Santiniketan - আমাদের শান্তিনিকেতন

  • Home
  • India
  • Bolpur
  • Santiniketan - আমাদের শান্তিনিকেতন

Santiniketan - আমাদের শান্তিনিকেতন Santiniketan (Santiniketôn) is a small town near Bolpur in the Birbhum district of West Bengal, It

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনের শেষ ৩টি ছবি। (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ও শেষ জন্মদিন পালনআজ ২৫শে বৈশাখ, রবী...
08/05/2026

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনের শেষ ৩টি ছবি। (১৯৪১)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ও শেষ জন্মদিন পালন

আজ ২৫শে বৈশাখ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন। বাঙালি তথা রবীন্দ্র প্রেমী মানুষ সাড়ম্বরে এই দিনটি পালন করেন। অথচ তাঁর শৈশবের জন্মদিন পালনের কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হওয়ায় বাড়িতে প্রতিমা পূজা বন্ধ হয়ে যায় সঙ্গে হিন্দু পরিবারের সন্তানদের জন্মতিথিতে পূজা, অনুষ্ঠান‌ পালনের রীতি ও।

ঠাকুর পরিবারে জন্মদিন পালনের রীতি প্রচলিত হয়, রবীন্দ্রনাথের মেজ বৌঠান জ্ঞানদা নন্দিনী দেবী নিজের পুত্র (সুরেন্দ্রনাথ) মেয়ে (ইন্দিরা দেবী) জন্মদিন পালনের মধ্য দিয়ে। এর প্রধান অঙ্গ ছিল জলযোগ ও উপহার প্রদান।

১৮৮৭ সালে ২৫ বৈশাখ রবিঠাকুরের প্রথম জন্মদিন পালন উৎসবের সূচনা করেন ভাগ্নি সরলাদেবী চৌধুরানী। তিনি তাঁর আত্মজীবনী ' ঝরাপাতা'-য় লিখেছেন," রবি মামার প্রথম জন্মোৎসব আমি করাই।... অতি ভোরে.. তার তাঁর ঘরে তাঁর বিছানার কাছে গিয়ে বাড়ির বকুল ফুলের নিজ হাতে গাঁথা মালা ও বাজার থেকে আনানো বেল ফুলের মালার সঙ্গে অন্যান্য ফুল ও এক জোড়া ধুতি চাদর তাঁর পায়ের কাছে রেখে প্রণাম করে তাঁকে জাগিয়ে দিলাম।.. আর সবাই জেগে উঠলেন। রবির জন্মদিন বলে একটা সাড়া পড়ে গেল।"

" রাত্রি হল ভোর
আজি মোর
জন্মের স্মরণ পূর্ণ বানী
প্রভাতের রৌদ্রে লেখা লিপিখানি
হাতে করে আমি
দ্বারে আসি দিল ডাক
পঁচিশে বৈশাখ।"
(কবিতা: 'পঁচিশে বৈশাখ' কবির ৬২তম জন্মদিন শান্তিনিকেতনে লেখেন)

আনুমানিক ১৯৩৭ থেকে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপন শুরু হয়। একবার কলকাতায় নিজের জন্মোৎসবে আইসক্রিম খেয়ে বলেছিলেন, " শুধু গান, আবৃত্তি আর বক্তৃতায় জন্মোৎসব সার্থক হয় না। সঙ্গে একটু মিষ্টি মুখের ব্যবস্থাও থাকা দরকার।" সেই থেকে রবীন্দ্র জন্মোৎসবে মিষ্টি মুখের আয়োজন করা হয়।

কবিগুরুর শেষ জন্মদিন পালিত হয় শান্তিনিকেতনে। তাঁর অসুস্থ শরীরের কথা মনে রেখে অনাড়ম্বর ভাবে পালিত হয়। উদয়নের বারান্দায় আরামকেদায় বসে তিনি অনুষ্ঠান দেখেন। এই তাঁর শেষ জন্মদিন তিনি শুনেছেন মৃত্যুর পদধ্বনি , যার প্রকাশ ঘটেছে কবিতায়--

