Dept. of Mathematics Haldia Govt. College

Dept. of Mathematics Haldia Govt. College Education

 #গণিত_জগতের_উজ্জ্বল_জ্যোতিষ্ক                                                       #শ্রীনিবাস_রামানুজন                ...
25/04/2020

#গণিত_জগতের_উজ্জ্বল_জ্যোতিষ্ক

#শ্রীনিবাস_রামানুজন
এবছর অর্থাৎ 2020 সাল রামানুজন এর শততম মৃত্যুবার্ষিকী । রামানুজনের জীবনের দিকে তাকালে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নত করতে হয়। কিন্তু কেন? রামানুজনের নাম খুব বেশি মানুষ জানেন না। সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিতি হতে হলে যেসব আকর্ষণের দরকার হয় তার কিছুই রামানুজনের ছিল না । পূর্বে মাদ্রাজ নামে পরিচিত বর্তমানে তামিলনাড়ু রাজ্যের তাঞ্জোর জেলায় কুম্ভকোনম শহরে গরিব গোঁড়া হিন্দু পরিবারে তার জন্ম ।পড়াশুনা বেশি নয়, ম্যাট্রিক পাশ করেছিলেন কিন্তু কলেজ পর্যন্ত যেতে পারেন নি। যাঁর পোশাক পরিচ্ছদে নজর নেই।শিল্প সাহিত্যে উৎসাহ নেই। অ্যাকাউন্ট অফিসের কেরানি হিসেবে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। মহামারী যক্ষ্মা রোগে ভুগে মারা গেছেন মাত্র তেত্রিশ বছর বয়সে।এমন একটি চরিত্র সাধারণ মানুষকে আকর্ষণ করবে কেন? সাধারণ মানুষ তাঁর নাম শুনে কি করবে?শতবছর আগে এমন এক সাধারণ মানুষ তার কর্ম পক্রিয়া শেষ করে চলে গেছেন ।এই প্রেক্ষাপটে রামানুজন সম্পর্কে ও তার জ্ঞানের পরিধি সম্পর্কে জানার প্রবল আবেগই লেখার অনুপ্রেরণা যোগায়।

1887 সালে 22শে ডিসেম্বর মাদ্রাজে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর পুরো নাম শ্রীনিবাসা রামানুজন আয়েংগার। খেলাধুলায় তাঁর আকর্ষণ ছিল না।তিনি ছোটো বেলা থেকেই ভাবুক ও চিন্তাশীল ছিলেন,তাতে সন্দেহ নেই।পৃথিবীর প্রথম মানুষ কে? আকাশ কত দূরে? তারার আকার কি ? ইত্যাদি তিনি প্রশ্ন করতেন। এসব শুনে মাস্টারমশাইরা যত না বিস্মিত হতেন তার চেয়ে বেশি অবাক হতো সহপাঠীরা । গনিতের যেসব জটিল সমস্যা তারা করতে পারতো না ,রামানুজন আনন্দের সাথে করে দিতেন।তিনি একাগ্র মনে গভীর নিমগ্নতায় বিভোর হয়ে থাকতেন।

রামানুজনের অসাধারণ স্মৃতিশক্তি ছিল।স্কুলের শিক্ষকদের টাইম টেবিল করার দায়িত্ব গণিত শিক্ষক রামানুজনের উপর দিয়ে নিশ্চিত হতেন। স্কুলের প্রায় 1200 জন ছাত্র ও 40 জন শিক্ষক,সেই স্কুলের টাইম টেবিল তৈরি করা যে কী কঠিন কাজ(যেমন সকলের সুবিধা অসুবিধা, ক্লাসের সংখ্যা ,বিষয়ের পারদর্শীতা)তিনি সুন্দর ভাবে করতেন।

নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে রামানুজনের গণিত মানসিকতার সূক্ষ্মতা,বিশ্লেষণী শক্তির প্রখরতা ও বুদ্ধির তীক্ষ্ণ পরিচয় ধীরে ধীরে পাওয়া যেতে থাকে। এমনই একদিন গনিতের শিক্ষক বোঝাচ্ছেন "তিন জনের মধ্যে তিনটি ফল সমান ভাগে ভাগ করে দিলে প্রত্যেকে একটি করে পাবে, তেমনই হাজারটা ফল হাজার জনকে সমান ভাগে ভাগ করে দিলে প্রত্যেকে একটি করে ফল পাবে" এই বলে তিনি বোঝাতে চাইলেন "যেকোনো সংখ্যাকে সেই সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে ভাগফল হবে এক"।রামানুজন এই শুনে সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন করলেন" "শূন্য কে শূণ্য দিয়ে ভাগ করলে কি ভাগফল এক হবে?" অর্থাৎ কোনো ফল যদি কোনো ছেলেদের মধ্যে ভাগ করে না দেওয়া হয়, তাহলেও কী প্রত্যেকে একটি ফল পাবে? কী অসাধারণ গণিত ভাবনার সূক্ষতা!

রামানুজন স্কুলে থাকতেই অমূলদ সংখ্যা π (পাই), e, √2, √3 এর মান দশমিকের পর যতখুশি ঘর পর্যন্ত বলে বন্ধুদের অবাক করে দিতেন।

1903 সালে শেষ বার্ষিক পরীক্ষায় বিশেষ কৃতিত্বের জন্য রামানুজনকে "কে রঙ্গনাথ রাও" পুরষ্কার দেওয়া হয়। গনিতের স্কুলের শিক্ষকদের মতে এই বিষয়ে একশোর মধ্যে একশো দিলেও তার সুবিচার করা যায় না। সর্বোচ্চ নম্বরের চেয়েও অনেক বেশি নম্বর পাওয়ার সে যোগ্য।কারণ তার এক সহপাঠীর কথায়---"তিন ঘণ্টার অংক পরীক্ষা ও বারবার এক ঘণ্টায় শেষ করতো, শুধু তাই নয় অনেক অংক আবার তিন চার রকম ভাবে সমাধান করতো।

রামানুজনের কাছে প্রতিটি উপপাদ্য যেন তাঁর নিজস্ব গবেষণা প্রকল্প, তিনি নিজে আবিষ্কারে মেতে গেলেন।একের পর এক সূত্র আবিষ্কার করতে লাগলেন।তিনি নোট বইতে সংক্ষিপ্তসার লিখে রাখতেন।কেননা তার পরিবারে এতটাই আর্থিক অনটন ছিল যে ,তিনি স্লেটে করে প্রমান করতেন,মাঝে মধ্যে কাগজ কুড়িয়ে এনে সেগুলোতেই তিনি লিখতেন।তাঁর গণিত সাধনার স্রোত অবিরাম গতিতে প্রবাহিত, কখনও মধ্যরাত কখনও ভোরের আলো পর্যন্ত দেখা যেত।এতে কোনো ক্লান্তি নেই আছে শুধু আনন্দ আর আনন্দ।গণিতই হয়ে উঠলো সারক্ষনের সাহচর্য।বিষয়টির উপর তার আগ্রহ তীব্র থেকে তীব্রতর হলো।গণিতই হয়ে উঠলো শয়ন-স্বপন-নিদ্রাজাগরণের সর্বক্ষণের সঙ্গী।ধ্যান-জ্ঞান ও অবসর বিনোদনের উপকরণ। অন্যান্য বিষয়ের প্রতি তাঁর কোনো প্রকার আগ্রহই ছিল না।

