Nikhil BANGA Sikshan Mahavidyalaya

Nikhil BANGA Sikshan Mahavidyalaya NIKHIL BANGA SIKSHAN MAHAVIDYALAYA is a premier Institute in the field of Teacher Education and Physical Education

Internship programme for B Ed SEM III is going on
19/01/2026

Internship programme for B Ed SEM III is going on

14/01/2026

টুসু পরবের টুকিটাকি

চৌড়ল মানে টুসু নয়। চৌড়ল হল টুসুর বাহন। শনকাপাটি দিয়ে সাধারণত চৌড়ল নির্মিত হয়। কুড়মী দের কাছে টুসু বড় আদরের। অবিবাহিতা কন্যার আরেকটা রূপ হল টুসু। টুসু ধানেরই একটা রূপ। সারা মাস টুসুর আরাধনা করার পর, চৌড়লের মধ্যে ধান সহ সমস্ত পূর্জাচনার দ্রব্য সাজিয়ে সেটিকে পোষ সংক্রান্তির দিন নদী বা জলাশয়ে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। জল ছাড়া কোন বীজেরই অঙ্কুরোদগম হয়না। তাই জল হল টুসু বা ধানের শ্বশুরবাড়ী। নারীরা যেমন শ্বশুর বাড়ি গেলে সন্তানবতী হয়, তেমনি যে কোন শস্যবীজ জলের সম্পর্শে এলেই প্রজনন ক্রিয়া শুরু করে। কুড়মীরা যখন নিজের মেয়েকে শ্বশুর বাড়ী পাঠায়, তখন তাকে নানাভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে পিঠা করে পাঠানো হয়। তেমনি একমাস আরাধনা করার পর চৌড়ল চাপিয়ে টুসুকে শ্বশুর বাড়ি পাঠানো হয় অর্থাৎ জলে বিসর্জন দেওয়া হয়। অনেকেই বলে, চৌরল হল সূর্য এর প্রতীক। তাই চৌড়ল কে টুসুর যানবাহন হিসেবে দেখাই সমূচীত।

টুসু আসলে কী? কে ছিলেন? এই প্রশ্ন নিয়ে আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম জঙ্গলমহলের বেশ কিছু বিদগ্ধ মানুষের কাছে। টুসুউৎসব সম্পর্কে প্রচলিত নানা কিংবদন্তি এই উৎসবকে আরও মহিমান্বিত করেছে। টুসুকে কাশীপুরের রাজার কন্যা মনে করা হলেও এবং মকর সংক্রান্তির দিন মুলসমান নবাবের লালসার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নদীতে আত্মবিসর্জন এর কাহিনি প্রচলিত থাকলেও, জঙ্গলমহলের গবেষকরা কেউই এই কাহিনি মানতে চাননি।

প্রাক্তন অধ্যাপক ডঃ অনাদিনাথ কড়ইআর বলেছেন, টুসু হল সম্পর্ণ ভাবে কৃষিভিত্তিক উৎসব। কার্তিক মাস থেকে যে ধানকাটা শুরু হয় শেষ হয় অগ্রহায়ণের সংক্রান্তিতে। অগ্রহায়ণ মাসের সংক্রান্তি জঙ্গলমহলে "ছোটমকর" নামে পরিচিত। ওই দিন প্রতিটি কুড়মী পরিবারের কর্তা জমি থেকে ধানের শেষ আঁটিটিকে পুজো করে মাথায় করে নিয়ে এসে বাড়িতে স্থাপন করেন। এই অনুষ্ঠানটিকে বলা হয় "ডিনিমাঞ” আমাদের। অনাদিবাবুর মতে, এই "ডিনিমাঞ" হল টুসু। এই সময় প্রতিটি বাড়ি যে হেতু ফসলে টুসটুস করে ওঠে অর্থাৎ ভরে ওঠে, ওই জন্য এটা টুসু নামে পরিচিত। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অগ্রহায়ণ মাসের সংক্রান্তি থেকে পৌষ মাসের সংক্রান্তি পর্যন্ত প্রতি দিন টুসুকে পূজো করা হয় নৃত্যগীতের মাধ্যমে।

হাজারিবাগ বিশ্ববদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. বিনয় মাহাত টুসুকে শস্যের পূর্নজন্মের উৎসব বলে বর্ণনা করেছেন। বর্ষার শুরুতে মাটিতে পোঁতা বীজ থেকে নতুন শস্যের জন্ম হয়। সারা বছর চাষবাসের পর পৌষমাসের শেষে সেই শস্য পূর্ণতা লাভ করে মকর সংক্রান্তিতে। টুসু উৎসব তাই আদিম মানুষের মৃত শস্যের পূনজীবন কামনার একটি জীবনধর্মী, সৃষ্টিকর্মী অভিনব লোকউৎসব। অনেক গবেষকের মতে, 'তুষ' শব্দ থেকে টুসু শব্দের উৎপত্তি। বিনয়বাবু তাঁর 'লোকায়ত ঝাড়খণ্ড' গ্রন্থে বলেছেন, এই তুষ মৃত ধানের প্রতীক। আর জলাশয়ে টুসু বিসর্জনের অর্থ হল মৃত শস্যকে কবর দেওয়া। তবু টুসুভাসান শোকোৎসব ত্বারান্বিক করার জন্য আনন্দোৎসব।

টুসুর সঙ্গে মূর্তি পূজার কোনো সম্পর্ক নেই। তবু অঞ্চলভেদে বাঁকুড়া, মেদিনীপুরের কিছু এলাকার মূর্তিপূজো হচ্ছে। টুসু উৎসব এর প্রাণকেন্দ্র পুরুলিয়াতে কোনো ধরণের মূর্তি করা হয় না। টুসুর বাহন রূপে 'চোড়ল' ব্যবহার করা হয় নৃত্যগীতে। পুরুলিয়ার বিশিষ্ট গবেষক চারিয়ান মাহাতোর মতে, টুসু উৎসবে সূর্যদেবতাকে পূজো করা হয়। কুড়মালী শব্দ 'টুই' এর অর্থ সর্বোচ্চ, আর 'সু' এর অর্থ সূর্য। এই সময় সূর্যের উত্তোরায়ণ শুরু হওয়ার সূর্য সর্বোচ্চ স্থানে থাকে। সূর্য যে হেতু সকল শক্তির উৎস, তাই সূর্যদেবতাকে পূজো করা হয় টুসুর মাধ্যমে।

