10/02/2020
#বারাসাত_সরকারি_মহাবিদ্যালয়/ #বারাসাত_গভঃ_কলেজের_ইতিহাস।
বারাসাত শহরের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বাংলায় আগত রেনেসাঁ-এর আলোও ইতিহাস প্রসিদ্ধ এই বারাসাতের মাটিকে স্পর্শ করে গিয়েছে।
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে, ভারত-মাতাকে বন্দনা করতে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কন্ঠে যে গান বারবার ধ্বনিত হয়েছে, সেই “বন্দেমাতরম” সংগীতের স্রষ্টা, সুরকার, সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, এই বারাসাত শহরেই ভারতবর্ষের প্রথম ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন।
বারাসাত শহরে শিক্ষার বিকাশ ঘটাতে ১৮৪৬ সালে প্যারীচরণ সরকার, নিজ উদ্যোগে বারাসাত রাষ্ট্রীয় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর অবদান কে স্মরণীয় করে রাখতে, ১৯৯৬ সালে তার স্মৃতিতে বারাসাত গভর্মেন্ট স্কুলের নাম পরিবর্তন করে, বারাসাত প্যারীচরণ সরকার রাষ্ট্রীয় বিদ্যালয় রাখা হয়।
ঠিক তার পরের বছর ১৮৪৭ সালে, বাংলায় নারী শিক্ষার প্রসার ঘটাতে, কালীকৃষ্ণ মিত্র, ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও প্যারীচরণ সরকারের সহযোগিতায়, বাংলা তথা ভারতবর্ষের প্রথম বেসরকারি মহিলা স্কুল স্থাপন করেন। বর্তমানে বারাসাত বাসীর কাছে যেটি কালীকৃষ্ণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় নামে পরিচিত। বারাসাত সরকারি মহাবিদ্যালয় উত্তরাধিকারসূত্রে সেই প্রাচীন সংস্কৃতির-ই নবতম অধ্যায়।
বারাসাত সরকারি মহাবিদ্যালয় এর জন্ম বা পথ চলা শুরু হয়েছিল, এক ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের সন্ধিক্ষণে। ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে দ্বিজাতি তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়। ভারতীয় স্বাধীনতা আইন ১৯৪৭ অনুসারে, ১৪-ই আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫-ই আগস্ট ভারত কে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়।
১৯৪৭ সালের ২০-শে জুন, লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী, বঙ্গীয় আইন পরিষদের ভোটাভুটির ফলাফলের প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ ভারত এবং পূর্ববঙ্গ প্রদেশ কে পাকিস্তানের সাথে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই বঙ্গ বিভক্তির ফলস্বরূপ বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী অবিলম্বে স্থানান্তরন শুরু করেন। কয়েক মিলিয়ন হিন্দু ধর্মাবলম্বী পূর্ব বাংলা থেকে ভারতে অভিবাসন প্রক্রিয়া শুরু করে। অভিবাসিত ব্যক্তিদের অধিকাংশই পশ্চিমবঙ্গে স্থায়ী ভাবে বসবাস করতে শুরু করেন। উপচে পড়া জনগণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বারাসাত শহর ও তার আশেপাশে বসবাস শুরু করেন। তাদের প্রথাগত শিক্ষার কথা চিন্তা করে, ১৯৫০ সালে তৎকালীন রাজ্য সরকার, বারাসাত শহরকে একটি নতুন কলেজ নির্মাণের স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছিল।