"আমার এ জন্মদিন-মাঝে আমি হারা,
আমি চাহি বন্ধুজন যারা
তাহাদের হাতের পরশে
মর্তের অন্তিম প্রীতিরসে
নিয়ে যাব জীবনের চরম প্রসাদ,
নিয়ে যাব মানুষের শেষ আশীর্বাদ।
শূন্য ঝুলি আজিকে আমার;
দিয়েছি উজাড় করি
যাহা কিছু আছিল দিবার,
প্রতিদানে যদি কিছু পাই—
কিছু স্নেহ, কিছু ক্ষমা—
তবে তাহা সঙ্গে নিয়ে যাই
পারের খেয়ায় যাব যবে
ভাষাহীন শেষের উৎসবে ।"

উদয়ন। শান্তিনিকেতন। 'শেষ লেখা'কাব্যগ্রন্থ ৬ মে,১৯৪১

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন (২৫শে বৈশাখ, ১৮৬১)—এই দিনটি বাঙালি সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগঘন মুহূর্ত। তাঁর জীবনে জন...
08/05/2026

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন (২৫শে বৈশাখ, ১৮৬১)—এই দিনটি বাঙালি সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগঘন মুহূর্ত। তাঁর জীবনে জন্মদিন ছিল শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে আত্মিকভাবে জড়িত একটি উপলক্ষ। জন্মদিনে কী করতেন, কিংবা কোনো বিশেষ ঘটনা বা উপহার পাওয়া নিয়ে বেশ কিছু চমৎকার ঘটনা রয়েছে:

১. জন্মদিন পালন শান্তিনিকেতনে:

রবীন্দ্রনাথ জন্মদিন সাধারণত শান্তিনিকেতনে সাদামাটাভাবে কিন্তু আন্তরিকভাবে উদযাপন করতেন। আশ্রমের ছাত্র-ছাত্রীরা তাঁর জন্য গান, কবিতা ও নাটকের আয়োজন করত। তিনি নিজের লেখা কবিতা আবৃত্তি করতেন কিংবা নতুন কোনো রচনা পাঠ করতেন।

২. শিল্প ও সংস্কৃতির উৎসব:

জন্মদিনে ‘গুরুদেব’-কে শ্রদ্ধা জানাতে শান্তিনিকেতনে একধরনের সাংস্কৃতিক উৎসব হতো—গান, নৃত্য, পাঠ ইত্যাদির মাধ্যমে। কবিগুরুও অংশ নিতেন, তিনি নতুন গান বা কবিতা লিখে পাঠ করতেন এই উপলক্ষে।

৩. বিশেষ ঘটনা — ৮০তম জন্মদিনে “শেষ লেখা”:

রবীন্দ্রনাথের ৮০তম জন্মদিনে (১৯৪১) তিনি একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী কবিতা লেখেন, যা পরে “শেষ লেখা” নামে পরিচিত হয়:

“আমার জীবনপাত্রে এই শেষ পরশমৃত্তিকা,
আজিকে ভরিল পূর্ণিমার আলোকলিখা।”

এই কবিতা যেন তাঁর বিদায়ের পূর্বসুর হয়ে রইল।

৪. জন্মদিনে পাওয়া উপহার:

রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনে অনেকেই তাঁকে বই, চিঠি, নিজ হাতে লেখা কবিতা বা চিত্রকর্ম উপহার হিসেবে দিতেন। তিনি সাধারণত উপহার হিসেবে মানসিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, জওহরলাল নেহরু ও মহাত্মা গান্ধীও তাঁকে জন্মদিনে শুভেচ্ছা পাঠিয়েছেন॥

সকলের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি অক্ষয় হোক। 🌼 শুভ অক্ষয় তৃতীয়া 🌼
20/04/2026

সকলের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি অক্ষয় হোক।
🌼 শুভ অক্ষয় তৃতীয়া 🌼

৯২ বছরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন গায়িকা আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle)
12/04/2026

৯২ বছরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন গায়িকা আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle)

 # বাল্মীকিপ্রতিভার জন্ম, পাঠক রবীন্দ্রনাথ এবং - - - - রবীন্দ্রনাথ তখন কুড়ি বছরের যুবক। বেশ কয়েক বছর আগে তাঁর পড়া হয়...
09/04/2026

