16/05/2026
ভদ্রেশ্বর সারদাপল্লী কন্যা বিদ্যাপীঠ একসময়ের একটি নামী বিদ্যালয়। মাঝে মান অনেকটাই নেমে গেছিল। বিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়েও উঠে গেছিল।
2014 সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রাণপন চেষ্টা করেছি, বিদ্যালয়ের উন্নতির জন্য। পাশে পেয়েছি কিছু শুভবুদ্ধি সম্পন্ন শিক্ষিকা এবং তৎকালীন এম. সি র সম্পাদিকা অর্চনাদি, এবং তারপর সরকারি আধিকারিকদের। আবার বিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়েছে। পরিকাঠামো আমূল পরিবর্তন করা গেছে। এখনও কাজ বাকী আছে যদিও।
বাংলা মিডিয়াম এর এই দুর্দিনেও ছাত্রীসংখ্যা ভালো। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এর ফল ও উল্লেখযোগ্য ভালো।
দুটি পরীক্ষাতেই ভদ্রেশ্বর এ সেরা রেজাল্ট।
উন্নত ল্যাব, বিষয় শিক্ষিকা, সব মজুত।
এরপর ও আমাদের ছাত্রীরা তাদের অভিভাবকেরা ইলেভেনে অন্য স্কুলে ভর্তি করছে।এমন স্কুল যেখানে টিচার নেই, পার্ট টাইমার দিয়ে, তিনগুণ বেশী ফি দিয়ে ভর্তি হয়।
অসাধারণ গুজবপ্রবণ এলাকা। এখানে বাজারে, দোকানে মেয়েদের স্কুলের উন্নতি এবং মহিলা দ্বারাই, অনেকের চক্ষু শূল।
নিজের নাক কেটে নিজের যাত্রা ভঙ্গ টিপিক্যাল বৈশিষ্ট্য।
যে অভিভাবকেরা কখনো অভিভাবক সভায় আসেননা,মতামত দেননা, তারা অন্য স্কুলে মেয়েকে ভর্তি করার জন্য দরবার করতে আসেন। চোখের সামনে এ বছরের ফলাফল দেখার পরেও তারা অনড়, অন্য স্কুলে যাবেই।
2016 সালের SSC batchএ আমাদের স্কুলের ছ'জন টিচার এর চাকরী চলে গেছিল। একজন অযোগ্য। বাকী সবাই ফের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে ফিরে এসেছে। সারা রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ভূগোল শিক্ষিকা আবার জয়েন করেছে।
পাশাপাশি কিছু স্কুলে 2016 সালে কোনো টিচার জয়েন করেনি। সে সময় তাদের শূন্য পদ ছিলনা।
কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার, অভিভাবকদের কাছে, তাহলে এই স্কুল খারাপ, ওই স্কুল ভালো। কেউ বোঝেন, কারো বা মগজ ধোলাই চলছে।
হ্যাঁ। মগজধোলাই! স্কুল থেকে অনেকের স্বার্থ সিদ্ধি হচ্ছে না আগের মতো, পেটি পলিটিক্স তো আছেই।এখানে হযবরল পলিটিক্স। সুবিধাবাদ যার মূল কথা।
কিছু বিদ্যালয় যাদের স্টুডেন্ট কম, অনৈতিক পথ নিয়েছে, যাতে ছাত্রী ও অভিভাবকদের ভুল পথে পরিচালিত করে সারদাপল্লী স্কুলের ছাত্রী কমানো যায়।
যারা জেগে ঘুমোয়, পেটি পলিটিক্স এর ফাঁদে পা দেয় তাদের তো বুঝিয়ে লাভ নেই।
এরপর ও আমাদের প্রিয় ছাত্রীদের জানাই, বাজার চলতি গুজবে কান দিওনা।
আমাদের বিজ্ঞান ও কলা বিভাগ, নিউট্রিশন, ইকনমিক্স সব বিষয়ে অভিজ্ঞ টিচার আছেন।এলাকার সব থেকে কম ভর্তি ফি। তোমরা মাদার স্কুলেই পড়াশোনা করো।
স্কুলের এই বছরের রেজাল্ট দেখে সিদ্ধান্ত নাও।
আর নতুন সরকারকে একরাশ অভিনন্দন জানিয়ে সুপারিশ করি, সব স্কুলে সব stream এবং সব বিষয় পড়ানোর টিচার রিক্রুট করুন। Vocational course চালু করার ব্যবস্থা করুন। কিংবা নির্দিষ্ট কিছু কম পরিচিত সাবজেক্টে ভিজিটিং টিচার রাখুন। সামান্য, পরিবেশ কিংবা সমাজবিজ্ঞান পড়ার দোহাই দিয়ে গুটিকয় চালু স্কুলে ছাত্র ছাত্রীরা ছুটে না বেড়ায়। নিজের বিদ্যালয়ে যেন টুয়েলভ পর্যন্ত পড়াশোনা করতে পারে।H. S কাউন্সিলের বহু পুরোনো নিয়মকানুন ও পরিবর্তন দরকার।
আমার কয়েকজন পরিচিত গৃহশিক্ষক আছেন তারা ছাত্রী দের সদুপদেশ দেন। আর কিছুজন এর কাছে আন্তরিক আবেদন, সাবজেক্ট চয়েসে ওদের ভুল দিশা দেখাবেন না।
সাময়িক আপনার লাভ। কিন্তু ওদের পরবর্তী জীবনে দিশা থাকবেনা।
কর্মমুখী লক্ষ্য রেখেই সাবজেক্ট চয়েস কাম্য।