14/11/2019
সব মনে পড়ছে। মনে পড়ছে, বাংলা ডিপার্টমেন্টে পড়া আমার এক ব্যাচমেট ইনবক্সে লিখে পাঠিয়েছিল “Dogs and SFI are not allowed”(বাওয়াল দিতে আসা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না, স্ক্রিনশট রয়েছে 😉 )। ২০১৪-র সেপ্টেম্বরে প্রমোদদার ক্যান্টিনে দেওয়াল জুড়ে ওরা লিখেছিল, “ল্যাংটো এসএফআই)। আজ দিনের আলোর মতো পরিষ্কার, ‘ল্যাংটো’ কারা। গোটা ক্যাম্পাসে তৃণমূল আর বিজেপির ভোট কুড়িয়ে বাড়িয়ে জোগাড় করেও হারতে হয়েছে স্বাধীন দালালদের। ওই ২০১৪-রই আগস্ট মাস। আইসির ‘দেবতুল্য’ নেতানেত্রীরা এসএফআই-এর হাঁটুর বয়সী জুনিয়রদের ঘিরে ধরে থ্রেটনিং এবং গায়ে হাত তোলার সময় কোয়াডে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে হুঙ্কার ছেড়েছিল, “এসএফআই-কে নির্বংশ করে দেবো !” 🙂
আমরা নির্বংশ হইনি। পাঁচ থেকে পঞ্চাশ হয়ে আমরা শিখেছি, হাওয়া ঘোরানো যায় কীভাবে। রাজ্য-দেশ আর দুনিয়াজোড়া অন্ধকারের দিনে আমাদের কাছে একরত্তি কিউবার মতো বেঁচে থেকেছে আমাদের সেকেন্ড হোম – ৮৬/১ কলেজস্ট্রিটের ক্যাম্পাস। দিনের পর দিন হেট ক্যাম্পেন ছড়িয়ে, আমাদের সিনিয়রদের নামে কুৎসা রটিয়ে ওরা ভেবেছে, এইভাবেই বুঝি জিতে থাকা যায় আজীবন। হিংস্র মিথ্যাচারের আড়ালে দিনের পর দিন বাড়তে দিয়েছে ফ্যাসিস্ত শক্তিগুলোকে, বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে। আমরা অপমানিত হয়েছি দিনের পর দিন – ক্যান্টিনে, কোয়াডে, প্রেসিগ্রিনে, প্রাঙ্গণে, হোস্টেলে..অপমানিত হয়েছি গা-বাঁচানো স্বাধীন রংচঙে এলিট ঔদ্ধত্যের কাছে – অপমানিত হয়েছি আমাদের ঘোষিত শ্রেণি-দায়বদ্ধতার জন্য। আমাদের শহীদদের ওরা তুচ্ছ বলেছে, আমাদের পতাকা নামিয়ে দিতে এসেছে বছরের পর বছর। এই সবের উত্তর আজ পেয়ে গেছে ওরা।
আমরা জিতে গেছি। আমাদের বুকের ভেতর জমিয়ে রাখা সব কান্নাগুলো জিতে গেছে। জিতে গেছে সুদীপ্তদা। নভেম্বরের স্বপ্ন জিতে গেছে। আমরা, যারা কলেজ লাইফে কোনোদিন লাল আবির খেলতে পারিনি ভোটের দিনে, আমরা সবাই জিতে গেছি। জিতে গেছে সঠিক রাজনীতি। ধর্মীয় ফ্যাসিবাদকে হারানোর জন্য পক্ষ নেওয়ার আহ্বান জিতে গেছে। বুর্জোয়া-ফ্যাসিস্ত দলগুলোর সেফটি ভালভ হিসেবে কাজ করা ননপার্টিজান ভাঁওতাবাজি মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই প্রেসিডেন্সিই আমার প্রেসিডেন্সি – যার জন্য বেঁচে থাকা যায় রাতভর, রাতভোর।
কাজের চাপে আজ যেতে পারলাম না কলেজস্ট্রিটে। লাইভ ভিডিওগুলো দেখে চোখ ভিজে যাচ্ছে বারবার। থাক, প্রজন্ম চত্বরের মুখগুলোর হাসি দেখে শান্তি হয়, নিশ্চিন্ত লাগে। কান্না পায়। এত আনন্দ আর এত দুঃখ একসাথে এর আগে কবে হয়েছে মনে পড়ে না।
আনন্দ। অবশ্যই। রাত্রি জাগানো প্রতিটা দিন আজ রক্তপলাশ হয়ে কলেজস্ট্রিটে হিল্লোল তুলছে।
লাখো লাখো লাল সেলাম বিজয়ী প্রার্থীদের(Mimosa, Ankita, Souren, Deeprajit, Shruti) , সংগঠনের প্রত্যেক কমরেডকে, এবং...
এবং হ্যাঁ, প্রেসিডেন্সিকে !
আমার কলেজ রাত পোহালেই পার্টিজান ❤️
Arkaprava Mukhopadhyay