# বাল্মীকিপ্রতিভার জন্ম, পাঠক রবীন্দ্রনাথ এবং - - - -

রবীন্দ্রনাথ তখন কুড়ি বছরের যুবক। বেশ কয়েক বছর আগে তাঁর পড়া হয়ে গেছে সংস্কৃত 'রামায়ণ' কৃত্তিবাসী 'রামায়ণ', পড়া হয়ে গেছে কবি টমাস মুরের 'আইরিশ মেলোডিজ'। অক্ষয় চৌধুরীর কন্ঠে 'আইরিশ মেলোডিজ' এর কবিতাগুলির আবৃত্তি শুনে মুগ্ধ হতেন বালক রবীন্দ্রনাথ। কবিতাগুলির সঙ্গে চিত্রিত ছবিগুলি বালক রবির মনে পুরানো আয়ারল্যান্ডের এক ' মায়ালোক' সৃষ্টি করত। সতেরো বছর বয়সে বিলাতে গিয়ে এই আইরিশ মেলোডি সুরে শুনেছিলেন এবং সেই সুর রবীন্দ্রনাথ শিখেছিলেন একটু আধটু। শুধু আইরিশ মেলোডি নয়, আরও কিছু বিদেশী সুর রপ্ত করতে সমর্থ হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ সেই সময়। দেশে ফিরে এসে তিনি 'দেশি ও বিলাতি সুরের ' চর্চা শুরু করলেন পুরোদমে। ' জীবনস্মৃতি'তে এই বিষয়ে বলেছেন কবি---- " এই দেশি ও বিলাতি সূরের মধ্যে বাল্মীকিপ্রতিভার জন্ম হইল।" ঠিক তাই কি? আসলে 'বাল্মীকিপ্রতিভা'র জন্মের পিছনে আরও একটি অন্য রচনা এবং সেই রচনাটির অধ্যয়নজাত বোধ ক্রিয়াশীল ছিল রবীন্দ্রনাথের মধ্যে। রচনাটি হল হার্বার্ট স্পেন্সারের 'The Origin And Function Of Music' । 'জীবনস্মৃতির 'বাল্মীকিপ্রতিভা' প্রবন্ধে এই বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে বলেছেন কবি----- " হার্বার্ট স্পেন্সারের একটা লেখায় পড়িয়াছিলাম যে সচরাচর কথার মধ্যে যেখানে একটু হৃদয়াবেগের সঞ্চার হয় সেখানে আপনিই কিছু না কিছু সুর লাগিয়া যায়। বস্তুত রাগ দুঃখ, আনন্দ, বিস্ময় আমরা কেবলমাত্র কথা দিয়া প্রকাশ করি না--কথার সঙ্গে সুর থাকে। এই কথাবার্তার আনুষঙ্গিক সুরটাই উৎকর্ষ সাধন করিয়া মানুষ সঙ্গীত পাইয়াছে। ভাবিয়াছিলাম এই মত অনুসারে আগাগোড়া সুর করিয়া নানা ভাবকে গানের ভিতর দিয়া প্রকাশ করিয়া অভিনয় করিয়া গেলে চলিবে না কেন? আমাদের দেশে কথকতায় এই চেষ্টা আছে।" 'বাল্মীকিপ্রতিভার' জন্মের পিছনে যুবা রবীন্দ্রনাথের মূল প্রেরণা হিসাবে কাজ করেছিল স্পেন্সারের উক্ত রচনাটির অধ্যয়নজাত উপলব্ধি। অবশ্যই মূল সহায়ক হিসাবে ভুমিকা পালন করেছিল টমাস মুরের 'আইরিশ মেলোডিজ', 'রামায়ণ'এবং বাংলা কথকতা। পাঠকের অবগতির জন্য বলি শুধুমাত্র 'বাল্মীকিপ্রতিভা' নয়, একাধিক রবীন্দ্রসৃষ্টি আছে যেগুলি প্রত্যক্ষভাবে কবির নানান গ্রন্থপাঠের ফসল। সুযোগ পেলে রবীন্দ্রসৃষ্টি ধরে ধরে সেগুলি আলোচনা করা যেতে পারে। পাঠক রবীন্দ্রনাথ‌‌‌ও লেখক রবীন্দ্রনাথের মতোই আর এক অপার বিস্ময়। বেশ কয়েক বছর আগে বিশিষ্ট লেখক, প্রাবন্ধিক শ্রদ্ধেয় জ্যোতিভূষণ চাকীর কোনও একটি লেখায় উল্লেখিত ( শিরোনাম --- লেখক যখন পাঠক, পাক্ষিক 'দেশ' পত্রিকার কোনও একটি সংখ্যায় বেরিয়েছিল।) একটি সংস্কৃত শ্লোক পড়েছিলাম ( শ্লোকটি আর মনে নেই, 'দেশ' প্রত্রিকার সেই সংখ্যাটিও আমার কাছে নেই বর্তমানে।) যার বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় এইরকম---- রবি ( সূর্য) পৃথিবী থেকে রস শোষণ করে পৃথিবীকে তা সহস্রগুণে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। জ্ঞানের পৃথিবী থেকে কবীন্দ্র রবি যে জ্ঞান-রস শোষণ ও আত্তীকরণ করেছিলেন অধ্যয়নের মাধ্যমে প্রকৃত অর্থেই সহস্রগুণে জ্ঞানের পৃথিবীকে তা প্রত্যর্পণ করেছিলেন কবি। আমাদের কর্তব্য হল শুধু সেই জ্ঞানে সমৃদ্ধ হওয়া। যতটা সমৃদ্ধ হতে পারবো ততটাই আমাদের পক্ষে কল্যাণকর। ঊনপঞ্চাশতম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা শুরু হয়েছে। বইমেলা এলেই পাঠক রবীন্দ্রনাথের কথা মনে আসে সর্বাগ্রে। সেই উপলক্ষেই আজ পাঠক রবীন্দ্রনাথের অতল অধ্যয়নসমুদ্র থেকে একবিন্দু জল সংগ্রহ করার চেষ্টা করা হল এই লেখায়।

