হাসপাতালে রেখে আমার পক্ষে চিকিৎসা করানো সম্ভব হবে না। জানি না কি করে মাকে সুস্থ করে তুলবো।" একথা শুনে মনের ভেতরটা কেমন যেনো ফাঁকা হয়ে গিয়েছে।

যারা , যেমনে পারেন, সাহায্য করবেন। আপনার বন্ধুদেরও যদি বলতেন,,

টাকা পাঠানোর ঠিকানা-

ব্যাংকের মাধ্যমে -

Charles Aunkan Gomes - 0100164278047
সঞ্চয়ী হিসাব,জনতা ব্যাংক,কুয়েট শাখা

01521522856 (বিকাশ - নাহিন সিএসই ১৭)
01684251815 (বিকাশ - আরেফিন সিএসই ১৭)
01521222545 ( বিকাশ - মোস্তাফিজ সিএসই ১৭)
01622163522 (বিকাশ - দিপ্ত সিএসই ১৭)
017363933341 (রকেট - জাহিম সিএসই ১৭)
017034403796 (রকেট - তাওসিফ সিএসই ১৭)
018323299836( রকেট - নাফি সিএসই ১৭)
015212245092( রকেট - তামিম সিএসই ১৭)
019303888490 (রকেট - রাকিব সিএসই ১৭)
129-105-25122 (DBBL - মোস্তাফিজ সিএসই ১৭)

কন্ট্যাক্ট এর জন্য-

অঙ্কন - 01770347232
আরেফিন - 01684251815
লাবিব - 01781207345

11/05/2019

আমার ডিপার্টমেন্টের সবচেয়ে ভয়ংকর শিক্ষক ছিলেন প্রফেসর ডঃ খন্দকার শফিউল ইসলাম। ডাক নাম তড়িৎ। ওয়াটার রিসোর্স ইঞ্জিনিয়ারিং এ বাংলাদেশের একজন টপ নচ ইঞ্জিনিয়ার। উনার সাথে আমাদের ব্রিজ ডিজাইন, হাইড্রোলিক্স আর রিভার ইঞ্জিনিয়ারিং এর কোর্স ছিল। আমি রিভারে লগ খাইসিলাম, হাড্রোলিক্সে ডি। আমরা কম বেশি সবাই উনাকে ভয় পাইতাম। আমি উনার নাম দিসিলাম 'মরিয়ার্টি'।

উনি তখন হেড, একবার পরীক্ষা পেছানোর জন্য আমরা ১২০ জন উনার চেম্বারের সামনে দাঁড়ায়ে আছি। দরজা খোলা, উনি আমাদের দেখলেন। উনি পিসিতে দাবা খেলতেসেন। আমাদের দেখে আবার দাবা খেলতে থাকলেন। খেলা শেষ হইল বেশ অনেকক্ষণ পর, এরপর আমাদের দিকে তাকায়ে বললেন, "কি দরকার?"। আমরা কিছু বলতে পারলাম না। এমন হয় না, "পরীক্ষা দিব না" এই কথাটা আমরা সবসময়ই বলতে পারি। আমরা মসজিদ থেকে স্যারদের বাসা পর্যন্ত স্যারদের পিছে পিছে গিয়ে পরীক্ষা পিছাইসি। কিন্তু উনার দিকে তাকায়ে বলতে পারলাম না।

সেন্ট্রাল ভাইভা বা থিসিস প্রেজেন্টেশনে স্যার সবার শেষে ঢুকতেন। হাতে একটা বিশাল মগ। মগে আইস টি। উনি ঢুকার সময় যে প্রেজেন্টেশনে থাকত, সে তোতলানো শুরু করত। আমি একবার এই পজিশনে ছিলাম। আমি কোন রিস্কে গেলাম না। তোতলাইলে মান সম্মান থাকবে না। আমি একদম বোবা হয়ে গেলাম। কোন কথা বলি নাই।

কুয়েটে উনি বিখ্যাত ছিলেন উনার গাড়ি ড্রাইভ করার কারণে। উনি ডি এস এর সামনে এসে এক হাতে স্টিয়ারিং ঘুরায়ে গাড়ি বাম এ ঘুরাইতেন স্পীড ১ কিলোমিটার ও না কমায়ে। পোলো টি শার্ট, লোফার, জিন্স আর ব্লেজার পড়ে ক্লাসে আসতেন এরপর কয়েকজন কে দাঁড় করায়ে খুব হাসিমুখে বলতেন, "আরে তোমরা তো ফেল করিসো!" সেই হাসিতে কোন ভনিতা ছিল না। রেজাল্ট দিলে দেখা যাইত ওরা সবাই ফেল করসে।