'টুসু' সম্পর্কে যা-ই মতবাদ প্রচলিত থাকুক, টুসু বৃহত্তর ছোটোনাগপুর মালভূমি এলাকার জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। টুসু কুড়মী জনজাতীর প্রধান উৎসব হলেও, এই এলাকায় বসবাসকারী সমস্ত জাতিগোষ্ঠী এই উৎসবে অংশগ্রহন করে থাকেন। মকরসংক্রান্তিতে স্নানের পর ধনী, গরিব প্রত্যেকের শরীরে উঠবে নতুন পোশাক। ওই দিন পুরুষরা চলে যায় নিকটবর্তী 'পরকুল' মেলায়। মহিলারা নিকটবর্তী নদী বা পুকুরে তলে যান টুসুবিসর্জন। বাস্তবিকই টুসু হয়ে উঠেছে জঙ্গলমহলের প্রাণের উৎসব।।
📝সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পাওয়া

ইংরেজ তাঁকে তাড়া করে বেড়িয়েছে। ক্ষ্যাপা কুকুরের মতো খুঁজেছে। দিল্লির অ্যাসেম্বলিতে বোমা মারার পর ভগৎ সিংয়ের ফাঁসি হয় ...
21/11/2025

ইংরেজ তাঁকে তাড়া করে বেড়িয়েছে। ক্ষ্যাপা কুকুরের মতো খুঁজেছে। দিল্লির অ্যাসেম্বলিতে বোমা মারার পর ভগৎ সিংয়ের ফাঁসি হয় । তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল দ্বীপান্তরে। সেখানে অকথ্য নির্যাতন। বেতের ঘা, বুট দিয়ে বুকে পিঠে আঘাত, খেতে না-দেওয়া, ভেতর-বাইরে থেকে শরীরটা ঝাঁঝরা করে করে দিয়েছে ইংরেজ। তারপর.....?

দেশ স্বাধীন হল কিন্তু তিনি হলেন না। স্বাধীন ভারত সরকারও তাঁকে বাংলা বিহার ওড়িশার বাইরে বেরোতে মানা করে দিল। কেন, তা কেউ জানে না। এমনটা চলেছিল বেশ কয়েক মাস...

৮ই এপ্রিল, ১৯২৯

রাজধানী দিল্লির কেন্দ্রীয় আইন সভাতে সেদিন পাবলিক সেফটি বিল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। হঠাৎই দর্শক গ্যালারি থেকে উড়ে এলো দুটো দেশি বোমা। বিকট শব্দে ফাটলো ট্রেজারি বেঞ্চের সামনে। ধোঁয়া সরে যেতে দেখা গেল দুই যুবক কিছু প্যামফ্লেট ছুড়ে দিচ্ছে নীচে, মুখে স্লোগান.... ইনকিলাব জিন্দাবাদ! ‌‌

ইতিহাস সাক্ষী সেদিন কেউ জখম না হলেও তাদের আওয়াজ কাঁপিয়ে দিয়েছিল বৃটিশ শাসনের ভিত। না, পালানোর কোন চেষ্টাই করেননি সেদিনের ঘটনার দুই নায়ক ভগত সিংহ ও বটুকেশ্বর দত্ত। ধরা দিলেন তাঁরা‌।

পিছিয়ে যাই আরো একটা বছর। সাল ১৯২৮, সাইমন কমিশন নিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভ তখন তুঙ্গে। এই কমিশনের বিরুদ্ধে ১৭ই ডিসেম্বর লাহোরে বের হলো এক প্রতিবাদ মিছিল। পুলিশ সুপার জেমস স্কটের আদেশে মিছিলে নৃশংস ভাবে লাঠিচার্জ করলো পুলিশ। আহত হয়ে দুদিন পর প্রাণ দিলেন পাঞ্জাবের জনপ্রিয় নেতা লালা লাজপত রায়। ভগৎ সিংহ ও তাঁর দল HSRA শপথ নিলেন বাঁচতে দেয়া হবেনা স্কটকে। এক সপ্তাহ পরেই অফিস থেকে বেরুনোর মুখে ভগত, রাজগুরু, শুকদেব ও আজাদ গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিলেন স্কটের পরিবর্তে ডেপুটি সুপার জন সন্ডার্স কে। ক্ষ্যাপা কুকুরের মতো পুলিশ খুঁজতে লাগলো তাদের। গোপনে পাঞ্জাব ছাড়লেন সবাই।

বর্ধমানের খন্ডঘোষের ওয়াড়ি গ্রামে জন্ম বিপ্লবী বটুকেশ্বর দত্তের। রেলে চাকরি সূত্রে, বাবা গোষ্ঠবিহারী দত্ত কানপুরে বাস করায় তাঁর বাল্যশিক্ষা সেখানেই। কানপুরেই গণেশ শঙ্কর বিদ্যার্থীর জাতীয়তাবাদী পত্রিকা ‘প্রতাপ’-এর সঙ্গে যুক্ত হন ভগত সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে দুজনের সহযোদ্ধা হয়ে ওঠা।

