গারাংগিয়া ইসলামিয়া রব্বানী মহিলা কামিল মাদরাসা

  • Home
  • Bangladesh
  • Satkania
  • গারাংগিয়া ইসলামিয়া রব্বানী মহিলা কামিল মাদরাসা

গারাংগিয়া ইসলামিয়া রব্বানী মহিলা কামিল মাদরাসা গারাংগিয়া ইসলামিয়া রব্বানী মহিলা ফাযিল মাদরাসা

06/03/2026

আয়াতের তাফসীরঃ
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
اِنَّنِیۡۤ اَنَا اللّٰہُ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّاۤ اَنَا فَاعۡبُدۡنِیۡ ۙ وَ اَقِمِ الصَّلٰوۃَ لِذِکۡرِیۡ ﴿۱۴﴾
প্রকৃতই আমি আল্লাহ, আমি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, কাজেই আমার ‘ইবাদাত কর, আর আমাকে স্মরণ করার উদ্দেশ্যে নামায কায়িম কর।’ ১১-১৬ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হযরত মূসা (আঃ) যখন আগুনের কাছে পৌঁছলেন তখন ঐ বরকতময় মাঠের ডান দিকের গাছগুলির নিকট থেকে শব্দ আসলোঃ হে মূসা (আঃ)! আমি তোমার প্রতিপালক। তুমি তোমার পায়ের জুতা খুলে ফেলো। তাকে জুতা খুলে ফেলার নির্দেশ দেয়ার কারণ হয়তো এই যে, তার ঐ জুতা গাধার চামড়া দ্বারা নির্মিত ছিল, কিংবা হয়তো ঐ স্থানের সম্মানের কারণেই এই নিদের্শ দেয়া হয়েছিল যেমন কাবা গৃহে প্রবেশের সময় লোকেরা জুতা খুলে নেয়। অথবা ঐ বরকতময় জায়গায় পা পড়বে বলেই তাকে এই হুকুম দেয়া হয়। আরো কারণ বর্ণনা করা হয়েছে। ঐ উপত্যকার নাম ছিল তুওয়া। কিংবা ভাবার্থ হচ্ছেঃ তুমি তোমার পা এই যমীনের সাথে মিলিয়ে নাও। অথবা ভাবার্থ হলোঃ এই যমীনকে কয়েকবার পাক করা হয়েছে এবং তাতে বরকত পরিপূর্ণ করে দেয়া হয়েছে। এভাবে বারবার করা হয়েছে এর পুনরাবৃতি। কিন্তু প্রথম উক্তিটিই সঠিকতম। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “যখন তাঁর প্রতিপালক তাঁকে পবিত্র তুওয়া উপত্যকায় আহবান করেন। (৭৯:১৬) মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি তোমাকে (রাসূল রূপে) মনোনীত করেছি। এই সময়ের সমস্ত লোকের উপর আমি তোমার মর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছি। বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তাআলা হযরত মূসাকে (আঃ) জিজ্ঞেস করেনঃ “আমি তোমাকে সমস্ত মানুষের উপর মর্যাদা দান করে তোমার সাথে আমি কথা বলেছি এর কারণ তুমি জান কি?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “হে আল্লাহ! এর কারণ তো আমার জানা নেই। তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে বলেনঃ “এর কারণ এই যে, তোমার মত কেউ আমার দিকে ঝুঁকে পড়ে নাই।” এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ যা ওয়াহী প্রেরণ করা হচ্ছে তুমি তা মনোযোগের সাথে শ্রবণ কর। আমিই তোমার মা'বূদ, আমি ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই। এটাই হলো তোমার প্রথম কর্তব্য যে, তুমি