আমি দুইতলায় উনাকে দেখলে নিচতলা বা তিনতলায় নেমে যেতাম। আমি এটা টানা ৪ বছর করসি। আমি কোন রিস্ক নেই নাই, সবার সাথে রিস্ক নেয়া যায়, তড়িৎ স্যারের সাথে যায় না। শেষ সেন্ট্রাল ভাইভার সময় আমাকে ৫ মিনিট ধরে একটা ড্রয়িং বুঝায়ে প্রশ্ন করলেন। প্রথম মিনিট থেকে উনি আমি দুইজনই জানি আমি এটা পারব না। উনি খুব ভালোমত আমাকে ক্লাসের লাস্ট বেঞ্চে দেখেন। উনি জানেন আমার ইঞ্জিনিয়ারিং এর দৌড় কতটুকু। সমস্যা হইল উনি ৫ মিনিট ধরে প্রশ্ন করার পর আমি ডিরেক্ট "স্যার পারব না" বলতে পারতেসি না। উনি জানতেন আমি উনার ৫ মিনিটের ইফোর্টের এর পর এটা বলতে পারব না। উনি এই কারণেই ৫ মিনিট ধরে আমাকে প্রশ্নটা করসেন। আমি উনার দিকে হ্যা করে তাকায়ে আছি। উনি সোফায় হেলান দিয়ে আইস টি তে চুমুক দিলেন।

স্যার মাঝেমধ্যে উনার মাস্টার্সের স্টুডেন্টদের নিয়ে লাঞ্চে যান। আমাকে এগুলা মাস্টার্সের ভাইরা বলে, আমি এক ফোঁটাও বিশ্বাস করি না। এগুলা বিশ্বাস করার মত কোন কথা না। উনি মাঝে মধ্যে সাইকেলে করে উনার মেয়েকে নিয়ে স্কুলের দিকে যান, আমরা সিগারেট হাইড করি, এদিক ঐদিক চিপা খুজি। কোন রিস্ক নেয়া যাবে না। নেভার।

অবশেষে আমি পাশ করলাম। পাশ করার সাথে সাথে দেখলাম সবার ব্যবহার চেঞ্জ হয়ে গেল। ডিপার্টমেন্টের হেড ডঃ হারুন স্যার আমাকে উনার কার্ড দিয়ে বললেন যে কোন দরকারে যোগাযোগ করতে। আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। আমি কেন উনার সাথে যোগাযোগ করব? আমি কি পাগল?

কার্ড নিয়ে বের হয়ে যাচ্ছি, তড়িৎ স্যারের সাথে সিড়িতে দেখা। পাশ করলাম, বিপদ পিছু ছাড়ল না! আমি চোখ নামায়ে তাড়াতাড়ি নেমে যাচ্ছি। উনি আমাকে বললেন, "এই দাঁড়াও।" আমি দাড়াইলাম। উনি বললেন,

-- শেষ?
-- জি স্যার
-- খোঁজ খবর নিও বুঝলে
-- জি স্যার

জেমস মরিয়ার্টি তার বিখ্যাত হাসি দিয়ে বললেন, "জীবনেও নিবা না জানি, যাও।"

ব্লাড ক্যান্সারে তড়িৎ স্যার আজকে মারা গেসেন। বাংলাদেশ পানি সম্পদ গবেষণায় তাঁর সবচেয়ে উঁচু শ্রেণীর একজন ইঞ্জিনিয়ার হারাইল। কুয়েট একজন খুবই এফিসিয়েন্ট প্রফেসর হারাইল। প্রফেসর খন্দকার শফিউল ইসলাম হইতে অসাধারণ মেধার সাথেও ৪০ বছরের পড়াশুনা লাগে। এই ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব না।

Credit - Rafid Al Zahur ভাইয়া

11/05/2019

ভাই মাফ চাই, ছাইড়া দেন ভাই, ভাই দুইটা পায়ে ধরি ভাই, আর মাইরেন না, ভাই আমি রোজারাখছি, আর আমুনা ভাই। রোজার কথা শুনে থেমে গ...
10/05/2019

ভাই মাফ চাই, ছাইড়া দেন ভাই, ভাই দুইটা পায়ে ধরি ভাই, আর মাইরেন না, ভাই আমি রোজারাখছি, আর আমুনা ভাই। রোজার কথা শুনে থেমে গেলো দু'জন। বাড়ি কই তোর?

- কলাবাগান বস্তিতে।

- তুই মসজিদ থেকা চুরি করস? তোর কলিজা কত বড়?

পাশের লোকটা বললো ভাই থামলেন কেন? দেন আর কয়ডা, রোজার মাসে চুরি কইরা বেড়ায়, সালারে লাত্থি দেন, তুই চুরি করস আবার কিসের রোজা রাখস রে? মিছাকথার জায়গা পাস না? এই বলেই কান বরাবর সজোরে আরেকটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলো। ছেলেটা গালে হাত দিয়ে দেয়াল ঘেসে বসে রইলো, কান্না আর হই হুল্লোড়ের শব্দে ইমাম সাহেব দোতলা থেকে নেমে এলেন, দেখলেন মসজিদের আঙিনায় লোক জড়ো হয়ে আছে। মসজিদে আজ ইফতারির ব্যাপক আয়োজন চলছিল। ইমাম এগিয়ে গিয়ে বললেন, কি হইছে এখানে?

- হুজুর চোর ধরছি! ছেঁচড়া চোর!

ইমাম সাহেব এগিয়ে গিয়ে দেখলেন ১২-১৩ বছরের এক ছেলে দেয়াল ঘেসে বসে আছে, ছেলেটির পুরো গাল চোখের পানিতে ভেসে গেছে, গায়ের রঙ কালো হলেও আঘাতের দাগ গুলো স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। ইমাম সামনে আসাতে ছেলেটি আরও ভয় পেয়ে গেলো। এবার আর তার রেহাই নাই, হাত পা কাঁপছে।

- কি চুরি করছে? দেখি?

পাশে লোকটি পলিথিনের পোটলা এগিয়ে দিয়ে দিয়ে বললো দেখেন হুজুর, দেখেন, ইফতারের আয়োজন হচ্ছে, এই ফাঁকে শালায় পলিথিনে ভইরা লইছে। এক্কেরে হাতেনাতে ধরছি! হুজুর পলিথিন হাতে নিয়ে দেখলেন আধা কেজির মত জিলাপি, ৬ টা আপেল, আর কিছু খেজুর ভিতরে ছিলো।

হুজুর বললেন, তাই বইলা এভাবে গণপিটুনি দিছো কেন? এইটা কেমন বিচার? বাচ্চারে কেউ এভাবে মারে নাকি?

এবার লোক জনের উত্তেজনা একটু থেমে গেলো।

হুজুর ছেলেটিকে জিজ্ঞাস করেন, তর বাপ কি করে?

ছেলেটা কিছুটা সস্থি ফিরে পেলো। বললো- সাইকেল ঠিক করতো, বাপের অসুখ তাই অহন কাম করে না। হুজুর আমারে ছাইড়া দেন। আমি আগে কুনোদিন চুরি করি নাই। কয়েকটা বাসায় হাত পাইতা একটা দানাও সাহায্য পাই নাই। পরে দেহি মসজিদে খাবার। বাড়িতে নিবার জন্যে তুইলা নিছি। ভুল হইয়া গেছে আমারে মাফ কইরা দেন। পাশ থেকে লোকগুলো বলছে, এগুলা সব মিথ্যাকথা, ধরা খাইয়া এখন ভদ্র সাজে। হুজুর বললেন, ইফতার শেষ হোক, সত্য মিথ্যা দেখে ওর বাপের কাছে জানিয়ে সতর্ক করে দেয়া হবে। ছেলেটাকে কেউ পানি দেও, ও অনেক হাঁপাচ্ছে।

একজন পানির বোতল এগিয়ে দেয়। ছেলেটি উত্তর দেয়, আমি রোজা!

ইমাম সাহেব এবার লোকগুলোর দিকে একটু বিরক্ত মুখে তাকালেন। ছেলেটিকে অজু করিয়ে তার পাশে বসিয়ে ইফতার করালেন। ইফতার আর নামাজ শেষে সেই দুই জন লোক ও ছেলেটিকে নিয়ে ইমাম সাহেব বস্তির দিকে এগুলেন। এক চালা টিনের ঘর, বাইরে দুয়ারে ছেলেটির বাবা বসে আছে। সব কিছু শুনে বাবাটি তার ছেলের গালে থাপ্পড় মারার জন্যে হাত উঠায়। হুজুর বাধা দিয়ে বলেন, যথেষ্ট মার হইছে, ওরে আর মাইরেন না।

বাবা কাঁদতে কাঁদতে বলে, বিশ্বাস করেন হুজুর, আমার ছেলেরে আমি এই শিক্ষা দেই নাই। বেশ কয়দিন ধইরা আমার অসুখ। কাম কাজ নাই, পোলাপানগো ঠিক মত খাওন যোগাইতে পারি না। কিন্তু পোলায় চুরি করবো কুনোদিন ভাবি নাই। ও অমন পোলা না।

এরই মধ্যে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে ছেলেটির বোন। মেয়েটার বয়স ছয় বছরের মতো। বোনটি তার ভাইয়ের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়, কোমল স্বরে বলে, ভাই, জিলাপি আনো নাই? তুমি না আইজকা জিলাপি আনবা কইছো? ভাইয়ের মুখে কোনো কথা নেই, চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। এর মধ্যেই আরেকটি চার বছরের ছোট্ট বোন ঘর থেকে ছুটে এসে বলে, ‘ভাই, ওরে না, ওরে না আমারে আগে দিবা, আমারে।’

এই বলেই হাতটি বাড়িয়ে দেয়, ভাইয়ের মুখের দিকে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে, ভাই তুমি একলা একলাই খাইয়া আইছো? আমার জন্যে আনো নাইই? ভাইটি এবার ছোট বোনের কথা শুনে কেঁদে ফেলে। বোন দুইটা মন খারাপ করে ঘরে ঢুকে যায়। ছোট বোনটা মায়ের কোলে উঠে কান্নাজুড়ে দেয়। মা আচলে মুখ ঢেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। বলেন, মাইয়া দুইটা কয়দিন ধইরা জিলাপি খাইতে চাইতেছে, ওগো বাপের অসুখ।

টেকা পয়সাও নাই, তাই পোলারে বাইরে পাঠাইছিলাম বাড়ি বাড়ি গিয়া কিছু সাহায্য চাইয়া আনতে। ছোট মানুষ বুঝে নাই, তাই ভুল করে ফেলছে। খাবার সামনে পাইয়া নিয়া নিছে, অরে আফনেরা মাফ কইরা দিয়েন। এদিকে বাচ্চা মেয়েটা চোখ ভিজিয়ে মায়ের কাছে কেঁদে কেঁদে নালিশ করেই যাচ্ছে- মা, ভাই আইজকাও জিলাপি আনে নাই, ভাই আমাগো খালি মিছা কথা কয়! ভাইটি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ বোনটি খেয়াল করে ভাইয়ের শার্টের পকেট ভেজা!

- ভাই তোমার পকেটে কি? এই বলেই হাত ঢুকিয়ে দেয়, বের করে দেখে দুইটা জিলাপি! ভাই তুমি আনছো? দুই বোনের মুখে হাসি ফুটে উঠে!

ভাইয়ের মুখ এবার ভয়ে চুপসে যায়। লোকদুটির দিকে ভয়ার্ত ভাবে তাকিয়ে বলে, স্যার, এইটা আমি চুরি করি নাই। হজুরের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে, বিশ্বাস করেন হজুর, এইটা আমার ভাগের জিলাপি, ইফতারির সময় আমার ভাগেরটা উঠাইয়া রাখছিলাম বোইন দুইটার জন্যে, সত্যি আমি চুরি করি নাই হজুর।

সবাই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হজুর ছেলেটারে টেনে বুকে জড়িয়ে নেন। মাথাটা বুকে চেপে ধরে রেখে চোখের পানি ফেলতে থাকেন। লোক দুইজন এবার সশব্দে কেঁদে ওঠেন। কাঁদতে কাঁদতে ছেলেটির বাবার কাছে এগিয়ে যায়। তার হাতদুটি ধরে বলে, ভুল হয়ে গেছে আমাদের, আপনার ছেলের গায়ে হাত তুলছি আমরা, মাফ করে দিয়েন আমাদের।

লোকটি পকেট থেকে মানিব্যাগটা বের করে বাবার হাতে দিয়ে বললেন, এখানে যা আছে তা দিয়ে বাচ্চাদের কিছু খাওয়াবেন। তারা লজ্জায় আর বেশিক্ষণ থাকতে পারলো না, বিদায় নেয় দ্রুত। আমরা শুধু অপরাধীকে দেখি কিন্তু অপরাধের পেছনের অংশটুকু দেখি না, দেখতে চাইও না।

09/05/2019

"তিতা সত্যিটা হলো, বাংলাদেশের বেশিরভাগ ছেলেমেয়ের পড়াশুনাজনিত ডিপ্রেসন আর ক্যারিয়ার নষ্টের জন্য দায়ী তাদের বাবা-মা !!

জন্ম থেকেই প্রতিটা ছেলেমেয়ের মাথায় কিছু পয়েন্ট ঢুকিয়ে দেয়া হয়, যেমনঃ

১) তোমার বাবা-মা সব বিষয়ে অবশ্যই তোমার চেয়ে ভালো বুঝে

২) বাবা-মা এর মুখের উপর কখনোই কিছু বলা যাবে না

৩) বাবা-মা এর ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কোন কাজ করলে, সেটার ফলাফল ভালো হয় না

খুবই যৌক্তিক কথা ... কিন্তু সব জায়গায় কি যুক্তি খাটে ??

আমি এমন একজন কে চিনি, যার বাবা তাকে জোর করে মেডিকেলে ভর্তি করানোর পর সে একটা প্রফেও পাস করতে পারে নি ... জোর করে ডাক্তার বানাতে চাওয়ার মানসিক যন্ত্রণায় সে নিজেই এখন মানসিক রোগী !!

আমি এমন একজন কে চিনি যে মানুষটা অসম্ভব ভালো ছবি আঁকে ... চারুকলাতে ভর্তি হওয়ার পরে তাকে জোর করে ভর্তি বাতিল করিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে বাধ্য করে তার পরিবার ... ফলাফল হিসেবে, ৫ বছরেও তার পড়াশুনা শেষ হয় নি ... মাথার উপর অনেকগুলো লগ (ফেল) এর প্রচন্ড ভারে সে এখন চরম ডিপ্রেসনে ভুগছে !!