**"চিত্রঋণ--- ইন্টারনেট।

** কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর( পার করো < শান্তিনিকেতন < প্রবন্ধ < রবীন্দ্র-রচনাসমগ্র )        সেই  যে  সেদিন  ভাঙামেলার  ...
23/02/2026

** কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
( পার করো < শান্তিনিকেতন < প্রবন্ধ < রবীন্দ্র-রচনাসমগ্র )

সেই যে সেদিন ভাঙামেলার ভোর রাত্রে নানা হাসিতামাশা-গোলমাল-তুচ্ছকথার মাঝখানে গান উঠেছিল —- হরি, আমায় পার করো —- সে আমি ভুলতে পারছি নে, সে আমাকে আজও বিস্মিত করছে ।

এই যে কথাটা মানুষ এতদিন থেকে বলে আসছে, আমায় পার করো, এটা একটা আশ্চর্য কথা । তার এই আকাঙক্ষাটা আপনাকে আপনি সম্পূর্ণ জানে কি না, তাও বুঝতে পারি নে ।

যদি কোনো সাধক সংসারের সমস্ত চেষ্টা ছেড়েছুড়ে দিয়ে তাঁর সাধন-সমুদ্রের কূলে এসে দাঁড়িয়ে বলেন, হে সিদ্ধিদাতা, তুমি আমাকে সিদ্ধির কূলে পার করে দাও তবে তার মানে বুঝতে পারি । কিন্তু যার সম্মুখে কোনো উদ্দেশ্য নেই, কোনো সাধনা নেই —- তার নাবিক কোথায়, তার সমুদ্র কোথায়, সে কী পার হতে চাচ্ছে ? তার এপারটাই বা কোথায় আর ওপারটাই বা কোথায় ?

