08/17/2019
#যুগোপযোগী_বিয়ে_ভাবনা
#কাজী_আব্দুস_সবুর
একটা সময় ছিল বিয়েতে বাবা মাই ছিল সর্বেশ্বর। সময়টার জন্য হৈমন্তী বা বিলাসীর যুগে যাওয়ার দরকার নেই। আপনার আগের জেনারেশনের বিয়ের ইতিহাস ঘাটলেই পাবেন।
বিংশ শতাব্দীর আকাশ সংস্কৃতি আর ইন্টারনেটের যুগে এসে আমরা নিজেদের আপডেট করছি অজান্তেই। বিষয়টা অটো আপডেটই বলা চলে। এই আপডেটের বলি হয়ে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ, সুসম্পর্ক আর যোগ হচ্ছে প্রেম, পরকীয়ার মতো নোংরা সম্পর্কগুলো।
এখন মেয়েদের প্রেমের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এসব প্রেম বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অবৈধ সম্পর্কের জন্ম দিচ্ছে। একসময় মেয়েটির কাছে এসব হযে উঠছে ডাল ভাত। যা অনেক সময় বিয়ের পরও বজায় থাকছে। প্লেবয় ছেলেগুলোই দশ বিশ বা ত্রিশটা মেয়ের সর্বনাশ করছে। আর অবাক বিষ্ময়ে দেখছি, মেয়েগুলো তার প্রথম, ২য়, ৩য় সবাইকেই খুব ভালোবাসছে, 'ও অন্য সবার মতো না ' বিশ্বাসে সপে দিচ্ছে নিজেকে। ভালো মেয়েগুলো অধিকাংশ সময়ই খারাপ ছেলেদের হাতে পড়ছে। সম্পর্কের কমিটমেন্টগুলো তাই এখন দিন দিন আলগা হচ্ছে। প্রেম এবং ব্রেকআপ তাই এখন খুবই স্বাভাবিক। ব্রেকাপের পর নতুন সঙ্গীর বাহুবন্ধনে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।
এবার আসি ভালো ছেলেদের কথায়। তারা আগে প্রেমহীন থাকলেও এখন অনেক ক্ষেত্রে প্রেমে পড়ছে। অধিকাংশ মেয়ের ২য়, তৃতীয় বা ততোধিক। সারাজীবন আতেল হয়ে থাকা ছেলেটি দ্রুতই খুব ভালোবেসে ফেলছে মেয়েটিকে। দ্রুত চাকরি পাওয়া এবং মেয়ের জন্য বিসিএস ক্যাডার পাত্র না আসলে অনেক সময় জয়লাভ করছে মেয়েকে। আর না হলে ছ্যাকা খেয়ে হারিয়ে যাচ্ছে কিংবা ঘুরে দাড়িয়ে একসময় অন্যের গার্লফেন্ড কে বিয়ে করছে।
একশ্রেণীর সৌভাগ্যবান ছোট বেলায়ই প্রেম করছে (স্কুলের শেষ পর্যায়ে কিংবা কলেজে কিংবা ১ম বর্ষে) একসাথে বিসিএস পড়ছে। হয়তোবা একসাথে চাকরি পেয়ে বিয়েও করছে। এরাই সবচেয়ে সেফ জোনে থাকে, বাকিটা জীবন। আগে বাবা-মা উহু-আহা করলেও এখন দুজনের পরিবারই খুশি থাকছে। প্রেমের রেনেসাঁয় একটা পাত্র বা পাত্রী তো বিরল!