শুধু আমারই ইবাদত করবে। আর কারো কোন প্রকারের ইবাদত করবে না। আমাকে স্মরণার্থে নামায কায়েম কর। আমাকে স্মরণ করার সর্বোত্তম পন্থা হলো এটাই। অথবা এটা ভাবার্থ হবেঃ যখন আমাকে স্মরণ হবে তখন নামায কায়েম কর। যেমন হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের যদি কারো ঘুম এসে যায় বা গাফেল হয়ে পড়ে তবে যখন স্মরণ হয়ে যাবে তখন যেন নামায পড়ে নেয়। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ “আমার স্মরণাথে তোমরা নামায কায়েম কর।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমদ (রঃ) স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন) হযরত আনাস (রাঃ) হতেই বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি নামায হতে ঘুমিয়ে পড়ে বা ভুলে যায় সে যেন স্মরণ হওয়া মাত্রই তা আদায় করে নেয়। তার কাফফারা এটা ছাড়া আর কিছুই নয়।" (এ হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে) মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী, আমি এটা গোপন রাখতে চাই যাতে প্রত্যেকেই নিজ কর্মানুযায়ী ফল লাভ করতে পারে। এক কিরআতে (আরবী) এর পরে (আরবী) শব্দও রয়েছে। কেননা আল্লাহ তাআলার সত্ত্বা হতে কোন কিছু গোপন নেই। সুতরাং অর্থ হবেঃ এর জ্ঞান আমি আমা ছাড়া আর কাউকেও প্রদান করবো না। কাজেই সারা ভূ-পৃষ্ঠে এমন কেউ নেই যার কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার নির্ধারিত সময় জানা আছে। এটা এমন একটা বিষয় যে, সম্ভব হলে আমি নিজ হতেও ওটাকে গোপন রাখতাম। কিন্তু আমার কাছে কোন কিছু গোপন থাকা সম্ভব নয়। এটা ফেরেশতাদের হতেও গোপন আছে এবং নবীরাও এটা জানেন না। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ (হে নবী (সঃ)! তুমি বলে দাওঃ আল্লাহ ছাড়া আসমান ও যমীনবাসীদের কেউই গায়েবের খবর জানে না।" (২৭:৬৫) অন্য আয়াতে আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ কিয়ামত) আসমানে ও যমীনে ভারী হয়ে গেছে, ওটা তোমাদের উপর হঠাৎ এসে যাবে।” (৭:১৮৭) অর্থাৎ এর অবগতি কারো নেই। এক কিরআতে (আরবী) রয়েছে। অরফা (রঃ) বলেনঃ “আমাকে হযরত সাঈদ ইবনু জুবাইর (রঃ) এভাবেই পড়িয়েছেন। এর অর্থ হলো (আরবী) অর্থাৎ আমি “ওটাকে প্রকাশ করবো।" সেইদিন প্রত্যেক আমলকারীকে তার আমলের প্রতিদান দেয়া হবে। তা অনুপরিমাণ পুণ্যই হোক অথবা পাপই হোক। ঐদিন প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের ফল ভোগ করতেই হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি কিয়ামতে বিশ্বাস করে না এবং নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে কিয়ামতে বিশ্বাস স্থাপন হতে নিবৃত্ত না করে। যদি সে তোমাকে নিবৃত্ত করতে সক্ষম হয়ে যায় তবে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।