সন্ডার্স হত্যার পর বিপ্লবী ভগৎ সিংকে সঙ্গে নিয়ে খণ্ডঘোষের ওঁয়াড়ি গ্রামে লুকিয়ে ছিলেন বটুকেশ্বর। তাঁদের খোঁজে ব্রিটিশ পুলিশ তখন দেশ জুড়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। কানপুরের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সন্ধান না-পেয়ে পুলিশ হানা দেয় ওয়ারি গ্রামে বটুকেশ্বরের বাড়িতে। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে বটুকেশ্বর তৈরি করলেন একটি সুড়ঙ্গ। নিজের বাড়ির ভিতর তৈরি হওয়া সেই সুড়ঙ্গ জুড়ে গেল লাগোয়া নগেন্দ্রনাথ ঘোষের বাড়ির সঙ্গে। ইংরেজ পুলিশ বটুকেশ্বরের বাড়ি ঘিরে ফেললে ভগৎ সিংকে নিয়ে তিনি আশ্রয় নিলেন সেই সুড়ঙ্গে। প্রায় ১৮ দিন সেই চোরাকুঠুরিতে কাটিয়েছিলেন দু'জন।

নগেন্দ্রনাথের বাড়ি থেকে রাতের অন্ধকারে আসত খাবার, জল। এ ভাবে থাকার পর প্রতিবেশী এক পিসিমার সহযোগিতায় মহিলার ছদ্মবেশে এলাকা ছাড়েন বটুকেশ্বর ও ভগৎ সিং। সাড়ে ন'কিলোমিটার পথ হেঁটে বোঁয়াইচন্ডী স্টেশনে এসে ভোরের ট্রেনে এলাকা ছাড়েন দুই বিপ্লবী। এরপরেই দিল্লি সংসদে বোমা নিক্ষেপ। ‌‌

১৯২৯ সালের জুন মাস থেকে নিয়মিত বিচার শুরু হয় ভগৎ, বটুকেশ্বর ও তাদের সঙ্গীদের বিরুদ্ধে।
এবার ফাঁস হয়ে গেল সন্ডার্স হত্যার কথা। বিচারের প্রহসনের পর ১৯৩১-এর ২৩শে মার্চ ফাঁসি হয়ে গেল ভগত সিং, শুকদেব ও রাজগুরু'র। যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর হয়ে আন্দামানে চালান হলেন বটুকেশ্বর। ১৯৪১-এ মুক্তি পেয়ে ফের ’৪২-এর ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনে যোগ দেন তিনি। আবার কারাবাস। মুক্তি পান স্বাধীনতার পর।

২০শে জুলাই, ১৯৬৫

দিল্লিতে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বটুকেশ্বর। শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী অস্থি বিসর্জন দেয়া হয়েছিল ফিরোজপুর জেলার হুসেইনিওয়ালায়, চৌত্রিশ বছর আগে যেখানে একদিন রাতের অন্ধকারে শতদ্রু নদীতীরে গোপনে অন্তিম সংস্কার করা হয়েছিল তাঁর সহযোদ্ধা ভগৎ সিং, রাজগুরু ও শুকদেবের।

আজ সেই সুড়ঙ্গ প্রায় বুজে এসেছে। নগেন্দ্রনাথের বাড়ির হালও অত্যন্ত করুণ, ভেঙেছে কড়িকাঠ। সেখানে শুধুই আজ অবহেলার দীর্ঘশ্বাস! জন্মভূমিতেই বটুকেশ্বর আজ অবহেলিত, কেউ মনে রাখেনি....... কেউ মনে রাখেও না!‌

তিনি ভগৎ সিংহের সহযোদ্ধা। বঙ্গসন্তান বটুকেশ্বর দত্ত, ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধের এক 'আনসাং হিরো' ! জন্মদিনে আজ লহ প্রণাম..

সংকলনে: স্বপন সেন

©

অচেনা অজানা হরিহর জেটালাল ওরফে সঞ্জীব কুমারহার্টের সমস্যা নিয়ে জন্মেছিলেন বয়স বাড়ার সঙ্গে সেই সমস্যা বাড়ে। অকালে চলে গ...
06/11/2025

অচেনা অজানা হরিহর জেটালাল ওরফে সঞ্জীব কুমার

হার্টের সমস্যা নিয়ে জন্মেছিলেন বয়স বাড়ার সঙ্গে সেই সমস্যা বাড়ে। অকালে চলে গিয়েছেন। বম্বেতে তাঁর বাড়িতে ডিনারের আমন্ত্রণ রক্ষা করেছিলেন সস্ত্রীক সত্যজিৎ রায় । অবিবাহিত ছেলের বিয়ের জন্য মানিকবাবুদের কাছে মায়ের অনুরোধ তারা যেন ছেলেকে বিয়েতে রাজি করাতে পারেন। অভিনেতার কানে পৌঁছে যায় মায়ের সেই বিশেষ অনুরোধে কথা, সব শুনে হেসে উড়িয়ে দিলেন।
আসল নাম নয় ছদ্মনামেই তিনি জনপ্রিয়। ছোটবেলা থেকেই নাটক করতে ভালবাসতেন।আর্থার মিলারের ‘অল মাই সন্স’ নাটকে মাত্র ২২ বছর বয়সে এক থুত্থুরে বুড়োর ভূমিকায় অভিনয় করে চমকে দেন। ভারতীয় সিনেমার ব্লকবাস্টার ছবি ' শোলে'র আইকনিক 'ঠাকুর বলদেও সিংহ’-এর চরিত্রে তাঁর অসামান্য অভিনয় কেউ কী কখনও ভুলতে পারবেন! কিংবা সত্যজিৎ রায়ের ছবি 'শতরঞ্জ কী খিলাড়ী'র জন্য তাঁকে ভোলা কি সম্ভব! ছবিতে অভিনয় করার জন্য ' চরিত্র ' তাঁর কাছে আসল।
বেশির ভাগ সময় এমন সব চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যেত, যে চরিত্রের বয়স অভিনেতার বয়সের চেয়ে ঢের বেশি। আসলে তিনি অভিনেতা হতে চেয়েছিলেন অভিনেতা হয়ে বেঁচে আছেন চলচ্চিত্র অনুরাগীদের হৃদয়ে। তাঁর নাম হরিহর জেটালাল জরিওয়ালা মানুষ তাঁকে চেনেন অভিনেতা সঞ্জীব কুমার নামে।
নায়কোচিত চেহারা। সব ছবিতে নায়ক হয়ে না উঠলেও শান দেওয়া ব্যক্তিত্ব ও রূপে বিশেষ করে অনুরাগিনীদের মনে একটা আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন। শুধু মাত্র সিরিয়াস ছবি নয় কমেডি ছবিতেও সঞ্জীব কুমারের অভিনয় অনবদ্য। হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায় নির্দেশিত ‘অর্জুন পণ্ডিত’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার পুরষ্কারও লাভ করেন।‘পতি, পত্নী অউর ওহ’, ‘আঙ্গুর’, ‘বিবি-ও-বিবি’, ‘হিরো’ ছবিতে সঞ্জীব কুমারের অভিনয় মাত করেছিল দর্শকদের। ‘ফোর্বস’-এর বিচারে ‘আঙ্গুর’ ছবিতে তাঁর দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় ভারতীয় ছবির সেরা ২৫টি পারফর্ম্যান্সের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। ‘চরিত্রহীন’, ‘অঙ্গারে’, ‘গৃহপ্রবেশ’ বা ‘আঁধি’, নানা ছবিতে সঞ্জীব অনবদ্য।
হেমা মালিনীর সঙ্গে সঞ্জীবকুমারের একটি সম্পর্ক তৈরি হয়। ১৯৭৬ পর্যন্ত ঘনিষ্ঠ সেই সম্পর্ক ছিল । সুলক্ষ্মণা পণ্ডিত সঞ্জীবের প্রেমে পড়েন ও বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে সঞ্জীব সে ডাকে সাড়া দেননি। সুলক্ষ্মণাও সঞ্জীবের মত সারাজীবন অবিবাহিত ছিলেন।
সঞ্জীবের ঠাকুরদা শিবলাল জরিওয়ালা এবং সঞ্জীবের বাবা জেঠালাল জরিওয়ালা দু’জনেই পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মারা যান। সঞ্জীব নিজে জন্মগ্ৰহণ করেছেন হার্টের সমস্যা নিয়ে।প্রথম হার্ট অ্যাটাকের পর আমেরিকাতে অস্ত্রোপচারও হয় তাঁর। কিন্তু দ্বিতীয় বারের ধাক্কাটা আর সামলাতে পারেননি তিনি। ১৯৮৫ সালের ৬ নভেম্বর মাত্র ৪৭ বছর বয়সেই মৃত্যু হয় এই জনপ্রিয় অভিনেতার। চলচ্চিত্রে তাঁর অবদানেক কথা স্মরণ করে তাঁকে বিশেষ সম্মান জানাতে ভারতীয় ডাক বিভাগ সঞ্জীব কুমারের সচিত্র ডাকটিকিট প্রকাশ করে ২০১৩ সালে। আজ সঞ্জীব কুমারের আরও একটি প্রয়াণ দিবস আমরা স্মরণ করি ভারতীয় চলচ্চিত্রের শক্তিশালী এই অভিনেতাকে।
ধ্রুবতারা দের খোঁজে পেজ থেকে

" অমর বিপ্লবী নির্মলজীবন ঘোষ — ফাঁসির দড়িতে চুম্বন করা এক মহান বিপ্লবী "দেশের জন্য যিনি ফাঁসির দড়িকে ভালোবেসে হাসিমুখে...
04/11/2025

" অমর বিপ্লবী নির্মলজীবন ঘোষ — ফাঁসির দড়িতে চুম্বন করা এক মহান বিপ্লবী "

দেশের জন্য যিনি ফাঁসির দড়িকে ভালোবেসে হাসিমুখে আলিঙ্গন করেছিলেন, যিনি মৃত্যুর মুহূর্তেও উচ্চারণ করেছিলেন — “বন্দে মাতরম্!”, তিনি ছিলেন বাংলার এক অমর সন্তান, স্বাধীনতার জন্য প্রাণ বিসর্জন দেওয়া এক মহান বীর। তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় সাহস, আত্মত্যাগ আর দেশপ্রেমে পরিপূর্ণ। তিনি হলেন আমাদের শ্রদ্ধেয় বিপ্লবী নির্মলজীবন ঘোষ ।

নির্মলজীবন ঘোষ ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অমর বিপ্লবী। মৃত্যুকে তিনি দেখেছিলেন দেশের মুক্তির সোপান হিসেবে। তাঁর এক ভাই নবজীবন ঘোষও ছিলেন দেশপ্রেমিক বিপ্লবী, যিনি ব্রিটিশ পুলিশের নির্মম অত্যাচারে জেলেই প্রাণ হারান। আরেক ভাইও ছিলেন মহান বিপ্লবী। বলা চলে, তাঁদের পরিবারই ছিল দেশমাতৃকার সেবায় উৎসর্গীকৃত এক পরিবার। যেমন মহারাষ্ট্রের তিন ভাই ‘চাপেকর ভ্রাতা’ স্বাধীনতার জন্য আত্মবলিদান দিয়েছিলেন, তেমনই বাংলার এই ঘোষ পরিবারও ইতিহাসে নিজেদের স্থান করে নিয়েছিলেন অনন্য সাহসের প্রতীক হিসেবে।

হুগলির ধামসিন গ্রামে ১৯১৬ সালের ৫ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন নির্মলজীবন ঘোষ। পিতা যামিনীজীবন ঘোষ। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা ও দেশপ্রেমিক। মেদিনীপুর কলেজে আই.এ. শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় তাঁর মনে দেশপ্রেমের আগুন জ্বলে ওঠে। তিনি যোগ দেন গোপন বিপ্লবী সংগঠন ‘বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স’-এ। এ সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের শোষণনীতি রুখে দাঁড়ানো এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করা।

সেই সময় মেদিনীপুর জেলার ব্রিটিশ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বার্জ সাহেব ছিলেন বিপ্লবীদের জন্য এক ভয়ঙ্কর বাধা। তাঁর অত্যাচার, অপমান, ও বিদ্রূপে তিলে তিলে জ্বলছিল তরুণ বিপ্লবীদের হৃদয়। অবশেষে সিদ্ধান্ত হয় — এই দানবীয় প্রশাসকের অবসান ঘটাতেই হবে।

