17/10/2025
২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চর জব্বর ডিগ্রি কলেজের পারফরম্যান্স, সরকার মাসে ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয় করছে কেন? শিক্ষার্থীরা মাসিক ফি, সেশন ফি দিয়ে আউটপুট কি পাচ্ছে, তা দেখা উচিত। হিসেব করা উচিত। ২০২৫ সালে ১২৮০ জন শিক্ষার্থী চরজব্বর কলেজ কেন্দ্রে ফি দিয়েছে জনপ্রতি ৪৫০ টাকা করে মোট ৫,৭৬,০০০ টাকা। খরচ হয়েছে কত? বাকি টাকা কলেজ ফান্ডে জমা হয়েছে কি না? এর উত্তর গভর্নিংবডির সদস্যদের কাছে আছে?
চলতি বছরে কলেজটির পাসের হার মাত্র ৩০ দশমিক ৮৯ শতাংশ, যা গত পনেরো বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। অথচ ২০২২ সালেই এই কলেজের পাসের হার ছিল ৯৪ দশমিক ২৫ শতাংশ অর্থাৎ তিন বছরের ব্যবধানে প্রায় ৬৪ শতাংশ পয়েন্ট কমে গেছে।
বছরভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ (২০১১–২০২৫)
২০১১ সালে চর জব্বর কলেজ থেকে ৬২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়, যার মধ্যে পাস করে ৪১ জন পাসের হার ছিল ৬৬.১৩ শতাংশ।
২০১২ সালে অংশ নেয় ১১৩ জন, পাস করে ৮১ জন, অর্থাৎ ৭১.৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়।
২০১৩ সালে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও ফলাফল ভয়াবহভাবে নেমে যায় ১৫৭ জনের মধ্যে মাত্র ৫৬ জন পাস করে; পাসের হার ৩৫.৬৭ শতাংশ।
এরপর ২০১৪ সালে কিছুটা উন্নতি হয়; ২২৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯৩ জন পাস করে, পাসের হার ৮৫.৪০ শতাংশ।
২০১৫ সালে আবার কমে গিয়ে দাঁড়ায় ৬৫.৭৪ শতাংশ, ২১৭ জনের মধ্যে পাস করে ১৪২ জন।
২০১৬ সালে পাসের হার কিছুটা বাড়ে, ৬৭.৪০ শতাংশ, ৩২৪ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ২১৫ জন।
২০১৭ সালে ফলাফল আবার খারাপ হয়; ৩১০ জনের মধ্যে পাস করে মাত্র ১৫০ জন, অর্থাৎ ৪৮.৩৯ শতাংশ।
২০১৮ সালে সামান্য উন্নতি—৩৬৪ জনের মধ্যে পাস করে ২৩২ জন, হার ৬৩.৯১ শতাংশ।
২০১৯ সালে একই ধারা অব্যাহত থাকে; ৩২৬ জনের মধ্যে ২০৭ জন পাস করে, হার ৬৩.৫০ শতাংশ।
২০২০ সালে কোভিড পরিস্থিতিতে “অটোপাস” প্রক্রিয়ার কারণে পাসের হার হয় ১০০ শতাংশ ২৯৩ জন পরীক্ষার্থী সবাই পাস করে, যদিও কোনো শিক্ষার্থী GPA 5 পায়নি।
২০২১ সালে ফলাফল ভালো থাকে, পাসের হার ৯৭.৭৩ শতাংশ, ৪০৪ জনের মধ্যে ৩৮৮ জন উত্তীর্ণ হয়।
২০২২ সালে কলেজের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ফলাফল দেখা যায় ৩২০ জনের মধ্যে ২৯৫ জন পাস করে, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ, GPA 5 পায় ১২ জন শিক্ষার্থী। [শর্ট সিলেবাসে পরীক্ষা হয়েছে]
কিন্তু ২০২৩ সালে পরিস্থিতি বদলে যায় ৩৮১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করে মাত্র ২১৬ জন; পাসের হার নেমে আসে ৫৭.১৪ শতাংশ।
২০২৪ সালে সামান্য উন্নতি হয়; ৪৭২ জনের মধ্যে পাস করে ৩৮১ জন, হার ৮১.০৬ শতাংশ।
এবছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে, আবারও ভয়াবহ পতন ৩২০ জনের মধ্যে ২২৩ জন ফেইল করেছে, পাস করেছে মাত্র ৯৭ জন পাস করেছে; পাসের হার ৩০.৮৯ শতাংশ এবং GPA 5 পেয়েছে মাত্র ২ জন।
এই সময়কালে GPA 5 পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ২৪ জন যা কলেজের মেধা ও গুণগত শিক্ষার ভয়াবহ দুরবস্থা নির্দেশ করে।