18/05/2026
নৈতিকতা ও বিজ্ঞানচর্চায় আলোকিত প্রজন্ম গড়তে আল-আমীন জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল এন্ড কলেজের ব্যতিক্রমী আয়োজন-
“নৈতিক মানুষই উন্নত জাতির ভিত্তি; বিজ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও আধুনিক প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে আগামী প্রজন্ম।”
— প্রফেসর আনোয়ার হোসেন চৌধুরী
চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেট
সিলেট, ১৮ মে: আল-আমীন জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল এন্ড কলেজে দুই দিনব্যাপী “বিজ্ঞান ও মাইক্রোস্কিল মেলা এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ” অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব আজ উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। মাধ্যমিক বালিকা শাখার শিক্ষিকা জনাবা জামিলা আলম পুষ্পা ম্যাডামের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় পুরো অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে আরও প্রাণচঞ্চল ও আকর্ষণীয়।
স্বাগত বক্তব্যে কলেজের অধ্যক্ষা জনাব জসীম উদ্দিন প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও উপস্থিত সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, “বর্তমান যুগে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের দক্ষ ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জনাব ইকবাল আহমেদ সিদ্দিকী বিদ্যালয়ের ব্যতিক্রমধর্মী এই বিজ্ঞান আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা ও গবেষণার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে। এ ধরনের উদ্যোগ তাদের সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস ও উদ্ভাবনী শক্তিকে আরও বিকশিত করবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেট-এর মাননীয় চেয়ারম্যান প্রফেসর আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, “বর্তমান বিশ্বে AI, ChatGPTসহ আধুনিক প্রযুক্তি মানুষের জ্ঞান ও গবেষণার জগতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তবে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নেতিবাচক দিক থেকে শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে হবে।” তিনি মহানবী (সা.)-এর “জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজনে চীন দেশে যাও” হাদিসের আলোকে শিক্ষার্থীদের নিরন্তর জ্ঞানচর্চার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, “Give me an educated mother, I will give an educated nation”—এই প্রবাদই প্রমাণ করে শিক্ষিত ও নৈতিক মানুষই একটি উন্নত জাতির মূল ভিত্তি।
সভাপতির বক্তব্যে জনাব আব্দুস শাকুর বলেন, “এ ধরনের বিজ্ঞান ও সৃজনশীল আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে বিজ্ঞানমনস্ক, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধ করবে।
অনুষ্ঠানের পরবর্তী অংশে বিজ্ঞান শিক্ষিকা জনাবা মরিয়ম বেগম বিজ্ঞান মেলার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। এতে শিক্ষার্থীদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে পুরো পরিবেশ মুখর হয়ে ওঠে। মেলায় প্রদর্শিত উদ্ভাবনী প্রজেক্টগুলোর মধ্যে ছিল— Eco Friendly House, Eco Solar Village, Smart Irrigation System, Smart City, Cyber Crime, Bangladesh Economic Systemসহ নানা যুগোপযোগী ও সৃজনশীল পরিকল্পনা।
শেষে কলেজ অধ্যক্ষ অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। মেয়েদের পর্বের সমাপ্তি ঘোষণা করে শিক্ষক জনাব আজহার মিয়া ও জনাবা মরিয়ম বেগমসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
আয়োজকরা মনে করেন, এ ধরনের বিজ্ঞান ও নৈতিকতাভিত্তিক অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীল বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে ছেলেদের পর্ব।