1905 সালে ইংরেজিতে কম নম্বর পাওয়ার জন্য এফ.এ ক্লাসের দ্বিতীয় বর্ষে উন্নীত হবার ব্যর্থতা ও ক্লাসে কম উপস্থিত থাকার জন্য কুম্ভকোনম সরকারী কলেজে প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় বসার জন্য যোগ্যতা অর্জনের ব্যর্থতা।1907 সালে গনিতে 100 এরমধ্যে 100 পেয়েও অন্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় নম্বর না পাওয়ায় এফ.এ পরীক্ষায় ফেল।রামানুজনের কপালে এফ.এ ডিগ্রি জুটলো না। রামানুজনের জীবনে 'formal education' এর সমাপ্তি ঘটলো।

রামানুজনের বাড়ির আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল ।মাঝে মাঝে রামানুজনকে অভুক্ত থাকতে হয়েছে।অর্থের প্রয়োজনে তাকে প্রাইভেট টুইশন পড়াতে হয়েছে ,কিন্তু গৃহশিক্ষক হিসাবে তিনি সফল নয় কারণ পড়ানোর সময় একটা অধ্যায় পড়াতে গিয়ে তিনি বিষয়ের এমন গভীরে প্রবেশ করতেন যে , সাধারণ ছাত্রের কাছে দুর্বোধ্য হয়ে পড়ত ।।
রামানুজন ছাত্র হিসাবে বেশ ভালো ছিলেন। ম্যাট্রিক পরীক্ষায় পাশ করেছিলেন স্কলারসিপ পেয়ে। কিন্তু ভারতবর্ষে তখন ইংরেজ
উপনিবেশ---তাই প্রভু ইংরেজের মুখের ভাষা ইংরেজি না জানলে পড়াশোনা করা যায় না।সেটিতে রামানুজনের মোটেই উৎসাহ ছিল না ।এর ফলে তিনি কিছুতেই কলেজ পাশ করতে পারলেন না।একসময় সবকিছু ছেড়ে তিনি অংক নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলেন।সংসারে তাঁর কিছুতেই উৎসাহ নেই দিনরাত শুধু অংক আর অংক।বাবা মা ভাবলেন ছেলেকে বিয়ে দিলে সংসারে মন হবে, তাই 22 বছর বয়সে তাকে বিয়ে দেওয়া হলো জানকীর সঙ্গে। রামানুজন হটাৎ করে আবিষ্কার করলেন তার একটি সংসার হয়েছে।সংসার চালানোর জন্য তাকে টাকা উপার্জন করতে হবে।অংক নিয়ে ডুবে থাকলে আর চলবে না।তার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো।তিনি যে অংক ছাড়া আর কিছুই জানেন না।পড়াশুনা ম্যাট্রিক পর্যন্ত কী করবেন তিনি?

1910 সালে সেশু আয়ারের চেষ্টায় প্রেসিডেন্সির অ্যাকান্টেট জেনারেলের অফিসে অস্থায়ী চাকরি লাভ করলেন ।রামানুজনের অংকের বড়ো আবিষ্কার হলো Elliptical integral hyper geometric series, Divergence Series পৃথিবীর মানুষ তখনও সেটার কথা জানেন না, যখন এগুলি সম্বন্ধে রামচন্দ্র রাও কে বোঝাচ্ছেন তখন তিনি হতবাক হয়ে গেছেন।তিনি বুঝতে পারলেন তার সামনে বসে থাকা বেকার ছেলেটি একজন অসামান্য প্রতিভাবান গণিতবিদ।তিনি রামানুজনকে জিজ্ঞেস করলেন , তার কী প্রয়োজন। রামানুজনের প্রয়োজন খুবই কম।তিনি গণিতবিদদের প্রতিষ্ঠা বা সম্মান চান না।কোনোভাবে খাওয়া ,পড়ার ব্যবস্থাটা করতে চান,যেন নিজের মনে অংকে ডুবে থাকতে পারেন। 1911 সালের প্রথম দিকে রামানুজনকে রামচন্দ্র রাও এর মাসিক পঁচিশ টাকা করে অনুদান প্রদান করলেন।ওই বছর ফেব্রুয়ারি মাসে Indian Mathematical Society র জার্নালে রামানুজনের গবেষণা লব্ধ গাণিতিক সমস্যা প্রকাশ করেন ও ডিসেম্বর মাসে ' Some Properties of Bernoulli Numbers' শীর্ষক প্রথম গবেষণা পত্র প্রকাশ হলো। 1912 সালে মাদ্রাজ পোর্ট ট্রাস্টে কেরানির কাজে যোগদান করেন।