আমরা আমাদের কাজকর্মের ভিড়ের মাঝখানে থেকেই বলছি, হরি পার করো ; গাড়োয়ান যখন গাড়ি চালাচ্ছে, বলছে পার করো ; মুদি যখন চালডাল ওজন করছে, বলছে পার করো ।

মনে ক'রো না, তারা বলছে, আমাদের এই কর্ম হতেই পার করো । তারা কর্মের মধ্যে থেকেই পার হতে চাচ্ছে, সেইজন্যে গান গাবার সময় তাদের কাজ কামাই যাচ্ছে না ।

হে আনন্দসমুদ্র, এপারও তোমার ওপারও তোমার । কিন্তু একটা পারকে যখন আমার পার বলি, তখন ওপারের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটে । তখন সে আপনার সম্পূর্ণতার অনুভব হতে ভ্রষ্ট হয়, ওপারের জন্যে ভিতরে ভিতরে কেবলই তার প্রাণ কাঁদতে থাকে । আমার পারের আমিটি তোমার পারের তুমির বিরহে বিরহিণী । পার হবার জন্যে তাই এত ডাকাডাকি ।

এইটে আমার ঘর বলে আমি-লোকটা দিনরাত্রি খেটে মরছে, যতক্ষণ না বলতে পারছে, এইটে তোমারও ঘর, ততক্ষণ তার যে কত দাহ কত বন্ধন কত ক্ষতি তার সীমা নেই —- ততক্ষণ ঘরের কাজ করতে করতে তার অন্তরাত্মা কেঁদে গাইতে থাকে, হরি, আমায় পার করো ।

যখনই সে আমার ঘরকে তোমার ঘর করে তুলতে পারে তখনই সে ঘরের মধ্যে থেকে পার হয়ে যায় । আমার কর্ম মনে ক'রে আমি লোকটা রত্রিদিন যখন হাঁসফাঁস করে বেড়ায়, তখন সে কত আঘাত পায় আর কত আঘাত করে, তখনই তার গান, আমায় পার করো —- যখন সে বলতে পারে, তোমার কর্ম, তখন সে পার হয়ে গেছে ।

আমার ঘরকে তোমার ঘর করব, আমার কর্মকে তোমার কর্ম করব তবেই তো আমাতে তোমাতে মিল হবে । আমার ঘর ছেড়ে তোমার ঘরে যাব, আমার কর্ম ছেড়ে তোমার কর্মে যাব এ কথা আমাদের প্রাণের কথা নয় । কেননা, এও যে বিচ্ছেদের কথা । যে-আমির মধ্যে তুমি নেই, আর যে-তুমির মধ্যে আমি নেই দুইই আমার পক্ষে সমান ।

এইজন্যেই আমাদের ঘরের মাঝখানেই, আমাদের কাজকর্মের হাটের মধ্যেই দিনরাত রব উঠছে, হরি আমায় পার করো । এইখানেই সমুদ্র, এইখানেই পার ।

১১ পৌষ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং তাঁর স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর পাঁচজন সন্তান ছিল: মাধুরীলতা (বেলা), রথীন্দ্রনাথ (রথী), রেণুকা (রানী), ...
23/02/2026

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং তাঁর স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর পাঁচজন সন্তান ছিল: মাধুরীলতা (বেলা), রথীন্দ্রনাথ (রথী), রেণুকা (রানী), মীরা (অতসী) এবং শমীন্দ্রনাথ (শমী)। তাদের মধ্যে রথীন্দ্রনাথ ও মীরা দেবী ছাড়া বাকি তিনজন, অর্থাৎ মাধুরীলতা, রেণুকা এবং শমীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশাতেই মারা যান। এই মৃত্যুগুলো কবির জীবনে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছিল এবং তাঁর সাহিত্যকর্মেও এর প্রভাব দেখা যায়।
এখানে তাদের সম্পর্কে কিছু তথ্য দেওয়া হলো:
* মাধুরীলতা দেবী (বেলা): তিনি ছিলেন রবীন্দ্রনাথের জ্যেষ্ঠা কন্যা। ১৮৮৬ সালে তাঁর জন্ম হয়। ১৫ বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয়। মাত্র ৩১ বছর বয়সে, ১৯১৮ সালে যক্ষ্মারোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। এই মৃত্যু রবীন্দ্রনাথকে ভীষণভাবে কষ্ট দিয়েছিল।
* রেণুকা দেবী (রানী): রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় কন্যা রেণুকা ১৮৯০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং মাত্র ১২ বছর বয়সে, ১৯০৪ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। মায়ের মৃত্যুর মাত্র ৯ মাস পর রেণুকা মারা যান, যা রবীন্দ্রনাথের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল।
* শমীন্দ্রনাথ ঠাকুর (শমী): তিনি ছিলেন রবীন্দ্রনাথের কনিষ্ঠ পুত্র। ১৮৯৬ সালে তাঁর জন্ম হয়। অত্যন্ত প্রতিভাবান এই ছেলেটির প্রতি রবীন্দ্রনাথের অনেক আশা ছিল। ১৯০৭ সালে, যখন তাঁর বয়স মাত্র ১১ বছর, তখন তিনি বন্ধুদের সঙ্গে মুঙ্গের (বিহার) বেড়াতে গিয়ে কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। আশ্চর্যজনকভাবে, তাঁর মায়ের মৃত্যুদিবসেই (২৩ নভেম্বর) শমীন্দ্রনাথ মারা যান। এই মৃত্যু রবীন্দ্রনাথের জীবনে অন্যতম বড় আঘাত ছিল।
এই সন্তানদের অকালমৃত্যু রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত জীবনে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করে। এই শোক তাঁর সাহিত্যকর্ম, বিশেষত কবিতা ও গানে, এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছিল, যেখানে মৃত্যু, শোক এবং জীবনের অর্থ নিয়ে গভীর দর্শন প্রতিফলিত হয়েছে।🙏🙏