১৯৩৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর, মেদিনীপুর কলেজ মাঠে ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন সময়ে বিপ্লবীরা পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করেন বার্জ সাহেবকে। বিপ্লবী অনাথবন্ধু পাঁজা ও মৃগেন্দ্রনাথ দত্ত খেলার ছলে মাঠে প্রবেশ করেন এবং কাছ থেকে গুলি চালান। ঘটনাস্থলেই বার্জ মারা যান, আহত হন জোন্স নামে এক ইংরেজ। দুই বীর বিপ্লবী তৎক্ষণাৎ পুলিশের গুলিতে মারা যান, অন্যরা সাফল্যের সঙ্গে পালিয়ে যান।

এরপর শুরু হয় ব্যাপক অভিযান। একে একে ধরা পড়েন নির্মলজীবন ঘোষ, ব্রজকিশোর চক্রবর্তী, রামকৃষ্ণ রায়, নন্দদুলাল সিং, কামাখ্যা ঘোষ, সুকুমার সেন এবং সনাতন রায়। দীর্ঘ বিচার শেষে তিনজন বিপ্লবীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয় — নির্মলজীবন ঘোষ, ব্রজকিশোর চক্রবর্তী এবং রামকৃষ্ণ রায়।

১৯৩৪ সালের ২৫ অক্টোবর ফাঁসিতে ঝোলানো হয় ব্রজকিশোর চক্রবর্তী ও রামকৃষ্ণ রায়কে। আর ২৬ অক্টোবর, ভোরের আলো ফোটার আগেই নির্মলজীবন ঘোষ মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেলের ফাঁসির মঞ্চে হাসিমুখে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন। তাঁর ঠোঁটে তখনও জ্বলছিল স্বাধীনতার মন্ত্র — “বন্দে মাতরম্!”

এই মহাবীরের আত্মত্যাগ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অমর অধ্যায়। তাঁর ভাই নবজীবন ঘোষের মতোই তিনি দেখিয়েছেন — স্বাধীনতার মূল্য জীবন দিয়েও দিতে হয়। বাংলার এই পরিবার আজও ইতিহাসে অমর, যেমন মহারাষ্ট্রের চাপেকর ভ্রাতারা।

আজ তাঁর জন্য আমরা মাথা নত করি শ্রদ্ধায়, গর্বে ও কৃতজ্ঞতায়।
তাঁর মতো সাহসী সন্তানদের কারণেই আমরা আজ স্বাধীনতার আলো দেখতে পেয়েছি।
চিরঅমর বিপ্লবী নির্মলজীবন ঘোষকে প্রণাম 🙏

(সংগৃহীত)
কলমে:প্রকাশ রায়

゚ ゚

সাহিত্যিক অন্নদাশঙ্কর রায়১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাস | শীতের প্রকোপ তখনও যায়নি | সকাল সকাল তার স্বভাব ছিল নারকেল তেল গা...
03/11/2025

