16/12/2025
Confession No: 139
To: Dr. Muhammad Sayem Tasin
Session: 2018-19
ভালোবাসা কখনো কখনো এমন এক মানুষকে ঘিরেই জন্ম নেয়,
যে মানুষটা জানেই না তার নিঃশব্দ অস্তিত্ব কারো পৃথিবীকে কতটা আলোকিত করে।
তাছিন,
একটা কথা আজ এত বছর পর লিখতে বসেছি—
হয়তো তুমি কখনো পড়বে না,
হয়তো পড়লেও বুঝবে না…
আমরা বারো বছর একসাথে পড়েছি একই স্কুল, একই সকাল। তোমার প্রতি অনুভূতি শুরু হয়েছিল ক্লাস নাইনে স্কুলের ক্রিকেট টুর্নামেন্টে।
যেদিন তুমি একা হাতে পুরো টিমকে ফাইনালে তুলেছিলে। সেদিন বুঝিনি ভালোবাসা কাকে বলে.
কিন্তু তুমি যখন চার মারতে,
আমার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা ধাক্কা লাগতো।
তখনো জানতাম না আমি ধীরে ধীরে তোমার প্রেমে হারিয়ে যাচ্ছি।
তুমি ছিলে অন্যরকম—
কম কথা বলা, নিজের মধ্যে থাকা,
মেয়েদের সাথে কথা না বলা—
এগুলো আমাকে অবাক করতো, আবার টানতোও।
টিফিন পিরিয়ডে লুকিয়ে তোমার ব্যাটিং দেখতাম,
স্কুলের টিনশেড বিল্ডিংয়ের সামনে থাকা পাকা রাস্তাটায়।
একটা মানুষকে এত চুপচাপ থেকেও
এতটা আলাদা লাগে সেটা আমি প্রথম তোমায় দেখেই বুঝেছি।
ক্লাস টেনে এসে এই ভালো লাগা ভালোবাসায় রূপ নিলো যেদিন তুমি প্রথমবার সবার সামনে দাঁড়িয়ে
আমাদের বন্ধু নাঈমের চিকিৎসার জন্য ক্লাসের সব ছেলেমেয়ের কাছে সাহায্য চাইলে।
এস.এস.সি পরীক্ষার মাত্র ১০-১৫ দিন আগে,
নিজের পড়াশোনা বাদ দিয়ে তুমি
মানুষের দরজায় দরজায় গিয়ে ,রাস্তার বিভিন্ন দোকান গুলোতে যেয়ে, মসজিদ গুলোতে যেয়ে ফান্ড তুলতে শুরু করলে নাঈম এর চিকিৎসার জন্য।
ক্লাসের অনেক বন্ধুদের জোর করে বাসা থেকে বের করে তোমার সাথে নাঈম এর চিকিৎসার জন্য ফান্ড রেইজ করতে নিয়ে যাওয়াতে অনেক গার্জিয়ানদের বাধা,অভিযোগ তোমাকে ঘিরে।
কিন্তু এসব এর কিছুই তোমাকে থামাতে পারেনি।
কারও জন্য নিজেকে এতটা উৎসর্গ করতে পারা
সেদিন তোমার ভেতরের মানুষটাকে
আমি নতুনভাবে আবিষ্কার করেছিলাম।
তখনই মনে হয়েছিলো এই ছেলেটাকে ভালো না বেসে থাকা অসম্ভব।
এক বন্ধুর জীবন বাঁচাতে
নিজের স্বপ্ন, নিজের পড়াশোনা,
নিজের ভবিষ্যৎ সব যুদ্ধ করে পাশে দাঁড়ানো সেই ছেলে মানুষটা আমাকে ভালোবাসা নতুন করে চিনিয়েছে❤️
আমি দোয়া করতাম
আল্লাহ যাতে নাঈম কে সুস্থ করে দেয়
আর তুমি যেন ভালো রেজাল্ট করো।
সৃষ্টিকর্তা দোয়াগুলোর অর্ধেক কবুল করলেন—
নাঈমকে আমরা হারালাম,
তুমি তোমার মতোই উজ্জ্বল রেজাল্ট করলে।
তারপর স্কুল শেষ।
তোমাকে হারিয়েও ফেললাম…
কলেজ আলাদা হয়ে গেলো,
যোগাযোগও হারিয়ে গেলো।
আমাকে চিনে ফেলবে ভয়ে ফেইক নাম দিয়ে ফেইসবুকে রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছিলাম কিন্তু তুমি তোমার স্বভাবতই অচেনা নাম দেখে একসেপ্ট করলে না
ক্লাসের বাকি ছেলেদের গ্রুপ ফটোতে
তোমায় খুঁজতাম যেন তুমি কোথাও না কোথাও আছো
এটাই জানলেই কিছুটা শান্তি পেতাম।
২০২৩ সালের পুজোর ছুটিতে যখন শুনলাম ব্যাচ রিইউনিয়ন হবে, আমি যতটা খুশি হয়েছিলাম
হয়তো পৃথিবীতে আর কেউ হয়নি। কারণ আমি জানতাম,অবশেষে তোমায় আবার দেখতে পাবো।
সেদিন ভেন্যুতে আমি সবার আগে পৌঁছায়।অপেক্ষা করছিলাম কখন তুমি দরজায় ঢুকবে।
তুমি এলেও,তোমার সব অভ্যাস এখনও আগের মতোই—
লাজুক, নিজেকে লুকিয়ে রাখা,মেয়েদের সামনে উদাসীন সবই একই ছিল।
তোমাকে দেখে মনে হচ্ছিলো সময় শুধু এগিয়েছে কিন্তু তুমি বদলাওনি।
তুমি রেস্টুরেন্টের কর্নারে গিয়ে মিথ্যে ফোন চালানোর অভিনয় করে নিজেকে ব্যস্ত প্রমাণ করছিলে,আমি দূর থেকে দেখছিলাম আর মনে মনে হাসছিলাম কারণ তোমার লাজুকতাই তো
আমার প্রথম ভালো লাগা ছিল।❤️
সব কিছু ফেলে সেদিন আমি সাহস করে জিজ্ঞেস করেছিলাম,"তুমি কেমন আছো?”
তুমি ঠিক আগের মতোই "ভালো আছি.তুমি?" উত্তর দিয়ে চলে গেলে।আমার কথাগুলো বাড়ানোর
একটুকুও সুযোগ দিলে না।
রিইউনিয়ন শেষে যখন তুমি বন্ধুর গাড়ি চালিয়ে চলে যাচ্ছিলে,মন চেয়েছিল তোমাকে বলি,"সাবধানে চালিও।” কিন্তু সেটা আর বলতে পারিনি।
ওয়ান সাইডেড লাভ কি জিনিস তুমি না থাকলে আমি জানতামই না
কিছু ভালোবাসা দূর থেকেই সুন্দর।
আর আমি সেই সুন্দরটুকু নিয়ে
বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে রাজি।
তুমি পৃথিবীর যেখানে থাকো বিশ্বাস করো
তোমার জন্য অনেকগুলো নিঃশব্দ দোয়া আছে পরিচিত মানুষ হতে শুরু করে রাস্তার পাশে একাকী থাকা ফকিরগুলার যা তুমি নিজেও জানো না❤️
তুমি সবসময় এইভাবে হাসিখুশি থাকো,সবসময় এইভাবে আশেপাশে থাকা মানুষগুলোকে নিয়েই হাসতে থাকো,সবসময় এইভাবেই মানুষ এর উপকারে এগিয়ে আসিও.যতোই বাধা বিপত্তি আসুক না কেন নিজেকে ,নিজের এই চরিত্রকে পরিবর্তন হতে দিও না❤️
আর তোমার জীবনে এমন কাউকে পাও
যে তোমার মতোই বিশাল হৃদয়ের অধিকারী।
আমি শুধু দূর থেকে অপেক্ষা করে যাবো—
সে ভাগ্যবতী মেয়েটাকে দেখার জন্য।
ইতি
আমি সেই মানুষ,
যার নাম তুমি জানতে পারবে না
কিন্তু যার হৃদয়ে তোমার নাম
চিরকাল লেখা থাকবে।