তাফসীরে ইবনে কাসীর।

27/02/2026

আয়াতের তাফসীরঃ
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
مَا یُجَادِلُ فِیۡۤ اٰیٰتِ اللّٰہِ اِلَّا الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا فَلَا یَغۡرُرۡکَ تَقَلُّبُہُمۡ فِی الۡبِلَادِ ﴿۴﴾
কাফিররা ছাড়া অন্য কেউ আল্লাহর আয়াত নিয়ে ঝগড়া করে না। কাজেই দেশে দেশে তাদের অবাধ বিচরণ তোমাকে যেন ধোঁকায় না ফেলে। ৪-৬ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ সত্য প্রকাশিত হয়ে যাবার পর ওকে না মানা এবং তাতে ক্ষতি সৃষ্টি করা কাফিরদেরই কাজ। হে নবী (সঃ)! এ লোকগুলো যদি ধন-মাল ও মান-মর্যাদার অধিকারী হয়ে যায় তবে তুমি যেন প্রতারিত না হও যে, এরা যদি আল্লাহর নিকট ভাল না হতো তবে তিনি তাদেরকে এই নিয়ামতগুলো কেন দিয়ে রেখেছেন? যেমন মহান আল্লাহ অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যারা কুফরী করেছে, দেশে দেশে তাদের অবাধ বিচরণ যেন কিছুতেই তোমাকে বিভ্রান্ত না করে। এটা সামান্য ভোগ মাত্র; অতঃপর জাহান্নাম তাদের আবাস, আর ওটা কত নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল!” (৩:১৯৬-১৯৭) অন্য এক আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “সামান্য দিন তাদেরকে আমি সুখ ভোগ করতে দিবো, অতঃপর তাদেরকে কঠিন শাস্তির দিকে আসতে বাধ্য করবো।”(৩১-২৪) এরপর আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে সান্ত্বনা দিচ্ছেনঃ হে নবী (সঃ)! লোকেরা যে তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে এ কারণে তুমি দুঃখিত ও চিন্তিত হয়ো না। তোমার পূর্ববর্তী নবীদের (আঃ) অবস্থার প্রতি লক্ষ্য কর যে, তাদেরকেও তাদের কওম অবিশ্বাস করেছিল এবং তাদের প্রতি ঈমান আনয়নকারীদের সংখ্যা ছিল খুবই কম। হযরত নূহ, যিনি বানী আদমের মধ্যে সর্বপ্রথম রাসল হয়ে এসেছিলেন, জনগণের মধ্যে যখন প্রথম প্রথম প্রতিমা-পূজা শুরু হয় তখন ঐ লোকগুলো তাঁকেও অবিশ্বাস করে এবং তার পরেও যতজন নবী এসেছিলেন তাদেরকেও তাদের উম্মতরা অবিশ্বাস করতে থাকে। এমনকি সবাই নিজ নিজ যামানার নবীকে বন্দী করা ও হত্যা করার ইচ্ছা করে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাতে সফলকামও হয় এবং নিজেদের সন্দেহ ও মিথ্যা দ্বারা সত্যকে তুচ্ছ জ্ঞান করতে চায় এবং সত্যকে ব্যর্থ করে দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি সত্যকে দুর্বল করে দেয়ার উদ্দেশ্যে বাতিলের সাহায্য করে তার উপর হতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ) দায়িত্বমুক্ত হয়ে যান।” (এ হাদীসটি আবুল কাসেম তিবরানী (রঃ) বর্ণনা করেছেন) মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ বলেনঃ আমি ঐ বাতিলপন্থীদেরকে পাকড়াও করলাম এবং তাদেরকে তাদের বড় পাপ ও ঘৃণ্য হঠকারিতার কারণে ধ্বংস করে দিলাম। এখন তোমরা চিন্তা করে দেখো যে, তাদের উপর আমার শাস্তি কতই না কঠোর ছিল! অর্থাৎ তাদের উপর আমার শাস্তি ছিল অত্যন্ত কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক। এরপর প্রবল প্রতাপান্বিত আল্লাহ্ বলেনঃ যেমনভাবে তাদের উপর তাদের জঘন্য আমলের কারণে আমার শাস্তি আপতিত হয়েছিল, তেমনিভাবে এই উম্মতের মধ্যে যারা এই শেষ নবী (সঃ)-কে অবিশ্বাস করছে, তাদের উপরও এরূপই শাস্তি আপতিত হবে। যদিও তারা পূর্ববর্তী নবীদেরকে (আঃ) সত্য বলে স্বীকার করে নেয়, কিন্তু যে পর্যন্ত তারা শেষ নবী (সঃ)-এর নবুওয়াতকে স্বীকার না করবে, পূর্ববর্তী নবীদের উপর তাদের বিশ্বাস প্রত্যাখ্যাত হবে। এসব ব্যাপারে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী একমাত্র আল্লাহ্।

