01/01/2022
“ঈশ্বর কল্পতরু। যে যা চাইবে, তা-ই পাবে। কিন্তু কল্পতরুর কাছে থেকে চাইতে হয়, তবে কথা থাকে।” ঠাকুর প্রথমে সংসারে মুগ্ধকামী মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, 'ঈশ্বর কল্পতরু'। তারপর বলেছেন, সেই সর্বশক্তিমান ঈশ্বর সব কামনা পূরণ করতে পারেন। অবশেষে তিনি বলেছেন যে, দূর থেকে কল্পতরুর কাছে চাইলে কাজ হবে না। ঐ অভীষ্ট ফলদায়ক বৃক্ষের কাছে গিয়ে বা নিচে দাঁড়িয়ে চাইতে হয়, তবেই বাসনা পূরণ হবে। 'কালী কল্পতরু মূলে রে মন, চারি ফল কুড়ায়ে পাবি।”
আবার শুদ্ধমন না হলে ভগবানের কাছে যেতে প্রবৃত্তি হয় না এবং শুদ্ধমনে অশুদ্ধ আজে-বাজে জাগতিক বাসনাও ওঠে না। তাই ঠাকুরবলেছেন, “ঈশ্বরচিন্তা যত করবে, ততই সংসারের সামান্য ভোগের জিনিসে আসক্তি কমবে।” “ঈশ্বর লাউ, কুমড়ো ফল দেন না। তিনি অমৃত ফল দেন—জ্ঞান, প্রেম, বিবেক, বৈরাগ্য।” আশাহীন, ভেঙে পড়া মানুষকে ঠাকুর কল্পতরুর কথা বলে উদ্বুদ্ধ করেছেন, আবার নিজে কল্পতরু হয়ে তাদের হৃদয়ে চৈতন্য দান করেছেন। জগতের লোককে ঈশ্বরমুখী করাই ঠাকুরের উদ্দেশ্য—কারণ তাতেই পরম শান্তি ও শাশ্বত আনন্দ।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে : কল্পতরু-ঈশ্বর মানুষের সকল বাসনা পূরণ করেন কি না? সন্তান যদি মায়ের কাছে বিষ খেতে চায়, মা কি তাকে বিষ দেন? শ্রীরামকৃষ্ণ বিষয়মদে মত্ত মানুষকে বিকারের রোগীর সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, “বিকার থাকলে কত কী বলে—“আমি পাঁচ সের চালের ভাত খাব রে; এই এক জালা জল খাব রে।' বৈদ্য বলে, 'খাবি? আচ্ছা খাবি।' এই বলে বৈদ্য তামাক খায়। বিকার সেরে, যা বলবে তা-ই শুনতে হয়।”
কল্পতরু ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণদেবের জয় 🙏🙏