১৯১০ সালের এক শীতের দিনে রক্ষণশীল সমাজের যাবতীয় রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে রবি ঠাকুর বিধবা প্রতিমা দেবীর সাথে পুত্র রথীন্দ্...
21/02/2026

১৯১০ সালের এক শীতের দিনে রক্ষণশীল সমাজের যাবতীয় রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে রবি ঠাকুর বিধবা প্রতিমা দেবীর সাথে পুত্র রথীন্দ্রনাথের বিবাহ দিয়ে হৃদয়হীণ সমাজের অনুশাসন ভাঙার বার্তা দিলেন ৷
১৯ শতকের নারীদের গৃহবন্দি জীবনের শিকল কেটে মহিলাদের মুক্ত আকাশ চিনিয়েছিলেন যে সব নারী, তাঁদের মধ্যে অবশ্যই প্রথম সারিতে নাম থাকবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুত্রবধূ প্রতিমা দেবীর..💫🌻

অকালেই চলে গিয়েছিলেন মৃণালিনী৷ সৌদামিনীর ফুটফুটে নাতনিকে দেখে মনে ধরেছিল কবিপত্নীর এমন কি সেইসময় তিনি নিজের ঘনিষ্ঠদের বলেছিলেন ছোড়দি দি তাঁর নাতনিকে আমায় দেবেন,এই সুন্দর মেয়েটি হবে আমার পুত্রবধূ৷ রবীন্দ্রনাথ অবশ্য কিশোর পুত্রের বিয়ে দেবেন না জানিয়ে দিলে প্রতিমার বিবাহ হল কুমুদিনীর ছোট নাতি নীলানাথের সাথে৷ তখন তাঁর বয়স মাত্র এগারো৷ শ্বশুরবাড়ি থেকে অপয়া অপবাদে প্রতিমাকে ফিরতে হয়েছিল গঙ্গায় সাঁতার কাটতে গিয়ে জলে ডুবে মারা গেলেন তাঁর স্বামী নীলানাথ৷
১১বছরের ছোট্ট প্রতিমা মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে সধবা থেকে বিধবা হয়ে দেখলেন রক্ষণশীল সমাজের অনুশাসন ৷ সেদিনের সমাজ মাত্র ১১বছরের নাবালিকাকে বাধ্য করেছিল বিধবার কঠোর জীবনযাপনে৷ প্রতিমা বিধবা হয়েছেন দেখতে দেখতে বেশ কয়েকটা বছর অতিক্রান্ত৷ওদিকে রবীন্দ্রনাথের পুত্র রথীন্দ্রনাথ বিদেশ থেকে কৃষিবিদ্যায় বড় ডিগ্রি অর্জন করে স্বদেশে ফিরে এসেছেন।রবীন্দ্রনাথের সহধর্মিণী মৃণালিনী দেবীর ইচ্ছা ছিল প্রতিমাকে পুত্রবধূ করবেন৷যদিও তাঁর অকাল প্রয়ানে মৃণালিনী দেবীর সেই ইচ্ছা বাস্তবায়িত হয়নি৷