এদিকে রামচন্দ্র অনেককে রামানুজনের অসামান্য প্রতিভার কথা গল্প করেছেন।সবাই ঠিক করলেন রামানুজনের জন্য কেমব্রিজের গণিতের অধ্যাপক জি. এইচ. হার্ডিকে চিঠি লেখা উচিত। হার্ডি তখন ট্রিনিটি কলেজের ফেলো জগৎ জোড়া তার নাম। রামানুজন ভয়ে ভয়ে একটা চিঠি লিখলেন।তার ইংরেজি খুব খারাপ, তাই বন্ধুবান্ধব চিঠির ভুলত্রুটি শুধরে দিল। চিঠিটি ছিল এরকম,

জনাব,
অধীনের বিনীত নিবেদন এই যে, আমি মাদ্রাজের পোস্ট ট্রাস্টে একজন কেরানি।মাসিক বেতন দেড় পাউন্ড।আমার বয়স তেইশ(আসলে তখন তার বয়স পঁচিশ)।আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা বেশি নয়।আমি অবসর সময়ে অংক চর্চা করিয়া থাকি।আমি Divergence Series এর উপর কিছু কাজ করিয়াছি।তার ফলাফল স্থানীয় গণিতবিদেরা 'অসাধারণ' বলিয়া মনে করিতেছেন।আমি অপনাকে আমার কিছু ফলাফল লিখিয়া পাঠাঁইলাম।আমি অত্যন্ত দরিদ্র, তাই যদি এইগুলোর কোনোপ্রকার গুরুত্ব রহিয়াছে মনে করেন আপনি তাহা প্রকাশের দায়িত্ব নিলে কৃতজ্ঞ থাকিব।আমার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত অল্প তাই আপনার উপদেশ আমার কাছে খুব মূল্যবান বলিয়া বিবেচিত হইবে।
আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করিবার জন্য আন্তরিক দুঃখিত।
বিনীত আপনার একান্ত অনুগত
রামানুজন

চিঠির শেষে হাতে লেখা 120 টি থেওরেম!
সুদূর ভারতবর্ষের এক কোনা থেকে লেখা অচেনা একজন কেরানির এই চিঠি পেয়ে হার্ডির আক্কেল গুড়ুম । তার কয়েকটা গবেষণা লব্ধ থিওরেম হার্ডি নিজে অনেক কষ্টে প্রমান করে দেখলেন।কিন্তু বেশিরভাগই তার নাগালের বাইরে।সব কিছু দেখে হার্ডি রামানুজের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন।অবশেষে রামানুজন নেভাস্কা জাহাজে করে ইংল্যান্ডে পৌঁছলেন। 1916 সালে 18ই মার্চ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন(অতি মাত্রিক যৌগিক সংখ্যা সংক্রান্ত গবেষণার জন্য)।হার্ডি কর্তৃক রামানুজন ও হার্ডি সাতটি যৌথ গবেষণা পত্র প্রকাশ করেছেন।

ট্রিনিটি কলেজের ছাত্রাবাসে থেকে নিরামিষাশী রামানুজন নিজের হাতে রান্না করতেন।প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রামানুজনের জ্ঞান চর্চার বাধা সৃষ্টি হয়েছে।হার্ডি দাবি করেছেন 'আমি এক মহাসম্পদ আবিষ্কার করেছি'।ইংল্যান্ডে থাকার সময় রামানুজনের গণিত সাধনার স্রোত অবিরাম গতিতে চলছিল।তার কঠোর পরিশ্রম কখনো থেমে থাকে নি। তিনি গভীর রাতের বেলায় গণিত সাধনার মধ্যে বেশি আনন্দ পেতেন।