বারাসাত রাষ্ট্রীয় বিদ্যালয়ের জন্য নির্দিষ্ট খেলার মাঠে তিনটি বিচ্ছিন্ন দ্বিতল বিশিষ্ট ভবন ছিল, যেটি আবাসিক ছাত্রদের সুবিধার্থে রাখা হয়েছিল। কলেজ স্থাপন করবার জন্য বিদ্যালয়ের ওই তিনটি ছাত্রাবাস ভবন ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। দ্বিতল ভবনের নিচ তলাটা শ্রেণিকক্ষ হিসাবে ব্যবহৃত হতো। আর দ্বিতল-এর ঘরগুলি অধ্যক্ষ কক্ষ, অধ্যাপক কক্ষ, কলেজের অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। তিনটি বিচ্ছিন্ন ভবনের একটির দ্বিতীয় তলায় মাত্র ৫০ টি বই নিয়ে একটি গ্রন্থাগার করা হয়েছিল। কলেজ শুরুর সময় শুধুমাত্র ইন্টারমিডিয়েট (কলা-বিভাগ) পড়ানো হতো। প্রথমে ৩০ জনের থেকে কিছু কম ছাত্র নিয়ে কলেজের পঠন-পাঠন শুরু হয়। পরবর্তীতে সমমানের উচ্চমাধ্যমিক (কলা ও বিজ্ঞান বিভাগ) পর্যন্ত পঠন-পাঠনের ব্যবস্থা করা হয়। সাম্প্রতিক অতীতে, ১৯৯৯ সালে কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক কোর্স তুলে দেওয়া হয়।
১৯৫৬ সালে বারাসাতের নাগরিক সমাজ সরকারি মহাবিদ্যালয় কে ডিগ্রী কলেজে উন্নীত করবার জন্য একটি কমিটি গঠন করে, কাজ শুরু করেন। ১৯৫৬-৫৭ সালে সাফল্যের সঙ্গে কলা বিভাগে স্নাতক স্তরের পঠন-পাঠন শুরু হয়। চেষ্টা থাকলেও, স্থানাভাবের কারনে বিজ্ঞান বিভাগের ডিগ্রী কোর্স চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে ১৯৫৭-৫৮ সালে ইন্টারমিডিয়েট কোর্সে বায়োলজি বিষয়টি যুক্ত করা হয়, এবং পূর্বোক্ত ভবনের কোন একটির নিচতলায় প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়।
১৯৬২ সালে কলেজের অফিসঘর, অধ্যক্ষের চেম্বার, অধ্যাপকদের কক্ষ এবং গ্রন্থাগার সমন্বয়ে নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হয়। এরপরে পরেই বিজ্ঞান বিষয়ক ডিগ্রী কোর্স শুরু হয়। নতুন ভবনের দোতলায় পদার্থবিজ্ঞান এবং রসায়ন-এর অনার্স কোর্স চালু হয়।
১৯৯৩ সালে বর্তমান বিজ্ঞান ভবনটি উদ্বোধন করা হয়। এখানে মূলত পদার্থ-বিজ্ঞান, গণিত, ভূগোল বিভাগের অনার্স কোর্স পড়ানো শুরু হয়, এবং পরবর্তীতে বাংলা অনার্স বিভাগটিকেও নতুন ভবনে স্থানান্তরিত করা হয়।
১৯৯৬-৯৭ সালে কলেজে বোটানি (উদ্ভিদ-বিজ্ঞান) এবং জুলজি (প্রাণীবিদ্যা) বিভাগে অনার্স কোর্স চালু করা হয়। পরে ২০০৩ সালে বোটানি (উদ্ভিদ বিজ্ঞান) বিভাগ স্নাতকোত্তর বিভাগের মর্যাদায় উন্নীত হয়, এবং ২০০৪ সালে একাডেমিক স্বায়ত্তশাসন অর্জন করে।
পূর্বে কলেজটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমানে কলেজটি নবনির্মিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত।
বর্তমানে কলেজের চারটি বিষয়ে বোটানি, জুলজি, পদার্থ-বিজ্ঞান এবং বাংলা বিভাগে স্নাতকোত্তর পঠন-পাঠনের ব্যবস্থা রয়েছে। রসায়ন বিভাগটিও স্নাতকোত্তর বিভাগের মর্যাদা লাভ করলেও, এখনো সেই বিভাগটি শুরু করা যায়নি।
কলেজে নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইউনিট রয়েছে। যাতে ২১ টি বিষয়ে ইন্টারমিডিয়েট এবং স্নাতকোত্তর কোর্সের ব্যবস্থা রয়েছে।
২০০৯ সালে বারাসাত গভর্মেন্ট কলেজ প্রথমবার NAAC পিয়ার দলের মুখোমুখি হয়। ২০১৩ সালে কলেজ DST-FIST অনুদান লাভ করে।
চিত্র সৌজন্যে:- #অভিষেক_মোহর_চ্যাটার্জী'র সঙ্গে আমরা টিম #বাrasat_City....
to barasat city page