রবীন্দ্রনাথের হৃদয়ে বাল্য বিধবা কিশোরী প্রতিমার জন্য তখন অনেকখানি স্নেহের পরশ৷ প্রতিমাকে নিজের পুত্রবধূ করার প্রস্তাব দিলেন৷ কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ প্রতিমাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে আনন্দে উচ্ছল হয়ে চিঠি লিখলেন বন্ধু নগেন্দ্রকে' ভাই নগেন,তোমাকে অনেকদিন লিখতে পারিনি কেন বোধহয় বুঝতে পারছ-বিয়ের গোলমালে ব্যস্ত ছিলুম৷আজ কী পরিপূর্ণ আনন্দ নিয়ে তোমায় লিখতে বসেছি৷প্রতিমা এখন আমার —সে আমার ঘরে এসেছে—সে কী চমৎকার মেয়ে তোমাকে কী করে লিখি৷আমি যদি তার গুণের বর্ননা করতে যাই তো সব কথা বিশ্বাস করবে না বা আমাকে Lunatic ভাববে'৷

রবীন্দ্রনাথ পুত্রবধূ সম্পর্কে লিখেছেন 'বৌমা চলে গেলে দিনগুলি শ্রীহীন হয়ে পড়ে,ভালো লাগে না,তিনি থাকলেও দেখাশোনা বিশেষ হয় না,তবু তাঁর প্রভাবতা থাকে হাওয়ায়'৷ পুত্রবধূ হয়ে আসার পর প্রতিমা যখন যেখানে থেকেছেন,সে জোড়াসাঁকো হোক বা শিলাইদহ অথবা শান্তিনিকেতন রবীন্দ্রনাথ তাঁর লেখাপড়ার জন্য সর্বদা উপযুক্ত ব্যবস্থা করেছেন৷বিয়ের অল্প কিছুদিন পরে যখন শান্তিনিকেতনে এসে থাকেন তখন তার ইংরেজি শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়৷আবার তিনি যখন জোড়াসাঁকোয় এসে বসবাস শুরু করেছেন তখন তিনি বিশ্বকবির বাড়ির পারিবারিক গৃহবিদ্যালয়ে শিক্ষালাভ করেছেন৷ রবীন্দ্রনাথের পরিবারের ইতিহাসে প্রতিমাদেবী এক বহুমুখী প্রতিভার নারী, রবীন্দ্রনাথের স্নেহে,অনুপ্রেরণায় যার বহুমুখী প্রতিভার বিকাশ হয়েছিল,তিনি হয়ে উঠতে পেরেছিলেন সে'যুগের অনেক নারীর অনুপ্রেরণা৷ কবির জীবনের অনেকটা সময় প্রতিমা দেবী নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর সেবা করেছেন,সেই ভার তিনি নিয়েছিলেন স্বেচ্ছায় নিজের সংসার এবং শান্তিনিকেতনের আশ্রম দেখাশোনার ভার নিজের হাতে নিয়ে হয়ে প্রতিমা দেবী হয়ে উঠেছিলেন রবীন্দ্রনাথের শেষ বয়সের স্নেহময়ী অভিভাবিকা৷