ইংল্যান্ডে থাকার সময়কার প্রবন্ধ গুলির বিষয়বস্তুর মধ্যে নির্দিষ্ট সমাকলন(Definite Integral),মডিউলার সমীকরণ(Modular Equation),রিম্যান জিটা অপেক্ষক(Riemann Zeta function),অসীম শ্রেণী( Infinite series),শ্রেণীর সমষ্টি( Summation Series),বৈশ্লেষিক সংখ্যাতত্ব(Analytic Number theory),স্পর্শপ্রবন সূত্র সমূহ( Asymptotic formulae ),মডিউলার অপেক্ষক(Modular Function),বিভাজন তত্ত্ব(Theory of Partition) ,Combinatorial Analytic, Probabilistic Number theory উল্লেখযোগ্য।

1917 সালে রামানুজন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন।এর পরে তিনি আর কখনোই পুরোপুরি সুস্থ হননি।আর বেশিরভাগ সময় কেটেছে সানিটোরিয়ামে।অপুষ্টি ও অত্যাধিক পরিশ্রমের ফলে রামানুজনের ফুসফুস ক্ষয় রোগে আক্রান্ত হয় । তিনি কখনো কখনো একটানা 30 ঘন্টা গণিতচর্চা এবং তারপর টানা 20 ঘন্টা ঘুমোতেন ।তাঁর এই অদ্ভুত স্বভাব ও খাদ্যাভ্যাস এর জন্য অনেকখানি দায়ী।

1920 সালে 12 ই জানুয়ারী রামানুজন হার্ডিকে 'মক-থিটা' অপেক্ষকের আবিষ্কারের কথা চিঠি লিখে জানান।মক-থিটা অপেক্ষকের উপর কাজ রামানুজন সেই সময় করেছেন,যখন তিনি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন।অসুস্থতা শুধু তার দেহে কিন্তু তার মন সজীব ও সক্রিয়।শ্রান্তি, ক্লান্তি তার দেহ ঘিরে, কিন্তু শ্রান্তিহীন, ক্লান্তিহীন সদা সৃষ্টিশীল মন তখন গনিতের জগতের আঙ্গিনায়। তাই যখন মক-থিটা অপেক্ষকের গাণিতিক মূল্য বিচার করা হয়, তখন সবাই বিস্ময়ে অভিভূত হন। এ সমন্ধে সুব্রমনিয়ান চন্দ্রশেখরের মন্তব্য "এটি হলো গনিতের সর্বোত্তম সৃজনশীল কাজগুলোর মধ্যে একটি এবং একদিক দিয়ে একে রামানুজনের কাজগুলির মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বলা যায়"।

1919 সালে দেশে ফিরে একবছর পর 1920 সালে 26শে এপ্রিল গনিতের প্রতিভাবান ব্যাক্তি যক্ষ্মায় মাত্র তেত্রিশ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সত্যিই রামানুজনের গণিতচর্চা ও গণিত সাধনার মধ্যে অনেক খানি মনিমুক্তা লুকিয়ে আছে যার উজ্জ্বলতায় আমাদের চোখ ঝলসে যায়,কিন্তু আকৃষ্ট করে প্রবলভাবে।গণিতজ্ঞের জন্মভূমি ভারতবর্ষ তোমার মতো সন্তানের জন্য গর্বিত।অর্যভট্ট, ব্রহ্মগুপ্ত, ভাস্করের সাথেই তোমার স্থান ।হার্ডি, রামানুজনকে অয়লার,গাউসের মতোই সর্বশ্রেষ্ঠ গণিতজ্ঞ মনে করেছেন। বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গণিতবিদদের মধ্যেও তুমি প্রোজ্জ্বল নক্ষত্র।শ্রীনিবাস রামানুজন ভবিষ্যতের গণিতবিদদের জন্য দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে বেঁচে থাকবেন।