তাফসীরে ইবনে কাসীর।

19/02/2026

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন

দরবারে আলীয়া গারাংগিয়ার খলিফা, ছদাহার পীর সাহেব হযরত মাওলানা ক্বারী আব্দুস ছবুর (রাহঃ) এর ইন্তেকাল। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করুন।

আজ সকাল ১১:৩০ মিনিটে মরহুমের নীজ বাড়িতে জানাজা অনুষ্ঠিত হইবে।

06/12/2025

আয়াতের তাফসীরঃ ২১-২৪ নম্বর আয়াতের তাফসীর : আল্লাহ তা‘আলা কুরআনুল কারীমের মহত্ত্ব ও বড়ত্বের বর্ণনা দিচ্ছেন যে, এ পবিত্র কুরআন উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন কিতাব। এর সামনে অন্তর ঝুঁকে পড়ে, লোম খাড়া হয়ে যায়, কলিজা কেঁপে উঠে। মহান আল্লাহ বলেন : যদি আমি এ কুরআন পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করতাম তবে পাহাড় আমার ভয়ে বিনীত এবং বিদীর্ণ হয়ে যেত। অর্থাৎ পাহাড় এত কঠিন ও দৃঢ় হওয়া সত্ত্বেও যদি কুরআন বুঝতে পারত এবং তাতে যা রয়েছে তা অনুধাবন করতে পারত, তাহলে আল্লাহ তা‘আলার ভয়ে প্রকম্পিত ও বিদীর্ণ হয়ে যেত। তাহলে মানুষের কিভাবে শোভা পায় যে, আল্লাহ তা‘আলার ভয়ে তাদের অন্তর নরম, প্রকম্পিত ও বিনীত হবে না? অথচ তারা আল্লাহ তা‘আলার বিধান উপলব্ধি করতে পারে, আল্লাহ তা‘আলার কিতাব বুঝতে পারে। এ জন্য মহান আল্লাহ বলেছেন : আমি এসব দৃষ্টান্ত বর্ণনা করি মানুষের জন্য যাতে তারা চিন্তা করে। হাদীসে এসেছে : মিম্বার নির্মিত হওয়ার পূর্বে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি খেজুর গাছের গুড়ির ওপর দাঁড়িয়ে খুতবাহ প্রদান করতেন। অতঃপর যখন মিম্বার তৈরি করা হল তখন তিনি তার ওপর দাঁড়িয়ে খুতবাহ দিতে লাগলেন এবং ঐ গুড়িটিকে সরিয়ে দেওয়া হল। ঐ সময় গুড়ি হতে কান্নার শব্দ আসতে লাগল। শিশুর মত ওটা ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে থাকল। কারণ তাকে আল্লাহ তা‘আলার যিকির ও ওয়াহী কিছু দূর থেকে শুনতে হচ্ছে। (সহীহ বুখারী হা. ১৪১) সুতরাং কিছু মানুষ রয়েছে যাদের অন্তরে কুরআন কোন প্রভাব ফেলতে পারে না। কারণ, তাদের অন্তর পাথরের চেয়েও কঠিন। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে এমন রূঢ় অন্তর থেকে মুক্ত করে তাঁর বিধানের প্রতি নরম করে দিন। আমীন! পরের আয়াতে আল্লাহ তা‘আলার সুন্দর সুন্দর কয়েকটি নামের বিবরণ এসেছে। হাদীসে এসেছে আল্লাহ তা‘আলার নিরানববইটি নাম রয়েছে। যে ব্যক্তি তা গণনা করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সে নিরানব্বইটি নাম হল : اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ المَلِكُ القُدُّوسُ السَّلَامُ المُؤْمِنُ المُهَيْمِنُ العَزِيزُ الجَبَّارُ المُتَكَبِّرُ الخَالِقُ البَارِئُ المُصَوِّرُ الغَفَّارُ القَهَّارُ الوَهَّابُ الرَّزَّاقُ الفَتَّاحُ العَلِيمُ القَابِضُ البَاسِطُ الخَافِضُ الرَّافِعُ المُعِزُّ المُذِلُّ السَّمِيعُ البَصِيرُ الحَكَمُ العَدْلُ اللَّطِيفُ الخَبِيرُ الحَلِيمُ العَظِيمُ الغَفُورُ الشَّكُورُ العَلِيُّ الكَبِيرُ الحَفِيظُ المُقِيتُ الحَسِيبُ الجَلِيلُ الكَرِيمُ الرَّقِيبُ المُجِيبُ الوَاسِعُ الحَكِيمُ الوَدُودُ المَجِيدُ البَاعِثُ الشَّهِيدُ الحَقُّ الوَكِيلُ القَوِيُّ المَتِينُ الوَلِيُّ الحَمِيدُ المُحْصِي المُبْدِئُ المُعِيدُ المُحْيِي المُمِيتُ الحَيُّ القَيُّومُ الوَاجِدُ المَاجِدُ الوَاحِدُ الصَّمَدُ القَادِرُ المُقْتَدِرُ المُقَدِّمُ المُؤَخِّرُ الأَوَّلُ الآخِرُ الظَّاهِرُ البَاطِنُ الوَالِيَ المُتَعَالِي البَرُّ التَّوَّابُ المُنْتَقِمُ العَفُوُّ الرَّءُوفُ مَالِكُ المُلْكِ ذُو الجَلَالِ وَالإِكْرَامِ، ا لمُقْسِطُ الجَامِعُ الغَنِيُّ المُغْنِي المَانِعُ الضَّارُّ النَّافِعُ النُّورُ الهَادِي البَدِيعُ البَاقِي الوَارِثُ الرَّشِيدُ الصَّبُورُ (তিরমিযী হা. ৩৫০৭, সহীহ) তবে এ নিরানব্বই এর মাঝে সীমাবদ্ধ নয় বরং তাঁর নাম অগণিত। এ সম্পর্কে সূরা আ‘রাফের ১৮০ নম্বর আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে। اَلْمَلِكُ অর্থাৎ কোন প্রতিবন্ধক ও প্রতিরোধ ছাড়াই সব কিছুর মালিক। الْقُدُّوْسُ ওহাব বিন মুনাব্বিহ বলেন : এর অর্থ হল পবিত্র, মুজাহিদ বলেন : বরকতময়। السَّلٰمُ সকল ত্রুটি ও অপূর্ণাঙ্গতা থেকে মুক্ত, তিনি সত্তায়, গুণ ও কাজে পরিপূর্ণতার কারণে। الْمُؤْمِنُ ইবনু আব্বাস বলেন : তাঁর সৃষ্টি এ ব্যাপারে নিরাপদ যে, তিনি তাদের ওপর জুলুম করবেন না। الْمُهَيْمِنُ ইবনু আব্বাসসহ প্রমুখ বলেন : সৃষ্টিজীবের কাজের প্রত্যক্ষদর্শী। الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّر অর্থাৎ যে অহংকার ও বড়ত্ব তিনি ছাড়া অন্য কারো শানে শোভা পায় না। অহংকার আল্লাহ তা‘আলার জন্য প্রশংসনীয় কিন্তু বান্দার জন্য নিন্দনীয়। হাদীসে এসেছে আল্লাহ তা‘আলা বলেন : الْكِبْرِيَاءُ رِدَائِي، وَالْعَظَمَةُ إِزَارِي، فَمَنْ نَازَعَنِي وَاحِدًا مِنْهُمَا، قَذَفْتُهُ فِي النَّار অহংকার আমার চাদর, বড়ত্ব আমার লুঙ্গী। যদি কেউ তা হতে কোন একটি ছিনিয়ে নিতে চায় তাকে আমি জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। (আবূ দাঊদ হা. ৪০৯০, ইবনু মাযাহ হা. ৪১৭৪, সহীহ) সুতরাং অহংকার ও বড়ত্ব একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার শানেই শোভা পায়, কোন ব্যক্তির জন্য অহংকার করা ও বড়ত্ব প্রকাশ করা শোভনীয় নয়। বরং কোন ব্যক্তি অহংকার করলে তার সকল নেক আমল বরবাদ হয়ে যায়। আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় : ১. কুরআনের মহত্ব ও বড়ত্ব সম্পর্কে জানলাম। যদি তা পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করা হতো তাহলে আল্লাহ তা‘আলার ভয়ে তা বিদীর্ণ হয়ে যেত। ২. শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য উদাহরণ পেশ করা যায়। ৩. আল্লাহ তা‘আলার সুন্দর সুন্দর নামের বিবরণ জানলাম। আল্লাহ তা‘আলার সুন্দর সুন্দর নামের সংখ্যা তিনিই ভাল জানেন।
-তাফসীরে ফাতহুল মাজিদ।

