19/10/2024
ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব বায়োটেকনোলজি (এন আই বি) তে মহাপরিচালক পদে প্রকৃত জীবপ্রযুক্তিবিদ নিয়োগের প্রত্যাশা পুরন- অধ্যাপক শাহেদুর রহমানকে স্বাগত ও অভিনন্দন
*******
বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং অগ্রযাত্রায় একটি বিশাল ভুমিকা রাখতে পারে বায়োটেকনোলজি তথা জীবপ্রযুক্তি। কিন্তু নীতি নির্ধারক পর্যায়ে বরাবরই এটি ছিল উপেক্ষিত। কভিড পরবর্তি সময়ে এর গুরুত্ব পুরো বিশ্ব বুঝলেও বাংলাদেশে জীবপ্রযুক্তি নিয়ে ছিল কেবল ই ফাঁকা বুলি। গবেষনায় বিশেষ কোন অনুদান আসেনি, গবেষনা সংস্থা গুলোতে যন্ত্র কেনা ছাড়া সক্ষমতা বাড়ানো হয়নি, বিদেশ থেকে এদেশের মেধাবীদের ফিরিয়ে আনার কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি, দেশের অভ্যন্তরীণ কৃষি, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য সমস্যা এই প্রযুক্তি কে ব্যবহার করে সমাধানের জন্য বিশেষ কোন সফল প্রকল্প ও সরকারীভাবে দেখা যায়নি। এর পেছনের কারন একটাই নেতৃত্বে সবসময় ছিলেন হয় এই বিষয় সংস্লিষ্ট নন এমন আমলা কিংবা আন্তরিকতাবিহীন কেউ। দুঃখজনক হল, এই বিষয়ে পারদর্শী ছাত্রছাত্রী যারা পাঁচ বছর পড়াশোনা করেছে এই বিষয় নিয়ে তাদেরকেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান কিংবা চাকুরি ক্ষেত্রে আবেদনের সুযোগই দেয়া হয় না। এই জন্য দেশের কেন্দ্রীয় জীবপ্রযুক্তি সংস্থা “ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ বায়োটেকনোলজি (এনআইবি)” তে প্রয়োজন বায়োটেকনোলজি থেকে পড়াশোনা করে আসা, এই বিষয়ে গবেষনায় অভিজ্ঞ এমন ব্যক্তি কে। এক্ষেত্রে সবার আগে যার নাম আসবে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ শাহেদুর রহমান। তিনি করোনা’র সময় দিনের পর দিন মন্ত্রনালয়ে গিয়ে বসে থেকেছেন যেন জবপ্রযুক্তিবিদেরা আরটিপিসিয়ার এ তাদ্র রদক্ষতা দেশের জন্য কাজে লাগানোর সুযোগ পায়, পাবলিক সার্ভিস কমিশনে গিয়ে অসংখ্য বৈঠক করেছেন কেবলমাত্র এটা বোঝানোর জন্য যে স্কুল কলেজে আমাদের গ্রাজুয়েটরা জীববিজ্ঞান পড়ানোর জন্য যথেষ্ট যোগ্য, নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তকে সেমিনারে ডেকে অনুধাবন করিয়েছেন কিভাবে এই ক্ষেত্রেও জীবপ্রযুক্তিবিদেরা দেশের কাজে লাগতে পারে। দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সিলেবাস প্রনয়ন কমিটির একজন এক্সপার্ট সদস্য তিনি। তিনি দেশের প্রথম বায়োটেক গ্রাজুয়েট। তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন বাংলাদেশ এ্যসোসিয়েশন অব বায়োটেকনোলজি গ্রাজুয়েটস- (BABG), যা নানান প্রতিকূলতা পেরিয়ে একটি দৃশ্যমান সংগঠনে পরিণত হয়েছে। জীবপ্রযুক্তি কমিউনিটি মনে করে অধ্যাপক শাহেদুর রহমান NIB-কে সত্যিকার অর্থে দেশের জীবপ্রযুক্তির বিকাশে সঠিকভাবে নেতৃত্ব দিতে পারবেন।
একজন দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে তাকে ছাত্ররা পাশে পেয়েছে চব্বিশের গনঅভ্যুত্থানে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ’খানেক আন্দোলনকারী ছাত্রকে যখন পুলিশ আর সন্ত্রাসীরা হামলার মুখোমুখি করে তখন তিনি ছাত্রদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেন পার্শবর্তি অরুনাপল্লিতে।
দল মত নির্বিশেষে আমরা অধ্যাপক শাহেদুর রহমানকে NIB-কে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতম ব্যক্তি মনে করি। এবং তাকে এই পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায় স্বাগত ও অভিনন্দন জানাই ।
- আদনান মান্নান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়