---------------:-------------

আজ বিশ্ব পাই দিবস । যেহেতু π এর মান প্রায় ৩.১৪ তাই ইংরাজি ক্যালেন্ডারে ৩য় মাস অর্থাৎ মার্চ ও ১৪ তারিখে অর্থাৎ ১৪ই মার্চ ...
14/03/2020

আজ বিশ্ব পাই দিবস । যেহেতু π এর মান প্রায় ৩.১৪ তাই ইংরাজি ক্যালেন্ডারে ৩য় মাস অর্থাৎ মার্চ ও ১৪ তারিখে অর্থাৎ ১৪ই মার্চ পাই দিবস পালন করা হয় ।কখনো কখনো পাই এর মান কে আরো নিখুত ভাবে পালন করতে এটা ১টা ৫৯ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে পালন করা হয়। কারন পাই এর আরো নিখুঁত মান ৩.১৪১৫৯২৬ , সকল কে π দিবসের সুভেচ্ছা ।

25/07/2018
গ্র্যাজুয়েট হ‌ওয়া হল না। কারণ বিজ্ঞান বিভাগেও তখন সংস্কৃত ও  দর্শনশাস্ত্র ছিল। ঐ দু’টি বিষয়েই তিনি ফেল করেন। তবে অঙ্কে ...
22/05/2018