ঠাকুর বাড়ির বধূ হয়ে আসার পর প্রতিমা দেবীর বহুমূখী প্রতিভার প্রকাশ হতে সময় লাগেনি৷ রবীন্দ্রনাথ তার ছদ্মনাম ঠিক করে দিয়েছিলেন।কল্পিতাদেবী ছদ্মনামে প্রবাসী পত্রিকাতে অনেক কবিতা লিখেছেন৷
কবির সাথে প্রতিমা দেবীর সম্পর্কে ছিল স্নেহমিশ্রিত সম্মানের অনবদ্য রসায়ন৷ 'দ্বারিক' তখন ছাত্রী আবাস৷ এক দিন অদ্ভুত খেয়াল চাপলো প্রতিমাদেবী, সুধীরাদেবীদের মাথায়৷যখন 'দ্বারিকে'মেয়েরা ঘুমাচ্ছে, হঠাৎ সেখানে 'ডাকাত' পড়ল। ডাকাতের দল মেয়েদের অলঙ্কার নিয়ে টানাটানি করল। মেয়েদের চিৎকারে ছুটে এসেছেন আশপাশের সবাই। কিন্তু আশ্চর্য! শিক্ষক সন্তোষচন্দ্র মজুমদার সবাইকে বলতে লাগলেন, ‘কিছু না কিছু না, কিচ্ছু হয়নি।’কে শোনে তাঁর কথা!অবশেষে সন্তোষচন্দ্র কালি-মাখা কমলাদেবীকে এনে দেখালেন, সবই নকল ডাকাত। এর কিছু দিন পরে ভুবনডাঙায় জগদানন্দ রায়ের বাড়িতে আসল ডাকাত পড়েছিল৷ রবীন্দ্রনাথ পরের দিন প্রতিমাদেবীকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, - 'বৌমা, তোমাদের দল নয় তো'! পুত্রবধূর সঙ্গে রবি ঠাকুরের এই রসিকতায় প্রমাণ হয় কেমন ছিল তাদের স্নেহ-সম্মানের সম্পর্কের কেমিস্ট্রি..🌿

১৯১২-তে রবীন্দ্রনাথ যখন ইংল্যান্ড ও আমেরিকা যান,পুত্র রথীন্দ্রনাথ ও পুত্রবধূ প্রতিমা দেবীও তাঁর বিদেশ যাত্রায় সঙ্গী হন ।বৃহত্তর পৃথিবী এইভাবে উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিল প্রতিমা ঠাকুরের কাছে৷ শান্তিনিকেতনে ফিরে এসে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বহু নাটক অভিনয় করিয়েছেন। কেবলমাত্র মেয়েদের অভিনয়-উপযোগী নাটক লেখার অনুরোধ জানান কবিকে, এবং এইভাবে রচিত হয়েছিল 'লক্ষ্মীর পরীক্ষা'৷অভিনয় শেখানোর পাশাপাশি অভিনেতাদের সাজগোজ আর মঞ্চসজ্জার দায়িত্ব সামলাতেন৷ রবীন্দ্রনাথের জীবনের অন্তিম বছরের চমৎকার বিবরণ লিপিবদ্ধ প্রতিমা ঠাকুরের লেখা 'নির্বাণ'গ্ৰন্থে।অবনীন্দ্রনাথ এবং রবীন্দ্রনাথের কথা আছে 'স্মৃতিচিত্র' বইয়ের পাতায়৷'নৃত্য' বইয়ে প্রতিমা ঠাকুর লিখেছেন শান্তিনিকেতনের নৃত্যধারার বিষয়৷ 'চিত্রলেখা' প্রতিমা দেবী রচিত কবিতা এবং কথিকার অনবদ্য সংকলন।

রবীন্দ্রনাথ তাঁর নৃত্যনাট্যগুলোতে নৃত্যের সুচারু ব্যবহার, নৃত্য প্রয়োগের সম্ভাবনার কথা সম্ভবত ভাবেনই নি! প্রতিমা দেবীর কৃতিত্ব হল তিনিই প্রথম রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্য সমূহের নিবিড় নৃত্যমুদ্রা উদ্ভাবন করে পরিবেশন করেছেন।আজ আমরা রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্যগুলো মুগ্ধ হয়ে দেখে তার নান্দনিককতায় আপ্লুত হই, তার পেছনে অবশ্যই প্রতিমা ঠাকুরের রবীন্দ্রনৃত্যের প্রায়োগিক ভাবনা৷

সংকলনে ✒️ অরুণাভ সেন

♦️তথ্যসূত্রঃ ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল (চিত্রা দেব), আনন্দবাজার পত্রিকা

সংগৃহীত।

Address

Santiniketan
Bolpur
731204

Telephone

+913463262751

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Santiniketan - আমাদের শান্তিনিকেতন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The University

Send a message to Santiniketan - আমাদের শান্তিনিকেতন:

Share