যে ছেলেটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে জব করে ক্যারিয়ার গড়তে চেয়েছিলো, বাবা-মা এর স্বপ্ন পূরণে ইচ্ছার বিরুদ্ধে সে গত ২ বছর যাবত বিসিএস নিয়ে পড়ে আছে ... হচ্ছে না ... প্রচন্ড হতাশায় ভুগে সে ধুকে ধুকে মরছে প্রতিনিয়ত ... জীবনের হারিয়ে যাওয়া দুইটা বছর তাকে কে ফেরত দিবে ??

যে মেয়েটা GRE/IELTS দিয়ে বিদেশে গিয়ে MSc আর PhD করার স্বপ্ন দেখতো, বাবা-মা তার জন্য পাত্র দেখছে ... গত কয়েকটা মাস ধরে সে বুঝাচ্ছে ... কাজ হচ্ছে না ... বাবা-মা এর চোখের পানির কাছে হেরে গিয়ে খুব শীঘ্রই হয়তো তাকে নিজের স্বপ্ন, নিজের প্যাশন কে স্যাক্রিফাইস করতে হবে !!

আমি জানি না আসলে এর সমাধান কি ... ছেলেমেয়ের উপর জোর করে নিজের ইচ্ছাগুলো চাপিয়ে দিয়ে আসলে লাভটা কি হয় ?? ... পড়াশুনা, ক্যারিয়ার কিংবা বিয়ে - এই জায়গাগুলোতে ছেলেমেয়ে যদি ভালো না থাকে, বাবা-মা কি শান্তিতে থাকে আদৌ ??

আমি শুধু জানি, এই মূহুর্তে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় অনেকগুলো ছেলেমেয়ে একদম ভালো নেই ... যে পড়াশুনা কিংবা ক্যারিয়ার তার জন্য প্যাশন হওয়ার কথা ছিল, সেই পড়াশুনা কিংবা ক্যারিয়ার এখন তার কাছে বোঝা ... এই বোঝার ভার সহ্য করতে না পেরে অনেকেই মানসিকভাবে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে !!

এই লেখাটা কোনভাবে কোন বাবা-মা এর কাছে পৌঁছানো সম্ভব কিনা, আমি জানি না ... যদি পৌঁছায়, তাহলে বাবা-মা এর উদ্দেশ্যে বলছি, দয়া করে একটু চিন্তা করে দেখবেন, আপনার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে নিজের অজান্তেই আপনার ছেলেমেয়ের স্বপ্ন আপনি নিজেই খুন করছেন কিনা ... প্লিজ ... একটু ভেবে দেখবেন !!" :)

- মুশফিকুর রহমান আশিক

09/05/2019

শুনেছি তুরস্কের বেশিরভাগ মসজিদের
দেওয়ালে একটা কথা লেখা থাকে, কথাটি হল -

"মুহতারাম নামাজ পড়ার সময় যদি পেছনের সারি থেকে বাচ্চাদের হাসির আওয়াজ না আসে তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাপারে ভয় করুন।"

এইবার একটা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি।
আলহামদুলিল্লাহ্‌ ৪টা মুসলিম দেশের প্রায় বেশ কয়েকটা মসজিদে নামাজ আদায় করার সুযোগ হয়েছে আমার, তো প্রায় সবখানে দেখলাম বাচ্চারা মসজিদে মোটামোটি উপস্থিত থাকে।

তাদের যেখানে ইচ্ছা খেয়াল খুশী মতো কাতারে দাড়ায়। বড়রা কিছু বলেনা, এমনকি অনেক সময় দেখলাম নামাজের সময় বাচ্চারা পেছনে বা সামনে কোন কাতারে হইহুল্লোড় করছে।

নামাজ শেষে ইমাম, মুসল্লি কেউ কিছু বলেনা।
আমি একদিন একজনরে জিজ্ঞেস করলাম এর কারন কি???

তিনি বললেন বাচ্চারা হলো ফেরেস্তার মতো এরা এখানে আসবে একটু দুষ্টামি করবে কিন্তু দেখতে দেখতে এটাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে, দুষ্টামির ব্যপারটা বয়স বাড়ার সাথে সাথে ঠিক হয়ে যাবে সেটা কোন ব্যাপার না।

কিন্তু এখন যদি ওরে মসজিদে হুমকি ধামকি চর থাপ্পড় দেওয়া হয়, তাহলে সে তো আর এইখানে আসতেই চাইবেনা।

একটা ভয় নিয়ে বেড়ে উঠবে এটা তো ঠিক না, কি সুন্দর যুক্তি।

আর ঠিক উল্টো চিত্র দেখবেন আমাদের বাংলাদেশে। আমি এমনও দেখেছি বাচ্চা কে মসজিদে নিয়ে আসার
কারনে, গার্জেনের সাথে আরেক জনে মারামারি লেগে গিয়েছিলো।