সাহিত্যিক অন্নদাশঙ্কর রায়
১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাস | শীতের প্রকোপ তখনও যায়নি | সকাল সকাল তার স্বভাব ছিল নারকেল তেল গায়ে মেখে স্নান করার | নারকেল তেল শীতে জমে যেত | তাই নারকেলের তেলের শিশি বারান্দায় রোদে দিয়ে রেখেছিলেন যাতে তেল গলে যায় | স্নান করতে যাওয়ার আগে স্ত্রী লীলা রায়কে বললেন ‘তেলের শিশি দাও’ | এদিকে তার স্ত্রী তখন রান্নায় ব্যস্ত | বারান্দায় খেলছিলেন তাদের বছর দুইয়ের কন্যা | ভাল নাম তৃপ্তি | ডাকনাম খুকু | ওনার স্ত্রী খুকুকে বললেন “বাবাকে তেলের শিশি দিয়ে এস |” খুকুর হাত থেকে খেলার ছলে সেই শিশি পড়ে যায় এবং ভেঙে যায় | লীলা রায় রেগে অগ্নিশর্মা | খুব বকাও দিলেন কন্যা খুকুকে |
বকাঝকা শুনে তিনি ঘরের ভিতরে এলেন আর স্ত্রীকে বললেন ‘সামান্য একটি তেলের শিশি ভাঙল রাগ করছো, এদিকে দেশ ভাঙছে’। বলেই স্নানে না গিয়ে ঘরে ঢুকে গেলেন | টেবিলে গিয়ে কাগজে লিখতে থাকলেন।
পরে জানা যায় তিনি লিখেছিলেন বিখ্যাত ‘খুকু ও খোকা’ কবিতাটি |
“তেলের শিশি ভাঙল বলে
খুকুর পরে রাগ করো
তোমরা যে সব বুড়ো খোকা
ভারত ভেঙে ভাগ করো
তার বেলা?
#
ভাঙছ প্রদেশ ভাঙছ জেলা
জমিজমা ঘরবাড়ি
পাটের আড়ৎ ধানের গোলা
কারখানা আর রেলগাড়ি
তার বেলা?
#
চায়ের বাগান কয়লাখনি
কলেজ খানা আপিস-ঘর
চেয়ার টেবিল দেয়ালঘড়ি
পিয়ন পুলিশ প্রোফেসর!
তার বেলা?
#
যুদ্ধ জাহাজ জঙ্গি মোটর
কামান বিমান অশ্ব উট
ভাগাভাগির ভাঙাভাঙির
চলছে যেন হরির লুট!
#
তেলের শিশি ভাঙল বলে
খুকুর পরে রাগ করো
তোমরা যে সব ধেড়ে খোকা
বাংলা ভেঙে ভাগ করো!
তার বেলা?
তিনি অন্নদাশঙ্কর রায় | জন্ম ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ উড়িষ্যার ঢেঙ্কানলে । তাদের আদি বাড়ি ছিল অধুনা উত্তরপাড়া কোতরংয়ে । কোতরং থেকে তাদের পরিবার চলে যান উড়িষ্যার বালেশ্বর জেলার রামেশ্বরপুরে । অন্নদাশঙ্করের পিতার নাম নিমাইচরণ রায় । মাতা হেমনলিনী দেবী । ছোট থেকেই পড়াশোনায় ভাল ছিলেন অন্নদাশঙ্কর রায় । ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ম্যাট্রিক পাশ করেন । সংবাদপত্রের সম্পাদনা শিখতে কলকাতায় আসেন । কিন্তু এই কাজ তাঁর ভাল লাগেনি । পুনরায় ফিরে আসেন পড়াশোনার জগতে । কটকের র‌্যাভেনশ কলেজ থেকে আই.এ পরীক্ষায় পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন অন্নদাশঙ্কর রায় । ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে বি.এ পরীক্ষাতেও তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে প্রথম স্থানাধিকারী হন । ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে এম.এ পড়তে পড়তে আই.সি.এস পরীক্ষায় তিনি দ্বিতীয়বারে পূর্ববর্তী রেকর্ড ভেঙে প্রথম স্থান অধিকার করেন । তিনিই প্রথম ভারতীয় হিসেবে এ গৌরব লাভ করেন। সেই বছরেই তিনি সরকারি খরচে আই.সি.এস হতে ইংল্যান্ড যান । সেখানে তিনি দুই বছর ছিলেন । লেখালিখির শুরু তখন থেকেই । সেই সময় তাঁর ধারাবাহিক ভ্রমণ কাহিনী পথে প্রবাসে বিচিত্রায় প্রকাশিত হয় । তার প্রথম কবিতা ছিল ওড়িয়া ভাষায় | বলতেনও রসিয়ে, “ওড়িয়া-বাংলাকে মিশিয়ে দিয়েছি”।
১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে মার্কিন কন্যা অ্যালিস ভার্জিনিয়া অনফোর্ডের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অন্নদাশঙ্কর রায় । তিনি তার নাম দেন লীলা রায় । লীলা রায় বহু বই বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন । অন্নদাশঙ্করের অনেক লেখা লীলাময় ছদ্মনামে প্রকাশিত হয়েছিল । অন্নদাশঙ্কর গদ্য ও পদ্য উভয় ক্ষেত্রেই নিজের প্রতিভার সাক্ষর রেখেছেন । সত্যাসত্য,যার যেথা দেশ,অজ্ঞাতবাস,কলঙ্কবতী,দুঃখমোচন,মর্ত্যের স্বর্গ,অপসারন,আগুন নিয়ে খেলা,অসমাপিকা,পুতুল নিয়ে খেলা,না,কন্যা অন্নদাশঙ্কর রায়ের উল্লেখযোগ্য কিছু উপন্যাস ।
১৯২৯ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত প্রায় আঠারো বছরের মধ্যে অন্নদাশঙ্কর রায় নয় বছর পশ্চিমবঙ্গে এবং নয় বছর পূর্ববঙ্গে বিভিন্ন পদে নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তিনি উচ্চতর পর্যায়ের ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের সদস্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসন ও বিচার বিভাগে কাজ করেন। তিনি মানতে পারেননি দেশভাগ । দেশভাগ, রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক বিষয়কে কেন্দ্র করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিরোধ হওয়ায় ১৯৫০ সালে পদত্যাগ পত্র দেন এবং ১৯৫১ সালে তিনি বিচার বিভাগের সচিব পদ থেকে অব্যাহতি পান। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য বাঙালির আত্মদান তাঁর মনে গভীরভাবে রেখাপাত করে। পরের বছর ১৯৫৩ সালে তিনি এক ঐতিহাসিক ‘সাহিত্য মেলা’র আয়োজন করেন শান্তিনিকেতনে। তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে এই সাহিত্য মেলায় যোগ দেন কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন, শামসুর রাহমান, কায়সুল হক এবং আরো অনেকে।
১৯৭৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অন্নদাশঙ্কর রায়কে জগত্তারিণী পুরস্কারে ভূষিত করে। তাকে দেশিকোত্তম সম্মান প্রদান করে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার (ডিলিট) উপাধি প্রদান করে। এছাড়াও অন্নদাশঙ্কর রায় পেয়েছেন সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬২), আনন্দ পুরস্কার (দুইবার-১৯৮৩, ১৯৯৪), বিদ্যাসাগর পুরস্কার, শিরোমণি পুরস্কার (১৯৯৫), রবীন্দ্র পুরস্কার, নজরুল পুরস্কার, বাংলাদেশের জেবুন্নিসা পুরস্কার । ২০০২ সালের ২৮ অক্টোবর প্রয়াত হন অন্নদাশঙ্কর রায় ।
তথ্য – উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ট্রিবিউন

Shout out to my newest followers! Excited to have you onboard! Ganesh Bhattacharya, Sandipan Sengupta, Moumita Sarkar Pa...
01/11/2025

Shout out to my newest followers! Excited to have you onboard! Ganesh Bhattacharya, Sandipan Sengupta, Moumita Sarkar Pal, Rajib Gurung, Payel Raksh*t, মণ্ডলকুলি সরস্বতী শিশু মন্দির, Suparna Addya, Shaibal Chakrabortty, Tanmoy Mukherjee, Vishakha Bhagat, Chavada Kirit, ইচ্ছে প্রকাশনী, DrAmal Chakrabarty, Anushree Dey

ভাটনগর প্রাপক অধ্যাপক দিব্যেন্দু দাস *রসায়নের নিঃশব্দ অনুতে খুঁজে পেলেন জীবনের সুর — এই ভাবনাই যেন সত্যি হয়ে উঠেছে IIS...
29/10/2025