গ্র্যাজুয়েট হ‌ওয়া হল না।
কারণ বিজ্ঞান বিভাগেও
তখন সংস্কৃত ও দর্শনশাস্ত্র ছিল।
ঐ দু’টি বিষয়েই তিনি ফেল করেন।
তবে অঙ্কে ১৫০-র মধ্যে পান ৮৫।
প্রশ্নপত্রের শুধু কঠিন অঙ্কগুলিই কষেছিলেন, পরীক্ষার হলে।
বাকী গুলি কষার চেষ্টাও করেননি।
গ্র্যাজুয়েট হতে না পেরে লাইব্রেরির
বইয়ের সমুদ্রেই ডুবে গেলেন
শ্রীনিবাস রামানুজন।
লাইব্রেরিতে পাওয়া একটি বই
- ‘আ সিনপ্‌সিস অফ এলিমেন্টারি রেজাল্টস ইন পিওর অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড ম্যাথমেটিক্স’ তাঁর জীবনের
মোড় ঘুরিয়ে দিল।
সেটি ছিল প্রতিযোগিতামূলক
পরীক্ষার প্রস্তুতির বই।
যাতে ছিল প্রচুর উপপাদ্য।
কিন্তু কোনওটিই প্রমাণ করা ছিল না।
তিনি প্রতিটি উপপাদ্যই নিজে প্রমাণ করেছিলেন।
গণিতবিদরা দেখে চমকে গিয়ে
বলেছিলেন, এত সহজে এগুলো প্রমাণ করা যায়?
কিন্তু গরীব পরিবারের ছেলে।
খাওয়ার ভাতই জুটত না তেমন ভাবে, পড়ার খরচ জোগাড় করবেন কোথা থেকে!
কোনও প্রথাগত ডিগ্রি ছিল না,
তাই এ দেশের কোনও
‘ফেলোশিপ’ পাচ্ছিলেন না তিনি।
গণিতবিদ রামস্বামী আইয়ারের পরামর্শে রামানুজন তিন জন বিশিষ্ট বিদেশি গণিতবিদকে চিঠি দেন।
দু’জন কোনও জবাব দেননি।
তৃতীয় জন,বিশিষ্ট ব্রিটিশ গণিতবিদ জি
এইচ হার্ডিকে ২০০ টি উপপাদ্য তিনি পাঠান।
হার্ডি সেটা পেয়ে খুব অবাক হয়ে যান।
হার্ডি রামানুজনকে ইংল্যান্ডে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
কিন্তু অত্যন্ত গোঁড়া ও রক্ষণশীল
হিন্দু পরিবারের ছেলে ‘কালা পানি’ পেরতে হবে বলে প্রথমে ইংল্যান্ডে যেতে রাজি না হলেও শেষমেশ রাজি হন । ৫ বছর
ছিলেন ইংল্যান্ডে। তখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলছে। হার্ডির সঙ্গে তিনি কিছু নতুন উপপাদ্য আবিষ্কার করেন। একটি ছিল-
‘বার্নোলিজ নাম্বার’। বৃত্তের পরিধি আর ব্যাসের অনুপাত সব সময়েই একটি ধ্রুবক বা কনস্ট্যান্ট, ‘পাই’ যার একটি
‘ইনফিনিট সিরিজ’ আবিষ্কার করে হার্ডিকে চমকে দেন।
তাঁর কাজের মূল ক্ষেত্র ছিল ‘নাম্বার থিওরি’, ‘কন্টিনিউড ফ্র্যাকশান’, অসীম শ্রেণি ইত্যাদি।
হার্ডি রামানুজন সম্পর্কে
বলেছিলেন, ‘‘যে কোনও ধনাত্মক অখণ্ড সংখ্যাই রামানুজনের কাছে ভগবান!’’ যত বড় সংখ্যাই হোক না কেন, তাকে দেখে সঙ্গে সঙ্গে সেই সংখ্যার একটা অদ্ভুত
গাণিতিক বৈশিষ্ট্য আবিষ্কার করে ফেলতেন।
পাঁচ বছর ইংল্যান্ডে থাকার শেষ দিকে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন।
কারণ প্রচণ্ড গোঁড়া হওয়ার জন্য ওই সময় তিনি নিজে রান্না করে নিরামিষ খেতেন।
খুব ভোরে কনকনে ঠান্ডা জলে চান
করতেন।
কিছু দিন পরেই যক্ষায় শয‍্য‌াশায়ী হলেন।মাত্র ৩৩ বছর বয়সে পরলোকে পাড়ি দিলেন গণিতের এই বিস্ময়
প্রতিভা।
এক দিন হার্ডি ট্যাক্সি নিয়ে হাসপাতালে রামানুজনকে দেখতে যান। সেই ট্যাক্সির নাম্বার ছিল ‘১৭২৯’।হার্ডি রামানুজনকে
বললেন, ‘‘সংখ্যাটা খুব বোরিং।’’
রামানুজন সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেন, ‘‘এটা অত্যন্ত ইন্টারেন্টিং সংখ্যা। কারণ, এটি হল সবচেয়ে ছোট ধনাত্মক, অখণ্ড সংখ্যা, যাকে দু’টি ধনাত্মক অখণ্ড সংখ্যার ত্রিধাতের (টু দ্য পাওয়ার থ্রি ) সমষ্টি হিসেবে প্রকাশ
করা যায়।পরে এই ধরনের সংখ্যাগুলোকেই ‘Taxicab’ নাম্বার
বলা হয়।

Schedule of B.COM part II honours & general exam 2018
19/05/2018

Schedule of B.COM part II honours & general exam 2018

Schedule of B.Sc & B.A part II exam
19/05/2018

Schedule of B.Sc & B.A part II exam

১৭৮৫ সালে জার্মানির ব্রহনশোওয়িকের একটি চার্চের বিদ্যালয়ের শিক্ষক জর্জ বাটনার দুষ্টু ছাত্রদের ব্যস্ত রাখবার জন্যে ১ থেকে...
30/04/2018