এবার এরেন্জ ম্যারেজ, জীবনেও প্রেম না করা মহা মহা আতেল বিসিএস কিংবা সিনিয়র অফিসার, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক (!যদিও তারা ছাত্রীদের উপর এ সময়ে দূর্বল হয়ে পড়েন। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে ফাস্ট ইয়ারি কাউকে বিয়েও করতে পারেন!) এডি বড়ো ভাইগুলোর জন্য পরিবার মেয়ে খুজে নাকাল হচ্ছে। এতো শিক্ষিত ছেলেকে তো আর নন গ্রাজুয়েট মেয়ের সাথে বিয়ে দেওয়া যায় না!! সব ঠিক থাকলেও ছেলে হঠাৎ বেকে বসে। মেয়ে তার পছন্দ না। আরে গাধা সারা জীবনে একটা প্রেম করতে পারিস নাই! আর এখন মেয়েও পছন্দ করতে পারিস না! বিরক্ত হোন বাবা-মা (আসলে সত্যবতী মেয়েটি ফোন দিয়ে বলেছে, ভাইয়া আমার বয়ফ্রেন্ড আছে। প্লিজ বাসায় কিছু বলইয়েন না। এই মেয়েগুলো অনেক চেষ্ট সত্বেও ছেলে ভাগাতে ভাগাতে একসময় কারো গলায় ঝুলে পড়ছে। কি করবে!! প্রেমিক যে এখনো সোনার হরিণ ধরতে পারি নি।)। এতো ভালো মেয়ে, এতো ভালো পরিবার, সহায় সম্পদ, আর ছেলে বিয়ে করেনা, রেগে যান বাবা (ছেলে যে কেন বিয়ে করে না সে কথাতো বাপরেও কইতে পারে না!!!) অনেক বাবা, যে সারাজীবন ছেলেকে ইসলামী অনুশাসনে বড়ো করেছে, পাত্রী না পাবার দুংখে ছেলেকে বলে, একটা প্রেম করতে পারছিলি না (ঘটনা সত্য!!)
আরেক শ্রেণী যাদের হয়তো দশম বা ততোধিক (আমি এর চেয়ে বেশি কল্পনা করতে চাইনা) বয়ফ্রেন্ড চলে, সে বিসিএস ক্যাডার দেখে দাড়িয়ে যাচ্চে। বাবা-মার লক্ষি মেয়ে হয়ে বিয়ে করে ফেলছে ছেলেটিকে। ন্যাকা ন্যক্যা মেয়েটিকে পেয়ে বড়োভাই তো পরিবারসহ মহাসুখি। হয়তো সে তার জীবনে যথেষ্ট করেছে ভেবে বিবাহিত জীবনে সাধু হয়ে যাচ্ছে। সুখে কাটাচ্ছে দাম্পত্য জীবন। অথবা আগের বয়ফ্রেন্ডের সাথে এখটু মাখিয়ে যাচ্ছে। সে পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তু কোনভাবে যদি তাকে সন্দেহ করছে, বা ধরা পড়ছে তখন ক্ষুধার্ত বাঘীনির কামড়ে পত্রিকার পাতায় শিরোনাম হচ্ছে।
আরো একটা নোংরা বিষয় চলে আসছে, পরকীয়ার বিষবাষ্প এখন ক্রমেই ঘনত্ব বাড়াচ্ছে। একসময় অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে হয়তো এসব ব্যাপারেও আমরা পশ্চিমাদের কাছাকাছি চলে যেতে পারব।
এসবের ফলাফল পড়ছে ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে। যারা মেনে নিতে পারছে, তারা তো পশ্চিমা উন্নয়নের স্রোতে গেল। যারা মানতে পারছে না, তাদের ডিভোর্স, পারিবারিক অশান্তি লেগেই থাকছে।
এতো গেল সাধারণ কথাবার্তা। এ থেকে মুক্তির উপায় কি?
#১ সিনেমা! এসব যেহেতু নাটক সিনেমা থেকেই আসছে, সুতরাং অবিভাবকরা একবারে এন্ডিং এ চলে যান। বিয়ে দিয়ে দেন। ভিলেন হয়ে খামোখা মারামারিতে কোন লাভ হয়না, সিনেমায় দেখেন নাই?
#২ ক্যাডার, এডি সহ প্রতিষ্ঠিত বড়ভাইয়েরা, (যারা সেনসেটিভ, কখনো প্রেম করেননি, মানে অবসর পাননি আরকি!!) পরিচিত বন্ধু বান্ধবীদের কাছে খোজ নেন তাদের ক্লাসমেট, যাদের সাথে খুব ক্লোজ এমন কোন ভালো মেয়ে (মানে সিঙ্গেল আরকি!) আছে কিনা। পূর্বপুরুষের পূণ্যের গুণে বৈতরণী পার হতেও পারেন। পারিবারিকভাবে মেয়েকে দেখার পর নিজে খজ খবর নিন। আপনার ব্যাচের সবচেয়ে প্লেবয় টাকে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান। মেয়ের এলাকার লিটনের সাথে দু কাপ চা খান (রতনে রতন চেনে)। মেয়েকে বলেন আপনি খব ফ্রি মাই্ডের। আপনার আগে অনেকগুল গার্লফেন্ড ছিল..... ব্লা ব্লা (অভিনয় ভালো হয়ে কিছুটা পেটের খবর পাবেন!!).
আপনার জন্য একটা ভাল মেয়ে খুব দরকার। কারণ আপনি সৎ, সেনসেটিভ। পরে কিছু পেলে আপনার মন ভেঙে যাবে। আপনার বন্ধুরা যখন গার্লফেন্ডকে সময় দিছে তখন আপনি পড়েছেন। সুতরাং প্রাকৃতির নিয়মানুযায়ী এবার পাত্রীর পিছনে একটু সময় দিন। কষ্টিপাথরে যাচাই করুন।
#৩ প্রতিষ্টিত নন সেনসেটিভ পাত্র। এতটুকু যাচাই করে নিন বয়ফ্রেন্ড থাকলেও তাদের কারো কাছে বিয়ের পর সম্পর্ক রাখার সম্ভাবনা কতটুকু। ব্যাস। তাছাড়া মেয়ের অতীত মেনে নেবার সম্ভাবনা তো আপনার আছে।
#৪ যাদের গার্লফেন্ডের বাড়ি থেকে খুব বিয়ের চাপ, পারলে বিয়ে করে নেন। নয়তো আপনি ফেসবুকে কেন ভাই? চাকরি খুজেন মিয়া।
#৫ পারিবারিকভাবে বাল্য+(অবশ্যই ১৮+! নিচে করবেন না। কেস খেয়ে যাবেন) বিয়ে করতে পারেন। দুঃসম্পর্কিত কাজিন কিংবা বাপের বন্ধুর মেয়ে ও হতে পার একটা চযেজ(এখানেও সিনেমা হতে পারে!)
পুনশ্চঃ ১. ভাববেন না সব মেয়ে এমন। আমি যাদের কথা বললাম তারা এখনো সংখ্যালঘু বলেই আমার বিশ্বাস। তবে সংখ্যাটা আশঙ্কাজনক ভাবে বাড়ছে তো তাই।
পুনশ্চঃ পুরো লেখাটাই আমি কাজী আব্দুস সবুরের অনুর্বর মস্তিষ্কের ঝাস জাতীয় চিন্তাভাবনা। ভালো না লাগলে জাস্ট স্কিপ ইট। ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
পুনশ্চঃ ঘটনাগুলো বাস্তবতার আলোকে এবং সবগুলোই আশে পাশে কারো না কারো জীবনে দেখছিতো তাই!
পুনশ্চঃ অবিভাবকরা আপনি নিজে ভালো হলেই হবেনা। সমাজটাকেও ভালো করতে হবে! না হলে ভালো পাত্রী পাবেন না। সেই চেষ্টাও করুন।
পুনশ্চঃ এই পোস্টটা ছেলেদের ফোকাস করে লেখা। ফেমিনিস্টরা ক্ষেপবেন না। প্রয়োজনে মেয়েদের ফোকাস করে বাস্তবসম্মত পোস্ট দেন। শেয়ার করবোনে।
পুনশ্চঃ সবাই শুনবেন না জানি, তারপরও পারলে কার্টেসী দিয়ে কপি পেস্ট করুন।
লেখকঃকাজী আব্দুস সবুর