29/04/2025

-: বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম :-
اَتَاۡمُرُوۡنَ النَّاسَ بِالۡبِرِّ وَ تَنۡسَوۡنَ اَنۡفُسَکُمۡ وَ اَنۡتُمۡ تَتۡلُوۡنَ الۡکِتٰبَ ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ ﴿۴۴﴾
তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দিবে এবং নিজেদের কথা ভুলে যাবে। অথচ তোমরা কিতাব পাঠ করো, তবে কি তোমরা বুঝো না? অন্যকে উপদেশ দিয়ে নিজে তা না করার জন্য তিরস্কার আল্লাহ তা‘আলা লোকদেরকে আচরণের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, যারা ভালো কাজের আদেশ করেন তাদের উচিত প্রথমেই নিজেরা তা বাস্তবায়ন করে উদাহরণ সৃষ্টি করা। (তাফসীর তাবারী ২/৮) মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক (রহঃ) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এর ভাবার্থ হলো ‘অথচ তোমরা নিজেরা তা কার্যকর করতে ভুলে যাও।’ কিতাবীদেরকে লক্ষ্য করে বলা হচ্ছে, যারা অন্যকে ভালো কাজের আদেশ করে থাকে, অথচ নিজেরা তা পালন করে না। তাদের জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে, এটা জানা সত্ত্বেও যে কিতাবীরা এ কাজ করছে এটা বড়ই বিষ্ময়কর ব্যাপারই বটে। তাই তাদেরকে উপদেশ দেয়া হচ্ছে যে, তারা অপরকে যেমন আল্লাহভীতি ও পবিত্রতার কথা শিক্ষা দিচ্ছে, তাদের নিজেদেরও তার ওপর ‘আমল করা উচিত। অপরকে সালাত-সিয়ামের নির্দেশ দেয়া, অথচ নিজে পালন না করা বড়ই লজ্জার কথা। জনগণকে বলার পূর্বে মানুষের উচিত নিজে ‘আমলকারী হওয়া। অর্থ এও হচ্ছে যে, তারা অন্যদেরকে তো তাদের কিতাবকে অস্বীকার করতে নিষেধ করছে অথচ মহান আল্লাহর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অস্বীকার করে নিজেরাই তাদের কিতাবকে অস্বীকার করছে। ভাবার্থ এও হতে পারে যে, তারা অন্যদেরকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে বলছে, অথচ ইহলৌকিক ভয়ের কারণে তারা নিজেরাই ইসলাম কবূল করছে না। একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য এখানে এটা স্মরণ রাখতে হবে যে, ভালো কাজের নির্দেশ দেয়ার জন্য আহলে কিতাবদেরকে তিরস্কার করা হয়নি, বরং তারা নিজেরা পালন না করার জন্য তিরস্কৃত হয়েছে। ভালো কথা বলা তো ভালোই, বরং এটা তো ওয়াজিব, কিন্তু সাথে সাথে মানুষের নিজেরও তার প্রতি ‘আমল করা উচিত। যেমন শু‘আইব (আঃ) বলেছেনঃ ﴿وَ مَاۤ اُرِیْدُ اَنْ اُخَالِفَكُمْ اِلٰى مَاۤ اَنْهٰىكُمْ عَنْهُ١ؕ اِنْ اُرِیْدُ اِلَّا الْاِصْلَاحَ مَا اسْتَطَعْتُ١ؕ وَ مَا تَوْفِیْقِیْۤ اِلَّا بِاللّٰهِ١ؕ عَلَیْهِ تَوَكَّلْتُ وَ اِلَیْهِ اُنِیْبُ﴾ আর আমি এটা চাই না যে, আমি তোমাদের বিপরীত সেই সব কাজ করি যা হতে তোমাদেরকে নিষেধ করছি; আমি তো সংশোধন করে দিতে চাচ্ছি, যে পর্যন্ত আমার সাধ্যে হয়, আর আমার যা কিছু প্রচেষ্টা তা শুধু মহান আল্লাহরই সাহায্যে হয়ে থাকে; আমি তাঁরই ওপর ভরসা রাখি এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করি। (১১ নং সূরাহ্ হুদ, আয়াত নং ৮৮) সুতরাং ভালো কাজ করতে বলা ওয়াজিব এবং নিজে করাও ওয়াজিব। একটি না করলে অন্যটিও ব্যর্থ হয়ে যাবে তা নয়। পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ‘আলিমদের অভিমত এটাই। যদিও কতকগুলো লোকের অভিমত এই যে, যারা নিজেরা খারাপ কাজ করে তারা যেন অপরকে ভালো কাজের কথা না বলে। কিন্তু এটা সঠিক কথা নয়। ‘আমলহীন উপদেশদাতার শাস্তি মুসনাদ আহমাদে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মি‘রাজের রাতে আমি দেখেছি যে, কতকগুলো লোকের ওষ্ঠ আগুনের কাঁচি দ্বারা কাটা হচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম যে, এরা কারা? তখন আমাকে বলা হলো যে, এরা আপনার উম্মাতের বক্তা, উপদেশ দাতা ও ‘আলিম। এরা মানুষকে ভালো কথা শিক্ষা দিতো কিন্তু নিজে ‘আমল করতো না, জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও বুঝতো না।’ অন্য হাদীসে আছে যে, তাদের জিহ্বা ও ওষ্ঠ উভয়ই কাটা হচ্ছিলো। হাদীসটি বিশুদ্ধ। ইবনু হিব্বান (রহঃ), আদী ইবনু আবী হাতিম (রহঃ), ইবনু মিরদুওয়াই (রহঃ) প্রমুখ মনীষীদের লিখিত কিতাবের মধ্যে এটা বিদ্যমান আছে। আবূ ওয়ায়িল (রহঃ) বলেন যে, একবার উসামা (রাঃ)-কে বলা হয়ঃ ‘আপনি ‘উসমান (রাঃ)-কে কেন কিছু বললেন না?’ তিনি উত্তরে বললেনঃ ‘আপনাদেরকে শুনিয়ে বললেই কি শুধু বলা হবে? আমি তো গোপনে তাঁকে সব সময়েই বলে আসছি। কিন্তু আমি কোন কথা ছড়াতে চাই না। মহান আল্লাহর শফথ! আমি কোন লোককে সর্বোত্তম বলবো না, যদিও সে আমার খুব নিকটেরও হয়। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ কিয়ামতের দিন একটি লোককে আনা হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তার নাড়িভূঁড়ি বেরিয়ে আসবে এবং সে তার চারদিকে ঘুরতে থাকবে। অন্যান্য জাহান্নামবাসীরা তাকে জিজ্ঞেস করবেঃ ‘জনাব আপনি তো আমাদেরকে ভালো কাজের আদেশ করতেন এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করতেন, আপনার এ অবস্থা কেন?’ সে বলবেঃ ‘আফসোস! আমি তোমাদেরকে বলতাম, কিন্তু নিজে ‘আমল করতামনা। আমি তোমাদেরকে বিরত রাখতাম কিন্তু নিজে বিরত থাকতামনা। (ফাতহুল বারী ৬/৩৮১, সহীহ মুসলিম ৪/২২৯১, মুসনাদ আহমাদ ৫/২০৫) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘এক স্থানে তো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেনঃ তোমরা জনগণকে ভালো কাজের আদেশ করছো, আর নিজেদের সম্বন্ধে বেখবর রয়েছো। ইবরাহীম নাখ‘ঈ (রহঃ) বলেনঃ তিনটি সূরার আয়াতের কারণে আমি লোকদেরকে উপদেশ দেয়ার ব্যাপারে দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ি। তা হলো আলোচ্য এ আয়াতটি এবং নিম্নের দু’টি আয়াতসমূহ। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেনঃ ﴿یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لِمَ تَقُوْلُوْنَ مَا لَا تَفْعَلُوْنَ۝۲ كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللّٰهِ اَنْ تَقُوْلُوْا مَا لَا تَفْعَلُوْنَ﴾ হে মু’মিনগণ! তোমরা যা করো না তা তোমরা কেন বলো? তোমরা যা করো না তোমাদের তা বলা মহান আল্লাহর দৃষ্টিতে অতিশয় অসন্তোষজনক। (৬১ নং সূরাহ্ সাফ, আয়াত নং ২-৩। তাফসীর কুরতুবী ১/৩৬৭) মহান আল্লাহর নিকট এটা খুব অসন্তষ্টির কারণ যে, তোমরা যা বলবে তা নিজেরা করবে না।’ অন্য আয়াতে শু’আইব (আঃ)-এর কথা, যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ ﴿وَ مَاۤ اُرِیْدُ اَنْ اُخَالِفَكُمْ اِلٰى مَاۤ اَنْهٰىكُمْ عَنْهُ١ؕ اِنْ اُرِیْدُ اِلَّا الْاِصْلَاحَ مَا اسْتَطَعْتُ١ؕ وَ مَا تَوْفِیْقِیْۤ اِلَّا بِاللّٰهِ١ؕ عَلَیْهِ تَوَكَّلْتُ وَ اِلَیْهِ اُنِیْبُ﴾ আর আমি এটা চাইনা যে, আমি তোমাদের বিপরীত সেই সব কাজ করি যা হতে তোমাদেরকে নিষেধ করছি; আমি তো সংশোধন করে দিতে চাচ্ছি, যে পর্যন্ত আমার সাধ্যে হয়, আর আমার যা কিছু প্রচেষ্টা তা শুধু মহান আল্লাহরই সাহায্যে হয়ে থাকে; আমি তাঁরই ওপর ভরসা রাখি এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করি। (১১ নং সূরাহ্ হুদ, আয়াত নং ৮৮) আচ্ছা বলতো ! তুমি কি এই তিনটি আয়াত হতে নির্ভয় হয়ে রয়েছো? সে বলেঃ ‘না।’ তিনি বলেনঃ ‘তুমি স্বীয় নাফ্স হতেই আরম্ভ করো।’

゚viralシfypシ゚viralシalシ

28/04/2025
25/01/2025

আল্লাহকে স্মরণ না করা এবং তাঁর জিকির আজকার থেকে দূরে সরে থাকার নামই হচ্ছে দুনিয়া...
আল্লামা শাহ আব্দুর রশিদ ছিদ্দিকী হামেদী রাহঃ।

25/01/2025
16/01/2025

Address

দরবারে আলীয়া গারাংগিয়া
Satkania
4386

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when গারাংগিয়া ইসলামিয়া রব্বানী মহিলা কামিল মাদরাসা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The University

Send a message to গারাংগিয়া ইসলামিয়া রব্বানী মহিলা কামিল মাদরাসা:

Share