১৭৮৫ সালে জার্মানির ব্রহনশোওয়িকের একটি চার্চের বিদ্যালয়ের শিক্ষক জর্জ বাটনার দুষ্টু ছাত্রদের ব্যস্ত রাখবার জন্যে ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সংখ্যাগুলো যোগ করতে বলেন । ১+২+৩+৪......+১০০ এইভাবে যোগ করে যার আগে শেষ হবে সে সর্বপ্রথম উত্তর দিবে।কিন্তু তার কথা শেষ হতে না হতেই সবচাইতে দুষ্টু ছাত্রটি শিক্ষকটিকে অবাক করে দিয়ে মুহুর্তের মধ্যেই সঠিক উত্তরটি বের করে ফেলেন। উত্তরটি হল ৫০৫০ ।

শিক্ষক ছাত্রটিকে জিজ্ঞেস করলেন কিভাবে এত তারাতারি সঠিক উত্তর সে পেল? ছাত্রটি উত্তর দিল যে এই যোগফল বেরা করা তো খুব সহজ । শিক্ষক অবাক হয়ে বললেন খুব সহজ হলেও তো এত দ্রুত সময়ে বের করা ৮ বছরের বাচ্চার পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

ছাত্রটি বললেন ১+২+৩+৪......+১০০ ধারাটির দুই বিপরীত দিক থেকে পদ নিয়ে প্রতিবার একটি জোড়া তৈরি করতে থাকলে তাদের যোগফল প্রতিবার সমান থাকে ।

অর্থাৎ, ১+১০০=১০১
২+৯৯=১০১;
৩+৯৮=১০১...................................................
৫০+৫১=১০১

মোট সংখ্যা যেহেতু ১০০ এবং প্রতিবারে দুইটি করে সংখ্যা ব্যাবহার করা হয়েছে । সেই হিসেবে (১০০/২)=৫০ টি ১০১ পাওয়া যাবে। সর্বশেষ লাইনের ৫০ সংখ্যা দেখে সহজেই বোঝা যায় এইভাবে মোট ৫০ টি ১০১ পাওয়া যায় । তাহলে, এই ৫০ আর ১০১ এর গুনফলই হবে ধারাটির যোগফল ।

অর্থাৎ, ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সংখ্যার যোগফল=(৫০ X ১০১)=৫০৫০।

মাত্র ৮ বছরের বাচ্চার এমন বুদ্ধিদীপ্ত উদাহরণে শিক্ষক চমকপ্রদ হলেন । সেই শিশুটি ছিলেন "গনিতের রাজপুত্র" কার্ল ফ্রিড‌রিশ গাউস । যিনি গনিতের সংখ্যা তত্ত্ব, গাণিতিক বিশ্লেষণ, অন্তরক জ্যামিতি সহ পদার্থবিজ্ঞানের চুম্বকের ধর্ম, আলোকবিজ্ঞান এমনকি জ্যোতির্বিদ্যাতেও অবদান রেখেছেন।গাউসের এই সমষ্টি বের করার সহজ উপায় আমরা এখনো ব্যাবহার করি । গনিতে ধারার সমষ্টিকরন বা summation of series এ ১ থেকে n তম স্বাভাবিক সংখ্যার যোগফল নির্ণয়ের জন্য {n(n+1)}/2 সূত্রটি আমরা প্রায় সবাই জানি ।

আজ , গনিতের রাজপুত্রের জন্মদিন ! সারাদিন তাকে ও তার অবদান নিয়ে আমাদের পোস্ট থাকবে ! তার প্রতি রইল আমাদের শ্রদ্ধারসহিত সম্মান ও ভালোবাসা !

একই সাথে ১৮৯৭ সালের আজকের দিনেই ক্যাভেন্ডিস ল্যাবরেটরিতে জে জে থমসন ইলেকট্রন আবিস্কার করেন ! তাই মহাকাশপ্রেমি ও মহাকাশের ভাষা গণিত প্রেমীদের জন্য আজ দিনটি স্পেশাল !

26/04/2018

Address

Debhog
Haldia
721657

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dept. of Mathematics Haldia Govt. College posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share