ভাটনগর প্রাপক অধ্যাপক দিব্যেন্দু দাস

*রসায়নের নিঃশব্দ অনুতে খুঁজে পেলেন জীবনের সুর — এই ভাবনাই যেন সত্যি হয়ে উঠেছে IISER কলকাতার তরুণ অধ্যাপক দিব্যেন্দু দাস-এর জীবনে। গবেষক প্রমাণ করছেন, অনুপ্রেরণা আর কৌতূহল থাকলে রসায়নও হতে পারে জীবনের সঙ্গীত । এ বছর ভারতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিজ্ঞান সম্মান ' শান্তি স্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার ' পেয়েছেন তিনি রসায়ন শাখায় অসামান্য গবেষণার জন্য। এই পুরস্কার ভারতের বিজ্ঞান জগতে এক অনন্য স্বীকৃতি, যা প্রতি বছর সৃজনশীল ও যুগান্তকারী গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ দেওয়া হয়।*

*দিব্যেন্দু দাস মূলত কাজ করেন ' সফট মেটেরিয়াল ' বা নরম পদার্থ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে—যেখানে রসায়ন, পদার্থবিদ্যা ও জীববিজ্ঞানের সূক্ষ্ম সীমান্তরেখাগুলি মিলেমিশে যায় এক নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনায়। তাঁর গবেষণা কেন্দ্রীভূত এমন কিছু অণু নিয়ে, যেগুলি জীবন্ত কোষের মতোই নিজে নিজে সংগঠিত হয়ে নতুন কাঠামো তৈরি করতে পারে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, তাঁর গবেষণায় বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে ' জীবনের রাসায়নিক সূত্র ' — কীভাবে জড় পদার্থ ধীরে ধীরে প্রাণের লক্ষণ অর্জন করতে পারে।*

*এই গবেষণা শুধু রসায়ন নয়, জীবনের উৎপত্তি এবং নতুন প্রজন্মের বায়োমেটেরিয়াল তৈরির দিকেও পথ দেখাচ্ছে। তাঁর কাজ ভবিষ্যতে কৃত্রিম জীববিজ্ঞান, ওষুধ পরিবহন, এমনকি টিস্যু ইঞ্জিনিয়ারিংয়েও নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।*

*IISER কলকাতার এক শান্ত কোণে বসে তিনি ও তাঁর গবেষক দল প্রতিদিন অন্বেষণ করে চলেছেন সেই প্রশ্ন—জীবন আসলে কোথা থেকে শুরু? নিঃশব্দ অণুর ভেতরে কি সত্যিই লুকিয়ে আছে সুরের এক অলৌকিক রসায়ন?*

*দিব্যেন্দু দাসের এই সম্মান শুধুমাত্র ব্যক্তিগত গৌরব নয়; এটি ভারতের তরুণ বিজ্ঞানীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার আলো—যা মনে করিয়ে দেয়, কৌতূহল ও নিষ্ঠার মিলনেই জন্ম নেয় প্রকৃত আবিষ্কার, হ্যাঁ এই দুখিনী জন্মভূমির মাটিতেও ।*
*ধন্য সেই মস্তিষ্ক, ধন্য সেই অন্তর্দৃষ্টি — যেখান থেকে জন্ম নেয় নতুন আলো* 🌟💐💚
*✒️সংগৃহীত।*

26/10/2025

ছঠ পুজা

ছঠ পূজা হিন্দু বর্ষপঞ্জীর কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে উদযাপিত একটি প্রাচীন হিন্দু পার্বণ।সূর্য্যোপাসনার এই অনুপম লৌকিক উৎসব পূর্ব ভারতের বিহার, ঝাড়খণ্ড,পূর্ব উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণে এবং নেপালের তরাই অঞ্চলে পালিত হয়ে থাকে। ধীরে ধীরে এই পার্বণ প্রবাসী ভারতীয়দের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে প্রচলিত হয়েছে। ছট পূজা সূর্য ও ষষ্ঠী দেবীর (ছটী মাঈ) প্রতি সমর্পিত হয়, যেখানে তাকে পৃথিবীতে জীবনের স্রোত বহাল রাখার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও আশীর্বাদ প্রদানের কামনা করা হয়। ছটে কোনও মূর্তি পূজা করা হয় না।
এই পূজার কখন উৎপত্তি হয়েছিল তার কোনো স্পষ্ট নিদর্শন পাওয়া যায় না।
রামায়ণের আছে রাবণ বধের পর ব্রাহ্মণ হত্যার পাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য রাম এবং সীতা রামের কুল দেবতা সূর্যের পুজা করেছিলেন, দ্রৌপদী ধম্য ঋষির উপদেশ মতে সূর্য্যকে আরাধনা করে অক্ষয় পাত্র লাভ করেছিলেন। সঙ্গে মহাবীর কর্ণের কোমর পর্যন্ত জলে নেমে সূর্য্যের উপাসনা করা উল্লেখ আছে। আজও ছট পূজা উদ্‌যাপন করা সকল মানুষকে কোমর পর্যন্ত জলে নেমে সূর্য বন্দনা করতে দেখা যায়। অন্য এক আখ্যান মতে
পাণ্ডু ঋষি হত্যার পাপের প্রায়শ্চিত্তের কারণে পত্নী কুন্তীর সঙ্গে বনে থাকায় পুত্র প্রাপ্তির জন্য সরস্বতী নদীর পারে সূর্য্য উপাসনা এবং ব্রত করেছিলেন।
পুরাণ মতে, প্রথম মনু প্রিয়বতের কোনো সন্তান ছিল না। তাই তার পিতা কাশ্যপ মুনি পুত্রেষ্ঠী যজ্ঞ করতে পরামর্শ দেন। এর ফলে তার পত্নী মালিনী একটি মৃত পুত্র জন্ম দিলেন। মৃত শিশু দেখে তারাও বিলাপ করতে থাকায় আকাশ থেকে এক দিব্য কন্যা প্রকট হলেন। তিনি নিজকে ব্রহ্মার মানস পুত্রী বলে পরিচয় দিলেন এবং মৃত পুত্রকে স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে সে জীবিত হয়ে উঠল। এখনও ঊষা দেবী বা ছটি মায়ের মূর্তি কোলে কিছু থাকা অবস্থায় কল্পনা করা হয় এবং পুত্র প্রাপ্তির জন্য ব্রত উপাসনা করা হয়।

