17/08/2022
প্রথম চাকুরী/ভাইভা: পার্ট - ১
আমরা টেক্সটাইল গ্রাজুয়েশন সাথে নিজেরদের কে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখি, একই ভাবে আমাদের বাবা-মা ও আমাদের নিয়ে অনেক আশা রাখেন। কিন্তু দেখা যায় আজকাল বেশিরভাগ শিক্ষার্থী টেক্সটাইল গ্রাজুয়েশন শেষ করেও নিজের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী চাকুরী পায় না কিম্বা অনেক দিন বেকার বসে থাকতে হয়। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা বলবে এটা মামা-চাচাদের কারনে আমরা অবহেলিত হই। হুম এটা অনেকটা সত্যি, তবে এর হতেও বেশি সত্যি আপনি যদি নিজেকে সেভাবে গড়ে তুলতে পারেন মামা-চাচা তো দূরের কথা, নিজের যোগ্যতায় আপনার নিজের কাছেই চাকুরির মেলা বসে যাবে। আমাদের গার্মেন্টস সেক্টর আর সেই আগের মামা-চাচাদের কিম্বা বিবিএ, অনার্স-মাস্টার্স দের আমলে নেই, এখন কোম্পানিগুলো টেক্সটাইল ব্যাকগ্রাউন্ড ট্যালেন্ট, টেক্সটাইল নিয়ে গোড়া হতে জানা নতুন প্রজন্মদের বেশি চায়। দোষ বেশিরভাগ আমাদেরই, আমরা নিজেদের জড়তা ভেঙ্গে সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারি না। ফ্রেশার হতে খুব তাড়াতাড়ি প্রথম চাকুরী/ভালো ডিপার্টমেন্টে সিলেক্ট হওয়ার সাথে আসলে অনেক বিষয় জড়িত যা আজকালের গ্রাজুয়েটরা ফোকাস করে না। বিষয়গুলো নিয়ে আসলেই সবার ফোকাস করা উচিত।
একাডেমিক সময়ের প্রস্তুতিঃ
সিজিঃ
প্রথমত একটা স্ট্যান্ডার্ড মানের সিজি ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে। ব্যাপারটা এমন না যে আমার ৩.৮০+ লাগবেই। হ্যা যাদের টিচিং বা হায়ার স্টাডি ফোকাস আছে তাদের জন্য বিষয়টা ভিন্ন, তবে আমাদের দেশের কোম্পানিগুলোতে মোটামুটি একটা ভাল সিজি হলেই ক্যান্ডিডেটের ভাল ইমেজ তৈরি হয়। অনেকেই বলে সিজি কোন ম্যাটার না, এটা অনেকটা বাংলা মুভির আজাইরা ডায়ালগ এর মতো। ভালো সিজির দাম অবশ্যই আছে। হ্যা তবে শুধু সিজি নিয়ে পড়ে থাকলেন বাকি কোন স্কিলস ডেভেলপমেন্টে নজর দিলেন না, তাহলে এটা বড় একটা ভুল।
থিসিস/প্রোজেক্টঃ
আমরা অনেকেই শুধু পাশ করতে হবে বলে থিসিস/প্রোজেক্টের কাজ করে থাকি, কিন্তু আমরা বেশিরভাগই জানি না কিভাবে এই থিসিস কে কাজে লাগিয়ে ভালো চাকুরী লুফে নেওয়া যায় কিম্বা ভাইবাতে নিজের জন্য আলাদাভাবে কোম্পানির সুদৃষ্টি ফেলা যায়। একটা উদাহরণ দেই, আজকাল বাজারে মার্চেন্ডাইজিং জব হলো সবচেয়ে হট জব, টেক্সটাইল ব্যাকগ্রাউন্ড মাক্সিমাম গ্রাজুয়েট এই পেশাতে আসতে চায়। ধরুন একটা কোম্পানিতে মার্চেন্ডাইজিং ডিপার্টমেন্টে ২ জন ক্যান্ডিডেট সিভি ড্রপ করেছেন। যাদের একজনের সিভিতে উল্লেখ আছে সে ছাত্রজীবনে মার্চেন্ডাইজিং নিয়ে থিসিস করেছেন আর অপরজন এমন কিছু করে নাই কিম্বা সিভিতে থিসিস উল্লেখ ও করে নাই। উক্ত কোম্পানি তাদের ঔ মার্চেন্ডাইজিং ডিপার্টমেন্টের জন্য তাহলে কোন ক্যান্ডিডেটর উপর প্রথমেই দৃষ্টি দিবে? হিসাবটা কিন্তু খুবই সোজা। এইজন্যই থিসিস এর টপিক নেয়ার আগে নিজের প্যাশন, পছন্দের জব ডিপার্টমেন্ট, হায়ার স্টাডি ফোকাস ইত্যাদি ভেবে নিতে হয় যাতে পরবর্তীতে আমরা এই থিসিস হতে পজিটিভ কিছু পায়।
কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিসঃ
কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিস বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা সেভাবে ফোকাসে নেয় না, কিন্তু তারা জানে না সিভিতে এই বাড়তি কাজগুলো ক্যান্ডিডেট কে বাকিদের তুলনায় অনেক আগায় রাখে হোক তা ভাইভা কল পেতে কিম্বা ফাইনাল সিলেকশনে কারণ, ক্যাম্পাস জীবনে যারা বিভিন্ন উদ্ভাবনী, দলীয় কাজ ইত্যাদিতে যুক্ত থাকে তাদের মাঝে একটা টিমকে লিড করার অভিজ্ঞতা আপনা আপনিই তৈরি হয়, যেটা একটা কোম্পানির জন্য অনেক বড় চাওয়া। অ্যাকটিভিটিস গুলো বিভিন্নরকম হতে পারে, যেমন বিভিন্ন টেক্সটাইল ফ্যাক্টরি ভিজিটিং, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ক্লাবের কাজ, ডিবেটিং, সোস্যাল কাজ করা, ক্যাম্পাসের মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখা, বিভিন্ন টেক্সটাইল অরগানাইজেশান/ম্যাগাজিন ইত্যাদির সাথে কাজ করা।
মান সম্পূর্ণ সিভি/রিজিউম/কভার লেটারঃ একজন জবদাতা প্রথমেই একটা ক্যান্ডিডেটের যে জিনিসটা দেখে ইম্প্রেসড হয়ে ইন্টারভিউ কল দিতে ইচ্ছুক হয় তা হলো সিভি/কভার লেটার। সিভি/কভার লেটারে কি কি থাকা উচিত তা পরবর্তী পার্টে আসবে। তবে শিক্ষার্থীদের উচিত কপি করা বাদ দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং এর শেষ বর্ষতে নিজেরাই সিনিয়র ভাই বা টিচারদের সাহায্য নিয়ে মানসম্মত সিভি/কভার লেটার তেরী করে রাখা। আজকাল বেশিরভাগই দেখা যায় সিভি তে নিজের সেল্ফি, কপি পেস্ট, কভার লেটার ছাড়াই মেইল, ইভেন সিভির নামটাও ঠিকঠাক লেখে না ক্যান্ডিডেট।জবদাতার তো আজকাল ক্যান্ডিডেটের অভাব হয় না, সো কেন সে এমন বেসিক জ্ঞান ছাড়া কাউকে ইন্টারভিউতে ডেকে নিজেদের সময় নষ্ট করবে?গুগুলে সার্চ করলে হাজার হাজার সিভি ফরমেট পাওয়া যায়, তা হতে একটা নিয়ে নিজের মতো করে সাজিয়ে নিলেই হয়ে যায়। তবে বেশি আধুনিক বা বেশি পেজ, কালারফুল সিভি না করায় ভাল। নিজের কাছে পরিপাটি লাগে এমন ২ পেজের সিভিই যথেষ্ট।
কমিনিউকেশন ডেভেলপমেন্টঃ
কমিনিউকেশন বলতে আজকাল সবাই জাস্ট নিজ নিজ ক্যাম্পাসের সিনিয়রদের সাথে যোগাযোগ বুঝে কিন্তু কমিনিউকেশন বলতে মূলত বুঝায় পুরো টেক্সটাইল জগতের সাথে সংযোগ রাখা। নিজের ক্যাম্পাসের সিনিয়রদের সাথে অবশ্যই যোগাযোগ রাখতে হবে, সেই সাথে টেক্সটাইল বিজনেসে সম-সাময়িক কি ট্রেন্ড চলছে, সমস্যা/সমাধান, টেক্সটাইল নিয়ে বিভিন্ন এক্সপো/ফেয়ার, অনলাইনে সেমিনার ইত্যাদির সাথে টুকটাক সংযুক্ত থাকা উচিত।
সেল্ফ স্কিলস ডেভেলপমেন্ট/ উপস্থাপনঃ
স্কিলস এর মাঝে প্রথমেই দরকার কম্পিউটার দক্ষতা। তবে আহামরি কম্পিউটারের সবকিছু নিয়েই যে দক্ষতা লাগবে ব্যাপারটা এমন নয়। আমাদের ফ্যাক্টরির মাক্সিমাম ওরাকল, জিএমএস ইত্যাদি সিস্টেম ব্যবহার হয় কাজের জন্য, যা সাধারন মানুষ বাইরে খুব একটা ব্যবহার করে না। মোদ্দা কথা মাইক্রোসফট এক্সেল আর ওয়ার্ড টা ভালো পারলেই যথেষ্ট। আর আজকাল ইমেইল করতে পারে না এমন ইঞ্জিনিয়ার আছে বলে মনে হয় না। আবার অনেকেই বলে ইংরেজি স্কিলস ডেভেলপমেন্ট করতে। আমি মনে করি আমরা যারা ইংরেজি মিডিয়ামতে ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করি, তাদের ইংরেজি বেসিক অতোটাও খারাপ হবার কথা না। প্রধান সমস্যা হলো ইংরেজিতে আমাদের নিজেদের জড়তা। তারপরও ইংরেজিতে আরও ডেভেলপমেন্ট কেউ করতে চাইলে এটা একটা ভাল দিক। বর্তমানে নিজেকে চাকুরির সেক্টরে উপস্থাপনের ২টা বিশাল মাধ্যম হলো বিডিজব আর লিঙ্কডইন। চতুর্থ বর্ষতেই আমাদের উচিত এই ২ মাধ্যমে আমাদের নিজেদের এ টু জেড সবকিছু সুন্দর পরিপাটি করে সাজিয়ে নিজেদেরকে কোম্পানির কাছে উপস্থাপন করা। প্রয়োজনে বিডিজবের ভিডিও সিভিটাও আপলোড করে রাখবেন।