আর এলাকার সিজনাল মুরব্বিরা তো মসজিদে গেলে বড় বড় মোল্লা হয়ে যায়, সামনের কাতারে ছোটদের দাড়াতে দেই না, বাচ্চারা আওয়াজ করলে চড় থাপ্পর এসব তো আছেই।

হুজুরেরাও এটাকে এড়িয়ে যায়, তো এই ব্যাপারে তরুনদের সতর্ক হওয়া দরকার।

মুরব্বিদের কে তাদের এইসব বুঝানো দরকার, আমাদের হুজুরদের বয়ানে এইসব স্পষ্ট করা দরকার।
তাহলে বাচ্চারা মসজিদ মুখি হতে আগ্রহী হবে।

"ইনশাআল্লাহ"

Collected.

ছবিটা না শেয়ার করে পারলাম না,আপনাদের ও উচিত আশে পাশে থাকা আন্টি সমাজকে ছবিটা দেখানো।
07/05/2019

ছবিটা না শেয়ার করে পারলাম না,আপনাদের ও উচিত আশে পাশে থাকা আন্টি সমাজকে ছবিটা দেখানো।

06/05/2019

রোজার কিছু মৌলিক আচার আছে। যা ফরজ বলে চিহ্নিত। সুস্থ-সবল প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমকে অবশ্যই রোজা রাখতে হবে। কিন্তু শারীরিক অসমর্থতার কারণে সে এ দায়িত্ব থেকে আপাতভাবে মুক্তি পেতে পারে। এর প্রতিবিধানে রয়েছে কাজা ও কাফফারার বিধান।।

কুরআনে বলা হয়েছে,

"হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।"
— সূরা বাকারা। আয়াত:১৮৩

আরও বলা হয়েছে,

"রমযান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে। আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে তবে অন্যান্য দিবসে সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের সহজ চান এবং কঠিন চান না। আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূরণ কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত দিয়েছেন, তার জন্য আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা শোকর কর।"
— সূরা বাকারা: ১৮৫

★৭টি আমলের প্রতি যত্নবান হলে রমজান মাসের সময়গুলো আমরা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারবঃ

১. প্রতিদিন ন্যূনতম দুই ঘণ্টা কোরআন তিলাওয়াত। তিলাওয়াত অবশ্যই সুন্দরভাবে তাজভীদের সঙ্গে পড়া উচিত, এক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো কাম্য নয়।

২. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাআতের সঙ্গে পড়ার চেষ্টা করা। জামাআতে নামাজ আদায় করাটা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ হলেও রমজানে এর প্রতি আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

৩. তারাবিহ নামাজ সুন্নাতে মুআক্কাদা আইন। আর জামাআতে পড়া সুন্নাতে মুআক্কাদা কিফায়া। তারাবিহ নিয়মিতভাবে ত্রিশ দিনই মসজিদে গিয়ে আদায় করা। তবে যে সব মসজিদে অধিক দ্রুত নামাজ পড়ার ফলে তিলাওয়াত, কাওমা, রুকু, সিজদা ইত্যাদি ঠিকমতো আদায় করা হয় না, সেখানে নামাজ আদায় না করে অন্য মসজিদে পড়া ভালো।

৪. সম্ভব হলে রমজানে কিয়ামুল লাইল, জিকির-আজকার, তিলাওয়াত, দ্বীনি বই অধ্যয়ন ইত্যাদির মাধ্যমে রাত্রি জাগরণ করা। নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়া এবং এটাকে ধীরে ধীরে এমন অভ্যাসে পরিণত করা, যাতে সারা বছরই পড়া যায়।

৫. প্রতিদিন একজনকে হলেও ইফতারি করানোর চেষ্টা করা। সামান্য পানি বা খাবার দিয়ে হলেও। বাড়িতে দাওয়াত দিয়ে এনেও খাওয়ানো যায়, প্যাকেটে বা পাত্রে করে বাসায়ও পাঠানো যায়। অসহায়, গরিব, মুসাফির, আলিম, আত্মীয়স্বজন, পড়শীদের নিয়মিত ইফতার করানোর চেষ্টা করা।

৬. এ মাসে সবর ও অন্যকে প্রাধান্য দেয়ার গুণে গুণান্বিত হওয়ার চেষ্টা করতে হবে৷ কাউকে গালিগালাজ, সমালোচনা না করা। হিংসা-বিদ্বেষ ও হানাহানি থেকে দূরে থাকা। সবার প্রতি, বিশেষত নিজের অধীনস্ত কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রী, সন্তান-সন্তুতিসহ সব ধরনের লোকদের প্রতি সদয় হওয়া। ক্ষমার অভ্যাস গড়ে তোলা। আর এসব সৎগুণ এমনভাবে অর্জন করা, যাতে করে সারা বছর; বরং সারা জীবনের জন্য তা অর্জন হয়ে যায়।

৭. সব ধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা। যারা কবিরা গুনাহে অভ্যস্ত ছিল, তারা কমপক্ষে কবিরা গুনাহ ছেড়ে দেবে। আর যারা সগিরা গুনাহে অভ্যস্ত ছিল, তারা সগিরা গুনাহ ছেড়ে দেবে। যারা সব গুনাহ থেকে দূরে ছিল, তারা নফল-মুসতাহাব-সুন্নত ইত্যাদি আমলের প্রতি আরও যত্নবান হবে। এভাবে রোজাদার এ মাসে নৈতিক উন্নতির ক্ষেত্রে একটি স্তরে হলেও উন্নতি করতে সফল হবেন।

Copied from Jinat Abedin

05/05/2019

বাঙালিই মনে হয় একমাত্র জাতি, যারা নামের সাথে জন্মসাল দিয়ে মেইল এড্রেস খুলে...

credit- Sadid Al Amaz

04/05/2019

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন আগে একটা ঘটনা ঘটেছে।

সেখানে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় খেলা হচ্ছিলো। তো, কুষ্টিয়া'র ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে'র সঙ্গে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে'র খেলা চলাকালীন সময়ে জাহাঙ্গীর নগরের ছাত্র'রা কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে'র ছাত্র এবং শিক্ষক'দের আচ্ছা মতো মার দিয়েছে।

একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে'র ছাত্র'রা অন্য আরেক'টা বিশ্ববিদ্যালয়ে'র ছাত্র এবং শিক্ষক'দের ধরে আচ্ছা মতো মার দিচ্ছে; ব্যাপার'টা পৃথিবী'র অন্য যে কোন দেশের জন্য সপ্তাশ্চর্যে'র চাইতেও বড় আশ্চর্য জনক ঘটনা হিসেবে দেখা দিত।

কিন্তু আমাদের কাছে ব্যাপারটা খুব স্বাভাবিক মনে হয়েছে! কারন এই নিয়ে কেউ তেমন কোন আলোচনা করেনি। এর চাইতেও অবাক কাণ্ড হচ্ছে- কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে'র ছাত্র এবং শিক্ষক'রা মার খেয়ে হাতে-পায়ে ব্যান্ডেজ নিয়ে টেলিভিশনে'র লাইভ টক'শো'তে এসে বলেছেন

-জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক'রা সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল। কেউ কিছু বলেনি। উল্টো তারা ছাত্রদের উৎসাহ দিয়েছে বলে মনে হয়েছে!

এরপর জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর'কে ওই আলোচনায় যুক্ত করা হলে তিনি বলেন

-আমরা চেষ্টা করেছি থামাতে। নইলে আরও ভয়ানক ব্যাপার ঘটে যেতে পারত! যা হোক, একটা ঘটনা ঘটে গিয়েছে, আমরা ক্ষমা প্রার্থী!

অর্থাৎ তিনি এক রকম মেনে নিয়েছেন- এই ধরনের মারামারি তো ঘটতে'ই পারে! এ আর এমন কি! এটা কোন অস্বাভাবিক ঘটনা'ই না!

এখন প্রশ্ন হচ্ছে- এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আরেক বিশ্ববিদ্যালয়ে'র ছাত্র এবং শিক্ষকদের ধরে ধরে মারছে কেন?

এইবার আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতা'র কথা বলি। এর আগে দুই একটা লেখায়ও বোধকরি বলেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছি প্রভাষক পদে। গিয়েছি ইন্টার্ভিউ দিতে। বোর্ডে থাকা লোকজন প্রথমে'ই বলে বসেছেন

-আপনি তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে'ই পড়েন'নি! আপনি এখানে আবেদন করেছেন কেন! আপনি আপনার নিজের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন!

কি অবাক কাণ্ড- তারা যখন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিল, সেখানে লিখে দিলেই তো পারত - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাড়া আবেদন করা যাবে না!

বোর্ডে যারা ছিল, তারা আমার দিকে এমন ভাবে তাকাচ্ছিল- আমার মনে হচ্ছিলো আমি মনে হয় কোন ভিন গ্রহের এলিয়েন! হঠাৎ করে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছি।

এইতো গত কাল'ই বিসিএস পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে। কতো লাখ ছেলেপেলেপরীক্ষা দিয়েছে আমার হিসেবে নেই। তবে এদের সবাই নিশ্চয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা দেশের বড় বড় নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েনি।

তবে নিশ্চিত জেনে রাখুন- যারা বড় কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েনি, তাদের মাঝে এক ধরনের হীনমন্যতা কাজ করে এই ভেবে - ভাইভা পর্যন্ত যেতে পারলে বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েনি বলে বাড পড়ে যেতে পারে! কারন বোর্ডে যারা থাকে, তাদের আবার বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি একটা আলাদা টান আছে!

