28/10/2026
বহু বছর আগে সে আমাকে বলে ছিলো আরিফ আজাদের "প্যারাডোক্সিক্যাল সাজিদ" আর "বেলা ফুরাবার আগে" বই দুইটা যেনো আমি পড়ি। তখন আমি বই টই পড়তামই না। তার চলে যাওয়ার প্রায় দেড় বছর পরে আমি প্যারাডক্সিকাল সাজিদ বইটি পড়ি। এর ফলে আমার মধ্যে বই পড়ার প্রতি একটু আধটু আগ্রহ জন্মে। আমি আস্তে ধীরে যে ফিল্ম গুলো উপন্যাস ভিত্তিক হতো তার মধ্যে কয়েকটি ফিল্ম দেখে উপন্যাস পড়াও শুরু করি। পরবর্তী সময়ে আমি নিজেকে আরো এগিয়ে নিয়ে ইতিহাস, আর্থ সামাজিক, রাজনৈতিক, গোয়েন্দা ভিত্তিক, অ্যাডভেঞ্চার সহ কয়েক প্রকার বই পড়ি। এতে আমার চিন্তাধারায় আমূল-পরিবর্তন আসে। আগে আমি যখন লেখালেখি করতাম তখন আমার চিন্তাধারা খুব সীমিত ছিলো। কিন্তু ওর মাধ্যমে আমি মাত্র কয়েক ধরণের বই পড়ে নিজের লেখালেখি কে আরো উত্তম বানিয়ে ফেলি।
আমি নিজেকে অনেক বড় পাঠক মানি না। আবার আমার বই পড়ার মাত্রাও বেশ সীমিত। আমি কিন্তু নিজেকে অনেক বড় লেখকও ভাবি না। আমি শুধু মনের শখে লেখি। সে চলে যাওয়ার আজ এতো বছর পরেও তার দেয়া পরামর্শ আমার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আমি তাকে চিন্তা করি নিয়মিত লেখি। হ্যা ও অনেক সুন্দর। আমার মধ্যে সেই সামর্থ্য নাই যে লেখে যথাযথ ভাবে তার সৌন্দর্য্য কে ব্যাখ্যা করতে পারবো। তবুও অন্তত চেষ্টা করি, এই মনের ইচ্ছা প্রকাশ করি। আমি অনন্তকাল পর্যন্ত লিখলেও বুঝাতে পারবো না তার অস্তিত্ব কতো মার্জিত। তাকে হারিয়ে মাঝেমধ্যে আমার মস্তিষ্কে এই চিন্তা জাগে যে, "সে হয়তো আমার জীবনে আমার হওয়ার জন্য আসে নাই। বরং আমাকে তার প্রশংসার স্তুতি পাঠ করার জন্য এসেছে।"
সে না হোক তো কি হলো? তার খেয়াল তো আমার মধ্যে বসবাস করে। ইহাও প্রচুর আরামদায়ক। আমার মধ্যে এই মধুর অভ্যাস গড়িয়ে তার প্রশংসায় বশীভূত করে রাখার জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই। ও যেমন সুন্দর ওর চিন্তাধারা আর ওর অভ্যাসের পরিসীমাও ততো সুন্দর। ধন্যবাদ।
- নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক