01/05/2026
"৮ ঘন্টা কাজ, ৮ ঘন্টা বিশ্রাম, ৮ ঘন্টা মনোরঞ্জন" - শিল্প বিপ্লব পরবর্তী সময়ে পুঁজিবাদী দেশগুলোতে গড়ে ওঠা শহরগুলির কল কারখানায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে, নামমাত্র বেতনে ১৪-১৬ ঘন্টার হাড় ভাঙা খাটুনির বিরুদ্ধে, দিনে ৮ ঘন্টা কাজের দাবিতে, ১৮৮৬ র ১ মে, শিকাগোর হে বাজারে ধর্মঘটের ডাক দেয় শ্রমিক সংগঠনগুলো। শ্রমিকদের লড়াকু মনোভাবে সন্ত্রস্ত, মালিকপক্ষের সরাসরি পেটোয়া বাহিনী হিসেবে কাজ করা পুলিশ সশস্ত্র আক্রমণ করে শ্রমিকদের উপর, গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হয় বেশ কিছু শ্রমিক, আহত হয় আরো অনেকে। ফাঁসি হয় সাতজন শ্রমিক নেতার। শ্রমিক শ্রেণীর রক্তে রচিত হয় শ্রমিক শ্রেণীর অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের ইতিহাস। হে মার্কেটের রক্তাক্ত ঐতিহাসিক লড়াই স্মরণে ১লা মে কে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা মে দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত ঘোষিত হয়।
কিন্তু এ কেবল ইতিহাস নয়। আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়েও আমরা দেখছি, শ্রমিকের অধিকার ভুলুন্ঠিত হচ্ছে প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত। পুরনো শ্রম আইনগুলিকে বাতিল করে কেন্দ্র সরকার সম্প্রতি পাশ করিয়েছে চারটে নতুন শ্রম কোড - মালিকের ছাঁটাইয়ের ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে, শ্রমিক নিরাপত্তা আরও কমিয়ে আনার উদ্দেশ্যে, ইউনিয়ন করার অধিকার সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে। সংগঠিত ক্ষেত্র সংকুচিত হতে হতে স্থায়ী কাজের জায়গায় আজ চুক্তিশ্রমই দস্তুর, ১২-১৪ বা তার বেশী ছুটিবিহীন হাড়ভাঙা খাটুনিই যেখানে নিয়ম। প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ইএসআই আইনের সুবিধা তো কেবল মরীচিকা মাত্র। দৈনন্দিন জিনিসপত্রের দাম চড়চড় করে বাড়লেও শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি শুনলেই রক্তচোখ দেখায় মালিকপক্ষ ও সরকার। নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে লড়াইটা আরও কঠিন। তাঁদের লড়তে হয় কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থার বিরুদ্ধেও।
কিন্ত, ঐতিহাসিক মে দিবসের ধারাবাহিকতায়, ভারতের শ্রমিকশ্রেণীর অধিকার আদায়ের সংগ্রাম চলমান। গত কয়েক মাস ধরে উত্তর ভারত ও পশ্চিম ভারতের শিল্পাঞ্চল জুড়ে আট ঘন্টা কাজ, সবেতন ছুটি, ও ন্যায্য মজুরি আদায়ের লক্ষ্যে শ্রমিকেরা লড়াকু আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আমরা সম্প্রতি দেখেছি আশা কর্মীদের দীর্ঘ মরণপণ আন্দোলন। মে দিবসের শহীদদের রক্ত বৃথা যায়নি, সারা বিশ্বের চলমান শ্রমিক আন্দোলনগুলি তার সাক্ষী।
আমরা, মালদা মেডিক্যাল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা বরাবরই মনে করি, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক - সকল প্রকারের বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই। আজ, ঐতিহাসিক মে দিবসে আমরা তাই অঙ্গীকার করি, সকল প্রকারের শোষণের হাত থেকে শ্রমিকশ্রেণীর মুক্তির সংগ্রামে আমরা শামিল হবো, হয়ে উঠব লড়াইয়ের সাথী।
"শতাব্দীলাঞ্ছিত আর্তের কান্না
প্রতি নিঃশ্বাসে আনে লজ্জা;
মৃত্যুর ভয়ে ভীরু বসে থাকা, আর না –
পরো পরো যুদ্ধের সজ্জা।"