এইতো গত সপ্তাহে'ই আমার পরিচিত একজন ঢাকার এক নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক পদে ইন্টার্ভিউ দিয়েছে। বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার একটা পিএচডি করা আছে। নানা গবেষণা প্রবন্ধ আছে। অথচ ইন্টার্ভিউ'তে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে

-আপনি তো নটরডেম কলেজে পড়েছেন, অমুক স্যার'কে চেনেন?

এরপর জিজ্ঞেস করেছে

-আপনি তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন তমুক'কে চেনেন!

কি অবাক কাণ্ড! তার পিএচডি, গবেষণা কোন কিছু নিয়ে'ই কোন প্রশ্ন করেনি!

যেহেতু সে নটরডেম কলেজে পড়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে, এটা'ই হয়ে গিয়েছে তাদের কাছে মুখ্য বিষয়!

তো, যেই ছেলেটা নটরডেম কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েনি, তাকে আপনারা কি জিজ্ঞেস করবেন?

আমি তখন ঢাকার আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়টি'র বেশ নাম আছে। আমি যেহেতু সমাজ বিজ্ঞান পড়াতাম; একদিন পরীক্ষার হলে ডিউটি দিচ্ছি; সঙ্গে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ায় এক শিক্ষকও আমার সঙ্গে ডিউটি দিচ্ছেন। তিনি আবার বেশ নাম করা শিক্ষক। পড়েছেন বুয়েট থেকে। আমাকে জিজ্ঞেস করে বসলেন

-আপনি সমাজ বিজ্ঞান পড়েছেন কেন? এইসব পড়ে কি হয়?

শুনে তো আমার চোখ কপালে উঠার যোগার! তাকে আমি এর উত্তর দেয়ার'ই প্রয়োজন মনে করনি।

এই হচ্ছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর শিক্ষা এবং সংস্কৃতি! বর্তমানে দেশের প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয় গুলো'তে এমন সংস্কৃতি'ই বিদ্যমান!

এইসব বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে শেখানো হয় আমরা'ই সেরা! আমরা ছাড়া অন্য আর কেউ মানুষের পর্যায়ে'ই পড়ে না! এই জন্য জাহাঙ্গীর নগরের ছাত্র'রা আরেক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মেরে মনে করছে তারা ঠিক'ই করেছে! কারন তারা'ই তো সেরা!

এই জন্য বুয়েট থেকে পড়ে আসা শিক্ষক আমাকে জিজ্ঞেস করে বসেছে- এই সব সমাজ বিজ্ঞান পড়ে কি হয়! কারন তার শিক্ষক'রা তাকে শিখিয়েছে বুয়েট'ই সেরা। এখানে যা পড়ানো হয় তার বাইরে আর কিছু পড়ার নেই! অথচ এদের জানান'ই নেই হার্ভার্ডে'র মতো বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্ট গুলো'তে এখন বেশি করে সমাজ বিজ্ঞান এবং মানবিকের সাবজেক্ট গুলো পড়ানো হচ্ছে। কারন এরা মনে করছে- ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারদের মানবিক হতে হবে।

এই যে আমাদের ডাক্তার'রা তাদের সমালচনা সহ্য করতে পারে না, ইঞ্জিনিয়ার'রা পারে না, পুলিশ পারে না, বিসিএস ক্যাডার পারে না; কেন পারে না? কারন এরাও এইসব শিক্ষা'ই পেয়েছে- আমরা'ই সেরা!

এই যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আমাকে বলে বসলেন

-আপনি তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে'ই পড়েন'নি; এখানে আবেদন করেছেন কেন?

তো, তিনি কেন এই প্রশ্ন করেছেন?

কারন তাদের ধারণা - অন্য বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে আবার পড়াশুনা হয় নাকি! তারা'ই হচ্ছে সেরা!

গত পরশু টাইমস হায়ার এডুকেশনের ২০১৯ সালের পৃথিবী'র বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হয়েছে। এটিকে বলা হয় পৃথিবী ব্যাপী সব চাইতে গ্রহণযোগ্য র‌্যাঙ্কিং। অক্সফোর্ড, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় গুলো এই র‌্যাঙ্কিং ফলো করে।

তো, সেই র‌্যাঙ্কিং এ পুরো পৃথিবী'র কথা বাদ'ই দিলাম; এশিয়ার সেরা ৪০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝে বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই। এমনকি নেপালের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পর্যন্ত আছে! শ্রীলংকা'র বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আছে। চার-পাঁচ লাখ জনসংখ্যা'র দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আছে।

নেই কেবল ১৭ কোটি জনসংখ্যার সেরা'দের সেরা বাংলাদেশে'র কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম!

অবশ্য এর কোন দরকারও নেই!

আমরা তো এমনিতে'ই সেরা!

©আমিনুল ইসলাম

Address

Rajshahi

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when RUET-Admission Test Helpline posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The University

Send a message to RUET-Admission Test Helpline:

Share