ছট পূজায় কোনো মূর্তি উপাসনার স্থান নেই। এতে অস্তগামী সূর্য এবং উদিত সূর্যকে পূজা করা হয়। আজকাল পূজা অনুষ্ঠিত করা কমিটিগুলিকে সকল ঘাটের কাছে সূর্যের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে দেখা যায়। পূজার দুদিন আগে লাউ ভাত এবং একদিন আগে দুধ-ভাত খাওয়ার পর, ৩৬ ঘণ্টার এক কঠোর ব্রত পালন করতে হয়। পূজায় সম্পূর্ণ সাত্বিক নৈবেদ্য ইত্যাদি কুলো, ডালা বা পাচিতে রেখে উৎসর্গ করা হয়। বিভিন্ন ফলমূল, মিষ্টি ইত্যাদির সঙ্গে পরম্পরাগত বিহারী লোকখাদ্য "ঠেকুয়া" প্রস্তুত করে নৈবেদ্যরূপে প্রদান করা হয়।এই সময় নুন-মশলাবর্জিত সম্পূর্ণ নিরামিষ খাদ্য গ্রহণ করা হয়। পূজার শেষে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীদের প্রসাদ বিতরণ এই পূজার অন্যতম নিয়ম। এই পূজায় অনেককে বাগরি নদীর ঘাটে গিয়ে পূজা করার দৃশ্যও দেখতে পাওয়া যায়। বর্তমানে এই পূজা এক সর্বজনীন রূপ পেয়েছে। বিভিন্ন ভাষাভাষী, ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষ এই পূজার মাহাত্ম্য উপলব্ধি করে পূজায় সামিল হতে শুরু করেছেন।

চারদিনের এই ব্রতের প্রথম দিনে ব্রতধারী বাড়িঘর পরিষ্কার করে স্নান সেরে শুদ্ধাচারে নিরামিষ ভোজন করেন (যাকে নহায়-খায় বলা হয়)।পরদিন থেকে উপবাস শুরু হয়; ব্রতী দিনভর নির্জলা উপবাস পালনের পর সন্ধ্যায় পুজোর শেষে ক্ষীরের ভোগ গ্রহণ করেন (এটি খরনা নামে পরিচিত)। তৃতীয় দিনে নিকটবর্তী নদী বা জলাশয়ের ঘাটে গিয়ে অন্যান্য ব্রতীর সাথে অস্তগামী সূর্যকে অর্ঘ্য অর্থাৎ দুধ অর্পণ করা হয়। ব্রতের শেষদিনে পুনরায় ঘাটে গিয়ে উদীয়মান সূর্যকে পবিত্র চিত্তে অর্ঘ্যপ্রদানের পর উপবাসভঙ্গ করে পূজার প্রসাদরূপে বাঁশ নির্মিত পাত্রে সুপ, গুড়, মিষ্টান্ন, ক্ষীর, ঠেকুয়া, ভাতের নাড়ু এবং আখ, কলা, ভেজা ছোলা গোটা মুগ, বাতাবী লেবু প্রভৃতি ফল জনসাধারণকে দেওয়া হয়।ঠেকুয়া হোলো প্রধান প্রসাদ, এই সময় অনেকে যারা গরীব তারা ছট পুজোর জন্য মানুষের কাছে কুলো হাতে সাহায্য চায় এবং সবাই হাদিমুখে দান করে।

আজ ছট পুজার প্রথম দিন আজ ব্রতী স্নান করে শুদ্ধ বস্ত্রে নতুন উনুনে শুদ্ধ বাসনে লাউ ছোলার ডালের তরকারি বানিয়ে একবার খাবে, আগামী কাল সারাদিন উপোস থেকে রাতে ক্ষীর ( পায়েস) খাবে, এই চারদিন কারো বাড়তে আমীষ রান্না হবে না, এই দুই দিন আত্মীয় পরিজন পাড়া পড়শী দের নিমন্ত্রণ করে লাউ ভাত এবং ক্ষীর রুটি কাওয়ানো হয়ে থাকে, আমার ছোটোবেলা প্রায়ই বিহারে কেটেছে কারণ আমার দাদু ( মায়ের বাবা) রেলে চাকরি করতেন উনি ৩২ বছর গোমোতে ছিলেন, এখন অবশ্য গোমো ঝারখন্ডে পড়ে, তাই আমি সব নিয়ম জানি, অনেকে ঘর থেকে নদী বা পুকুর পর্যন্ত দন্ডি কেটে যায়, অস্তগামী সূর্যের র পুজোর পর সারারাত ওই নদী বা পুকুরের ধারে বসে থাকে, সারারাত ধরে ছঠী মাঈয়ার গান গায় ভোরে উদিত সূর্যের পুজো করে অর্ঘ দেয়। এই চারদিন ব্রতী বিছানায় শোয় না, মাটিতে কম্বল পেতে শোয়, এয়ার ফোর্সে থাকতেও ছট পুজোয় থাকতাম, দিল্লিতে এই সময় বিভিন্ন বাজার ভরা থাকে সূপ মানে কুলো ওদের কুলো আমাদের বাঙালী দের থেকে আলাদা দেখতে হয়, ঝুড়ি, বিভিন্ন রকমের ফল, আখ যাবতীয় ছটের উপকরণ এ ভরা থাকে।, তাই ছট পুজো আমার অতি পরিচিত পুজো।
সবাইকে ছঠ পুজোর অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

Address

P. O Bishnupur
Vishnupur
722122

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nikhil BANGA Sikshan Mahavidyalaya posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The University

Send a message to Nikhil BANGA Sikshan Mahavidyalaya:

Share